নিহতদের মধ্যে রয়েছে মার্কিন বিশেষ কমান্ডো বাহিনী সিল-এর ছয় সদস্য

‘তালেবান ফাঁদে পড়েই মার্কিন কপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে’

 

৮ আগস্ট: তালেবানদের পাতা ফাঁদে পড়ে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আফগান সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তালেবান কমান্ডার ক্বারি তাহির সাইয়্যেদাবাদ শহরের একটি বাড়িতে তালেবানদের বৈঠকের কথা জানিয়ে সেখানে অভিযান চালানোর টোপ দিয়েছিলেন। এ কাজে চার পাকিস্তানি নাগরিক ক্বারি তাহিরকে সহযোগিতা করেছে বলেও ওই আফগান কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ক্বারি তাহিরের ইঙ্গিত পেয়ে মার্কিন বাহিনী সেখানে অভিযান চালায়। কিন্তু, আগে থেকে সেখানে রকেট ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওঁৎ পেতে ছিল তালেবানরা। ক্বারি তাহির এমন জায়গার কথা বলেছিলেন যে জায়গা ছিল পাহাড় ঘেরা উপত্যকা এবং সেখানে যাওয়ার জন্য যে পথে মার্কিন বাহিনী হেলিকপ্টার নিয়ে আসবে তা তালেবানরা জানত। কারণ পাহাড় ঘেরা উপত্যকা হওয়ার কারণে সেখানে যাওয়ার একটিই মাত্র রুট ছিল। আর তালেবানরাও আগে থেকেই হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জন্য সুবিধা মতো জায়গায় অবস্থান নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। যখন হেলিকপ্টারটি ওই স্থানে আসে তখন তালেবানরা হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো গুলি বর্ষণ করতে থাকে। রকেট ও গুলির আঘাতে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয় এবং ঘটনা স্থলেই মারা যায় মার্কিন বাহিনীর ৩১ সেনা। সেই সঙ্গে প্রাণ হারায় আট আফগান নাগরিক যার মধ্যে আফগান বাহিনীর সাত কমান্ডো এবং একজন দোভাষী ছিলেন।
আফগান ওই কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন সমর্থিত হামিদ কারজাইয়ের সরকার মনে করছে, পাকিস্তানের সেনা শহর অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বিশেষ কমান্ডো বাহিনীর গোপন অভিযানের প্রতিশোধ নিতে তালেবানরা হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। মার্কিন সরকার দাবি করেছে, অ্যাবোটাবাদে অভিযান চালিয়ে তারা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করেছে। অবশ্য, তালেবানরা এমন কোনো প্রতিশোধ নেয়ার কথা এখনো দাবী করেন নি। তবে, মজার বিষয় হলো- নিহতদের মধ্যে রয়েছে মার্কিন বিশেষ কমান্ডো বাহিনী সিল-এর ছয় সদস্য। আর এ খবর দিয়েছে খোদ মার্কিন গণমাধ্যম। মার্কিন নৌবাহিনীর এ ইউনিট অ্যাবোটাবাদ অভিযানে অংশ নিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে-গত শুক্রবার রাতে সিলের সদস্যরা অ্যাবোটাবাদ অভিযানের মতো আরেকটি অভিযান চালানোর ইচ্ছা নিয়েই সাইয়্যেদাবাদ শহরে চিনুক হেলিকপ্টার নিয়ে গিয়েছিল।
এ দিকে, শুক্রবারের হামলা কোনো পূর্বপরিকল্পিত বা পাতানো ফাঁদ ছিল কিনা -এমন প্রশ্নের জবাবে তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, গত ১০ বছর ধরে তালেবানরা নানা কৌশল অবলম্বন করে আসছে। শুক্রবারের হামলা তারই একটা অংশ ছিল। আর তালেবান নেতাদের বৈঠকের খবর যিনি মার্কিনীদের সরবরাহ করেছিলেন তিনি আসলে তালেবান যোদ্ধা বলে দাবী করেছেন জবিউল্লাহ মুজাহিদ।
শুক্রবার রাতে মার্কিন চনিুক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৩১ সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাকে ন্যাটো বাহিনী তাদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি বলে আজ (সোমবার) উল্লেখ করেছে। তবে, কি কারণে তারা এতবড় ক্ষতির শিকার হলো তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। অবশ্য, তালেবানদের নতুন ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের কথা নাকচ করেছেন ন্যাটো বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কারস্টেন জ্যাকবসেন। তিনি তালেবানদের পাতা ফাঁদ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে ঘটনাস্থল থেকে সব লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তালেবানদের রকেটের আঘাতে চিনুক হেলিকপ্টারটি কয়েক টুকরো হয়ে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনার পরও আফগান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট তালেবান বিরোধী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: