দুই নেত্রীর জিদে উত্তপ্ত রাজপথ- দেশবাসী উৎকণ্ঠায়

দুই নেত্রীর জিদে উত্তপ্ত রাজপথ দেশবাসী উৎকণ্ঠায়

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই


একুশে রিপোর্ট : শান্ত ছিলো রাজপথ। হঠাৎ বজ্রপাতের মতোই রাজপথ উষ্ণ হয়ে ওঠলো। কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলেই আসল বিষয় নয়। নেপথ্য কারণ অনেক। এর প্রথম হচ্ছে বিএনপি নেত্রীর দুই পুত্রের সাজা ও নতুন মামলায় অন্তভূর্ক্তি এবং জামাতের নেতাদের মুক্তির জন্য পরোক্ষভাবে বার্তা পৌঁছানো। সংবিধান সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হতে পারতো। হলো না শুধু দুই নেত্রীর জিদাজিদের জন্য। কেউ কারো মুখ দর্শনে নারাজ। এই ধারা চলতে থাকলে যতই সরকারের মেয়াদ কমবে, ততই সংঘর্ষ-সংঘাতের দিকে দেশ ধাবিত হবে। জনগণ এসব ভেবে শঙ্কায় আছে।

এরই মধ্যে ৪ দল ছোট ছোট দলগুলোকে নিজেদের দিকে টানার জন্য টিম পাঠাচ্ছে। আবার আওয়ামী লীগও বসে নেই। তারাও প্রগতিশীল এবং সমমনা দলগুলোর সাথে কথা বলছে। নতুন মিত্র দুই পক্ষই খুঁজছে। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী মুছে ফেলায় এখন হয়ত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। এরই মধ্যে ৪ দল আগাম ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা হাসিনার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, সময় শেষ হয়ে যায়নি। নির্বাচনের অনেক সময় বাকি। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে। সংবিধানে সবের্াচ্চ আদালতের পরামর্শ অনুযায়ী আরও দুই মেয়াদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার রেখে আরেকটি সংশোধনী পাশ করলেই রাজপথ শীতল হয়ে যাবে। সমাধানের পথ এটাই। আর যদি সরকারি দল সে পথে না যায়, তাহলে ঘুনিয়ে আসছে অনিবার্য মহাসংঘাত। হয়ত এই সংঘাতে গৃহযুদ্ধ না হলেও ভয়াবহ পরিস্হিতির সৃষ্টি হতে পারে। জিম্মি হয়ে পড়তে পারে দেশবাসী। আর তখন জনগণকে এমনি পরিস্হিতি থেকে উদ্ধারে কে এগিয়ে আসবেন? ত্রাতা বা রেফারী হিসেবে তখন কি আবারো সেনাবাহিনীকে এক-এগারোর মতো মিডিয়েটরের ভূমিকা পালন করতে হবে? এমনি আশঙ্কাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

 

জনগণ মনে করে আমাদের রাজনৈতিক গণনে মুল সমস্যা হচ্ছেন দুই নেত্রী। তারা এক টেবিলে বসে যদি সব সিদ্ধান্ত নেন তাহলে এদেশে আর কোনোদিন আন্দোলন, হরতাল দরকার হতো না। দুই নেত্রীর মধ্যে আছে ইগো বা জিদ। দু’জনই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আবারও হয়েছেন। জনগণ তাদের দেশ শাসনের ম্যান্ডেট দিয়েছে। দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নেয়ার জন্য যদি সংঘাতের বদলে সমঝোতার ক্ষেত্র প্রস্তুত হতো, তাহলে এদেশ সব সমস্যা ও সংকট থেকে মুক্ত হতে পারতো। যদি সংবিধানে আর কোনো সংশোধনী যুক্ত না হয়, আদালতও চুড়ান্ত রায়ে আরও দু’টি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা ম্যান্ডেটরী না করে, সরকারের মেয়াদের পরে রাষ্ট্রপতি অন্য কোনো অপশনে না গিয়ে শেখ হাসিনাকেই ৯০ দিনের জন্য কাজ চালিয়ে যেতে বলেন, তাহলে ৪ দল সেই নির্বাচনে যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছ। তারা কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে না। এই জেদ ও সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে নির্বাচনের আগে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ঘটে যাওয়াও বিচিত্র নয়। আমাদের সামনে ২০০৬ সালে জোট সরকারের পদত্যাগের সময়টার কথা মনে আছে। তখন কিভাবে পল্টনে, বায়তুল মোকাররমে রাস্তায় লড়াই হয়, গোলাগুলী হয়, অতঃপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে আন্দোলন, হরতাল, অবরোধ। আমরা কি মাত্র ৫ বছরে সেই কালচার থেকে বেরিয় আসতে পেরেছি? আমরা কি ঘোষণা দিতে পারি যে, আর এদেশে এমন ঘটনা ঘটবে না? সুতরাং সরকারি ও বিরোধী দলকে এক টেবিলে বসিয়ে দুরুত্ব কমিয়ে আনতে না পারলে দেশ এক সাংঘর্ষিক পরিস্হিতির দিকে এগিয়ে যাবে-এমনটাই ্আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিমক বিশ্লেষকরা। খালেদা জিয়া বলেছন, আর নয় হরতাল, আর নয় ভাঙচুর, আর নয় জ্বালাও-পোড়াও। তাহলে কি শুভবুদ্ধির উদয় হলো? নাকি যে কারণে এসব চলছিল, তার সামাধান তিনি পেয়ে গেছেন? বিশ্লেষকদের একাংশ বলেছেন, এটা ঘোষণা হলেও তা চিরস্হায়ী কোনো ঘোষণা নয়। তাদের মতে হরতালের নেপথ্য কারণ ছিল তারেক-আরাফাত-এর মামলা, সাজা, ওয়ারেন্ট ইত্যাদি। হয়ত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে গ্রীন সিগনাল দেয়া হয়েছ শর্তভিত্তিক। আর এ কারণেই শরীকদের জিজ্ঞাসা বা মতামত না নিয়েই গণ-অনশনে তিনি এমন ঘোষণা দিয়েছন। তারপরও সাধারণ জনগণ আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তারা ঈদের পর আবার হরতাল, ভাঙচুর, গাড়ি পোড়ানোসহ নাশকতার আশঙ্কাও করছেন।

 

এরই মধ্যে সামাজিক অস্হিরতা বাড়ছে। গণপিটুনী দিয়ে ছাত্র হত্যা করা হচ্ছে, নানারকম হত্যা, ধর্ষণ ও অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের সাহসও বাড়ছে। দাগী আসামীরা জামীন ও পাচ্ছে। এদিকে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরের ফাঁসির আসামী বিপ্লবকে ক্ষমা করে দিলেন। এর আগে বিএনপি-জামাতের সময় ২০০৫ সালে ফাঁসি হওয়া পলাতক আসামী জিন্টুকে ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেব এনে ুআদালতে আত্মসমপর্ণ করিয়ে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনকে দিয়ে সাজা মওকুফ করিয়ে আবার সুইডেন পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। একই নজীর হলো এ সরকারের সময়ও। তাহলে দিন বদল হলো কোথায়? এসব কর্মকাণ্ড হলে অপরাধ প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। বঙ্গবন্ধু দালাল আইন ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চিকন আলী রাজার ও মহসীন হল মার্ডার কেসে অভিযুক্ত শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করে যাবজ্জীবন দিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তেমনটি হতে পারতো। ১৯৯১ সালে গণতন্ত্রিক সরকারে যাত্রা শুরু হয় অনেক আন্দোলন, রক্তক্ষয় ও ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে। তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী তখনকার প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের কাছে এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী ঘোষিত হয়ে সরকার গঠন করে। কিন্তু ১৯৯৬ সালে মেয়াদ শেষ হবার আগে নির্বাচন কিমিশন নতুনভাবে গঠিত হবার পরই দেখা যায় বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসার কেওশল নিয়ে তাদের দলে সমর্থক কমিশন সদস্যের নিয়োগ করে। ভোটার তালিকায় অনেক ভোটারকে বাদ দেয়া হয়। এ সময় দলীয় সেই সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা কমিশনের অধীনে নির্বাচনে যেতে দেশের সব দল, এমনকি জামাতও রাজী হয়নী। তারা আন্দোলনে নামে, দাবি করে কেয়ারটেকার সরকার গঠনের। এমনি এক পরিস্হিতিতেও খালেদা জিয়ার সরকার নিজেদের লোকজনকে টিক চিহ্ন দিয়ে নির্বাচনহীন এক ভোট দেখিয়ে সংসদ ও সরকার গঠন করে। অবশেষে রাজপথে জনতার মঞ্চ তৈরি করে ৮ দল, ৫ দল, জামাত, জাসদসহ সব দল। সেই পাতানো সংসদেই পাস হয় ত্রয়োদশ সংশোধনী-তত্ত্বাবধায়ক সরকার। গঠিত হয় বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে সরকার। তবে এই তত্ত্বাবধায়ক আমলেও সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিম ট্যাংক নিয়ে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করেন। দ্বিতীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয় বিচারপতি লতিফুরের অধীনে। তার মেয়াদকালে আইন-শৃঙখলার বারোটা বাজে। সারাদেশে হাজার হাজার মানুষ খুন ও ধর্ষণের শিকার হয়। অগণিত মানুষের সম্পদ দখল হয়। সংখ্যালঘুরা বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্য জেলায় আশ্রয় নেয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এজেন্টদের প্রকাশ্য মেরর বের করে দেয়া হয়। সারাদেশে অরাজকতা ও নৈরাজ্যে স্বাধীনতা বিরোধীরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। এমনি অবস্হায় নির্বাচন হয়। নির্বাচনের পর ৬ মাস যাবত চলতে থাকে অরাজকতা, খুন, ধর্ষণ ও দখল।

 

তৃতীয় তত্ত্বাবধায়ক, সরকার হলো তিন উদ্দিনের ভেলকিবাজী। ২০০৬ সালে জামাত-বিএনপি সরকার পদত্যাগের পরই রাজপথে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। হরতাল অবরোধ এমন পর্যায়ে যায় যে, সেনা হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণে আসতো না। এখন ২০১৩-১৪ সালে আওয়ামী লীগ পদত্যাগ করলে তখন কি হবে, এ ভেবে জনগণ শঙ্কিত। তখন জনগণ যদি জিম্মি হয়ে পড়ে, তাদের উদ্ধারে রেফারী বা মিডিয়েটর কে হবে? আবার কি সেনাবাহিনীকেই আসতে হবে? সংবিধানতো ডাস্টবিনে ফেলার ঘোষণাই এসে গেছে। তাহলে জোর যার রাজ্য তার ছাড়া আরতো নীতিমালা থাকবে না। তখন কি হবে? আরেকটি মহাসংঘাত ও নতুন কোনো মিডিয়েটর?

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: