নতুন মানবিকতা নির্মাণ করতে হবে

নতুন মানবিকতা নির্মাণ করতে হবে

বাংলাদেশের সর্বত্র প্রধানত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানবিক সাহায্যের একটি ধরন প্রায় প্রতিষ্ঠিত। এটি হচ্ছে কোনো মহৎ কাজে বা কারো মানবিক সাহায্যের প্রয়োজন হলে অর্থ সংগ্রহের জন্য সিনেমা শো বা কনসার্টের আয়োজন করা। বিষয়টি আপাতভাবে স্বাভাবিক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি সমাজের মানবিক বোধের অধোগতিকে নির্দেশ করে। বর্তমানে আমাদের সমাজে একটি মানবিক সাহায্যের আবেদন করলে বিনোদন ব্যতীত কোনো অর্থ সাহায্য আশা করা যায় না। মানবিক বোধ ও দায়বদ্ধতা থেকে কেউ এগিয়ে আসতে চাইছেন না। অথচ অধিকাংশ জনগণের সিনেমা শো বা কনসার্ট আয়োজন করার সুযোগ নেই। তাদের জন্য আমাদের তেমন কোনো ভাবনা নেই। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রে লাখ লাখ মানুষ অর্থের অভাবে খাদ্য-চিকিৎসা-শিক্ষা পাবে না; চিকিৎসার অভাবে, খাদ্যের অভাবে মৃত্যুবরণ করবে; এসব কখনোই কাম্য নয়। আমাদের বিবেককে এবং দেশের সরকারগুলোকে নতুন করে প্রশ্ন করতে হবে কেন দশকের পর দশক একই কান্ড ঘটছে? আর সিনেমা শো কিংবা কনসার্টে যা পরিবেশন করা হয় তাতেও মানুষের বিবেক ও মনুষ্যত্ব জাগ্রত হওয়ার কোনো উপাদান থাকে না। একজন মানুষকে বাঁচাতে হলে কেন চটুল গান শুনিয়ে বিনোদন দিতে হবে কিংবা চটকদারী সিনেমা প্রদর্শন করতে হবে? বিনোদনের বিনিময়ে যে অর্থ লাভ হয় তা সাহায্য হতে পারে না। এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ কখনো দীর্ঘস্থায়ী পন্থা হতে পারে না। সমাজের সবাই একইমাত্রায় অন্যের প্রতি দায়বোধ করে না। সবার মধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মনুষ্যত্ব জাগ্রত হয় না।
সামাজিক বা ব্যক্তিগত উদ্যোগ সমাজ সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু রাষ্ট্রকেই তার নাগরিকের সব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে। অন্যান্য উদ্যোগ থাকবে পরিপূরক হিসেবে। বিরাটাকার সংকট উত্তরণে যে রাজনৈতিক দায়বোধ ও অঙ্গীকার প্রয়োজন তা আমাদের দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর নেই বললেই চলে। মানবিক দায়িত্ব পালনে সর্বদা এগিয়ে আসে তরুণ, শিক্ষার্থীরা। তরুণদের কাজ দেশ ও জাতির দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া। শিক্ষাকে দেশের কাজে ব্যবহার করা। রাজনীতিকে দোষারোপ করে তরুণদের বিভিন্নভাবে রাজনীতিবিমুখ করতে চাইছে একটি শ্রেণী। এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করে মেধাবী ও সৎ তরুণদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্র দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনগণকে রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে। নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলে জাতিকে পথ দেখাতে পারে তরুণরাই। মুক্তিযুদ্ধে যেমন সমগ্র জাতি একটি আকাঙ্ক্ষার সুতোয় গেঁথে ছিল কেবল ব্যক্তিগত উদ্যোগে নয় বরং জাতির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মাধ্যমে। মানুষ ও সমাজের চৈতন্যের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে হবে ধারাবাহিক আদর্শিক রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। চূড়ান্ত অর্থে সমাজে নতুন মানবিকতা নির্মাণ করতে হবে।
হাসান তৌফিক ইমাম
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক,
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন,
ঢাবি

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: