দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে আমাদের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখাটা অনেক বেশি জরুরি।

ডিপ্লোম্যাটিক নাকি ডিপসোম্যানিক?

আবু ইশমাম
যাদের স্থান পাওয়ার কথা
Deep-low-mat-এ বা গভীর নিচুতে পাতা মাদুরে, দেশের পররাষ্ট্রনৈতিক কর্তৃপক্ষের কাছে তারা বড়ই আদুরে! উল্টো তাদের স্থান দেয়া হয়েছে মর্যাদার উঁচু আসনে, Diplomat হিসেবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের হিসাবে বড়ই ভুল ছিল। জানি না এ ভুলের জন্য তারা এখন অনুশোচনায় চুল ছিঁড়তে চাইবে কি না! জাপান, ওমান ও নেপালে নিয়োজিত রাষ্ট্রদূতেরা তাদের অশিষ্টতা বা মদ-নারীতে আসক্তিপূর্ণ আচরণের মাধ্যমেDiplomat ভাবমর্যাদার বদলে বিদেশে তাদের পরিচিতি হয়েছে Diplomatic বা মাদকাসক্ত উন্মাদরূপে! নেপালে সম্প্রতি বাংলাদেশের দুইজন সাহসী তরুণ মুসা ও মুহিত বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টে আরোহণ করে সারা বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উঁচু করেছিলেন। Dipsomanic Diplomat-রা তা আবার নামিয়ে আনলেনDeep-low-mat-এ। পেশাগত দক্ষতার বদলে দলীয় আনুগত্যই একমাত্র যোগ্যতা বিবেচিত হওয়ায় কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদার এই ভূমিধস পতন বলে অনেকে মনে করছেন। আমাদের রফতানি আয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসে বিদেশী রেমিট্যান্স থেকে (২০১০ সালে ১১ বিলিয়ন ডলার); যা অব্যাহত রাখতে ও দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে আমাদের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখাটা অনেক বেশি জরুরি।

 

গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রধানমন্ত্রীর এক সফরসঙ্গীর নারী কেলেঙ্কারিও দেশের সুনামের অবয়বে কালিমা লেপন করেছিল। কিন্তু সে ঘটনায়ও বোধ হয় সংশ্লিষ্টরা কূটনৈতিক নিয়োগে যথেষ্ট সতর্ক হননি। তাই চাণক্যের উত্তরসূরি ভেবেই হয়তো ড. নিমচন্দ্র ভৌমিককে নেপালে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সেই উত্তরসূরি যে আসলে উত্তর-শুঁড়ি, তা কে জানত? চন্দ্রেরও কলঙ্ক থাকে, তাই নিমচন্দ্রেরই বা থাকবে না কেন? নিম তো একটু তেতো বটেই! মার্সিডিস বেঞ্জের বদলে বাহন হিসেবে মোটরসাইকেল খারাপ কিছু নয়! কাঠমান্ডুতে বাইকে চেপে রাষ্ট্রদূত যাচ্ছেন, এটা দেখে তার কৃচ্ছ্রসাধনের প্রতি অনেকেই শ্রদ্ধাবনত হতে পারেন! কিন্তু ক্লাবে-বারে তার মদ-নারী-ফুর্তি ফুটিয়ে তুলেছে তার আসল মূর্তি! এ বিষয়ে বিগত ৩ জুন ২০১১ তারিখের নয়া দিগন্তের এক বিস্তারিত রিপোর্টে জানা যায়, ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের ব্যবহারের জন্য দামি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি রয়েছে। নিমচন্দ্র ভৌমিক নজিরবিহীনভাবে দূতাবাসের হিসাবরক্ষকের মোটরসাইকেলে চড়ে ড্যান্সবারে যান। মদ ও নারী নিয়ে আমোদ-ফুর্তি করেন। শুধু তা-ই নয়, কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতের একজন মহিলা কাউন্সিলরের বাসায় তিনি জোর করে ঢুকতে চাইলে কর্তব্যরত নিরাপত্তা প্রহরী বাধা দেন। এর পরও রাষ্ট্রদূত ওই কাউন্সিলরের বাসার সামনে আধা ঘণ্টা গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করেন। কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহিভূত আচরণের জন্য নেপালের পররাষ্ট্রসচিব নিমচন্দ্র ভৌমিককে সরিয়ে নেয়ার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিবকে অনুরোধ জানিয়েছেন। ঢাকায় অবস্থিত নেপাল দূতাবাস এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে শিগগির একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে কাঠমান্ডুতে পেশাদার কূটনীতিক নিয়োগ দেয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।’ প্রশ্ন হচ্ছে, নেপালে রাষ্ট্রদূত হওয়ার কী যোগ্যতা তার আছে? বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেই কি রাষ্ট্রদূত হওয়া যায়? একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠনের নেতৃত্বই কি তার বিশেষ যোগ্যতা? দেশে কি সচ্চরিত্র, দেশপ্রেমিক, মার্জিত-শিক্ষিত-সুসভ্য-যোগ্য পেশাদার কূটনীতিকের অভাব পড়েছে? নিমচন্দ্র কূটনৈতিক নর্ম ভঙ্গ করে যে ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাতে কেউ আর তাকে নমঃ জানাবে না, বরং মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে তার অবনমনই চাইবে। নেপালের সাথে ট্রানজিট, বন্দর ব্যবহার ও বাণিজ্য সম্পর্কের বিভিন্ন দিকগুলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতির আভাস পাওয়া গেছে। সার্ক সচিবালয় রয়েছে কাঠমান্ডুতেই। নেপালের সাথে ভৌগোলিক দূরত্বও মাত্র ষোলো মাইল। কিন্তু রাষ্ট্রদূতের অবিমৃশ্যকারিতায় সৃষ্টি হতে পারে বহু যোজন কূটনৈতিক দূরত্ব, যা আমাদের জন্য ক্ষতিই বয়ে আনবে। আর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সম্প্রতি নেপাল কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী।http://www.newkerala.com-এর বিগত ১৭ ফেব্রুয়ারির এক খবর অনুযায়ী মালয়েশিয়া বাংলাদেশী ৫৫ হাজার কর্মীর ভিসা বাতিল করে নেপালের জন্য আগের ২৫ হাজারের বদলে এক লাখ কর্মীর ভিসা ইসু করেছে। তা ছাড়া, আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের সাথে কূটনৈতিক বিপর্যয় আমাদের জন্য কতটা দুর্ভোগের কারণ হতে পারে, সেটা আশা করছি ব্যাখ্যার অবকাশ নেই। আমাদের বিপর্যস্ত পেলে, নেপালও বাগে ফেলে লুটে নিতে পারে কূটনৈতিক-বাণিজ্যিক ফায়দা।

কূটনীতিক নিয়োগের পর বিদেশে পাঠানোর আগে পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেয়া দরকার, আর এটাই স্বাভাবিক। সেখানে আগে থেকেই অবস্থানরত অন্য কূটনীতিকেরাই তার জন্য প্রস্তুত থাকেন। তারা কি নতুন রাষ্ট্রদূতকে একটি প্রাথমিক ধারণা দিতে পারেননি? তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে আমরা তাদের বিদেশে পাঠিয়েছি কী কারণে? দেশের মর্যাদা এভাবে বিকিয়ে দিতে? কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাৎকালে আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার ও সে দেশের সংস্কৃতি, সভ্যতা-ভব্যতার রীতিনীতিগুলো মেনে চলা অত্যাবশ্যকীয়।

 

ওমানে আমাদের রাষ্ট্রদূত Woman-প্রীতিতে জড়িয়ে না পড়লেও, তিনি যে কেন প্রথম সাক্ষাতে মন্ত্রী ও রাজপরিবারের সদস্যের কাঁধে হাত রাখতে গেলেন, তা বোধগম্য নয়! রিপোর্টে জানা গেছে, ‘আওয়ামী লীগের তিনবারের নির্বাচিত এমপি নূরুল আলম চৌধুরীকে ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ২০১০ সালের ২২ মে। ওমানের সুলতানের কাছে পরিচয়পত্র পেশের আগে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ বিন আলাউই বিন আবদুল্লাহর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালের একপর্যায়ে নূরুল আলম চৌধুরী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাঁধে হাত তুলে দেন। এ আচরণকে কূটনৈতিক রেওয়াজের লঙ্ঘন বলে ওমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিফ অব প্রটোকল ও আঞ্চলিক ডেস্কের প্রধান বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী নূরুল আলম চৌধুরী মাস্কাটে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এটিকে একটি আড্ডাস্থলে পরিণত করেছেন।’ কূটনীতিক নিয়োগের পর বিদেশে পাঠানোর আগে পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে তাকে কী প্রাথমিক ধারণা দেয়া হয়েছিল, জানা দরকার। সেখানে আগে থেকেই অবস্থানরত অন্য কূটনীতিকেরাই বা কী করেছিলেন? তারা কি নতুন রাষ্ট্রদূতকে একটি প্রাথমিক ধারণা দিতে পারেননি? তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে আমরা তাদের বিদেশে পাঠিয়েছি কী কারণে? দেশের মর্যাদা এভাবে বিকিয়ে দিতে? কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাৎকালে আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার ও সে দেশের সংস্কৃতি, সভ্যতা-ভব্যতার রীতিনীতিগুলো মেনে চলা অত্যাবশ্যকীয়। ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে পর্যন্ত দেখা গেছে, ইসলামি সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনকারী পোশাকে সৌদি বাদশাহর সাথে দেখা করতে। বাংলাদেশে ইউএনএফপিএ-এর সাবেক প্রতিনিধি ও ভারতের পেশাদার কূটনীতিক সুনিতা মুখার্জিকে দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় অনেক অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতকালে মাথায় কাপড় দিতে। ওমানে প্রেরিত কূটনীতিক সে দেশের সংস্কৃতির প্রতি আরো সংবেদনশীল হলেই তার প্রকৃত পোশাদারিত্বের পরিচয় পাওয়া যেত। বাংলাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম শ্রমবাজার ওমানে ২.৬১ লাখের ওপরে বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করেন (বাংলাদেশ টুডে ২৪-৩-২০১০)। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের চেয়ে ওখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকায় তা হতে পারে আমাদের শ্রম রফতানির এক ক্রমবর্ধনশীল বাজার। শ্রমিকদের কল্যাণে এবং প্রাথমিক গমন খরচ কমাতে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনার সুযোগও রয়েছে বলে জানা যায়। ২০১০ সালে যত লোক বিদেশে গেছে তার ১১ শতাংশই গ্রহণ করেছে ওমান (ডেইলি স্টার, ০৫-০৩-২০১১)। ওমানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি অর্থনৈতিক ক্ষতি ছাড়াও মুসলিম বিশ্বে আমাদের ভাবমর্যাদা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের যৌন কেলেঙ্কারি সবচেয়ে বড় আঘাত। জাপান একক রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অংশীদার। সেখানে কূটনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে আমরা বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারি। রিপোর্টে জানা গেছে, পেশাদার কূটনীতিক এ কে এম মাজিবুর রহমান গত বছর জাপানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। রাষ্ট্রদূতের সোস্যাল সেক্রেটারি হিসেবে একজন জাপানি মহিলা কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সেই মহিলা রাষ্ট্রদূত মাজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে পদত্যাগ করেছেন। এসংক্রান্ত অভিযোগ তিনি টোকিওতে অবস্থিত সব বিদেশী দূতাবাসকে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করেছেন। পদত্যাগকারী মহিলা সম্প্রতি যৌন হয়রানির অভিযোগে রাষ্ট্রদূত মাজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। সংস্কৃতিবান, উন্নত ও পরিশীলিত রুচির জাপানিরা এ ঘটনাকে কিভাবে নিয়েছে, ভাবতেই লজ্জায় ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ছি। জাপানে প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশী কর্মজীবী রয়েছেন বলে জানা যায়। তারা অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক বেশি মজুরি পেয়ে থাকেন। ১৯৯১-২০০৪ সাল পর্যন্ত জাপান থেকে ৪০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। সুনামি ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত জাপান কর্মক্ষেত্র হিসেবে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পর্শকাতর, কূটনৈতিক বিপর্যয় সে স্পর্শকাতরতা আর বাড়িয়ে দিতে পারে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক বাংলাদেশের কূষ্টিয়ার সন্তান জাস্টিস রাধাবিনোদ পাল (১৮৮৬-১৯৬৭) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর জাপানে যুদ্ধাপরাধবিষয়ক বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচারক প্যানেলের সদস্য হিসেবে জাপানিদের পক্ষে দুঃসাহসী মত ব্যক্ত করে জাপানিদের শ্রদ্ধা অর্জন করে লাভ করেছিলেনOrder of the Sacred Treasure খেতাব। তা ছাড়া, তাকে সম্মান জানাতেYasukuni shrine ও Kyoto Ryozen Gokoku Shrine-এ তার ভাস্কর্যও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ইতিহাসকে কালিমালিপ্ত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের কেলেঙ্কারি কী খেতাব বয়ে আনবে তা ভেবে শঙ্কিত হচ্ছি।

 

দলীয় বিবেচনায় কূটনীতিক নিয়োগের বিপদসঙ্কেত ব্যক্ত করে বিগত ১৮ মে ২০১১ তারিখে আমার দেশ পত্রিকা একটি প্রতিবেদন ছেপেছিল। সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অসতর্কতা যে এত দ্রুত বাস্তবে দৃশ্যমান হবে তা ভাবা যায়নি। বিপদ যে সত্যি সত্যিই রিপোর্টে ব্যক্ত অনুমানের আগেই অনেকখানি ঘটে গেছে, তা কে জানত? সত্যিই এসব কূটনীতিক অনেক করিৎকর্মা, তারা প্রতিবেদকদের দূরদর্শিতার চেয়ে অনেক অগ্রসর। রিপোর্টটিতে জানা গিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দলীয় ক্যাডারদের ছড়াছড়ি। শুধু রাষ্ট্রদূত পদে নয়, ফার্স্ট সেক্রেটারি থেকে শুরু করে সহকারী সচিবের মতো মধ্যম ও নিুস্তরের কূটনীতিক পদে চলছে চুক্তিভিত্তিতে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ। এ পর্যন্ত ১২ জনকে রাষ্ট্রদূত এবং ১১ জন দলীয় ক্যাডার, ক্যাডারদের স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনকে মধ্যম এবং নিুস্তরের কূটনীতিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন, যারা অনার্স ও মাস্টার্সে তৃতীয় শ্রেণিপ্রাপ্ত। অনেকে ছিলেন গৃহিণী। কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের কোনো যোগ্যতাই নেই এসব দলীয় ক্যাডারের। এ নিয়ে পেশাদার কূটনীতিকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ। এ বিষয়ে রিপোর্টটিতে সতর্ক করা হয়েছিল, দলীয়করণের ফলে কূটনীতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কূটনীতির মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।

যা হোক, বাংলাদেশ প্রতিদিনের ০৬-০৬-২০১১ তারিখের এক বিস্তারিত রিপোর্টে জানা যায়, টোকিওর বাংলাদেশ মিশনের সোস্যাল সেক্রেটারি মিজ কিয়োকো তাকাহাসিকে কয়েক দফা ইন্টারভিউকালে এবং নিয়োগের পর কর্মক্ষেত্রে ও বাইরে রাষ্ট্রদূত এ কে এম মাজিবুর রহমান তাকে উত্ত্যক্ত করেন, চুমু খেতে চান, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেন। সব সময়ই মেয়েটির জবাব ছিল ‘না’। এই যৌন নির্যাতনে তাকাহাসির মুখের হাসি দূর হয়ে যায়। কিন্তু রাষ্ট্রদূতের লোলুপ দৃষ্টির বাঁকা হাসি ও অপচেষ্টা বন্ধ না হওয়ায় তিনি অভিযোগ জানাতে বাধ্য হন।

ডিপ্লোম্যাটিক জগতে কূটনীতিক ও নারীর মধ্যে পার্থক্য বিষয়ে একটি মজার গল্প চালু রয়েছে, তা হচ্ছেঃ যখন একজন কূটনীতিক বলেন, হঁ্যা, তাহলে মনে করতে হবে, তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন, সম্ভাবনা আছে। যদি তিনি বলেন, আসলে কোনো কূটনীতিকই নন। অন্য দিকে একজন নারী যদি বলেন, ‘না’, তাহলে মনে করতে হবে, তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন সম্ভাবনা আছে। আর যদি তিনি বলেন, হঁ্যা, তাহলে মনে করতে হবে তিনি সত্যিকার অর্থে কোনো নারীই নন। জাপানে আর নেপালে নিয়োজিত আমাদের রাষ্ট্রদূতেরা হয়তো এই গল্পটি জানতেন, সে কারণে তারা আকাঙ্ক্ষিত নারীদের ‘না’কে সম্ভাবনা আছে মনে করেই হয়তো সীমা লঙ্ঘন করে থাকবেন। ওমানি কূটনীতিকের অনমনীয়তা এবং ভারতীয় ও জাপানি নারীদের ‘না’ ফুটিয়ে তুলেছে তাদের আপসহীন চারিত্রিক দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্ব। আমাদের নির্লজ্জ কূটনীতিকেরা তাদের থেকে কিছু শিখতে পেরেছেন কি?

—————————————————————————————————————————————————–

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: