ড. ইউনূস পরশ্রীকাতরতা ও প্রতিহিংসার শিকার : ক্লিনটন

 

ড. ইউনূস পরশ্রীকাতরতা ও প্রতিহিংসার শিকার : ক্লিনটন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেছেন, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, ড. ইউনুস সৃষ্টিশীল মানুষ। অন্ধকারে বাতিঘরের ন্যায় যিনি বিশ্বের অগণিত মানুষকে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তার আবিষ্কৃত ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ নিজ পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে।

দারিদ্র্যবিপর্যস্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্বের সাধারণ মানুষের জীবনের মান উন্নয়ন ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ক এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন নিউজ ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেন।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবকল্যাণ সংস্থা রকফেলার ফাউন্ডেশন কর্তৃক ইনভেশন ২০১১ ফোরাম শীর্ষক প্রথমবারের মতো পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

গত বুধবার ম্যানহাটনে আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠানের। এতে মূল প্রবন্ধের উপর আলোচনায় অংশ নেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. পল ফারমার, এজিটি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথি কচাবি, ম্যারি রবিনসন্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ম্যারি রবিনসন্স, রকফেলার ফাউন্ডেশনের প্রধান ড. জুডিট রডিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিশ্বমানবতার কল্যাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনকে রকফেলার ফাউন্ডেশনের লাইফ টাইম এচিভমেন্ট এওয়ার্ড দেয়া হয়।

ক্লিনটন বলেন, ড. ইউনূসকে গ্রামীণ থেকে বয়সের ছুঁতো ধরে সরানো হয়েছে। কিন্তু এটা আসল কারণ বলে আমরা মনে করি না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে পরশ্রীকাতরতা ও প্রতিহিংসা। একজন নিরস্ত্র শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর বিরুদ্ধে সরকারের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সমাজে কখনো গ্রহণীয় হবে না।

তিনি বলেন, আরকানসাসের গভর্নর থাকা অবস্থায় আমরা নিজেরাই ড. ইউনূসকে নিয়ে গিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ চালু করেছিলাম যা এখন যুক্তরাষ্ট্রে একটি জনপ্রিয় কর্মসূচি। আমি প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় এর যত ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন সেটা করেছি। এটা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয় যে, প্রেসিডেন্ট ওবামা নিজেও ড. ইউনূসের একজন অনুরাগী। প্রেসিডেন্ট ওবামা নিজেও এই কর্মসূচিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের দারিদ্র দূরীকরণে ক্ষুদ্র ঋণের কার্যকারিতা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য এর প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশ্ববাসী আজীবন স্মরণ রাখবে। ইতিহাসের পাতা থেকে কেউ তার নাম মুছতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণের পর বক্তৃতায়ও ক্লিনটন গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র ঋণের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ এই বিশ্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দারিদ্র্যবিমোচনের কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যে আমাদের সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন নিজেই এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরেন ড. ইউনূসকে। এ সময় তারা কুশলাদি বিনিময় করেন।

একই অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের প্রধান ড. ফজলে হোসেন আবেদও আমন্ত্রিত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন তার সাথেও মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধের উপর আলোচনায় ড. মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, বর্তমান ও আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং উদ্ভাবনের সমন্বয় করতে হবে। কারণ এর প্রতিটি একে অন্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এজন্য বিশ্বের সৃজনশীল সমাজকে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি.

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: