ছোট হয়ে আসছে দেশীয় এয়ারলাইন্সের ব্যবসা

ছোট হয়ে আসছে দেশীয় এয়ারলাইন্সের ব্যবসা

বাংলাদেশ থেকে ৩৪ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো

হুমায়ুন কবির খোকন:

মানিলন্ডারিং আইনে মুদ্রাপাচার একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। দেশের টাকা বিদেশে পাঠিয়ে দিয়ে বৈদিশিক মুদ্রা থেকে জাতিকে বঞ্চিত করার কারণে এ আইনে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের অপরাধী। অথচ কতভাবেই না বৈদিশিক মুদ্রা হাতছাড়া করছে দেশ। এর একটি বড় উদাহরণ বাংলাদেশের বিমান খাত। দুভার্গজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সব্যবসার ৮০ শতাংশই বিদেশি এয়ারলাইন্সের দখলে। এক দশক আগেও এই খাতে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল ‘ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী’ স্লোগানসম্বলিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিমানের। স্লোগানটি এখন কেবলই কথার কথা। ছোট হয়ে আসছে দেশীয় এয়ারলাইন্সের ব্যবসার পরিধি।

আš-র্জাতিক পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের আকাশপথে রয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার বা ৩৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসা। এর মধ্যে ২২ হাজার ২০০ কোটি টাকা আসে যাত্রীবহন থেকে। বাকিটা পণ্যপরিবহন থেকে। বিশাল এই বাজারের সিংহভাগই বিদেশি এয়ারলাইন্সের দখলে। ৪৭টি দেশের এয়ারলাইন্সের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের; কিন্তু বিমানচলাচল করে শুধু ১৬টি দেশে। নিুমানের সেবা এবং উড়োজাহাজসংকটের কারণে বিমানসহ বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো সমপরিমাণ ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছে না। ২০০৭ সালে বিমানকে কোম্পানিতে রূপাš-র করলেও লোকসান ঠেকানো যাচ্ছে না, করা যাচ্ছে না আধুনিক। উড়োজাহাজসংকট ও নিুমানের যাত্রীসেবার কারণে অনেক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দিয়েছে বিমানসহ দেশি এয়ারলাইন্সগুলো। ফলে ক্রমেই বিদেশি এয়ারলাইন্সনির্ভর হয়ে পড়ছে বাংলাদেশের আকাশপথের যাত্রীরা। বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিভিল এভিয়েশন অথরিটি) সূত্র এসব তথ্য জানায়। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী জিএম কাদের আমাদের সময়কে জানান, বাংলাদেশের বিমান খাতের উন্নয়নে এবং বাংলাদেশ বিমান আš-র্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকতে যতটুকু সম্ভব সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও অন্য কয়েকটি সূত্র মতে, বার-বার চেষ্টা করেও বিমান-ব্যবস্থাপনাকে তিনি যুগোপযোগী করতে পারেননি। লাভ হয়নি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একাধিকবার ধর্না দিয়েও।

সিভিল এভিয়েশনের অধীনে দেশে ৩টি আš-র্জাতিক এবং ৫টি অভ্যš-রীণ বিমানবন্দর রয়েছে। সমপরিমাণ ফ্লাইটপরিচালনার শর্ত হিসেবে এ পর্যš- ৪৭টি দেশের এয়ারলাইন্সের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন করেছে সিভিল এভিয়েশন। কিন্তু নিুমানের সেবা এবং উড়োজাহাজ সংকটের কারণে বিমানসহ বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো সমপরিমাণ ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছে না। প্রতিবছর হজ মৌশুমে এ সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।

গত দশকে বেসরকারি খাতের বেশ কিছু দেশি এয়ারলাইন্স ব্যবসার সুযোগ পেলেও পুঁজির অভাবে ও আধুনিক বিমান না আনার কারণে বাজারে তেমন জায়গা করে নিতে পারেনি সেগুলো। তবে সূত্র জানায়, আš-র্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার চাপে দেশীয় সংস্থার ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সরকার পাকি¯-ান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের সাতটি রুট বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ জিএমজির এয়ারলাইন্সের করাচি রুট ছিল। কিন্তু পাকি¯-ান এয়ারলাইন্সের রুট বাড়িয়ে দেয়ায় জিএমজির যাত্রী কমে গেছে। ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে প্রতিষ্ঠানটিকে করাচি থেকে দুবাই রুট পরিচালনা করতে হবে। এখনও এর অনুমোদন মেলেনি।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) তথ্য আনুযায়ী, ২০১০ সালে দেশের তিনটি ও ১৬টি আš-র্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা মিলে প্রায় ৪০ লাখ ৬০ হাজার যাত্রী বহন করে। এর মধ্যে ২৮ লাখ যাত্রীই বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর দখলে। বাকি যাত্রী পরিবহন করে দেশি এয়ারলাইন্সগুলো। পণ্যপরিবহনের যে হিসাব পাওয়া যায়, তাতে এ অনুপাত আরো বেশি। বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন পণ্যপরিবহন হয়, যার ৮৫ শতাংশই বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো বহন করে থাকে।

জানা গেছে, গত এক দশকে বাংলাদেশে যাত্রীবহন দ্বিগুণ হয়েছে। ২০০১-০২ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ২২ লাখ ৯০ হাজার যাত্রী আকাশপথে যাতায়াত করেছেন। একই সময়ে ১ লাখ ১ হাজার ৮৯৪ টন পণ্যপরিবহন হয়েছিল। ২০০৮-০৯ সালে যাত্রীবহন বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ লাখ ১০ হাজার। আর পণ্যপরিবহন হয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৮ টন। কিন্তু আকাশপথে যাত্রী ও পণ্য চলাচল বাড়লেও বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলো তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি। দিনে-দিনে তারা আরো পিছিয়েছে। বিমান এরই মধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে অনেক রুট ।

জানা গেছে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৬টি বিদেশি বিমান সংস্থা ব্যবসা করছে। এদের মধ্যে এগিয়ে আছে গালফ এয়ার, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, টার্কিস এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, পাকি¯-ান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স, কাতার এয়ারওয়েজ, থাই এয়ারওয়েজ, সৌদি এরাবিয়ানস এয়ারলাইন্স। লুফথানজা যাত্রী পরিবহনে কোনো ফ্লাইট পরিচালনা না করলেও পণ্যপরিবহনের কাজ করছে। অন্যদিকে দেশি এয়ারলাইন্সের মধ্যে বিভিন্ন রুটে বর্তমানে চলাচল করছে বাংলাদেশ বিমান, জিএমজি ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স।


সূত্র জানায়, নিুমানের এয়ারলাইন্সকে লাইসেন্স দেয়ায় ২০০৬ সালে সিভিল এভিয়েশনকে ক্যটাগরি-১ থেকে ক্যাটাগরি-২ এ নামিয়ে আনে আমেরিকার ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি (এফএএ)। এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে না। অপরদিকে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (আইকাও) তালিকায় সিভিল এভিয়েশন সিগনিফিকেন্ট সেফটি কনসার্ন (এসএসসি)-এর ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশকে সিগনিফিকেন্ট সেফটি কনসার্নে রাখলে আš-র্জাতিকভাবে বাংলাদেশের বিমান পৃথিবীর কোথাও নামতে পারবে না। এসব কারণেও দেশি এয়ারলাইন্সবিমুখ বিদেশি যাত্রীরা।

জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বাজার নিয়ে এখন ৪টি বিদেশি বিমান সংস্থা প্রতিযোগিতা করছে। এগুলো হলÑ গালফ, এমিরেট্স, কাতার ও ইতিহাদ এয়ারলাইন্স। এদের মধ্যে এমিরেট্স বি¯-ৃত নেটওয়ার্ক ও দামি ব্র্যান্ডের বিমানবহরের কারণে সব থেকে এগিয়ে আছে। সুলভ ফ্লাইটের জন্য মূলত বাংলাদেশে এমিরেট্স বেশি জনপ্রিয়। সবেচেয়ে বেশি গš-ব্যস্থলে যাতায়াত করে এমিরেট্স। প্রতি সপ্তাহে ১০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে এই এয়ারলাইন্স। অন্যদিকে সপ্তাহে ৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করেও ইতিহাদ এয়ারওয়েজ বাংলাদেশে দ্বিতীয় অবস্থানে।

বিমান বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে বিমানব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণেই বিকশিত হচ্ছে না। বিমানব্যবসায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যখন আধুনিক প্রযুক্তি ও নিত্য-নতুন যাত্রীসেবা নিয়ে এগিয়ে চলেছে, তখন প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের টিকে থাকাই দায়।

FAIR USE NOTICE: Due to the social nature of this site, it may contain copyrighted material the use of which has not always been specifically authorized by the copyright owner. This site contains copyrighted material the use of which has not always been specifically authorized by the copyright owner. We are making such material available in an effort to advance understanding of environmental, political, human rights, economic, democracy, scientific, and social justice issues, etc. We believe this constitutes a ‘fair use’ of any such copyrighted material as provided for in section 107 of the US Copyright Law. In accordance with Title 17 U.S.C. Section 107, the material on this site is distributed without profit to those who have expressed a prior interest in receiving the included information for research and educational purposes.For more information go to: http://www.copyright.gov/title17/92chap1.html#107

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: