ধনী এবং সম্পদশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কর বাড়ানো হবে

ওবামার ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত মঙ্গলবার জরুরি ব্যয় সংকোচন বিলে স্বাক্ষর করেছেন। তবে এই পরিকল্পনা অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠার ক্ষেত্রে ‘প্রথম পদক্ষেপ’ বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। এক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচনসহ আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ দেশটির অর্থনীতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। খবর সিডনি মর্নিং হেরাল্ড, দ্য ইকোনমিক টাইমস এবং রয়টার্সের।
হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে ওবামা বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনের বেশি যাতে খরচ না করি সেটি নিশ্চিত করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এটি মাত্র শুরু।’
এর আগে গত মঙ্গলবার সিনেটে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ৭৪-২৬ ভোটে বিলটি পাস করা হয়। গত সোমবার নিম্নকক্ষেও এ বিল ২৬৯-১৬১ ভোটে পাস করা হয়। এ পদক্ষেপের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণসীমা ১৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার থেকে আরও ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়ানো হবে। এ ছাড়া আগামী ১০ বছরের ভেতর সরকারি ব্যয় ২ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত কমানো হবে।

একই সঙ্গে নতুন এ আইন আগামী ১০ বছরের মধ্যে আরও ৯০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় সংকোচনের প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা খাত থেকে সংকোচন করা হবে ৩৫ হাজার কোটি ডলার। এছাড়া কংগ্রেসের একটি বিশেষ কমিটি তৈরি করা হয়েছে, যারা ২৩ নভেম্বরের মধ্যে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার কর্তন বিষয়ক প্রস্তাব তৈরি করবেন। ২৩ ডিসেম্বর কংগ্রেসে বিষয়টির ওপর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন লাগার্দে ঋণ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে লাগার্দে বলেন, ‘ঋণসীমা বাড়ানো এবং বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারী উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। বাজারে অস্থিতিশীলতা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে সমর্থন করার মধ্য দিয়ে এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি উভয়ের জন্যই উপকারী হবে।’

এদিকে এ বিল পাসের মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনে ওবামার ভোটারদের আস্থা ফিরে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ ব্যয় সংকোচনের ফলে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে এর প্রভাব পড়বে না বলে ওবামা অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে ধনী এবং সম্পদশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কর বাড়ানো হবে বলে ওবামা জানিয়েছেন। তবে ওবামা আরও আগে থেকেই এ প্রস্তাব দিলেও এটি চাকরির সুযোগ নষ্ট করবে বলে রিপাবলিকানরা প্রথম থেকেই এর বিরোধিতা করছিলেন। ফলে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতার কারণে কখনোই কর বাড়ানো সম্ভব হবে না বলে ডেমোক্র্যাট দলের অনেক নেতা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এদিকে এ ব্যয় সংকোচন বিল এরই মধ্যে ভঙ্গুর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সতর্ক করেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এর ক্রেডিট রেটিং ট্রিপল এ (এএএ) ফিরে পেয়েছে। দেশটি ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত চুক্তি করার পর গত মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ দুটি রেটিং সংস্থা গ্রেডিংয়ের বিষয়ে নিশ্চিত করে। যদিও ভবিষ্যতে পুনরায় গ্রেডিং নিচে নেমে যাওয়ার হুমকি এখনো রয়েছে।

>প্রসঙ্গত, মুডির ইনভেস্টর সার্ভিস এবং ফিচ রেটিং নামের এই দুটি সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রেটিং নির্ধারণ করেছে। তবে এর ধারা অব্যাহত রাখতে হলে সরকারকে ঘাটতি পূরণ বিষয়ক পদক্ষেপ নিতে হবে। আর তা না হলে আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্ত এএএ গ্রেড আবার কমে যাবে। এদিকে ফিচ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে পর্যবেক্ষণ করবে এবং এর মধ্যে রেটিংয়ে সরাসরি নেতিবাচক কোনো প্রভাব ফেলবে না।এখন বিনিয়োগকারীরা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরের (এসঅ্যান্ডপি) মতামতের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে অন্যান্য সংস্থার তুলনায় কঠিন অবস্থানে রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, বাজেট ঘাটতি কমানোর জন্য আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝির মধ্যে আইনপ্রণেতারা যদি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয় তাহলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের রেটিং কমিয়ে দেবে।

>এদিকে আগামী ১০ বছরের মধ্যে দুই লাখ ১০ হাজার কোটি ডলার সঞ্চয়ের পরিকল্পনাটি গত মঙ্গলবার পাস হয়। যদিও এসঅ্যান্ডপি বলেছে, এর অর্ধেকের কাছাকাছি হলেই তারা এএএ রেটিং দেবে। সম্ভাব্য ক্রেডিট পতনের আশঙ্কায় গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ক্রয়-বিক্রয় ভালো ছিল না। টোকিওতে এ সময় নিক্কির দাম দুই শতাংশের বেশি কমে যায়।

এ ছাড়া মুডি এবং ফিচ উভয়েই দেশটির অর্থনীতির এ রকম অবস্থায় উদ্বিগ্ন। কারণ এ পরিস্থিতিতে দেশটির ঋণ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে কঠিন হবে বলে তারা মনে করছে। যুক্তরাষ্ট্রে ফিচের প্রধান গবেষক ডেভিড রিলে এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) পরিমাণ অনেক কম হবে।’ অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মুডির প্রধান গবেষক স্টিভেন হেস বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ২০১২ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধির গতি চলতি বছরের প্রথমার্ধের তুলনায় বেশি হবে। কিন্তু তা যদি না হয়, তাহলে ব্যয় সংকোচন ও বাজেট ঘাটতির পরিকল্পনার বাস্তবায়ন জটিল আকার ধারণ করবে।’

মুডি একটি বিবৃতিতে এ বিষয়ে জানায়, ‘অতীতেও দেখা গেছে, অর্থবছরের পরিকল্পনা সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হয় না। এর পরও বাজেট নিয়ন্ত্রণ নীতিমালার নতুন নিয়ম অকার্যকর হলে তা রেটিংয়ের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’
বণিক বার্তা ডেস্ক


 

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: