সরকারি নিষ্ক্রিয়তায় বাড়ছে যৌনসন্ত্রাস- দেশব্যাপী অসংখ্য যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটলেও কোনোটির বিচার হয়নি।

সরকারি নিষ্ক্রিয়তায় বাড়ছে যৌনসন্ত্রাস

দেশব্যাপী অসংখ্য যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটলেও কোনোটির বিচার হয়নি।

মঈনুল হক ● ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীর ওপর যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর আবারো সারাদেশে বিষয়টি নিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। যৌন উৎপীড়ক সন্ত্রাসীদের রুখতে আইনের যথাযথ প্রয়োগের দাবি উঠেছে। নারীর সামাজিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত আইন প্রণয়নের দাবিও সামনে আসছে। একটি অপরাধের বিচার না হওয়ায় আরেকটি অপরাধ উৎসাহিত হচ্ছে বলে আইনজ্ঞরা মনে করছেন। ভিকারুননিসার ঘটনার পর বিষয়গুলো নতুন করে সামনে এলেও দাবি নতুন নয়। আড়াই বছর ধরে দেশে অব্যাহত যৌনসন্ত্রাস ও নারী নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে ধারাবাহিকভাবে এ দাবি করে আসছেন নারী অধিকার আন্দোলন সংশ্লিষ্টরা। বিপরীতে নারী উৎপীড়করা একের পর এক রোমহর্ষক যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। যখন একটির পর একটি ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করছে তখন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলরাও কয়েকদিনের জন্য নড়ে বসছেন। আশ্বাস দিচ্ছেন কঠোর আইন প্রণয়নের। কিন্তু এরপর আবার যা তাই। আবার তারা হয়ে পড়ছেন নিষ্ক্রিয়। কার্যকর হচ্ছে না কোনো প্রতিশ্রুতি। বিচার হচ্ছে না একটি ঘটনারও। আরো বেপরোয়া হচ্ছে যৌনসন্ত্রাসীরা। জুলাইয়ের ১৫ তারিখ পর্যন্ত পনের দিনেই পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, দেশে যৌননিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে কমপক্ষে ১৮টি। শিক্ষক থেকে পুলিশ কর্মকর্তা পর্যন্ত এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকা, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার কারণে অপরাধীরা উৎসাহিত হচ্ছে বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট নারী আইনজ্ঞরা। এছাড়াও নারী অধিকার কর্মীদের মতে, রাষ্ট্রের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নারীর ওপর যৌননিপীড়নের অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের রিপোর্ট অনুযায়ী, আড়াই বছরে যৌন উৎপীড়ক সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন কমপক্ষে ৬৫ জন নারী। সন্ত্রাসীরা ধর্ষণের পর হত্যা করেছে ২২০ জনের বেশি নারী ও শিশুকে। ২০০৯ থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এক হাজার ৩০৭টি। এছাড়াও যৌন উৎপীড়কদের বিরোধিতা করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। যার মধ্যে ৭ জনই নিহত হয়েছেন এ বছরের প্রথম ৬ মাসে। মানবাধিকার সংস্থা ও পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা গেছে, যৌনসন্ত্রাস ক্রমেই বাড়ছে। নির্যাতনে হত্যা ও আত্মহননের পরিসংখ্যান দীর্ঘ হলেও বিচার হচ্ছে না কোনো ঘটনার। যেসব ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হচ্ছে সে ক্ষেত্রে প্রশাসন কিছু পদক্ষেপ নিলেও পরবর্তীতে তা চাপা পড়ে যাচ্ছে নতুন ঘটনার নিচে। অনেক ঘটনায় ক্ষমতাসীনরা যৌনসন্ত্রাসীদের পক্ষাবলম্বন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। দেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী কয়েকটি যৌনসন্ত্রাসের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের কাছে সরকারের মন্ত্রীরা যেতে বাধ্য হয়েছেন। সে সময় অনেক আশ্বাস দেওয়া হলেও তার বাস্তবায়ন আজও হয়নি। এমন হারিয়ে যাওয়া আশ্বাসের মধ্যে রয়েছে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী হাসনা রহমান সিনথিয়ার আত্মহনন, ফরিদপুরের চাঁপা রানী ও নাটোরের শিক্ষক মিজানুর রহমান হত্যাকান্ড। এই তিনটি ঘটনায় সরকারের একাধিক মন্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি ও যৌনসন্ত্রাস বিরোধী আইন প্রণয়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো ঘটনার বিচার হয়নি আজও, আইনও পাস হয়নি।

ভিকারুননিসায় শিক্ষকের যৌনউৎপীড়নের বিষয়টি প্রকাশ পাবার পর থেকে আবার নতুন করে দেশব্যাপী যৌননির্যাতনের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিতে অচলাবস্থা সৃষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অপরাধীর বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠলেও ক্ষমতাসীন সরকার তখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে নীরবতা পালন করে। আইন-শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের বিষয়ে সর্বদা সজাগ এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মুখরা মন্ত্রীরা এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর পক্ষে একটি কথাও বললেন না। প্রথম দিকে অপরাধী শিক্ষককে বাঁচানোর চেষ্টা চলেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধানসহ একাংশের উদ্যোগে। শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ওই শিক্ষক গ্রেফতার হলেও তার সহযোগীদের ধরা হয়নি। যৌনউৎপীড়ক শিক্ষককে রক্ষার অভিযোগে অধ্যক্ষের অপসারণের দাবি তীব্র হয়। স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দ্রুত সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সরকার। প্রথম মুখ খোলেন শিক্ষামন্ত্রী। অধ্যক্ষকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়ম মেনে নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। দ্রুততার সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে অ্যাডহক কমিটি গঠন ও অভিযুক্ত অধ্যক্ষকেই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ আরো তীব্র হয়ে ওঠে। বাধ্য হয়ে সরকারের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ হোসনে আরাকে ৩ মাসের ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভিকারুননিসা নিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত ও পাল্টা সিদ্ধান্তের পর সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কিন্তু যৌনউৎপীড়ক শিক্ষকের বিচার নিয়ে কোনো কথাই বলা হচ্ছে না। আজ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল কেউ প্রতিষ্ঠানটিতে যাননি।

বুধবারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে দেশব্যাপী অসংখ্য যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটলেও কোনোটির বিচার হয়নি।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনা : মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বারৈখালী গ্রামের স্কুলছাত্রী সিনথিয়া অব্যাহত যৌনহয়রানির শিকার হয়ে গত বছরের ১০ আগস্ট বিকালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। তার আত্মহত্যার ঘটনার প্রতিবাদে দোষীদের বিচারের দাবিতে বারৈখালী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। সিনথিয়ার পরিবার শ্রীনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। এ ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আত্মহননকারী শিক্ষার্থীর বাড়িতে যান এবং দোষীদের বিচারের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি যৌন হয়রানি রোধে দ্রুত আইন পাসের কথা বলেন। বর্তমানে এই মামলাটির কি অবস্থায় তা জানতে চাইলে শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘মামলাটির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এরপর কি অবস্থা তা আর জানি না।’

সিনথিয়ার পরিবার জানায়, সিনথিয়াকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় বিদ্যালয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। যেখানে পুলিশও উপস্থিত ছিল। পুলিশ অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করলে সিনথিয়াকে মরতে হতো না।

মেয়ের ওপর যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় গত বছরের ২৬ অক্টোবর ফরিদপুরের মধুখালীতে সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে হত্যা করে চাঁপা রানী ভৌমিককে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মধুখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলী জানান, চাঁপা রানী হত্যা মামলায় দেবাশীষ, সঞ্জয় ও আলমগীরকে অভিযুক্ত করে ২২ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আসামিরা আটক রয়েছে। কিন্তু মামলার আর কোনো অগ্রগতি নেই।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য আসামিপক্ষ চাপা রানীর পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগসহ বিভিন্ন কৌশল অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনার পর শিক্ষামন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রী চাঁপা রানীর বাড়িতে গিয়েছিলেন।

২০১০ সালের ১২ অক্টোবর নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার লোকমানপুরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে কলেজের শিক্ষক মিজানুর রশীদকে হত্যা করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাগাতিপাড়া থানার এসআই আবদুর রহিম ৬৪ দিন তদন্ত শেষে দুই আসামির বিরুদ্ধে ১৮ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্ত দুই আসামি গ্রেফতার হলেও পুলিশ তাদের কাছ থেকে কোনো স্বীকারোক্তি আদায় করতে পারেনি। সরকার এই ঘটনার পর মিজানুর রশীদের স্ত্রীকে চাকরি দিলেও রাজন নামে এক আসামিকে রক্ষা করার জন্য নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানার বেগুনবাড়ি গ্রামের দিনমজুর বাইরুল ইসলামের মেয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী নুরেশা খাতুন লিমা গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর একদল সন্ত্রাসীর পাশবিক নির্যাতনে মারা যায়। ঘটনার পর স্থানীয়রা দুই নির্যাতককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও অন্য আসামিরা এখনো গ্রেফতার হয়নি। নুরেশার পরিবারের অভিযোগ, ক্ষমতাসীনদের একটি অংশ আসামিদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। গোমস্তাপুর থানার ওসি জানান, যে তিন আসামি বাইরে রয়েছে তাদের একজন হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আছে। অন্য আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

২০১০ সালের ৫ জুলাই টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলার কাহারতা গ্রামের নবম শ্রেণীর এক কিশোরীকে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক হাবিবুল্লা ইতিহাস ওরফে হাবিব, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আরিফ আহমেদ এবং সখীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত শিকদারের ভাগ্নে বাবুল আজাদ ও তার নাতি আরিফুল ইসলাম আকাশ অপহরণ করে একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে হাবিবুল্লা ইতিহাস ওরফে হাবিব তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় তার সহযোগীরা ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে। সখীপুর থানা পুলিশ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১০ আদালতে হাবিবকে একমাত্র আসামি করে চার্জশিট দাখিল করে। পরে হাবিব হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছে।

যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় গত বছরের ২০ অক্টোবর বখাটেদের হাতে মাগুরার শরিফুজ্জামান নামে এক শিক্ষক আহত হন। এ ঘটনায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ডিয়ারসহ পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলাটি এখন কোনো অবস্থায় আছে তা পুলিশও জানে না। মাগুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, এমন কোনো মামলার কথা মনে করতে পারছি না। এই মামলার কোনো আসামি আটক হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে ২৫ জুন ভোলায় প্রভাবশালী একটি পরিবারের ছেলে মমিনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা দরিদ্র কৃষক পরিবারের এক কিশোরীকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয় এবং পাশবিক নির্যাতন চালায়। ভোলা থানার ওসি মোবাশ্বের আলী জানান, পত্রপত্রিকায় এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর তারা ওই মেয়েটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং একটি মামলা গ্রহণ করেন। মামলায় তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা অব্যাহত হুমকির মুখে রয়েছে। মামলারও কোনো অগ্রগতি নেই।

২৮ জুন বখাটে সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে মামলা করায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাতক্ষীরার একটি পরিবার। পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকাও রহস্যজনক। ওসির নির্দেশে ৩ বার এজাহার সংশোধন করে মামলা রেকর্ড হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যৌন নির্যাতনের ধারায় মামলাটি নেওয়া হয়নি বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ। দুর্বল ধারায় মামলা রেকর্ড হওয়ায় আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার অভাবে যৌন হয়রানির শিকার মেয়ের পিতা থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি। সাতক্ষীরা থানার ওসির কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছে এ কারণে ধরা যাচ্ছে না। আর বিষয়টি যৌন নির্যাতন নয়। এটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব।’

হাইকোর্টের নির্দেশনা : ২০০৯ সালের ১৪ মে যৌননিপীড়নের সংজ্ঞা দিয়ে যৌন হয়রানি রোধে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট কর্মস্থল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য দিকনির্দেশনা চেয়ে এ রিট দায়ের করা হয়েছিল।

রায়ে বলা হয়, সংসদে যৌন হয়রানি রোধে কোনো আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ নীতিমালা বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হবে। রায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ কেন্দ্র গঠন এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্যাতিত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ না করার কথাও বলা হয়।

যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞায় আদালত বলেন, শারীরিক ও মানসিক যে কোনো ধরনের নির্যাতন যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। ই-মেইল, মুঠোবার্তা (এসএমএস), পর্নোগ্রাফি, টেলিফোনে বিড়ম্বনা, যে কোনো ধরনের চিত্র, অশালীন উক্তিসহ কাউকে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে সুন্দরী বলাও যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। শুধু কর্মস্থল কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এ ধরনের হয়রানি ঘটে না, রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের অশালীন উক্তি, কটূক্তি করা, কারও দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকানোও যৌন হয়রানি হিসেবে গণ্য করা হবে। রায় অনুযায়ী, কোনো নারীকে ভয়ভীতি দেখানো, যে কোনো ধরনের চাপ দেওয়া, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক গড়া, দেয়াল লিখন, অশালীন চিত্র ও আপত্তিকর কোনো ধরনের কিছু করা যৌন হয়রানির মধ্যে পড়ে।

হাইকোর্টের এই নির্দেশনার পরে যৌন হয়রানি বন্ধের জন্য একটি খসড়া আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আইন কমিশনের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। রিট পিটিশনের নির্দেশনার আলোকে বিশেষজ্ঞ কমিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইনের একটি বাংলা খসড়া তৈরি করে আইন কমিশনে হস্তান্তর করে। কিন্তু আইনটি আলোর মুখ দেখেনি।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারের দায়িত্ব অনেক। হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছে তা যদি সঠিকভাবে মানা হতো তা হলেও যৌন হয়রানি অনেক কমে যেত। এ ছাড়া ডিএমপি অধ্যাদেশেও এ সংক্রান্ত আইন আছে। কিন্তু সবক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তা মানছে না। তিনি আরো বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি খসড়া আইন কমিশনে জমা দেওয়া আছে। সরকারের উচিত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই আইনটি পাস করা। আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে যৌন নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে।

অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, সামাজিকভাবে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি ও ভিকটিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে যৌন হয়রানি রোধে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। তাছাড়া যৌন নির্যাতন রোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা ও বিদ্যমানের আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত হওয়া দরকার।

আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বিচার না হওয়ার কারণে একের পর এক যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা বেড়ে চলেছে। উৎপীড়নের শিকার নারীদের পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বরাবরই বিঘ্নিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশাসনিক ও আইনি সহায়তা দেওয়া এবং যৌন উৎপীড়কদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো উদ্যোগ রাষ্ট্রীয়ভাবে নেওয়া হচ্ছে না। সরকারের সব উদ্যোগ আটকে আছে মৌখিক আশ্বাস এবং হম্বি-তম্বির মধ্যে। দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বখাটেদের শাস্তির নামে কিছু যুবকের দিন কতকের জেল বা জরিমানা এখন অনেকটা রসিকতায় পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কঠোর আইন, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং দ্রুত বিচারের মধ্য দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করতে না পারলে যৌনসন্ত্রাসের মতো ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। এ দায় সরকারকে নিতে হবে। [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]


১৮ না পেরুতেই যৌন অভিজ্ঞতা ৫০ শতাংশ শহুরে তরুণের

বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে শক্তিশালী যৌন ব্যবসা গড়ে উঠেছে।

https://ekush.wordpress.com/2011/07/19/sex/

Violence against women in Bangladesh rising

World News
Activists say that the rate of violence against women in Bangladesh is among the world’s highest and rising.

“Violence against women is increasing day by day as a result of family disputes, dowry system and eve teasing,” says Rosaline Costa, from Hotline (Human Rights) Bangladesh, a Church-based human rights organization.

“Every day 17 out of 100 women become victims of violence at home or in the workplace and 25% of them die”, Costa explained.

“Although people are more aware of the issues because of the media, poor law enforcement and male dominance are major barriers to preventing violence against women,” Costa told ucanews.com during the recent National Day of Prevention of Violence against Women on Aug. 24.

The nation has observed the event, which is also known as “Yeasmin Day,” since 1996 to commemorate the brutal rape and killing of garment worker Yeasmin, 14, by three policemen in northwestern Dinajpur district.

Yeasmin, a Muslim girl, was on her way home from work in Dhaka when she was molested, killed and her body abandoned beside the road.

Three accused were arrested and brought to trial in Sept. 1996. All initially received life sentences. However, they were later sentenced to death in 2004.

Although the Yeasmin case remains as an example of extreme violence against women, Father Albert Thomas Rozario, secretary of Episcopal Commission for Justice and Peace, says that such brutality is absent from the history of the Catholic Church in the country.

“The Catholic Church has taken many initiatives against such violence in our six dioceses,” he said.

“Mental and physical clashes do take place in Christian communities, but not to such an extent”, concluded Father Rozario, who is also a lawyer in the Bangladesh Supreme Court Bar Council.

URL to article: http://www.cathnewsindia.com/2010/08/31/violence-against-women-in-bangladesh-rising/
URL to article: http://budhbar.com/?p=5821

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: