ফেসবুক ক্রেডিটের মাধ্যমে বর্তমানে ওয়ালমার্ট, টার্গেট অথবা বেস্ট বাই প্রতিষ্ঠানগুলোর গিফট কার্ড কেনা যাচ্ছে

ভবিষ্যতের ব্যাংক ফেসবুক?
ফেসবুকের ফার্মভিল অথবা এ ধরনের গেমে আপনাকে চাষ করে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ফসল পাওয়ার পর তা বিক্রি করে আপনি ফেসবুক থেকে ক্রেডিট পান। কিন্তু যারা এসব ছাড়াই সরাসরি ফার্মভিলের ‘ফার্ম কয়েন’ পেতে চান, তাদের জন্য একটি সহজ সমাধান আছে। তা হলো নগদ অর্থ দিয়ে ফেসবুক ক্রেডিট কেনা।
প্রতি ফেসবুক ক্রেডিটের মূল্য ১০ সেন্ট এবং এ ক্রেডিটের মাধ্যমে গেম পয়েন্ট কেনা ছাড়াও কার্টুন গিফট কেনা যায়। ফেসবুকের এ ভার্চুয়াল অর্থের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইনসাইড নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফেসবুকের এ ভার্চুয়াল পণ্যের বাজারের মোট মূল্য দাঁড়াবে ২১০ কোটি ডলার। ফেসবুকের এ ক্রেডিট ক্রমেই প্রচলিত মুদ্রার মতো বিনিময়যোগ্য হয়ে উঠছে। ফেসবুক ক্রেডিটের মাধ্যমে বর্তমানে ওয়ালমার্ট, টার্গেট অথবা বেস্ট বাই প্রতিষ্ঠানগুলোর গিফট কার্ড কেনা যাচ্ছে।
অনেকেই তাই বলছেন, ফটো শেয়ার করার কথা বাদ দিন। শিগগিরই মার্ক জাকারবার্গ ব্যাংকের মতো আপনার অর্থ নিয়ন্ত্রণ করবে।
প্রাথমিকভাবে এ ধারণাকে হাস্যকর মনে হতে পারে। কারণ, এ পদ্ধতি চালু করতে অনেক বাধা অতিক্রম করতে হবে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি এর ক্রেডিট পদ্ধতিকে পেমেন্ট পদ্ধতির আওতায়ও আনতে হবে, যাতে সব জায়গায় এটি ব্যবহার করা যায়। সর্বোপরি এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাধা অতিক্রম করতে হবে। সেই সঙ্গে অর্থ জমা রাখা ও মর্টগেজ পদ্ধতির প্রবর্তনও করতে হবে। এটি অবান্তর। কিন্তু স্মার্টফোন বিশ্বের অর্থবাজারই বর্তমানে পরিবর্তন করে ফেলছে।
টুইটারের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসে ২০০৯ সালে স্কয়ারআপ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করেন, যার সাহায্যে ব্যবসায়ীরা আইফোনের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। এটিঅ্যান্ডটি, টি-মোবাইল ও ভেরিজোনের মতো মোবাইল অপারেটররা স্মার্টফোনকে মোবাইল ওয়ালেটের মতো করে তৈরি করেছে। এদিকে, বিশ্বমানের ক্রেডিট কার্ড প্রতিষ্ঠান আমেরিকান এক্সপ্রেস চলতি বছরের ২৮ মার্চ ‘সার্ভ’ নামে একটি পদ্ধতি চালু করেছে, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড ও ব্যাংক হিসাব কম্পিউটার ও মোবাইলের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবেন। এ ধরনের প্রতিটি সেবা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যবহার করতে হয়। ভিসা, মাস্টার কার্ড ও আমেরিকান এক্সপ্রেসের মতো কার্ডগুলোর মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের লেনদেন হচ্ছে। প্রতিবার এ কার্ড ব্যবহারের সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ অথবা পয়েন্ট দিতে হয় গ্রাহককে।
এক দশক আগে ঠিক এ কাজটিই করেছিল পেপল। ইবের গ্রাহকদের অর্থ নিরাপদে লেনদেনের জন্য একটি সহজ পদ্ধতি প্রণয়ন করেছিল তারা। বর্তমানে পেপলের গ্রাহকসংখ্যা ৯ কোটি ৪০ লাখ এবং প্রতিষ্ঠানটির বাত্সরিক আয় প্রায় ৪০০ কোটি ডলার। পেপলের মাধ্যমে গ্রাহকরা প্রতি বছর ৯ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করে, যা বিশ্বব্যাপী ই-কমার্সের লেনদেনের ১৮ শতাংশ। এ কারণেই বলা হচ্ছে, পরবর্তী প্রজন্মে লেনদেন হবে স্মার্টফোনের মাধ্যমে।
পেপলের বাজার দখল করার মতো সামর্থ্য আছে কার? যৌক্তিক দিক থেকে বলতে গেলে অশ্যই বলতে হবে মোবাইল অপারেটরদের কথা, বিশ্বব্যাপী যাদের কোটি কোটি গ্রাহক রয়েছে।
 
আইটিউনেও অ্যাপলের সুনির্দিষ্ট গ্রাহক রয়েছে। এ ছাড়া গুগলও সম্প্রতি মাস্টার কার্ড ও সিটিগ্রুপের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এ চুক্তির ফলে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড গ্রাহকরা মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন।
কিন্তু শুধু ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন দুটোই দখলে আছে একমাত্র ফেসবুকের। এর ৭৫ কোটির বেশি গ্রাহক অন্য যেকোনো ওয়েবসাইটের তুলনায় ফেসবুকেই বেশি সময় কাটান। এ ছাড়া স্মার্টফোনেও ফেসবুক স্বচ্ছন্দে ব্যবহার করা যায়।
 
এ বিশাল গ্রাহকসংখ্যার বাইরেও ফেসবুক বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটে ‘লাইক’ নামে একটি বাটন চালু করেছে। এতে একটি ওয়েবসাইট প্রকৃত অর্থেই কতটুকু জনপ্রিয় তা বোঝা যায়। এ ছাড়া বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ফেসবুকের প্লাটফর্মের মধ্য থেকে ফেসবুক পেজ চালু করছে।
ফেসবুকের প্রতি পাঁচ গ্রাহকের একজন যদি ফেসবুকের ক্রেডিটে নিয়মিত অভ্যস্ত হয়, তাহলেও ফেসবুকের আকার পেপলের সমতুল্য হবে। ফেসবুকের ক্রেডিট ব্যবহারে গ্রাহকরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে এটি ধীরে ধীরে ব্যাংকে পরিণত হবে, যা ফেসবুকের জন্যও ভালো। কারণ, একসময়ের বিভিন্ন জনপ্রিয় ওয়েবসাইট প্রডিজি, এওএল, ফ্রেন্ডস্টার, সেকেন্ড লাইফ ও মাই স্পেস এরই মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেছে। ফেসবুক সে ক্ষেত্রে একটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটের মতো একই পরিণতি বরণ করতে হবে না ফেসবুককে। টিকে থাকতে হলে ফেসবুককে অবশ্যই ই-মেইল ব্যবহার ছাড়াও আরও কিছু অপশন চালু করতে হবে। ছবি শেয়ার করা ও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়ায় অভ্যস্ত হওয়ার কারণে ফেসবুক গ্রাহকদের জন্য হয়তো ওয়েবসাইটটি ছেড়ে যাওয়া কঠিনই হবে।
বণিক বার্তা ডেস্ক


 

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: