নির্লোভ রাজনীতিবিদ সোনিয়া গান্ধীর সাফল্য সীমাহীন এবং বর্তমানে তিনি ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ।

সোনিয়ার রাজনীতি \ সোনিয়ার জীবন


একুশে ডেস্ক : ইতালির সোনিয়া মাইনো এখন সোনিয়া গান্ধী হিসাবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এক নাম। শান্ত, সৌম্য ও ধীর এই গৃহবধূ ভারতের সব চাইতে প্রভাবশালী পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে যে অপার প্রজ্ঞার সঙ্গে রক্ষা করে চলেছেন তা বিস্ময় সৃষ্টি করেছে পৃথিবী জুড়ে। সরকারের ক্ষমতার বলয়ের বাইরে থেকে ভারতের মত জনবহুল ও বহুমাত্রিক রাজনীতির ধারাকে তিনি সাফল্যের সঙ্গে পরিচালিত করে চলেছেন। সেইসঙ্গে ১২৫ বছরের রাজনৈতিক দল কংগ্রেসকে যে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করেছেন তা বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দিয়েছে। রাজনীতি যে ক্ষমতায় যাওয়ার বাসনা, দলীয় প্রাপ্তি এবং দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানুষের প্রতি নিবেদিত তার বর্তমান সময়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনি। সোনিয়া গান্ধী ২০০৪ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের ৩য় সর্বোচ্চ শক্তিধর নারী হিসেবে বিবেচিত হন। ২০০৭ ও ২০১০ সালে তিনি ফোর্বসের বিবেচনায় ৬ষ্ঠ প্রভাবশালী নারী ব্যক্তিত্ব হিসাবে বিবেচিত হন। ফোর্বস ম্যাগাজিনের আরেকটি তালিকায় তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নবম ব্যক্তিত্ব একজন হিসাবে বিবেচিত হন। এছাড়া ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সোনিয়া গান্ধী টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের তালিকায় স্হান করে নেন। বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের প্রধান সোনিয়া গান্ধী চতুর্থবারের মত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন যা কি না সংগঠনটির ১২৫ বছরের ইতিহাসে অভূতপূর্ব। ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো এ পদে নির্বাচিত হয়ে সোনিয়া গান্ধী নিরবচ্ছিন্ন ১২ বছর সেই দায়িত্বে থেকে ২০১০ সালে আবারও চার বছর মেয়াদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তিনিই হলেন কংগ্রেসের দীর্ঘ এবং ঐতিহ্যবাহী ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংগঠনের প্রধান। অভিজ্ঞ ও ঝানু রাজনীতিবিদরা যা পারেননি সেটাই সম্ভব করে তুললেন সোনিয়া গান্ধী, যাঁর রাজনৈতিক জীবনও তুলনামূলকভাবে বেশ কম। ১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ইতালির তুরিন শহরের আট কিলোমিটার দূরের ওরবাসানো গ্রামে জন্ম সোনিয়া গান্ধীর। রোমান ক্যাথলিক পরিবারে জন্ম তার। তার বাবার নাম স্টেফানো, মা পাওলো। সোনিয়ার পিতা ছিলেন একজন নির্মাণ ব্যবসায়ী। সোনিয়ার বয়স যখন ১৮ তখন বাবা তার বড় মেয়েকে ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য পড়তে পাঠান। তখন তিনি কী বুঝতে পেরেছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন তার মেয়ের জীবনকে পাল্টে দেবে। সোনিয়া নিজেই কী জেনেছিলেন? ইন্দিরা গান্ধীর বড় ছেলে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর পরিচয় হয় ইংল্যান্ডে ১৯৬৫ সালে। রাজীব গান্ধীও তখন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র। পরিচয় থেকে প্রেম ও পরিণয়। ১৯৬৮ সালে নয়া দিল্লীতে অনাড়ম্বরভাবে বিয়ে হয় তাদের। বিয়েতে সোনিয়া গান্ধী পরেছিলেন গোলাপি রঙের শাড়ি। যে শাড়ি তার শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধীও বহু বছর আগে পরেছিলেন তার বিয়েতে। তখনই কী তিনি ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন তার শরীরে, মনে? মতিলাল নেহরু-জওহারলাল নেহরু-ইন্দিরা গান্ধী-রাজীব গান্ধীর ধারাবাহিকতায়ই আজকের কংগ্রেসের জনপ্রিয় নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। অথচ তিনি রাজনীতিতে এসেছেন নিতান্ত অনিচ্ছায়। বিয়ের পর থেকে সোনিয়ার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল তার শাশুড়ির সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাতায়াতের মধ্যেই। এমনকি রাজীব গান্ধীও রাজনীতিতে প্রবেশ করতেন না যদি ছোট ভাই সঞ্জয় গান্ধী বিমান দুর্ঘটনায় ১৯৮০ সালে মৃত্যুবরণ না করতেন। ইন্দিরা গান্ধী দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে সঞ্জয়কেই রাজনীতিতে তাঁর উত্তরাধিকার হিসাবে মনোনীত করেছিলেন। বড় ছেলে রাজীবের এ ক্ষেত্রে কোন উৎসাহ ছিল না এবং তিনি তার বিমানচালকের পেশা নিয়েই সন্তুষ্ট ছিলেন। ছোট ভাইয়ের মৃত্যু রাজীব গান্ধীকে রাজনীতিতে আসতে বাধ্য করে। আর রাজীব গান্ধী ১৯৯১ সালের ২১ মে দক্ষিণ ভারতে নির্বাচনী প্রচারের সময় নিহত না হলে সোনিয়া গান্ধীরও রাজনীতিতে আসার কোন কারণই ছিল না। এমনকি রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পরও সোনিয়া গান্ধী রাজনীতি থেকে দূরে থেকেছেন। পরবর্তী ছয় বছর তার ছেলে রাহুল গান্ধী ও মেয়ে প্রিয়াংকা গান্ধীকে নিয়ে সময় কাটিয়েছেন। এমনকি বাড়ি থেকেও খুব কম বের হতেন। এসময় রাজনৈতিকভাবে কংগ্রেস দুর্বল হতে থাকে। আর কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ বারবার সোনিয়া গান্ধীকে দলের দায়িত্ব নেয়ার অনুরোধ জানাতে থাকেন। কিন্তু সোনিয়া ছিলেন অনড়। প্রতিবারই তাদের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছেন। অবশেষে কংগ্রেসের অগোছালো অবস্হা বিচার করে তিনি ১৯৯৭ সালে দলের জন্য কাজ করার সম্মতি দেন। সোনিয়ার কোন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল না। সে জন্যই তিনি ১৯৯৮ সালে দেশব্যাপী জনসংযোগে বের হন। দেশের ১৪০টি জনসভায় ভাষণ দেন তিনি। রাজনৈতিক ধারার উচ্চকণ্ঠ বাদ দিয়ে পরিষ্কার ও শুদ্ধ হিন্দি ভাষায় নরম সুরে দেয়া তার ভাষণ ভারতবাসীর হূদয় নাড়িয়ে দিয়ে যায়। স্বামীহারা গান্ধী পরিবারের এই প্রতিনিধি ভারতবাসীকে মনে করিয়ে দেয় কংগ্রেসের অতীত ঐতিহ্যের কথা। দেশের জন্য এই পরিবারের অবদান ও প্রাণ বিসর্জনের কথা। কংগ্রেস অতীত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় প্রবলভাবে ফিরে আসতে শুরু করে যার প্রাণভোমরা ছিলেন গৃহবধূ থেকে রাজনীতির আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠা সোনিয়া গান্ধী। ২০০৪ সালের নির্বাচনের পরই সোনিয়া গান্ধী নিজেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন এবং সে সময় সেটা হওয়াটাই সবার প্রত্যাশিত ছিল। কেননা, তখন সোনিয়ার নেতৃত্বেই কংগ্রেস বিজেপির নেতৃত্বে শাসক এনডিএ মোর্চাকে নির্বাচনে পরাজিত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল। সবাই ধরে নিয়েছিলেন, কংগ্রেসের নেতৃত্বে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সোনিয়া গান্ধী। কিন্তু অনেককেই অবাক করে দিয়ে সোনিয়া সেই পদ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান এবং নিজেই প্রধান কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের নাম প্রস্তাব করেন সরকার প্রধানের জন্য। এতে মনমোহন নিজেও বিস্মিত হন। কেননা সফল অর্থমন্ত্রী হলেও রাজনীতিতে মনমোহনের তেমন কোন সাফল্য ছিল না। মনমোহন কখনো প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন না। সোনিয়া গান্ধীর এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য তার বাড়ির সামনে ভক্ত সমর্থক ও দলীয় নেতা-কর্মীরা অনশন শুরু করে। কয়েকদিন ধরে এ অনশনেও মন গলেনি সোনিয়ার। নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। সোনিয়া গান্ধীর সেই সিদ্ধান্ত বিভিন্ন মহলে দারুণভাবে সমাদৃত হয় এবং তাকে আরো জনপ্রিয় করে তোলে। তিনি নির্লোভ রাজনীতিবিদ হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। সেইসঙ্গে বিরোধী দলগুলো ‘বিদেশিনী’ ইস্যু সৃষ্টি করে যে রাজনীতি শুরু করেছিল তাতে জল ঢেলে দেন। কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্ত করার পাশাপাশি সোনিয়া গান্ধী নিজের ছেলে রাহুল গান্ধীকেও দলের একজন কর্মী হিসাবে গড়ে তোলেন। সরাসরি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে না এনে যুব কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করতে পাঠান। এভাবে তিনি ছেলে রাহুলকে রাজনীতিতে গড়ে তুলেছেন এবং সবার বদ্ধমূল ধারণা রাহুলই আগামীদিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী। নিঃসন্দেহে সোনিয়া গান্ধীর সাফল্য সীমাহীন এবং বর্তমানে তিনি ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। প্রত্যক্ষভাবে সরকারে না থাকলেও তাঁর প্রভাব যে সবক্ষেত্রে বিরাজমান তা সহজেই অনুমেয়।

Source: http://www.weeklyekushey.com/news/24681.html


Welcome to Dhakahome.com-NRB Capital Inc and Hyperion Builders Ltd proudly presents their new project; Hotel Sun Coast at Cox’s Bazar and Hotel Sun Rim at Kuakata.You could be the lucky owner of this two magnificent hotels by simply buying a share with booking money of BDT 100,000 and monthly installment of BDT 60,000 for 50 months.

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: