বর্তমানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে রিয়েল এস্টেট সেক্টরের প্রতি উৎসাহ এবং আগ্রহ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

Welcome to Dhakahome.com

বাংলাদেশে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সমস্যা ও সম্ভাবনা
১ম পর্ব…-নাঈম মাহমুদ


নানান প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ২০১০ সাল বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট বা হাউজিং ব্যবসার জন্য একটি সাফল্যের বছর। ফ্লাট ও জমি মিলে এই সেক্টরে এ বছর বিক্রির হার বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ, যা ২০০৯ সালের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। আর এই বিক্রির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে ফ্লাট বিক্রি থেকে। যার সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ হাজারটি। অর্থনৈতিক বিশ্বমন্দা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতা, সিমেন্ট-রডসহ কাঁচামালের অব্যাহত দামবৃদ্ধির মতো নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও হাউজিং ব্যবসার ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে এই শিল্পের জন্য একটি বড় ইতিবাচক ঘটনা। এরসঙ্গে প্রসঙ্গ এসে যায়- আরো বেশি করে সহায়ক অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই শিল্প উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।

২০০৯ সালে বিশ্বব্যাপী ঘটে যাওয়া অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব বাংলাদেশের শিল্পখাতগুলোতে কিছুটা পরিলক্ষিত হয়। তবে সরকারের কিছু সময়োচিত সিদ্ধান্তের কারণে সেই সংকটময় সময় রিয়েল এস্টেট খাত ভালোভাবেই সামাল দিতে পেরেছে। সরকারের দেয়া কালো টাকা সাদা করার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই এই খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছেন যা এই শিল্পের সাময়িক সংকট উত্তরণের জন্য ছিল সহায়ক। রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট তানভিরুল হক প্রবালের মতে, সরকারের এই উদ্যোগের কারণে ফ্লাট বিক্রির হার ২০০৯ সালে প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বরাবরের মতো দেশীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী ক্রেতার ব্যাপক আগ্রহ শেষ পর্যন্ত হাসি ফুটিয়ে তোলে ব্যবসায়িদের।


বর্তমানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে রিয়েল এস্টেট সেক্টরের প্রতি উৎসাহ এবং আগ্রহ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানান হাউজিং ফেয়ার, প্রমোশনাল ইভেন্ট, প্রবাসী বাংলা পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রচার, বহুমুখি মার্কেটিং ক্যাম্পেইন ইত্যাদি কারণে এই খাতে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। অন্য যে কোনো শিল্পখাতের চেয়ে এই খাত তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এবং স্বল্পতম সময়ে মুনাফা অর্জনের অধিক সুযোগ থাকায় অনেক বিনিয়োগকারীই এই সেক্টরকে অধিকতর নিরাপদ মনে করছেন। তবে ব্যাপক সম্ভাবনা সত্ত্বেও ২০১১ সালটি এই শিল্পের জন্য একটি সংকটময় বছর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট অনেকের ধারণা। এই শিল্পের প্রধান দুটি কাঁচামাল হলো গ্যাস ও বিদ্যুত। বর্তমানে এই দুটি উপকরণেরই অবস্থা খুবই নাজুক। অব্যাহত লোডশেডিং, জরুরি গ্যাস প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা ইত্যাদির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নির্মাণ শিল্পের প্রতিটি উপকরণের দাম। এসবের মাঝে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কিছু সিদ্ধান্ত এই শিল্পের ভবিষ্যতকে আরো কিছুটা অনিশ্চিত করে তুলেছে। সম্প্রতি এক সিদ্ধান্তে নতুন কোনো আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবনে সরকার গ্যাস ও বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এই বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের সৌর বিদ্যুৎ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টের বিদ্যুৎ চাহিদার শতকরা ৩ ভাগ যাতে সৌর বিদ্যুৎ থেকে পূরণ করা হয় সে বিষয়ে শিগগিরই সরকার এটি নীতিমালা করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট তানভিরুল হক প্রবালের মতামত- সরকারি এই সিদ্ধান্ত নির্মাণ শিল্পের জন্য নেতিবাচক হবে। কারণ প্রতিটি ভবনে সোলার প্যানেল বসাবার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এই শিল্পে নেই। এছাড়া সোলার প্যানেল ক্রয় ও তা রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
এদিকে গত বছর পাস হওয়া ‘রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০’ এর কারণে এই খাতের বেশকিছু কোম্পানি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। কারণ এইখাতে নিয়োজিত প্রায় দেড় হাজার কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৮২৭টি কোম্পানি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)- এর সদস্য এবং এই সদস্যদের মধ্য থেকে মাত্র ৯টি কোম্পানি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর তালিকাভুক্ত।রাজউকের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে- রাজউক কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত না হলে ১ জুলাই ২০১০ থেকে কোনো কোম্পানি বাণিজ্যিকভাবে জমি বিক্রি বা ফ্লাট নির্মাণের অনুমতি পাবে না। রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেছেন, বেসরকারি ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। তিনি আরো বলেন, দেশের বিদ্যমান বিল্ডিং কোড মেনে পরিকল্পিতভাবে সকল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করতে হবে।’রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০’ আইন অনুযায়ি, এই খাতে নিয়োজিত কোনো কোম্পানি যদি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের, যেমন রাজউক, রিহ্যাব ইত্যাদির কাছে যদি নিবন্ধনকৃত (রেজিস্ট্রিকৃত) না হয় তবে কোম্পানির মালিক পক্ষকে ২ বছরের জেল এবং পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। অধিকন্তু মালিক পক্ষ যদি তাদের ব্রুশিয়ারে প্রকাশিত সুবিধাগুলো থেকে কোনো কিছু কম করে থাকেন তাহলে তাদেরকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে এক বছরের জেল হতে পারে। এই আইনের অপর এক ধারায় বলা হয়েছে, যে নির্মিতব্য ভবনের সরকার অনুমোদিত নকশায় যদি কোনো পরিবর্তন আনা হয় তবে মালিকপক্ষকে হয় ৩ বছরের কারাদণ্ড অথবা ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।সম্প্রতি পাস হওয়া আইনটির আওতায় জমি বিক্রেতার অধিকারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আইনের একটি বিশেষ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, যদি কোনো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ক্রয়কৃত জমির মালিকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির অমান্য করেন অথবা ভবন নির্মাণ অসমাপ্ত রাখেন এবং এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপুরণ না প্রদান করেন তাহলে এ জাতীয় আচরণকে প্রতারণা হিসেবে গণ্য করা হবে। এই প্রতারণার অপরাধে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষকে ২ বছরের জেল বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। অপরদিকে এই আইনে বলা হয়েছে- যদি কোনো জমির মালিক ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি ভঙ্গ করলে তাকে দুই বছরের জেল অথবা ১০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

চলবে….
লেখক: মার্কেটিং বিভাগের প্রধান, শেয়ার অ্যান্ড কেয়ার গ্রুপ, যুক্তরাজ্য

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: