দরিদ্র দেশগুলোর জনগণের কাছে ‘বিশ্বায়ন’ নামক মহার্ঘ্য বস্ত্তটি কম্পিউটার, ইন্টারনেটসহ সবধরনের ভোগ্যসামগ্রীর বিলাসিতাকে কেন্দ্র করে এক ‘আধুনিক’ জীবনযাপনে আবর্তিত।

একতরফা বিনিময়ের খোলা দরজা- বাংলাদেশের শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন

ফ্লোরা সরকার ফরাসি বাণিজ্যমন্ত্রী জ্যঁ-ব্যাপ্টিস্ট কোলবার্ট ১৬৮০ সালে বাণিজ্যে সরকারি সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে যখন একদল সওদাগর বা বণিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনার নিমিত্তে বসলেন তখন সওদাগরদের একজন লো জেন্ড্রি বলে উঠলেন- ‘Laissez-nous faire’ মানে ‘আমাদের করতে দাও!’ অর্থাৎ বিখ্যাত সেই Laissez-faire নীতি থেকে শুরু হয়ে গেল বাজারে সরকারের হস্তক্ষেপ বিরোধী নীতির স্লোগান। বাজারে দ্রব্যমূল্যসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক বিষয়াদিতে সরকার কোনো নাক গলাতে পারবে না। পরবর্তীতে যা মহান অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের হাত ধরে তার ‘অদৃশ্য হাত’-এর তাত্ত্বিক ভিত্তি দৃঢ়তা পায়। অর্থাৎ সামষ্টিক হাত নয় ব্যক্তি হাত ধরে কোনো দেশের অর্থনীতি তার উন্নয়ের উচ্চতম স্তরে পৌঁছতে পারে। আরও পরবর্তী সময়ে যাকে বর্তমানে ‘গ্লোবালাইজেশন’ বা ‘বিশ্বায়ন’ নাম দিয়ে তাকে আরো উন্নততর অর্থে উন্নীত করা হয়েছে।

আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে পশ্চিম সবসময় মতাদর্শগত বাক্যবিন্যাসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দগুলো প্রায় সময়ে তার প্রকৃত অর্থকে ছদ্মবেশে গোপন করে রাখে, বিশ্বায়ন তেমনি একটি ধোঁয়াশা মতাদর্শ। ‘সভ্যতা বিস্তার’-এর মুলো ঝুলিয়ে যেমন ইউরোপ ঔপনিবেশিক শাসন পাকাপোক্ত করেছিল, ঠিক সেভাবে ‘মুক্ত বাজার’-এর মুলো ঝুলিয়ে এখন সব দেশের বাজার দখলের নতুন নীতি কায়েম করা হয়েছে বিশ্বায়নের নামে।

ঔপনিবেশিক-উত্তর দেশগুলোকে তাদের স্বাধীনতার বৈশিষ্ট্য অর্জনের আগেই যখন আবার এক বিশ্বব্যবস্থায় অঙ্গীভূত করা হয় তখন এ কথা বুঝতে অসুবিধা হয় না, মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল দেশগুলোর অধীনতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই তা করা  হয়। দরিদ্র দেশগুলোর জনগণের কাছে ‘বিশ্বায়ন’ নামক মহার্ঘ্য বস্ত্তটি কম্পিউটার, ইন্টারনেটসহ সবধরনের ভোগ্যসামগ্রীর বিলাসিতাকে কেন্দ্র করে এক ‘আধুনিক’ জীবনযাপনে আবর্তিত। কিন্তু এতে করে পশ্চিমের আয়নায় মুখ রেখে নিজের আধুনিকতার বোধবুদ্ধিকে দেখার যে ব্যর্থ চেষ্টা করা হয় তা তারা অর্থাৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠী  বুঝতে অক্ষম। তা না হলে হাজীর বিরিয়ানির চেয়ে, কেন্টাকি ফ্রায়েড চিকেন বেশি জনপ্রিয়তা পায় কী করে? তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে তার সাংস্কৃতিক ভিত্তিভূমি থেকে ছিন্নমূল করাই উন্নত পুঁজির বিশ্বজনীন চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। তাই দেশীয় সাংস্কৃতিক কাঠামোর ভেতর ফুটে ওঠে বিদেশী সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য। চলে একতরফা বিনিময়ের সংস্কৃতির আগমন।

বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো পৃষ্ঠপোষকতা। এই পৃষ্ঠপোষকতার জোরেই ঠাকুরমার ঝুলি থেকে শুরু করে আরব্য উপন্যাসের গল্পসহ, পৃথিবীর ক্লাসিক গল্প-উপন্যাস, সিনেমা, গান, চিত্রকর্ম যুগ যুগ টিকে থাকে। কিন্তু এই পৃষ্ঠপোষকতা যখন প্রচারযুদ্ধে পরিণত হয় তখন প্রচারেই সেই শিল্পকর্মের প্রসার লাভ ঘটে। পৃষ্ঠপোষকতা থাকে অনেক দূরে। কীভাবে তা ঘটে? অর্থনীতির খুব স্বাভাবিক নিয়মেই তা ঘটে থাকে। তা হলো চাহিদা সৃষ্টি। বাজারে পৌঁছানোর আগেই নির্ধারিত পণ্যটির (শিল্পকর্ম) এত বেশি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় যে দর্শক বা ক্রেতা তা ক্রয় না করে পারেন না। স্থিরচিত্র, প্রাক্-দৃশ্য, গুজব ইত্যাদির মাধ্যমে বিক্রয়যোগ্য পণ্যটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় দর্শক বা পাঠকের। এভাবেই তৈরি করা হয় অভাব, সূত্রপাত ঘটে আকাঙ্ক্ষার, নির্মিত চাহিদাকে বানিয়ে দেওয়া হয় উন্মত্ততা। এই উন্মত্ততার জোরেই খুব দ্রুত এদেশে বিদেশী বিশেষত ভারতীয় চ্যানেলের বিস্তার লাভ ঘটতে দেখা যায়।

গত শতাব্দীর সত্তর এমনকি আশির দশকেও ভারতীয় চ্যানেল এখানে দেখা কোনোভাবেই সহজলভ্য ছিল না। কিন্তু তখনও টেলিভিশন (বিটিভি) এবং এদেশের সিনেমা হলে বাইরের অনুষ্ঠান এবং বিদেশী ছবি দেখানো হতো। কিন্তু তার সংখ্যা দেশীয় সংখ্যার তুলনায় ছিল নগণ্য। অর্থাৎ দেশীয় শিল্পরক্ষা এবং তার বিকাশের দিকে লক্ষ্য রেখেই এসব শিল্পের আমদানি ঘটানো হতো। এবং বলাইবাহুল্য সেই সময়ের দেশীয় টিভি নাটক এবং সিনেমার মান ছিল যথেষ্ট উঁচুমানের। সেই সময়ের দর্শক এবং নির্মাতারা আজও সেসব নাটক এবং সিনেমার কথা গর্বের সঙ্গে স্মরণ করেন।

কিন্তু ১৯৮০ থেকে ১৯৯০-এর মধ্যে বিশ্ব আর্থরাজনতিতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সূচিত হয় যেমন বেসরকারিকরণ, উদারীকরণ, বিশ্বায়ন, মুক্তবাণিজ্য ইত্যাদি যার মধ্যে অন্যতম, সেই মুক্তবাণিজ্যের উন্মুক্ত পথ বেয়ে স্যাটেলাইট টেলিভিশনেরও উদারীকরণ শুরু হয়ে যায়। দেশের অভ্যন্তরেও বেসরকারি চ্যানেল চালু হয়। কিন্তু বিদেশী বিশেষত ভারতীয় চ্যানেলের সংখ্যা অপ্রতিরোধ্য গতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। সেইসঙ্গে ভারতীয় বইয়েরও ছড়াছড়ি। প্রথমদিকে এসব চ্যানেলের এবং বইয়ের আগমন এখানকার দর্শক এবং পাঠককুল সাদরে গ্রহণ করেন। কেননা ‘বিশ্বায়ন’ নামক বিস্মিত এই বস্ত্তটি এখানকার দর্শক এবং পাঠককে বিনোদনের একটি বিশাল দরজা খুলে দিয়েছে বলে আশা করা হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে দেখা গেল তথাকথিত এসব চ্যানেলের মাধ্যমে দেশীয় অনুষ্ঠান নির্মাতারা (নাটক, বিনোদন শো, বিভিন্ন অনুষ্ঠান) হুবহু সেসব অনুষ্ঠানের প্রতিলিপি নির্মাণ করছে। হিন্দি ছবির আদলে নির্মিত হচ্ছে বাংলা ছবি, হিন্দি টিভি সিরিয়ালের কপি-পেস্ট হচ্ছে বাংলা নাটকের টিভি সিরিয়াল এবং খুব সাম্প্রতিক বিখ্যাত ‘কন বানেগা ক্রোড়পাতি’র আদলে নির্মিত হচ্ছে ‘কে হবেন কোটিপতি’।

কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে মেয়েদের ‘বউ’ সাজে একটি ফ্যাশান শো হচ্ছিল। বিচারকের আসনে আসীন বিচারকরা কিছুতেই সেই বধূদের মুখাবয়বে বাংলাদেশের পরিচিত ‘বউ’-এর আদল খুঁজে পাচ্ছিলেন না। একজন বিচারক (মডেল শিল্পী নবেল) তো বলেই বসলেন -‘তোমার মুখে বউয়ের সেই লাজুক মুখটি পাচ্ছিনা’। কিন্তু বিচারকমন্ডলী একটু লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারতেন যে পোশাক পরে যে বউরা বধূবেশে এসেছিল তা কোনোভাবেই বাংলাদেশের চিরন্তন বউদের পোশাক না। তা ছিল ভারতীয় তাও মুম্বাই বধূদের পোশাক। কাজেই ভীন দেশীয় তথা ভারতীয় পোশাকে নিজের মুখের অবয়ব না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি হবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

বিশ্বায়নের গেল এই একটি দিক। অপরদিকে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল পৃথিবীর অন্যান্য বৃহৎ দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে সম্প্রচারিত হলেও শুধু ভারতে তার কোনো প্রবেশাধিকার নেই। অথচ ভারতের অজস্র চ্যানেলের ভেতর আমাদের দর্শককুল সারা দিনমান ঘোরাঘুরি করেন। আজিজ সুপার মার্কেটে ঢুকলে প্রথমে কেউ একটু হোঁচট খাবেন এই দেখে যে তা বাংলাদেশের কোনো বুক স্টল নাকি ভারতীয় কোনো বুক স্টলে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু ভারতে বাংলাদেশের কোনো বইয়ের একমাত্র কলকাতার বইমেলা ছাড়া অনুপ্রবেশ ঘটে না।

বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার কতগুলো বিভাগ আছে, যেমন (১) আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার, (২) বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে মানুষের অভিগমন (immigration) ও নির্গমন (migration) , (৩) বিভিন্ন দেশের মধ্যে টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বিনিময় মাধ্যমের সঞ্চালন, (৪) এক দেশের মূলধন অন্য দেশে বিনিয়োগ করে সেখানে শিল্পদ্রব্য, কৃষিজ পণ্য অথবা পরিষেবা পণ্য উৎপাদন করে সেদেশে অথবা অন্য দেশে বিক্রয়ের প্রবাহ, (৫) এক দেশ থেকে অন্য দেশে মহাজনী মূলধনের আদান-প্রদান, (৬) বহুজাতিক বা অতিজাতিক বাণিজ্য সংস্থার (multination or transnational) বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর প্রভাব, (৭) বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং (৮) আন্তর্জাতিক তথ্য মাধ্যমের বিস্তার ও বিভিন্ন দেশের তথ্য মাধ্যমের ওপর বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির প্রয়োগের ফল। প্রায় প্রতিটি বিভাগেই আদান-প্রদানের কথা থাকলেও বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি ক্ষেত্রে শুধু অন্যেরটা আদান করা হয়, কোনো প্রদান করা থেকে আমরা বিরত থাকছি। এমনিতেই বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ, এখন শিল্প ও সংস্কৃতি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়লে দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ তো হবেই না, বরং বিদেশী তথা ভারতীয় সংস্কৃতি খুব শিগগির আমাদের সংস্কৃতিকে গ্রাস করে নেবে। আর একটা দেশের সংস্কৃতি যখন অন্যের দ্বারা কুক্ষিগত হয়ে যায় তখন নিজস্ব সংস্কৃতির কিছুরই যে আর অবশিষ্ট থাকে না তা বলাইবাহুল্য। ইতোমধ্যে আমাদের টিভি নাটক থেকে শুরু করে সিনেমা, পরিধেয় বস্ত্র, বিয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিসহ আরো নানা ক্ষেত্রে তা ছাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এবারের এটিএন বাংলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এ দেশের বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ সেদিন দাবি করে বসলেন ‘ভারতে এটিএন বাংলার সম্প্রচার দেখতে চাই। শুধু এটিএন নয় বাংলাদেশের সব চ্যানেলের সম্প্রচার দেখতে চাই। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে বাংলাদেশেও ভারতের কোনো চ্যানেল দেখানো হবে না।’ দাবিটি ন্যায্য সন্দেহ নেই। কারণ উন্মুক্তবাজার অর্থনীতিতে শুধু একটা দেশের বাজার উন্মুক্ত থাকবে, অন্য দেশের বাজার রুদ্ধ থাকবে তা হতে পারে না। ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ হোক সে দাবি আমরা করছি না। কিন্তু প্রতিযোগিতা থাকতে হবে। ভারতে বিশেষত কলকাতায় প্রচুর দর্শক আছেন যারা আমাদের টিভি নাটক, সিনেমা দেখার জন্য উন্মুখ থাকেন। জি বাংলা নামে একটি বেসরকারি চ্যানেল ইতোমধ্যে দুই বাংলার বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও সেই চ্যানেলটিতে কলকাতার অনুষ্ঠানই থাকে বেশি তবু উদ্যোগটি মন্দ নয়। তাদের একটি অফিস শ্যামলীতে স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার বাংলাদেশের কোনো অফিস কলকাতায় স্থাপিত হয়নি। হলে তার কার্যক্রম আরো সুচারুরূপে সম্পন্ন হবে বলে আমাদের ধারণা।

পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে পণ্যের নবীকরণ ছাড়া বিক্রি বাড়ে না, বিক্রি না বাড়লে বাজার বাড়ে না, বাজার না বাড়লে উৎপাদন বাড়ে না এবং উৎপাদন মন্দ হলে মুনাফা বিপন্ন হতে বাধ্য। পণ্যের নবীকরণ দু’ভাবে হয়- (১) নতুন পণ্য তৈরি করা (২) পুরনো পণ্যের রকমফের অর্থাৎ নতুন মোড়কে পুরনো পণ্য ছাড়া। বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে একতরফা বিনিময়ের দরজা খুলে রাখার কারণে এখানে নতুন পণ্য তৈরি দূরে থাক পুরনো পণ্যের নবীকরণের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে যখনই কোনো দর্শক কোনো সিরিয়াল, নাটক বা টেলিফিল্ম দেখেন সবগুলোই যেন চেনা চেনা মনে হয়, মনে হয় নাটক বা সিনেমাটি কোথাও আগে দেখেছি।

আন্তেনিও গ্রামসি তার ‘সাধারণ বোধবুদ্ধি’র ধারণায় একটি চমৎকার কথা বলেছেন, ”আমাদের ‘সাধারণ বোধবুদ্ধি’ প্রধানত কোনো সমালোচনাকে তোয়াক্কা-না- করা অসচেতন এক প্রক্রিয়া। এর প্রভাবেই একজন মানুষের জগত সম্পর্কিত ধ্যানধারণা গড়ে ওঠে। এই সাধারণ বিচারবোধের দ্বারাই একজন ব্যক্তিমানুষ জনগোষ্ঠীর সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আচার-আচরণ প্রভাবিত হয়।” গ্রামসি যুক্তি দেন, সমাজের অগ্রণী গোষ্ঠীভুক্তরা সাধারণ বোধবুদ্ধির ধারণাকে অতিক্রম করার চেষ্টা করে এবং সেজন্য তারা জগত সম্পর্কে তাদের যে ধারণা তারই কাছাকাছি অন্য একটি ধারণা সৃষ্টি করে। আমাদের বিশ্বায়নের বিশেষ শক্তিগুলো আর দেশীয় দালালরা খুব নির্দিষ্টভাবে এই কাজেই যুক্ত রয়েছেন। তাই ভারতীয় আয়নায় মুখ রেখে আমরা আমাদের যেসব নাটক-সিনেমা নির্মাণ করে চলেছি সেসব যে আমাদের বোধবুদ্ধিকে দেখার ব্যর্থ চেষ্টা করছি তা বলাইবাহুল্য। অন্যের আয়না নয় নিজের আয়নায় নিজের মুখ দেখতে না পারলে আমরা আমাদের সৃষ্টিশীল এই সাংস্কৃতিক অঙ্গনটিকে কখনোই উন্নত করতে পারব না। শুধু তাই নয়, আমাদের শিল্প-সংস্কৃতির বাজারের প্রসারের জন্য প্রয়োজন বাজারের আয়তন বৃদ্ধি। তাই শুধু একতরফা বিনিময়ের দরজা নয়, দু’তরফা বিনিময়ের দরজা খোলা প্রয়োজন। এতে করে শিল্পের মান বৃদ্ধির যেমন তাগিদ থাকবে তেমনি থাকবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকারও তাগিদ।

এভাবে না এগোতে পারলে খুব দ্রুত আমাদের শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন ধ্বংসের মুখে পতিত হবে। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (সরকারি এবং বেসরকারি) বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]
লিংকঃ http://budhbar.com/?p=6053

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: