আয় ও ব্যয় জরিপ- ২০১০ অনুযায়ী আয় বৃদ্ধির প্রভাবে কমেছে দারিদ্রের হার। উন্নত হয়েছে মানুষের জীবনযাত্রার মান।

আয় বড়লেও ভালো নেইে সাধারণ মানুষ

এফএনএস (সাঈদ শিপন) : পঁচ বছেেরর ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে মানুষের আয়। উন্নত হয়েছে দেশের অর্থ-সামাজিক অবস্থার। তারপরেও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্ব গতীতে কী গ্রাম কী শহর কোথাও ভালো নেই খেটে খাওয়া মানুষগুলো। নিম্ন আয়ের চাকরিজীবী থেকে শুরু করে দিনহাজিরা শ্রমিক সবারই নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয় ও ব্যয় জরিপ- ২০১০ অনুযায়ী আয় বৃদ্ধির প্রভাবে কমেছে দারিদ্রের হার। উন্নত হয়েছে মানুষের জীবনযাত্রার মান। মাথাপিছু খাদ্য গ্রহণের পরিমাণও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ। বেড়েছে শিক্ষার হার। তবে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে কার আয় বৈষম্য পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বিবিএস এর সর্বশেষ অর্থাৎ ২০১০ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ অনুযায়ী ৫ বছরের ব্যবধানে দারিদ্রের হার ১০ শতাংশের মত কমে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে। এর আগে ২০০৫ সালে এই হার ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী ২০১০ সালে শহরে দারিদ্রের হার ২১ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর গ্রামে এই হার ৩৫ দশমিক ২০ শতাংশ। ২০০৫ সালে শহর ও গ্রমীণ দারিদ্রের হার ছিল যথাক্রমে ২৮ দশমিক ৪০ শতাংশ ও ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থৎ ৫ বছরের ব্যবধানে শহরে দারিদ্রের হার কমেছে ৭ শতাংশের মত ও গ্রামে ৮ শতাংশের মত। কমেছে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও। হালনাগাদ নির্ভরশীল জনসংখ্যার হার হয়েছে ৬৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। যা ২০০৫ সালে ছিল ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

২০০৫ সালের তুলনায় ২০১০ সালে মাথাপিছু খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১০০০ গ্রামে দাঁড়িয়েছে। মাথাপিছু খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ ২০০৫ সালে ছিল ৯৪৮ গ্রাম। ২০১০ সালের জরিপ অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও খাদ্য হিসেবে কমেছে চালের ব্যবহার। বেড়েছে গমের ব্যবহার। ২০০৫ সালে মাথাপিছু চালের ব্যবহার ছিল ৪৩৯ দশমিক ৬৪ গ্রাম, যা বর্তমানে হ্রাস পেয়ে ৪১৬ গ্রাম হয়েছে। আপরদিকে আটা ও ময়দার ব্যবহার বেড়ে ২৬ দশমিক ৯ গ্রাম হয়েছে, যা ২০০৫ সালে ছিল ১২ দশমিক ৮ গ্রাম।

সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী খানা প্রতি মাসিক জাতীয় গড় আয় ১১ হাজার ৪৮০ টাকা। এর বীপরীতে ব্যয়ের পরিমাণ ১১ হাজার ২০০ টাকা। ২০০৫ সালে খানা প্রতি আয় ও ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ২০৩ টাকা ও ৬ হাজার ১৩৪ টাকা। এই হিসেবে ২০০৫ সালের তুলনায় আয় বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ব্যয় বেড়েছে ৮২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গ্রামে খানাপ্রতি মাসিক আয় ও ব্যয় দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯ হাজার ৬৪৮ টাকা ও ৯ হাজার ৬১২ টাকা। আপরদিকে শহরে আয় ও ব্যয়ের এ পরিমান ১৬ হাজার ৪৭৭ টাকা ও ১৫ হাজার ৫৩১ টাকা।

জানা যায়, বিবিএস পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে মোট ১২ হাজার ২৪০ খানার তথ্য নেয়া হয়েছে। গত বছরের ১ ফেব্র“য়ারি তেকে এ বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশের ৬১২টি প্রাথমিক নমুনা ইউনিট (পিএসইউ) থেকে মানুষের জীবনযাত্রার মৌলিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে জরিপ পরিচালনা করা হয়।
আয় যে হারে বেড়েছে ব্যয় বেড়েছে প্রায় তার দ্বিগুণ। ফলে আয় বাড়লেও ভালো নেই সাধারণ মানুষ। ২০০৫ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে ৬ কোটি ১৯ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করতো। বর্তমানে এ সংখ্য খুব একটা বদলায়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। আর এ সব মানুষগুলোকে প্রতিদিন তিন বেলা আহার জোটাতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে অনাহারেও দিন অতিবাহিত করতে হচ্ছে তাদের।

এই তো সে দিনের কথা পাঁচ বছরের মেয়ে প্রীতির শিশু পার্কে নিয়ে যাবার আবদার রাখতে পারলেন না বাবা মহাসিন (৩৪)। যাত্রাবাড়ির টিন সেটের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন মহাসিন। দুই সন্তানের জনক মহাসিন পেশায় এক জন গার্মেন্টস শ্রমিক আর স্ত্রী অন্যের বাসার গৃহপরিচারিকা। মহাসিন নিজে মাসে বেতন পান ৫ হাজার টাকা আর স্ত্রীর আয় ১ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে তার সাংসারিক আয় ৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রতিমাসে ঘর ভাড়া বাবদ ব্যয় হয় ২৪ টাকা। চাল কিনতে লাগে মাসে ১৫ টাকার ওপরে। বাকি টাকা দিয়ে মেটাতে হয় সারা মাসের বাজার খরচসহ (চাল বাদে) অন্যান্য খরচ। মহাসিন জনান, তরি-তরকারি যে দাম তাতে প্রায় সময় তাদের ভর্তা ভাত খেতে হয়। তার পরেও তাকে কোন কোন দিন এক বেলা উপোস কাটাতে হয়। এ অবস্থায় মেয়েকে শিশু পার্কে নিয়ে যাওয়া তার কাছে বিলাসিতার ব্যাপার বলে জানান মহাসিন। মহাসিনের মত খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে দেশের অসংখ্য মানুষের। জানা যায়, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে ৩ লাখের ওপর শ্রমিক রয়েছেন যারা ন্যূনতম মজুরিভুক্ত। এসব শ্রমিকদের অধিকাংশেরই প্রতিদিন এক বেলা অনাহারে কাটাতে হয়।
নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বজার দর

২২ জুলাই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৪৬ -৪৮টাকা, পারিজা চাল ৩৮-৩৯ টাকা, নাজিরশাল ৫৩-৫৪ টাকা, গুটি স্বর্ণ ৩৬-৩৭ টাকা, লাল স্বর্ণ ৩৫-৩৬ টাকা, হাসকি ৩৬-৩৭ টাকা, লাতা ৩৮-৩৯ টাকা, খোলা আটা প্রতি কেজি ৩০ টাকা, ২ কেজি প্যাকেট আটা ৬৬ টাকা, প্রতি কেজি আলু ১৫-১৬ টাকা, পেয়াজ ৩৬ টাকা, রসুন ১৪০-১৬০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, করলা ৫০-৫৫ টাকা, পটল ৪০-৪৫ টাকা, কাচা মরিচ ৬০-৭০ টাকা, ধেড়স ২০-২৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, শশা ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৩০ টাকা, ছোলা ৮২ টাকা, আদা ৯০-১০০ টাকা, হলুদ ২৫০-২৮০ টাকা, সোয়াবিন তেল খোলা ১২০-১২২ টাকা, তীর ৫ লিটার ৬০৫-৬১৫ টাকা, ২ লিটার ২৪৪ টাকা, ১ লিটার ১২৫টাকা, রুপচাঁদা ৫ লিটার ৬০৫ টাকা, ২ লিটার ২৪০ টাকা, ১ লিটার ১২৪ টাকা, ফ্রেশ ৫ লিটার ৫৮৬ টাকা, খোলা সুপার ১১০-১১২ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ৭৫ টাকা, ডিম প্রতি হালি ২৯-৩০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৪৫-১৫০ টাকা, বড় আকারের ইলিশ মাছের কেজি ৯০০-১০০০ টাকা, রুই মাছ ১৮০-২০০ টাকা, কাতল মাছ ১৭০-২০০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: