১ লাখ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে ১০ জনই ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত৷

মোবাইল ফোন ব্যবহারে ক্যান্সার ১০ বছর গড়ে দৈনিক ৩০ মিনিট করে কথা বললে ব্রেন টিউমার এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে


শামছুল হক রাসেল : মোবাইল ফোন- আধুনিক বিজ্ঞানের এক কল্যাণকর উপহার ৷ তা যোগাযোগকে করেছে সহজতর, পুরো বিশ্বকে নিয়ে এসেছে হাতের মুঠোয়৷ ভেঙে দিয়েছে দূরত্বের বেড়াজাল৷ কিন্তু বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ক্যান্সার গবেষণা এজেন্সির সাম্প্রতিক রিপোর্ট চিন্তায় ফেলেছে মোবাইল ব্যবহারকারীদের৷ তাদের মতে, মোবাইলে দীর্ঘক্ষণ কথা বললে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি হতে পারে৷ হতে পারে ব্রেন টিউমার৷ তাদের এই গবেষণার ফলাফলে হৈচৈ পড়েছে গোটা বিশ্বে৷ মোবাইলে আপনি কতক্ষণ কথা বলেন? আধা ঘণ্টা না তারও বেশি? বেশি সময় কথা বললে এখনই অভ্যাস বদলান৷ মোবাইল সেটটি যত দামি আর আধুনিকই হোক না কেন তা কিন্তু আপনার ক্ষতি করবেই৷ কারণ মোবাইলে বেশি কথা বললে ক্যান্সার বা ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি বাড়ে৷ রোগ-বালাই বাড়তে থাকে৷ এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই৷

এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, এ বিষয়ে আলোচনা বা বিতর্ক করে কোনো লাভ নেই৷ মোবাইলের তড়িত্-চৌম্বকীয় তরঙ্গ ভীষণ ক্ষতিকর৷ ১০ বছর ধরে প্রতিদিন গড়ে আধাঘণ্টা (৩০ মিনিট) কথা বললে ব্রেন টিউমার এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে৷ তরঙ্গায়িত ওই ক্যান্সারের নাম গ্লিয়োমা৷ মোবাইল তরঙ্গের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা ১৪টি দেশের ৩১ জন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি তৈরি করে৷ কমিটির নাম দেওয়া হয় ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার বা আইএআরসি৷ এ কমিটি টানা আট দিন একটি গবেষণা কর্মসূচি নিয়েছিল৷ তা শেষ হয়েছে গত ৩০ মে৷ এরপরই ফ্রান্সের লিও শহরে ১ জুন সংবাদ সম্মেলনে সমীক্ষা ও গবেষণা রিপোর্টের সারমর্ম প্রকাশ করে সংস্থাটি৷ গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার ক্ষতিকারক৷ মোবাইলের তড়িত্-চৌম্বকীয় তরঙ্গ ভয়াবহ৷ তা ক্যান্সার রোগ পর্যন্ত ঘটাতে পারে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা মোবাইলের ক্ষতিকর দিকের সন্ধান দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি৷ জানিয়েছে বাঁচার সহজ কিছু উপায়ও৷ তাদের পরামর্শ, কানে মোবাইল চেপে কথা বলার অভ্যাস ছাড়তে হবে৷ প্রয়োজনে হ্যান্ডস ফ্রি গ্যাজেট ব্যবহার করা যেতে পারে৷ স্পিকার ফোনে কথা বলার অভ্যাস বাড়াতে হবে৷ বন্ধ ঘরে মোবাইলে দীর্ঘক্ষণ কথা এড়াতে হবে৷ খুদে বার্তা দিয়ে কাজ মিটে গেলে মোবাইলে কথা না বলে খুদে বার্তা পাঠানো যেতে পারে৷মোবাইল ফোনগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত করে এমন একটি স্বাধীন গ্রুপ পাওয়ার ওয়াচ-এর অ্যালাসডেইর ফিলিপস বলেন, অধিকাংশ ব্যবহারকারীর এসব সতর্কতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই৷ নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শগুলো হ্যান্ডসেট বঙ্রে ওপর অথবা ব্যবহার-নির্দেশনার গেটিং স্টার্টিং বিভাগে খুব স্পষ্ট ও সবিস্তারে লিখে দেওয়া উচিত৷ এসব সতর্কবাণী এমন কোনো জায়গায় লেখা উচিত নয়, সাধারণত যা ব্যবহারকারীর নজর এড়িয়ে যায়৷ মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহারে যে ঝুঁকি রয়েছে, সে ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষা দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন৷রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এঙ্পোজার দেহের টিস্যুসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে আক্রান্ত করে৷ গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রেইন টিউমারের জন্যও এই ক্ষতিকারক রশ্মি দায়ী হতে পারে৷ এই রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এঙ্পোজারের অধিকাংশই আসে মোবাইল ফোনের অ্যান্টেনা থেকে৷ হ্যান্ডসেটকে যখন পকেটে রাখা হয় তখন এই রশ্মির নির্গমন বৃদ্ধি পেতে পারে, কারণ মোবাইলের নেটওয়ার্ক সিগন্যাল দুর্বল থাকাকালে মোবাইল ফোন তার বহির্গমন শক্তি বাড়িয়ে দেয়৷ লোকজন যখন তাদের হ্যান্ডসেটকে বেল্ট কিংবা পকেটে বয়ে বেড়ায়, তখন মোবাইল সেটের পেছন দিকটা বেশিরভাগ সময় শরীরের চামড়ার দিকে লেগে থাকে৷ ফলে এর মাধ্যমে এ্যান্টেনা থেকে হায়ার এঙ্পোজার বেশি পরিমাণে আক্রান্ত করতে পারে৷

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, মেয়েরা তাদের মোবাইল ফোনটি রাখেন ভ্যানিটি ব্যাগে৷ যা তাদের ব্রেস্টের পাশে ঝুলানো থাকে৷ এরকম অবস্থায় মোবাইলের ক্ষতিকর রশ্মি নারীর শরীরে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে৷ এই রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এঙ্পোজার গর্ভবতীদেরও সমস্যা করতে পারে৷ এ কারণে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গর্ভবতীদের উচিত গর্ভধারণের প্রথম ছয় মাস মোবাইল হ্যান্ডসেটটিকে সবসময় তলপেট থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা৷ যারা মোবাইল টাওয়ারের আশপাশে থাকেন বা যে সব বাড়িতে মোবাইল টাওয়ার রয়েছে সেখানকার লোকজনের এ ধরনের ক্যান্সার ঝুঁকি অত্যধিক৷ কারণ এই টাওয়ার থেকেই রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে মোবাইলে সিগন্যাল প্রবাহিত হয়৷ উল্লেখ্য, মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর আইনগত দায়িত্ব হচ্ছে ভোক্তারা কীভাবে ক্ষতিকর রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এঙ্পোজার কমাতে পারে তার বিস্তারিত নির্দেশনা তাদের ম্যানুয়ালে দেওয়া৷ মোবাইল ফোনের এই ক্ষতিকারক দিক নিয়ে জানতে চাইলে প্রখ্যাত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. সজল আশফাক বলেন, কানে মোবাইল চেপে ধরে কথা বললে কান গরম হয়ে ওঠে৷ শব্দগুলো বহিঃকর্ণ ভেদ করে অন্তঃকর্ণ পর্যন্ত চলে যায়৷ কান গরম হওয়ার ফলে মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়৷ বিশেষ করে মোবাইলের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অন্তঃকর্ণ পেরিয়ে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পরোক্ষভাবে আঘাত আঘাত করতে পারে৷ ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগেও ভুগতে হয়৷ এ ছাড়া শ্রবণশক্তি ধীরে ধীরে লোপ পায়৷ একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে কানের সঙ্গে মস্তিষ্কের যোগাযোগ রয়েছে৷ এটাও সত্য যে, মোবাইলে ব্যবহূত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির পাওয়ার তুলনামূলক কম৷ কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার করার ফলে তা মস্তিষ্কে আঘাত হানতে পারে৷ কেননা কানের সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তীতে মস্তিষ্কও আক্রান্ত হতে পারে৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইলে অতিরিক্ত কথা বলার কারণে কম শোনার পাশাপাশি ব্রেন টিউমার হওয়ারও আশঙ্কা থাকে৷ এ বিষয়ে বিশিষ্ট নিউরো সার্জন ডা. এহসান মাহমুদ জানান, তর্ক-বিতর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় অনেকটাই প্রমাণিত যে, কানে মোবাইল লাগিয়ে কথা বললে ব্রেনে ইলেকট্রিক ইমপাস বেড়ে যায়৷ ফলে ব্রেনের সেই অংশে গ্লুকোজ মেটাবলিজমও বৃদ্ধি পায়৷ এতে করে ব্রেনের কার্যক্রম হাইপার ও উত্তেজিত হয়ে পড়ে৷ যার জন্য মানসিক অস্থিরতা ও নিউরনের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে৷ সব মিলিয়ে ব্রেন টিউমার বা ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার এক জরিপে দেখা গেছে, ১ লাখ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে ১০ জনই ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত৷ সবচেয়ে আশঙ্কার কথা এ সংখ্যা দিন দিন আরও বাড়ছে৷

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: