সৌন্দর্য ও প্রেমের সৃষ্টি নর-নারীর যৌথতায়


সৌন্দর্য ও প্রেমের সৃষ্টি নর-নারীর যৌথতায়

ফখরুল ইসলাম মাসুদ

মানুষের ভিতরের অনুভূতি শক্তি, চিন্তা করার বিশেষ ক্ষমতা সব কিছুই সৌন্দর্যের মাত্রা নির্ণায়ক! নর সচরাচর সাদা চামরাকে সৌন্দর্যের প্রতিক হিসাবে বিবেচনা করে। কোন নারীর সাদা চামরা কখনোই সৌন্দযের্র বহিঃপ্রকাশ হতে পারে না। একটা তাজা গোলাপ ঘন্টার পর ঘন্টা চোখের দেখায় বিশ্রী লাগতে পারে আবার কচুরী পানার ফুল এক পলকে মন জয় করতে পারে। যদিও কচুরী পানা নালা-নর্দমায় জন্মে তবুও সে তার সৌন্দর্য্য দিয়ে জয় করে হৃদয়।

সৌন্দর্য শব্দটি যত সুন্দর এর ভিতরে বিপত্তি ততই লক্ষণীয়। নর নারী সৌন্দর্যে উন্মুখ হয়ে জগতের মাঝে আকর্ষণীয় ভুলগুলো করে। আর সৌন্দর্য থেকেই কামের আসক্তি ঘটে! জগতে নর-নারী উভয়ে কামুক হতে পারে কিন্তু নারী অপেক্ষা নর একটু বেশীই সৌন্দর্য প্রিয়। এটা নরের জন্মগত দুর্বলতা।

শেক্সপিয়র লিখেছেন, “সৌন্দর্য কামের সঞ্চার করে। পাকা ফলে যেমন রস টুইটুম্বুর থাকে তুমিও তেমনি রসের সঞ্চার করো। শেক্সপিয়ারের কাব্য অনুযায়ী সৌন্দর্যের মাঝে রস থাকে। আর রসের মধ্যেই তৃষ্ণা মেটাবার উপকরণ থাকে। কিন্তু ফলে রস হয়ে কামনা নিবৃত্তির মহৌষধ! স্পষ্ট হয় যে, সৌন্দর্যই কি অসৌন্দর্য প্রধান কারণ? সৌন্দর্যই কি বাস্তবতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য দৈত-দানব? না, সৌন্দর্য্য শব্দটিকে এভাবে দেখার কোন যৌক্তিকতা নাই। মানসিকতাই এখানে মূল চালিকা শক্তি। নর নারীর সৌন্দর্য্য পাগল, এতে কোন সমস্যা নাই। কিন্তু নর যখনি দেহের সৌন্দর্য্য আকৃষ্ট হয় বিপত্তি ঘটে ঠিক তখনি নর-নারী সৌন্দর্যের পূজারি থাকে না; হয়ে ওঠে ধর্ষক।

‘ … বুদ্ধি লোপ পেলে মানুষ যেমন নিজেকে চিনতে পারে না ঠিক তেমনি প্রেম না থাকলে দৈহিক সুখে প্রশান্তি আসে না; সুখকে বড় অপরিচিত মনে হয়। তাকে হাতের কাছে পেয়েও স্পর্শ করা যায় না। আর এর জন্য মানুষ প্রেম করে। …”

যে সব দেশে অধিকাংশ মানুষ অনাহারী, সেখানে মাংসল হওয়া রূপসীর লক্ষণ। এজন্যেই বাংলা ফিল্মের নায়িকাদের দেহ থেকে মাংস ও চর্বি উপচে পড়ে। ক্ষুধার্ত দর্শকেরা সিনেমা দেখে না, মাংস ও চর্বি খেয়ে ক্ষুধা নিবৃত্ত করে।

বিখ্যাত লেখিকা নির্মলা শী বলেছেন, ‘প্রেম মানেই শরীর কদাপি নয়, কিন্তু পুরুষের কাছে প্রেম মানেই শরীর। একমাত্র নারী প্রেমের মানে বোঝে। অবশ্য পুরুষ যৌনতারও মানে বোঝে না। প্রতিটি পুরুষই আসলে ধর্ষক’। সত্যি কি তাই! প্রতিটা পুরুষ আসলেই কি ধর্ষক? ধরে নিলাম বিবেক বিসর্জন দিয়ে হলেও নর ধর্ষক। কিন্তু নারী? নারী কি দুধে ধোয়া তুলসী পাতা নাকি পরিস্থিতির শিকার? এই প্রশ্নের জবাবে প্রায় সকল নারী নিজেকে শুদ্ধ প্রমাণের নিমিত্তে এক বাক্যে বলে উঠবে, আমরা পরিস্থিতির শিকার। এখানেই নারীরা এগিয়ে। নারীরা জন্মগত ভাবে নরম/ কোমল হয় তাই তাদের চোখের দু‘ফোটা জল রাজ্য জয় করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু পক্ষান্তরে নর বরাবর নারীর সৌন্দর্যের শিকার! যদিও এর পুরো দায়দায়িত্ব নরের কাধেই উঠে। যদি নারী কিছুটা সাবধানী হলে সৌন্দর্যের মাঝে থেকেও সৌন্দর্য উত্তাপে নরের পায়ে শৃ´খল ওঠে। আর তা উভইয়ের জন্য কল্যাণকর হয়। সৌন্দর্যানুভূতির একটি বিশেষ দিক হল বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সৌন্দর্যানুভূতি। আর এখানেই প্রেমের জন্ম হয়, বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণের অপর নাম কাম অথবা সেক্স! কিন্তু সেক্স এবং প্রেম একই জিনিস! এও সম্ভব? এটা কখনো কি হতে পারে? অনন্যা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘সেক্স আর প্রেম যদি আলাদা জিনিস হয়, ওয়াটার ও জলই বা ভিন্ন বস্তু নয় কেন? ওয়াটার ও জল এক হলে সেক্স আর প্রেম ভিন্ন হয় কোন সাহসে! এ যেন এক দেয়ালের এপিঠ ওপিঠ। তাহলে প্রশ্ন করা স্বাভাবিক, মানুষ তাহলে প্রেম করে কেন? একবারে সেক্স করলেই তো হয়; কিন্তু তা করে না কেন? বুদ্ধি লোপ পেলে মানুষ যেমন নিজেকে চিনতে পারে না ঠিক তেমনি প্রেম না থাকলে দৈহিক সুখে প্রশান্তি আসে না; সুখকে বড় অপরিচিত মনে হয়। তাকে হাতের কাছে পেয়েও স্পর্শ করা যায় না। আর এর জন্য মানুষ প্রেম করে।

‘ …We are at a crossroads. If we don’t want to cede the discourse to Regressives, Progressives of all stripes had better put forward a sexual ethic that works humanely and lovingly. Few people want sexual anarchy, especially as regards their children. We need standards that allow our sexual interactions to enhance and express the beauty and uniqueness of our souls. Such standards would not be rule-based, but relationship-based. We must look at the quality of our interactions and ask, “Does this affirm and respect the wholeness of the individuals involved? Does it increase the odds on love? Does it honor and celebrate Life Itself, in all its variety?” If so, there are qualities, which are more likely than not to be present: regard, mutuality, caring, choice, honesty, openness, and a willingness to be fully present. These qualities constitute sexual and relational integrity. They make way for authentic intimacy, and the flow of erotic love that connects us far beyond our ability to understand or control it.
We can stand for love and responsible relationship, in all its shapes and sizes, as a positive moral force, or risk losing the gains of the past half-century to fear and control. When sex loses its relationality, it becomes mere pornography. In the absence of life-affirming sexual ethics, it would be tragic and shameful to return to the destructive strictures of the past, which destroyed countless lives and cannot, by the standards of love and respect, be called moral at all. …” More: http://www.huffingtonpost.com/w-hunter-roberts/sexual-anarchy-and-other-_b_906829.html

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে এখন কফির চাষ হচ্ছে।


বাংলাদেশে কফি চাষ

কফি

এফএনএস (ফখরুল ইসলাম মাসুদ)ঃ কফি খুব সুস্বাদু। নিজেদের চাষকৃত উন্নতমানের এ কফি স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো। তবে বাজারের কফিতে নানা কেমিক্যাল ও প্রিজারবেটিভ থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যদি শুধু কফি নয় অন্যান্য ক্ষেত্রেও এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে উন্নয়নশীল এ দেশগুলোর জন্য তা হবে আর্থিক লাভের পাশাপাশি নিজেদের গড়ে তুলবার একটি অন্যতম শক্তি। আর তাতে করে বাণিজ্যিক দিক থেকে বেশ কয়েকটি দেশ লাভের মুখ দেখছে।

কফি খুব অল্প সময় লাগবে তৈরি করা যায়। কফির বিনগুলো শুকিয়ে গুড়ো করে তাৎক্ষণিক কফি তৈরি হয়ে যায়। এ কফি বাজারের সাধারণ কফির চেয়ে বহুগুণ সুস্বাদু। কিন্তু শুধুমাত্র দক্ষিণ এশিয়া নয়, সারা বিশ্বের সবার কাছে কফি হচ্ছে পানীয় হিসেবে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। কফি পান করে নি এমন কোন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্ড়্গর হবে। কফি সাধারণত পশ্চিমা দেশের অন্যতম পানীয়। পরবর্তিকালে কফির চাষ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে এখন কফির চাষ হচ্ছে।

বাংলাদেশও এখন থেকে কফি চাষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে। আর কফি চাষের এ পণ্যটির দিকে অনেকেই এগিয়ে আসছেন আনন্দের সাথে। এতে মনে হচ্ছে ধান, পাট ও অন্যান্য ফসল চাষের পাশাপাশি কফিও বাংলাদেশকে এনে দিতে পারে রপ্তানি খাতে আর্থিক সাফল্যের মুখ। কফির সঙ্গে মিশে আছে একটা আভিজাত্য। বাংলাদেশে সাধারণত প্যাকেটজাত কফি বিদেশ থেকেই আমদানি করা হয়ে থাকে। তার কারণ কফি চাষের কোন প্রকার সুযোগ সুবিধা এর আগে বাংলাদেশে ছিল না।

জানা গেছে, গত ৫ বছর আগে ভারতের দার্জিলিং থেকে অ্যারাবিয়ান জাতের দুটি কফির চারা নিয়ে এসেছিলেন কক্সবাজার জেলার জাহানারা এগ্রো ফার্মের পরিচালক জাহানারা ইসলাম। পরীক্ষামূলকভাবে একটি চারা বাড়ির আঙ্গিনায় তিনি রোপণ করে শুরু করেন কফি চাষের অগ্রযাত্রা। তিনি তার টবের মধ্যে রাখা কফির চারার পরিচর্যা করে আস্থাবান হয়ে উঠতে থাকেন এ চাষের ব্যাপারে। অবস্থা ভালো দেখে সাধারণ প্রক্রিয়ায় ওই দুটি চারা থেকে আরো কিছু চারা উৎপাদন শুরু করেন তিনি। পর্যায়ক্রমে এ প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৫ হাজার কফির চারা উৎপাদন করা হয়েছে ইতোমধ্যেই। কক্সবাজারে উৎপাদিত বিশ্বমানের কফি সারা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্্‌ভব হবে।

কফি চাষঃ কফি গাছ দেখতে অনেকটা বেলি ফুলের গাছের মতো। তবে এর উচ্চতা ও ঘেরের দিক থেকে অনেকটা বড়। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ৬শ’ ফুট ওপরে যে কোন মাটিতে কফি চাষ করা সম্্‌ভব। পাহাড়ি, উপত্যকা ও ঝরণার পাশের জমি এবং যেসব জমিতে লবণাক্ততা নেই সেসব জমি কফি চাষের উপযোগী। এছাড়া রাবার বাগানের ফাঁকে ফাঁকে লাগানো যাবে কফির চারা। বাড়ির আঙ্গিনা, ফুলের টব কিংবা বাড়ির ছাদেও কফির চাষ সম্্‌ভব। চারা রোপণের দুবছরের মধ্যে কফির গোটা সংগ্রহ করা যাবে। কফির গোটাগুলো দেখতে অনেকটা গমের মতো। তবে তা আকারে একটু বড়। বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বছরে দুবার গাছ থেকে গোটা সংগ্রহ করা সম্্‌ভব হবে। একটি কফি গাছ থেকে ২০/৩০ বছর ধরে ফল পাওয়া যায়। বাংলাদেশে কফি চাষের ক্ষেত্রে প্রতিটি গাছের জন্য খরচ হবে মাত্র এক থেকে দেড়শ’ টাকা। প্রতিটি গাছ থেকে বছরে আধা কেজি আরও বেশি কফির গোটা বা ফল পাওয়া যাবে।

কফি গাছ থেকে শুধুমাত্র পানীয় কফিই নয়, একে সহায়ক হিসেবে নিলে এ কফি গাছের অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে মধু ও শ্যাম্পুও তৈরি করা যাবে। মধু চাষের জন্য কফি বাগানে কয়েকটি কফি গাছের মধ্যেকার খোলা নির্দিষ্ট স্থানে একটি কাঠের তৈরি মৌমাছির জন্য বিশেষভাবে ছোট আকারে তৈরি বিশেষ বাক্স বসাতে হবে। কফি গাছে ফুল এলেই মৌমাছিরা সেখানে আসবে। ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে কাঠের তৈরি ওই বাক্সে তারা বাসা বাঁধবে। একটি কফি গাছের ফুল থেকে প্রতিবারে একশ’ গ্রাম মধু সংগ্রহ করা সম্্‌ভব হবে। পাশাপাশি ওই গাছের উপকরণকে প্রক্রিয়া করে উন্নতমানের ‘শ্যাম্পু’ তৈরি করা যাবে। যা করতে পারলে উন্নত মানের শ্যাম্পুর জন্য আর বিদেশমুখি হতে হবে না। জানা যায়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে কফির কেজি এখন ৪ হাজার ২শ’ টাকার বেশি। আর এ কফি চাষ দেশ ও জাতির কল্যাণে সর্বাত্মক হবে।
আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info, dhaka stock exchabge

দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশু বেচাকেনার এক নির্মম বাজার


দত্তক ব্যবসা : স্নেহ মমতা বা যত্ন নয় মুনাফাই যেখানে মুখ্য

অপর্যাপ্ত আইন ও সেই আইনের দুর্বলতা এবং উন্নত পশ্চিমা বিশ্বের সন্তানহীন দম্পতিদের অপরিমেয় চাহিদা এখন দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশু বেচাকেনার এক নির্মম বাজার সৃষ্টি হয়েছে। এ সম্পর্কে ব্রিটেনের ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকায় প্রকাশিত লরি পেনির লেখা প্রতিবেদনটি ভাষান্তর করেছেন নেয়ামুল হক।

নেপালের একটি গ্রামাঞ্চল থেকে পিতা-মাতাহারা ৬০০ শিশু উধাও হয়ে গেছে। ওই এলাকার স্বাস্থ্যবান প্রতিটি অনাথ শিশু ৫ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়ে থাকে। দালালরা এসে লেখাপড়া শেখানো ও রাজধানীতে উন্নততর জীবন নিশ্চিত করার লোভ দেখিয়ে এসব শিশুকে নিয়ে গেছে। তবে তাদের কেউই আর কোনো দিন ফিরে আসেনি বা হদিস মেলেনি।

২০০১ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বাবা-মা জীবিত থাকা সত্ত্বেও কয়েকশ’ নেপালি শিশুকে অনাথ বা এতিম হিসেবে মিথ্যা তালিকাভুক্ত করা হয় এবং হাজার হাজার মাইল দূরের পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশের দম্পতিদের কাছে তাদের চড়া মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়। শিশু স্বার্থ সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান তেরে দাস হোমস জানিয়েছে, একজন বিধবা তার সাতটি সন্তানকে খাবার দিতে না পেরে শহরের একটি শিশুকেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়। এদের মধ্যে তিনটি শিশুকে খুব দ্রুতই পশ্চিমা দেশের ধনী দম্পতিদের কাছে দত্তক হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তবে সেই বিধবা মায়ের মতামত ছাড়াই এই কাজটি করা হয়। সুনিতা নামে আরেক মহিলা জানিয়েছেন, শিশুকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ রুক্ষ্মস্বরে তাকে বলে দিয়েছে যে, তিনি আর কোনো দিনই তার সন্তানকে ফিরে পাবেন না। মহিলা পরে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, প্রতি বছর হাজার হাজার নবজাতক, শিশু ও কম বয়স্ক ছেলেমেয়ে বিশ্বের এক দেশ থেকে অন্য দেশে দত্তক হিসেবে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই প্রবণতা ২০০৪ সালের দিকে কিছুটা হ্রাস পেলেও ২০০৯ সালে এসে আবার বেড়ে যায়। ২০০৯ সাল পর্যন্তই এ সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্য পাওয়া গেছে। এ বছর দেখা গেছে, বিশ্বের প্রথম পাঁচটি দত্তক গ্রহণকারী দেশ বিদেশ থেকে মোট ২৪ হাজার ৮৩৯টি শিশু দত্তক হিসেবে গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একাই গ্রহণ করে প্রায় অর্ধেক বা ১২ হাজার ৭৫৩টি শিশু। ইতালিতে দত্তক হিসেবে গেছে ৩ হাজার ৯৬৪টি এবং স্পেন ও ফ্রান্স নিয়েছে ৩ হাজার করে। আর কানাডায় গিয়েছে ২ হাজার ১২২টি শিশু। তবে ব্রিটেনে বিদেশী শিশু দত্তক হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কিছু কড়াকড়ি থাকায় সে দেশে বিদেশ থেকে দত্তক শিশু যাওয়ার পরিমাণ খুবই কম।

নেপালে দত্তক প্রদান কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীটি আসলে বৃহত্তর অর্থে শিশুপাচার চক্রেরই অংশ। পাচারকারী এই চক্রটি হুমলা ও জুমলা প্রদেশের গ্রামাঞ্চল থেকে অনাথ শিশু সংগ্রহ করে তাদের এনে সার্কাস দলের কাছে বিক্রি করে দেয়। তবে পাশ্চাত্যের সন্তানহীন স্বচ্ছল দম্পতিদের কাছে তাদের বিক্রি করা গেলে অর্থ অনেক বেশি পাওয়া যায় এবং পাচারকারীদের ঝোঁকও সেদিকেই বেশি থাকে। ২০০৭ সালের আগ পর্যন্ত দত্তক শিশু বিক্রি থেকে নেপালের রাজস্ব আয়ে বার্ষিক ২০ লাখ ডলার করে যোগ হতো। তবে ২০০৭ সালে বিষয়টি নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরু হলে দত্তক শিশু বিক্রির প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়। তদন্তে দত্তক শিশু প্রেরণের নামে শিশু অপহরণ ও অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের বেশ কিছু ঘটনা ধরা পড়ে।

নেপালের মধ্যস্বত্বভোগী দুর্বৃত্তরা শিশু বেচাকেনাকে গরু-ছাগলের বেচাকেনার পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ফলে দেশটিতে আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার আইন মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। এসব শিশুর প্রধান ক্রেতা হচ্ছে সুদূর পাশ্চাত্যের সন্তানহীন দম্পতিরা যারা একটি দত্তক শিশু পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। আর এ দত্তক বেচাকেনার প্রক্রিয়াটি খুবই সোজা। দত্তক শিশু পেতে আগ্রহী ইউরোপ কিংবা আমেরিকার স্বচ্ছল দম্পতিরা তাদের পছন্দসই কোনো দেশের সংশ্লিষ্ট দত্তক প্রদান সংস্থার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কিংবা নিজ দেশে সক্রিয় অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করে প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দেন। এর পরই দত্তক সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং যে শিশুটিকে দত্তক হিসেবে নিতে চান তার তথ্য সংবলিত কাগজপত্র তৈরি হয়ে যায়। তবে শিশুটি সম্পর্কিত ভুয়া কাগজপত্র খুব সহজেই তৈরি করা সম্ভব হয়। এ প্রক্রিয়ায় আরো কয়েক দফা অর্থ লেনদেন হয়ে যাওয়ার পর শিশুটি তার নতুন বাবা-মার সঙ্গে নতুন গন্তব্যে যাত্রা করে।

এসব দত্তক গ্রহণ কার্যক্রমের অধিকাংশই বৈধ এবং উপকারি। এর মাধ্যমে নতুন বাবা-মা সন্তান লাভের আনন্দ পায় এবং অনাথ একটি শিশুও খুঁজে পায় নতুন জীবনের দিশা। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার অন্য একটি দিকও আছে। এখানে দুর্নীতি এবং অন্যায় উপার্জনেরও ব্যাপক সুযোগ রয়ে গেছে। বিশেষত যেখানে আবেগের একটি আতিশয্য বিদ্যমান। একজন মানুষ কিংবা একটি দম্পতি যখন দত্তক হিসেবে একটি সন্তান পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে তখন তারা সেটি পাওয়ার জন্য যে কোনো পরিমাণ অর্থ প্রদানে প্রস্ত্তত থাকেন। এমনই একটি মন্তব্য করেছেন চিল্ড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজ অ্যাক্রস বর্ডারসের এন্ডি এলভিন। টেরে ডেস হোমস জানিয়েছে, দত্তক প্রদান এবং গ্রহণকে ঘিরে যে কার্যক্রমটি প্রসার লাভ করেছে তার উদ্দেশ্য এখন যতটা না অনাথ শিশুদের স্বার্থ রক্ষা তার চেয়ে অনেক বেশি বাণিজ্যিক লাভালাভ। এ ব্যবসাটি এখন একটি বেচাবিক্রির বাজারে পরিণত হয়েছে। কারণ পাশ্চাত্য দেশগুলোতে দত্তক সন্তান গ্রহণে আগ্রহী যত পরিমাণ স্বচ্ছল দম্পতি রয়েছে সেই তুলনায় অনাথ শিশুর পরিমাণ অনেক কম। অর্থাৎ চাহিদা অনুযায়ী দত্তক সন্তান পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি যুদ্ধ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক শিশুই অসহায় এবং অনাথ হয়ে পড়া সত্ত্বেও সেসব শিশু চাহিদা মতো প্রয়োজনীয় দত্তক শিশুর সংখ্যা পূরণ করতে পারছে না। জাপানের সুনামির পর পশ্চিমা দেশগুলোর অনেকেই মুখিয়ে ছিল যে কবে এবং কী পরিমাণ পিতামাতাহীন সুনামি শিশু দত্তক হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ পাবে।

পাশ্চাত্যের দম্পতিরা নিজেদের দেশে অনেক অনাথ শিশু থাকা সত্ত্বেও বিদেশী শিশুদের দত্তক হিসেবে পেতেই বেশি আগ্রহী। এর অন্যতম কারণ হলো- নিজ দেশের লভ্য শিশুদের বয়স এবং পারিবারিক পরিচয় তাদের কাছে অনেক সময়ই পছন্দনীয় হয় না। তাছাড়া আইনগত কিছু কড়াকড়ি তো রয়েছেই। ইউক্রেনের একটি ওয়েবসাইট জানিয়েছে, ইউক্রেন থেকে দত্তক শিশু নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত তেমন কড়াকড়ি নেই। তাছাড়া ইউক্রেনের শিশুরা পরিবার ও নতুন বাবা-মা সম্পর্কে খুবই সংবেদনশীল এবং সহানুভূতিসম্পন্ন হয়। তারা খুব সহজেই নতুন একটি পরিবারে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। ওয়েবসাইটটির বক্তব্য পড়ে মনে হয়- এটি যেন নতুন এক ধরনের গৃহপালিত প্রাণী বিক্রির বিজ্ঞাপন।

চিল্ড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজ অ্যাক্রস বর্ডারসের এন্ডি এলভিন জানান, কম বয়স্ক শিশুকে দত্তক হিসেবে নেওয়ার চাহিদা মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেছে। দম্পতিরা সাধারণত তিন বছরের কমবয়স্ক শিশুদেরই দত্তক নিতে বেশি আগ্রহী। তবে শিশুটি যদি এক বছরেরও কম বয়স্ক হয় তবে তো কথাই নেই। আর সেটিই হচ্ছে বড় একটি সমস্যা। আপনি যদি কোনো একটি অনাথকে দত্তক নিতে চান তো যুক্তরাষ্ট্রের অনাথ আশ্রমগুলোতে এখনো দত্তক নেওয়ার মতো ২৩ হাজার শিশু অপেক্ষা করছে। কিন্তু মুশকিল হলো এদের অধিকাংশেরই বয়স হচ্ছে ৫ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত ধনী, শক্তিশালী ও সম্পদসম্পন্ন আন্তঃদেশীয় দত্তক গ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী একটি লবি সক্রিয় রয়েছে।

পৃথিবীতে দত্তক শিশু সরবরাহকারী দেশগুলোর শীর্ষে রয়েছে চীন। দেশটি ২০০৯ সালেই ৫ হাজার ৭৮টি শিশু দত্তক হিসেবে বিদেশে প্রেরণ করেছে। রাশিয়া পাঠিয়েছে ৪ হাজার ৩৯টি শিশু। একই সময়ে ইথিওপিয়া পাঠিয়েছে ৪ হাজার ৫৬৪টি শিশু। দেশটিতে দত্তক শিশু প্রেরণ আইনের তেমন কোনো কড়াকড়িই নেই। ভিয়েতনাম এবং গুয়াতেমালাও দত্তক হিসেবে বিদেশে শিশু প্রেরণ করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়েও ইথিওপিয়া দৈনিক ৫০টি করে অনাথ শিশু দত্তক হিসেবে বিদেশে প্রেরণ করেছে। তবে মার্চ থেকে এ ক্ষেত্রে একটি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কেউই বলতে পারছে না দত্তক শিশু সংগ্রাহক সংস্থা এবং দত্তক সন্তান পেতে মরিয়া হয়ে ওঠা দম্পতিরা অনাথ শিশু পাওয়ার জন্য এরপর কোন দেশটির দিকে নজর দেবে।

দত্তক গ্রহণকারী দম্পতিরা যতই বিশ্বস্ত এবং স্নেহপ্রবণ হোক না কেন এসব শিশুর মানবাধিকার রক্ষিত হচ্ছে কিনা তা দেখভাল করার দায়িত্ব দত্তক প্রদান ও গ্রহণ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ওপরই বর্তায়। যেসব শিশু ইতোমধ্যেই দত্তক হিসেবে গৃহীত হয়েছে তারাই যে কেবল ঝুঁকিতে আছে তা নয়, যেসব শিশু ভবিষ্যতে দত্তক হিসেবে গৃহীত হবে তাদের জন্যও ঝুঁকি অপেক্ষা করছে।

কোরীয় যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিতভাবেই অনাকাঙ্ক্ষিত কোরিয়ান শিশুদের পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এটি বাবা-মাহীন কিংবা পরিত্যক্ত শিশুদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নামে চালু করা হয়েছিল। কোরিয়ার অধিকাংশ ‘‘এতিম’’ শিশু আসলে অবিবাহিত মা কিংবা অতিদরিদ্র মায়েদের সন্তান। এসব শিশু এখন নিজ দেশেই লালিত-পালিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোরীয় সংস্কৃতি কোনো বাধা নয়। কিন্তু তারপরও অনাথ শিশুদের দত্তক হিসেবে বিদেশে পাঠানোর সুযোগ থাকার কারণেই কেবল এরা দেশান্তরিত হচ্ছে। তাছাড়া এসব শিশু নিজ দেশে লালিত-পালিত হওয়ার পরিবেশ গড়ে ওঠার পথে দত্তক শিশু আদান-প্রদানের সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বাধা সৃষ্টি করে থাকে। সরাসরি কেনাবেচার মাধ্যমে দত্তক শিশু আদান-প্রদান বন্ধে একটি আন্তর্জাতিক আইন থাকলেও তা খুব একটা কার্যকর নয়। আন্তঃরাষ্ট্রীয় দত্তক গ্রহণ সংক্রান্ত ১৯৯৩ সালের হেগ ঘোষণায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ৮১টি সদস্য রাষ্ট্রের স্বাক্ষর থাকা সত্ত্বেও শিশু নির্যাতন ও শিশুপাচার বন্ধ হয়নি।

ইউনিসেফ বলছে, হেগে প্রণীত আইনটির পদ্ধতিগত দুর্বলতার কারণেই শিশু বিক্রি, শিশু অপহরণ, জন্মদাতা বাবা-মায়ের ওপর চাপ প্রয়োগ, শিশু সংক্রান্ত কাগজপত্রের জালিয়াতি এবং ঘুষ প্রদানের মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে। দুর্বলতার একটি দিক হলো- হেগ ঘোষণায় স্বাক্ষরদানকারী কোনো কোনো দেশ স্বাক্ষরদান করেনি এমন দেশ থেকে দত্তক শিশু সংগ্রহ করছে। এমনকি ঘোষণায় স্বাক্ষরদানকারী দেশগুলোতেও শিশু নির্যাতন ও শিশুপাচারের মতো ঘটনা ঘটে চলেছে এবং এ ঘটনা বন্ধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সরাসরি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। যেই চীন এই ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছে সেই চীনেও অনাথ শিশুদের অবস্থা খুব একটা ভালো নেই বলে জানা গেছে। হেগ ঘোষণা শিশু বেচাকেনার মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জনও বন্ধ করতে পারেনি।

ইউনিসেফ, রেডক্রস, টেরে ডেসহোমস এবং সেভ দ্য চিল্ড্রেনের মতো সংস্থাগুলো বলছে, যেসব দেশ বিদেশ থেকে অনাথ শিশুদের দত্তক হিসেবে নিয়ে আসে, দত্তক হিসেবে আসা শিশুগুলোর স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছে কিনা তা দেখভাল করার দায়িত্বও সেসব দেশের ওপরই বর্তায়। বিশ্বব্যাপী বাবা-মাহীন হাজার হাজার শিশু পড়ে রয়েছে। তারা দত্তক হিসেবে গৃহীত হতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের যদি কোনো সংবেদনশীল ও মায়া-মমতাপূর্ণ পরিসরে দত্তক হিসেবে রাখা যায় তো তাতে দোষের কিছুই নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, দত্তক শিশু লেনদেনের সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই কাজটিকে অবৈধ অর্থ উপার্জনের হাতিয়ারে পরিণত করেছে। সুতরাং এ সংক্রান্ত হেগ ঘোষণাকে শক্তিশালী করতে হবে যাতে দত্তক শিশু আদান-প্রদানের ব্যাপারটি দয়াপরবশ কোনো আদমপাচার কার্যক্রমে পর্যবসিত না হয়। [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

নেপালের আহবান সত্ত্বেও নিমচন্দ্রকে প্রত্যাহার করেনি বাংলাদেশ


নেপালের আহবান সত্ত্বেও নিমচন্দ্রকে প্রত্যাহার করেনি বাংলাদেশ

১৮ জুলাই : অকূটনৈতিকসূলভ আচরণের জন্য কাঠমান্ডুতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিমচন্দ্র ভৌমিককে প্রত্যাহার করে নিতে নেপালের আহ্বান সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা, নিমচন্দ্র ভৌমিক নেপালে নারী কেলেঙ্কারি, স্কলারশিপ দিতে ঘুষ, ভারতের পতাকা নিয়ে গাড়িতে ভ্রমণের মতো ঘটনার জন্ম দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগপন্থী নীল দলের শিক্ষক হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। ২০০৯ সালের শেষের দিকে তিনি নেপালে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সে সময় থেকে কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসের মুখপাত্র এবং কাউন্সিলর অপূর্বা শ্রীবাস্তবাকে নানা ভাবে হয়রানি করেছেন।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেট আরো জানিয়েছে, নিমচন্দ্র ভৌমিকের অসংখ্য নারী কেলেঙ্কারির মধ্যে বলিউড তারকা মনীষা কৈরালার সঙ্গে অকূটনৈতিকসুলভ ও দৃষ্টিকটু এবং অভব্যভাবে সাক্ষাতের চেষ্টা করার কথা জানা গেছে। নিমচন্দ্র ভৌমিক পূর্ব কোনো ঘোষণা না দিয়ে মানীষার বাসভবনে গিয়ে হাজির হন। তবে তাকে বাসভবনে ঢুকতে দেয়া হয়নি এবং তিনি বাসভবনে ঢোকার জন্য আধাঘন্টা ধরে মরীয়া হয়ে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা নেপালি মহিলাদের তিনি হেনস্তা করেছেন। কাঠমান্ডুর সাবেক ফার্স্ট সেক্রেটারি নাসরিন জাহান লিপি গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে নিমচন্দ্র ভৌমিকের কেলেঙ্কারির বিষয়টি অবহিত করেন। এ ছাড়া গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি চার বাংলাদেশী মেয়ের সঙ্গে কেলেঙ্কারির বিষয়টিও এ সময়ে দীপুমনিকে অবহিত করা হয়। অন্যদিকে দৃষ্টিকটু ভাবে স্থানীয় বেশ কয়েকজন নারীকে দূতাবাসেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিয়েছেন নিমচন্দ্র।
এ ছাড়া, কাঠমান্ডুতে ভারতের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেএফআর জ্যাকবকে সঙ্গে নিয়ে কয়েকটি বৈঠকে নিমচন্দ্র নিজ গাড়িতে ভারতের পতাকা উড়িয়ে গিয়েছেন বলে স্বীকার করা হয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে । বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক ছিলেন জ্যাকব।

নারী কেলেংকারীর জন্য এরই মধ্যে টোকিওতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ক্যারিয়ার ডিপ্লোমেট মজিবর রহমানকে ঢাকায় ফেরৎ নেয়া হয়েছে। কিন্ত নিমচন্দ্রের ঘটনা টোকিও কেলেংকারীর আগে থেকেই পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঢাকার এক বিশ্লেষক এ ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এতে বোঝা যাচ্ছে নিমচন্দ্র ভৌমিকের খুঁটির জোর অনেক বেশি।

ভালো স্থাপত্যের পূর্বশর্ত এবং অবধারিত ফল হলো ভালো ‘ইন্টেরিয়র স্পেস’


আলো এবং দৃশ্য ব্যবহারে অন্দর সজ্জা

স্থপতি সুরাইয়া জাবীন ও স্থপতি মুসলিমা নাজনীন খন্দকার

আলো এবং দৃশ্য ব্যবহারে অন্দর সজ্জা স্থাপত্যকলায় ইন্টেরিয়র স্পেস একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, যা ব্যক্তির মেধা, মনন ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে রাখে তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা। দৈনন্দিন যাপিত জীবনের ইফিসিয়েন্সি বা দক্ষতাও অনেকাংশে নির্ভর করে ইন্টেরিয়র স্পেসের দক্ষতার ওপর। তাই যথাযথ ইন্টেরিয়র স্পেস পেতে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কর্মকাণ্ডটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদিও আমাদের দেশে এখনো ব্যাপকভাবে ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনকেই ইন্টেরিয়র ডিজাইন বলে সাধারণ মানুষ ভুল করছে।

ইন্টেরিয়র ডিজাইন হলো বাড়তি বা সংযোজিত জিনিসপত্র দিয়ে অস্থায়ীভাবে ইন্টেরিয়র স্পেসকে সজ্জিত করা। অপরদিকে ইন্টেরিয়র ডিজাইন হলো ইন্টেরিয়র স্পেসে কী কাজ করা হবে, কী কী ঘটনা ঘটবে, কারা থাকবে— কাজের ধরন আর মেজাজ বুঝে একটি ছাঁচ বা স্পেস সৃষ্টি করা, যাতে সেই কাম্য ঘটনাগুলো যথাযথ দক্ষতার সঙ্গে ঘটতে পারে। এমনকি ফাংশন বা কর্ম অনুযায়ী স্পেসে কাম্য ইমোশন বা মুড তৈরি করাটাও ইন্টেরিয়র ডিজাইনের এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যেমন ধরা যাক, একটি বাচ্চার ডে-কেয়ার সেন্টারের ইনডোর প্লে-কেয়ারের ইন্টেরিয়র স্পেসটি এমন হওয়া উচিত যাতে বাচ্চারা প্রচণ্ডভাবে উত্ফুল্ল হয়। কখনোই নিজেদের বন্দি বা বদ্ধ মনে না করে। প্রচুর ছোটাছুটি করতে পারে। কোনো কোনাওয়ালা অংশ যাতে তৈরি না হয় যেখানে বাচ্চারা ব্যথা পেতে পারে বা পড়ে গেলেও যাতে ব্যথা না পায়। সর্বোপরি শিশুরা যেন কোনোভাবেই একঘেঁয়েমি বোধ না করে এবং অবশ্যই শিশুমনের বিকাশের জন্য অতি আবশ্যক প্রকৃতি সাহচর্য থেকে যেন কোনোভাবেই বিচ্ছিন্নতা বোধ তৈরি না হয়। এই যে দৃশ্যমান, কিছু অদৃশ্য। কিছু ধরা যায়, কিছু ধরা যায় না, মূলত ব্যবহারকারীর বস্তুগত, অবস্তুগত চাহিদা এবং চাহিদাগুলোর আঁকো ও অনুভূতিগুলো পূরণ করার উপযোগী একটি ইন্টেরিয়র স্পেস তৈরি করাই হলো ইন্টেরিয়র ডিজাইন। ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ক্ষেত্রে সাধারণত স্থপতিরা দুই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হন।

প্রথমত, যখন পুরো ভবনটি স্থপতি নিজেই ডিজাইন করছেন, তখন ইন্টেরিয়র স্পেস পেতে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ অনুযায়ী তিনি ভবনে শেপ, স্পেস ভলিউম তৈরি করেন। প্রয়োজনমতো অবস্থানে রেখে দেন পাঞ্চ বা জানালা।

অনেক ক্ষেত্রে রিনোভেশন কাজেও স্থপতি পুরনো ভবনটিতেই চালান ব্যাপক কাটাছেঁড়া তার কাঙ্ক্ষিত ইন্টেরিয়র স্পেসটি পেতে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, উত্তরার আড়ংয়ের শোরুমটি এবং রিনোভেশনের উদাহরণ হিসেবে ধাম-৫-এর।

দ্বিতীয়ত, যখন একটি ভবনের স্পেসে এ কাজ করতে হয় এবং স্পেসটিতে আউটডোরের সঙ্গে সংযোগ বা কোনো কাটাছেঁড়া করে আলো আনার সুযোগ নেই, সেক্ষেত্রে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত ফাংশন এবং মুড অনুসারে নির্বাচিত ম্যাটেরিয়াল, রং ও টেক্সচার দিয়ে সৃষ্টি করা হয় কাঙ্ক্ষিত ইন্টেরিয়র স্পেসটিকে। উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে রাইফেল স্কয়ারের ৪র্থ তলায় লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি শোরুমটি বা মেট্রো শপিংমলের ৪র্থ তলায় ওপেনটি বায়োস্কোপের শোরুমটি। প্রথমটিতে ব্যবহূত হয়েছে শ্বেত কিছুটা কুল স্কিমে, অপরদিকে প্রোডাক্ট লাইন এবং সার্ভিসের সঙ্গে মিল রেখে দ্বিতীয় শোরুমটি করা হয়েছে ‘ডার্ক’ এবং ‘ওয়ার্ম স্কিম’-এ।

ইন্টেরিয়র স্পেসে কাঙ্ক্ষিত ইম্প্যাক্ট পেতে যে বিষয়গুলো স্থপতিরা সবসময় মাথায় রাখেন তা হলো—
১. আলো
২. ভিউ বা দৃশ্যপট
৩. স্কেল এবং প্রপোরশন
৪. ফিলোসফি বা কনস্পেট

১. আলো
সূর্যের আলোকে নানাভাবে ইনডোরে ঢুকিয়ে ইন্টেরিয়র স্পেসে নানা ধরনের ইমপ্যাক্ট বা আবহ তৈরি করা স্থপতিদের একটি প্রিয় কাজ। প্রাচীন রোমান ‘প্যানথিয়ন’ মন্দির থেকে শুরু করে লুই কানের সংসদ ভবনেও দেখা যায় সেই যত্নশীল প্রচেষ্টা। সংসদ ভবনের মূল ‘অ্যাসেম্বলি হল’ বা হলের চারপাশে বৃত্তাকার সার্কুলেশন ধরে হাঁটলে যে কেউই আচ্ছন্ন ও মোহিত হবেন সূর্যের আলো নিয়ে খেলা করা এই ইন্টেরিয়র স্পেসটির ইম্প্যাক্টে।

২. ভিউ বা দৃশ্যপট
ইন্টেরিয়র স্পেসটিকে প্রাণবন্ত করতে স্পেসটিতে বসে ভেতরে এবং বাইরে কী দেখছি, কতটুকু দেখছি তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৩. স্কেল এবং প্রপোরশন
মূলত ইন্টেরিয়র স্পেসের ভলিউম এবং প্রপোরশনের ওপরই নির্ভর করে ব্যক্তি কতখানি ইন্টিমেট অনুভব করবে বা কতখানি বদ্ধ অনুভব করবে। আবার দেখা যায়, গির্জা ডিজাইনের ক্ষেত্রে ইন্টেরিয়র স্পেসে উচ্চতা বাড়িয়ে স্পেসে একটা স্পিরিচুয়াল অনুভূতি আনা হয়।

৪. ফিলোসফি বা কনসেপ্ট
ইন্টেরিয়র স্পেসটি ডিজাইনার তার কোনো আইডিয়া বা কনসেপ্টকে প্রকাশ করেন আলো, ভিউ বা টেক্সচার, স্পেসের ভলিউম ইত্যাদির মাধ্যমে। যেমন সংসদ ভবনের মূল হলের বাইরের যে বৃত্তাকার পথটি তার ইমপ্যাক্ট বা এক্সপেরিয়েন্সের মাধ্যমে লুই কান পুরান ঢাকার অলিগলি সরুপথ আর আরবান ফেব্রিকের একটি অ্যাবস্ট্রাক্ট রিপ্রেজেন্টেশন করতে চেয়েছিলেন, যা কি না ৪০০ বছর ধরে বুড়িগঙ্গার তীরে গড়ে উঠা ঢাকা শহরকেও রিপ্রেজেন্ট করে।

বাসগৃহের ইন্টেরিয়র ডিজাইন

বাসগৃহ যেহেতু একটি ছাঁচ বা সিস্টেম, যেখানে প্রতিনিয়ত ব্যক্তির ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক ছাঁচ তৈরি হচ্ছে এবং জোগান দিচ্ছে ‘দক্ষতা’ ও ‘অনুপ্রেরণা’। তাই এর ইন্টেরিয়র স্পেস ব্যক্তির জীবনে অতীব তাত্পর্যপূর্ণ। আর তাই তো মফস্বল এবং শহরের বক্স বা ‘স্লট’ বেড়ে উঠার একজন মানুষের চিন্তা, চেতনা, দক্ষতা এমনকি মানবিকতায়ও দেখা যায় পার্থক্য।

বাসগৃহে যেখানে পরিবারের সবাই মিলিত হবে, সেই স্থানগুলোকে বিশেষ যত্ন নিয়ে উপরের বিষয়গুলোকে (আলো, ভিউ, প্রপোরশন ইত্যাদি) মাথায় রেখে ইন্টেরিয়র ডিজাইন করা উচিত, যাতে পরিবারের সবাইকে সে স্থানটি টেনে রাখতে পারে ও গল্প বা ইন্টরেকশনে অনুপ্রাণিত করে। ফাংশন আর ফার্নিচারগুলো এমনভাবে বিন্যাস হওয়া উচিত, যেন গল্প করতে করতেই সবাই মিলে বাড়ির কাজগুলো ভাগাভাগি করে সম্পাদন করতে পারে। আর এভাবেই ইন্টেরিয়র স্পেসটি পারিবারিক বন্ধনটিকে শক্ত ও উত্পাদনশীল করতে রাখতে পারে ভূমিকা।

মূলত স্থপতি ও সমাজ দুটি মিলে একটা সিস্টেম। তাই স্থপতির সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্থাপত্যের সমঝদারি ও কদর বাড়লেই আমাদের চারপাশে ভালো স্থাপত্যের সংখ্যা বাড়বে। আর ভালো স্থাপত্যের পূর্বশর্ত এবং অবধারিত ফল হলো ভালো ‘ইন্টেরিয়র স্পেস’। [বনিকবার্তা থেকে]

বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে শক্তিশালী যৌন ব্যবসা গড়ে উঠেছে।


১৮ না পেরুতেই যৌন অভিজ্ঞতা ৫০ শতাংশ শহুরে তরুণের

সেক্স ওয়ার্কাস

Sex Workers in Bangladesh


সাইদ আরমান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: বাংলাদেশে বয়স ১৮ হওয়ার আগেই যৌন অভিজ্ঞতা হচ্ছে ৫০ শতাংশ শহুরে তরুণের। এছাড়া প্রায় ৮০ শতাংশ তরুণ পরোক্ষভাবে প্ররোচিত হয়ে যৌন কর্মে লিপ্ত হচ্ছেন। এদের এক-তৃতীয়াংশ আবার লিপ্ত হচ্ছেন দলগত যৌনকর্মে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের যৌনসঙ্গী হচ্ছেন পেশাদার যৌনকর্মী।

কিন্তু এসব তরুণের অর্ধেকই যৌনকর্মে একদমই নিরোধ ব্যবহার করছেন না। বাকীরাও নিরোধ ব্যবহারে অনিয়মিত। তাই তাদের মধ্যে এইডস ঝুঁকি বাড়ছে।

আইসিডিডিআরবি পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

পেশাদার যৌনকর্মীর কাছে যান এমন এক হাজার তরুণের ওপর এ জরিপ চালানো হয়।

এদিকে এমন অনিরাপদ যৌনকর্মের মাধ্যমে ৫২ শতাংশ এইডস ছড়ায় বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

জাতীয় এইডস কর্মসূচি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে শক্তিশালী যৌন ব্যবসা গড়ে উঠেছে। আর তরুণরাই বেশি এইডস ঝুঁকিতে রয়েছে।

তরুণদের এইডস ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় এইডস/এসটিডি কর্মসূচির পরিচালক অধ্যাপক মো. ওয়াদুদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘যৌন আচরণে পরিবর্তন হওয়ার কারণে তরুণের মধ্যে এইডস ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকাসহ শহরাঞ্চলের তরুণদের মধ্যেই এইডস ছড়াচ্ছে বেশি।’

তিনি বলেন, ‘তরুণ সমাজকে এই ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে আমরা বিশেষ সচেতনামূলক কর্মসূচি হাতে নিচ্ছি। এতে তরুণদের জন্য কাউন্সেলিং থাকবে। এছাড়া পাঠ্য পুস্তকে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিষয়টি সিলেবাসে নিয়ে আসা হবে।’

এছাড়া সরকার জেলা পর্যায়ের প্রতিটি হাসপাতাল যুব বান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পেশাদার যৌনকর্মীর কাছে যেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়া তরুণের প্রায় ৭৯ শতাংশই এইডস সম্পর্কে সচেতন নন। যৌন মিলনের পর যৌনাঙ্গ পরিষ্কার করলে এইডস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বলেও মনে করেন তারা।

যৌনকর্মে লিপ্ত হতে এসব তরুণের ৮০ শতাংশ যাচ্ছেন আবাসিক হোটেলে। আর ২০ শতাংশ অপেশাদার যৌনকর্মীর কাছে যাচ্ছেন।

সেক্স যৌন কর্মী

আর জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ তরুণ হওয়ায় দেশের বৃহৎ ও নিভর্রশীল এই জনগোষ্ঠী ব্যাপক ঝুঁকিতে মধ্যে আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, তরুণদের অধিকাংশ যৌন চাহিদা মেটাতে যৌনকর্মীর কাছে যাচ্ছেন। সব ধরণের যৌন আচরণ করছেন।

গবেষণায় দেখা যায়, এসব তরুণের প্রায় ২০ শতাংশের মধ্যে যৌনবাহিত ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা যায়। তবে এদের মাত্র ১৫ শতাংশ চিকিৎসকের কাছে যান।

ঢাকার ৯টি আবাসিক হোটেলে আইসিডিডিআরবি পরিচালিত জরিপটিতে আরো দেখা গেছে, তরুণের দুই তৃতীয়াংশ স্কুল ও কলেজ পড়–য়া। তারা যৌনকর্মে প্ররোচিত হন বন্ধু বা বন্ধুস্থানীয় কাউকে দিয়ে। প্রায় ৮০ শতাংশ তরুণ পরোক্ষভাবে প্ররোচিত হয়ে যৌন কর্মে লিপ্ত জন। আবার অনেকে পর্ন সিডি দেখে যৌন কর্মে উৎসাহিত হন। এদের অনেকের বয়স ১১ থেকে ১৪ বছর।

এছাড়া বিবাহিতরাও যৌনকর্মীর কাছে যাচ্ছেন বলে দেখা গেছে গবেষণা জরিপে।


http://www.guardian.co.uk/society/video/2010/apr/05/bangladesh-sex-workers-steroids

Sex Workers in Bangladesh: Video Report

যৌন কর্মী সেক্স ওয়ার্কার

যৌন কর্মী সেক্স ওয়ার্কার

Bangladeshi sex workers take steroids to ‘plump up’ for clients Video Report

লসএ্যনঞ্জেলস্ -এ আইটি সম্পর্কিত ব্যবসায় আমেরিকা-বাংলাদেশ যৌথ উদ্দোগ এবং এর সম্ভাবনার পর্যালোচনা।


একুশ নিউজ মিডিয়া-র সব নিউজ এখন ফেস বুক এ
http://tinyurl.com/ekush21

লসএ্যনঞ্জেলস্ -এ আইটি সম্পর্কিত ব্যবসায় আমেরিকা-বাংলাদেশ যৌথ উদ্দোগ এবং এর সম্ভাবনার পর্যালোচনা।

IT Business Seminar Picturesসাইফুল খন্দকার

গত ১৬ জুলাই, রবিবার লসএ্যনঞ্জেলস্, ক্যালিফোনিয়ায় কনসুলেট জেনারেল অব বাংলাদেশ এর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ইউএস-বাংলদেশ বিজনেস ফোরাম ও কনসুলেট জেনারেল অব বাংলাদেশ, লসএ্যনঞ্জেলস্ -এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় আইটি সম্পর্কিত ব্যবসায় আমেরিকা-বাংলাদেশ যৌথ উদ্দোগ এবং এর সম্ভাবনা শীর্ষক এক আলোচনা সভা । সভার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল আইটি খাতে আমেরিকা-বাংলাদেশ ব্যবসা ও বিনিয়োগের বর্তমান পরিস্থিতির নিরীক্ষণ, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা।

সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দিতে গিয়ে ইউএস-বাংলদেশ টেক্নোলজি এসোসিয়েশন এর প্রেসিডেন্ট এবং ফ্রিবিপে এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জনাব ড. সাইফুল খন্দকার বলেন “নতুন উদ্ভাবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশীগণ স্বীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রেখে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ণে ব্যাপক অবদান রাখতে পারবেন।” কথাটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ‘ফ্রিবিপে’-এর চমৎকার প্লাটফর্মের সাথে পরিচয় করিয়ে ড. সাইফুল উল্লেখ করেন ‘ফ্রিবিপে’ স¤পূর্ণ ভাবে বাংলাদেশের প্রযুক্তিকমীদের নির্মিত। গত ৭ মাসে ‘ফ্রিবিপে’ নির্মাণে ৫০ জন প্রযুক্তিকর্মী রাতদিন শ্রম দিয়েছেন। এবং এটি বাজারজাতের পূর্বে ও পরে আরো বহুসংখক প্রযুক্তিকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে গুনগত কর্মসংস্থান সম্ভব যা অন্যান্য ক্ষেত্রে হাজার কর্মসংস্থান-এর সমান।

এ বিষয়ে ইউএস-বাংলদেশ বিজনেস ফোরাম -এর প্রেসিডেন্ট জনাব মোহাম্মদ আহ্সান NRI (Non Resident Indians) এর ভারতের প্রযুক্তি খাতে তাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, এখন সময় এসেছে NRI (Non Resident Indians) কমিউনিটির দল-মত এর উর্দ্ধে দেশের কল্যাণে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে সক্রিয় অংশ নেবার। এতে করে বাংলাদেশ একদিকে যেমন বিশ্বের মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিতে পারবে; অন্যদিকে তেমন বাংলাদেশীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যদা বৃদ্ধিপেতে থাকবে ক্রমবর্ধমান হারে।
এছড়া সভায় ফ্রিবিপে -এর সিওও মি. যেফ জারভিস্ আমেরিকায় ফ্রিবিপে’র বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়েও বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
পরে সম্মানিত কনসুল জেনারেল জনাব এনায়েত হোসেন এর সভাপতিত্বে এ বিষয়ে এক সাধারণ মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ কন্স্যুলেট অব লস এঞ্জেলেস

এখানে উল্লেখ্য যে, সম্পূর্ণ বাংলাদেশী ব্যবস্থাপনায় ও বাংলাদেশী প্রযুক্তিকর্মীদের দ্বারা উন্নয়নকৃত ফ্রিবিপের ভোক্তা ও বিপনণ এই দুই বিভাগেই রয়েছে নানান রকম সুবিধা। একদিকে ভোক্তারা যেমন তাদের আইফোন, এণরয়েড, ব্লাকবেরী ও উইন্ডোজ ফোন থেকে এবং সেইসাথে ফ্রিবিপের ওয়েবপোটাল ব্যবহার করে কোনধরণের প্লাস্টিক কার্ড বহন না করেই তাদের কেনাকাটা সারতে পারবেন। শুধু তাই নয় রকমারি পণ্যের মূল্যছাড় সহ লয়ালিটি প্রোগ্রামের আওতার সুবিধাগুলো নিতে ফ্রিবিপে তাদের ব্যক্তিগত সহকারীর ভূমিকা পালন করবে অনায়াসে।

অন্যদিকে বিপনণে ফ্রিবিপেতে রয়েছে বৃহৎ ও ক্ষুদ্র দুই ধরনের মার্চেন্টদের জন্যই রকমারি সুবিধা। বৃহৎ মার্চেন্ট যেমন তাদের সেন্ট্রাল পি.ও.এস. থেকে মূল্য গ্রহণ ও ওয়েবপোটাল থেকে পণ্যের বিভিন্ন অফার ফ্রিবিপের গ্রাহকদের কাছে সহজেই পৌঁছে দিতে পারবেন সেই সাথে তাদের পণ্যের বাজারে অবস্থান সম্পর্কেও ধারণা রাখতে পারবেন। তেমনি ক্ষুদ মার্চেন্টরাও আইপডে ফ্রিবিপে-পি.ও.এস. সফট্ওয়ারটি ব্যবহার করে মূল্য গ্রহণ ও তাদের পণ্যের প্রমোশনাল অফার সহ এ্যনিমেটেড বিজ্ঞাপণ ফ্রিবিপের ওয়েবপোটাল থেকে কাষ্টমাইজ করতে পারবেন যেকোন সময়।

বাপসনিঊজ

%d bloggers like this: