আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে গাড়ি ও হালকা যানবাহনগুলো প্রতি গ্যালন জ্বালানি দিয়ে ৫৪ দশমিক পাঁচ মাইল অতিক্রম করবে

জ্বালানি সাশ্রয় মানদণ্ড: যুক্তরাষ্ট্র ও গাড়ি প্রস্তুতকারীদের মধ্যে নতুন চুক্তি 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ের নতুন মানদন্ড বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। গত শুক্রবার বারাক ওবামা গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থার নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ ঘোষণা দেন।

মূলত গাড়ির ক্ষেত্রে গ্যাসের আধিপত্য কমাতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়। একই সঙ্গে চীন ও ভারতে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। খবর বিবিসি অনলাইন ও ইকোনমিক টাইমসের।

যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ প্রস্তাবে সম্মত হয়ে বলে, আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে গাড়ি ও হালকা যানবাহনগুলো প্রতি গ্যালন জ্বালানি দিয়ে ৫৪ দশমিক পাঁচ মাইল অতিক্রম করবে। বর্তমানে যেখানে সমপরিমাণ জ্বালানি দিয়ে ২৭ মাইল রাস্তা অতিক্রম করা হয়। হোয়াইট হাউস জানায়, এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে বিদেশ থেকে তেল আমদানির পরিমাণ কমার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের পেট্রল খরচও কমবে। একই সঙ্গে এ চুক্তির ফলে বায়ু দূষণ কমবে বলে পরিবেশবাদী সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

এদিকে ওবামা বলেন, এ চুক্তির কারণে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দেশের জ্বালান খরচ দৈনিক ২২ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে। এতে জ্বালানির ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের দুই লাখ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে। এ বিষয়ে ওবামা বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ছে দেশের মানুষ। দশকের পর দশক জ্বালানির দাম বাড়িয়ে আমরা আমাদের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছি এবং ভারত ও চীনে জ্বালানির ব্যাপক চাহিদা ব্যাপারটিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’

‘জ্বালানির চাহিদা সরবরাহের তুলনায় অনেক দ্রুত বাড়ছে। বাড়ার হার এতই দ্রুত যে তা ঠেকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা আমাদের জ্বালানি নির্ভরশীলতা নিয়ে কিছু করছি ততক্ষণ পর্যন্ত এ অবস্থা চলতেই থাকবে। এটাই বাস্তবতা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশী তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত এই চুক্তিটি এ যাবত্কালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ এদিকে এ চুক্তি কার্যকর হতে হতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান যানবাহনের অর্ধেক গ্যাস-বিদ্যুতের সমন্বয়ে তৈরি হাইব্রিড যান দখল করে নেবে বলে দেশটির সরকার আশা করছে।

মূলত গত দুই বছর আগে গাড়িতে গ্যাস ব্যবহার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একটি সমঝোতা করে। এতে মূলত ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আসা গাড়ি ও হালকা ট্রাকে গ্যাস ব্যবহার বিষয়ে সমঝোতা হয়। এর ওপর ভিত্তি করেই মূলত নতুন এ চুক্তিটি করা হয়েছে।

গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফোর্ড, জেনারেল মটরস, ক্রাইসলার, বিএমডব্লিউ, হোন্ডা, হুন্দাই, জাগুয়ার-ল্যান্ড রোভার, কিয়া, মাজদা, মিত্সুবিশি, নিশান, টয়োটা এবং ভলভো এ পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ওবামা গাড়ি শিল্পের জন্য আট হাজার কোটি ডলারের অর্থসহায়তা দেয়ার দুই বছর পর এ ধরনের চুক্তি করা হলো। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িশিল্পে অর্থমন্দা এবং বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে এ ব্যবসার অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে। তখন ওমাবা দেশটির প্রধান দুটি গাড়ি তৈরি প্রতিষ্ঠান জেনারেল মটরস ও ক্রাইসলারকে অর্থসহায়তা দেন। এদিকে মূলত এ কারণেই ওবামার প্রস্তাবিত জ্বালানি সাশ্রয় নীতিমালা কোনো রাজনৈতিক বিরোধিতা ছাড়াই গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। 
বণিক বার্তা ডেস্ক


 

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: