খোলা বাজারে মার্কিন ডলার বিক্রি হচ্ছে ৭৮ থেকে ৭৯ টাকায়

রেমিটেন্স প্রবাহ কমে আসায় ডলারের দাম বাড়ছে : অর্থনীতিবিদদের অভিমত

১৮ জুলাই : বাংলাদেশে গত কয়েক মাসে মার্কিন ডলারের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, বর্তমানে দেশে আমদানী অনেক বেড়ে গেছে কিন্তু সে তুলনায় ডলারের সরবরাহ বাড়েনি। যে কারণে টাকার অবমূল্যায়ন হচ্ছে। গত বছরের জুন মাসে মার্কিন ডলারের মূল্য ছিল ৬৯ টা কা ৪৩ পয়সা। আর এক বছর পর চলতি বছরের জুন মাসে মার্কিন ডলারের সরকারি দাম দাঁড়িয়েছে ৭৪ টাকা ১০ পয়সা। আর খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭৮ থেকে ৭৯ টাকায়। একই সময়ে ইউরোর দাম ৮৪ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৬ টাকা। ব্রিটিশ পাউন্ড ১০৪ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৯ টাকা ০৪ পয়সা। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে টাকার এত বড় দরপতন দেশের অর্থনীতির জন্য শুভ ফল বয়ে আনবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদগণ।

টাকার দরপতনের কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, বর্তমানে দেশে ভোগ্যপণ্য মেশিনারিজ ও কাঁচামালসহ সকল পণ্যের আমদানী হার বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় ডলারের সরবরাহ নেই। আবার একই সময়ে হজের মওসুম হওয়ায় অনেকে ডলার কিনে রাখছে। এছাড়া বিদেশে অধ্যায়নরত ছাত্রছাত্রীদের টিউশন ফি পাঠানোর কারণেও ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি রেডিও তেহরানকে বলেছেন, যেহেতু গত বছরের তুলনায় এ বছর রেমিটেন্স বেশি আসেনি তাই আমদানির ক্ষেত্রে সরকারকে আগেই সতর্ক হওয়ার দরকার ছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সকল দেশ থেকেই পণ্য আমদানী করে থাকে মার্কিন ডলারের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে যদি অন্যান্য বৈদেশিক মূদ্রার দ্বারা এলসি খোলা হয় তাহলে ডলারের ওপর থেকে কিছুটা চাপ কমে যাবে। তবে যেভাবেই হোক- টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে এবং এর প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। তিনি বলেন, আমদানী খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়েই তা বেশি দামে বিক্রি করছে। আর স্থানীয়ভাবে টাকার সরবরাহ না বাড়লেও বেশি দামে ভোক্তাকে পণ্য কিনতে হচ্ছে। যার পরিণতিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাচ্ছে। সর্বোপরি এর প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতি ও প্রবৃদ্ধির ওপর।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ ভোজ্য তেল আমদানীকারক সমিতির সভাপতি এম এ রউফ চৌধুরী রেডিও তেহরানকে বলেছেন, ভোজ্য তেলসহ সব পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য অনেক বেড়ে গেছে এবং একইসঙ্গে দেশে আমদানীর পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু রেমিটেন্স আসার পরিমাণ বাড়েনি বরং কমেছে। তাই ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ডলারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সরকার রপ্তানীর ক্ষেত্রে লাভবান হচ্ছে মনে করলেও কার্যত তা হচ্ছে না। কারণ যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানী করা হয় তার ৭ থেকে ৮ ভাগ আবার ওইসব পণ্যের সহায়ক পণ্য আমদানী করতে খরচ হয়ে যায়।

তারা মনে করেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। (রেডিও তেহরান)

পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ডলারের দর বৃদ্ধিতে রেকর্ড

পবন আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: তারল্য সংকটের ধকল কাঠিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও ডলারের সংকটে ভুগছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে হঠাৎ করেই ডলারের দর বেড়ে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থায় ও কার্ব মার্কেটে বিরাজ করছে তীব্র ডলার সংকট। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যাপ্ত সরবরাহ না করায় ডলার সংকট তীব্র হওয়ার পাশাপাশি দামও অতিমাত্রায় বেড়ে গেছে।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা বাজারে ডলারের দাম বেড়েছে ৪ টাকা ৫৭ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকে ইউএস ডলার ৭৪ টাকা ৫৩ পয়সা বিক্রয়ের কথা থাকলেও খোলা বাজারে বিক্রয় হচ্ছে ৭৯ টাকা ১০ পয়সায়।

যা এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ডলারের দাম বেড়েছে এক সপ্তাহে ৩ টাকা ৩৪ পয়সা।

এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রাস্ফীতি ও কার্যকারিতা হারাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বাজারে প্রয়োজনীয় ডলার সরবরাহ করছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।

জানা যায়, স্বাভাবিকভাবে আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। গত কয়েক মাস ধরেই চাহিদামত ডলার না পাওয়ায় ব্যাংকগুলোকে তৃতীয় মুদ্রায় এলসি খুলতে হচ্ছে। থার্ড কারেন্সি (ডলারের পরিবর্তে ইউরো বা পাউন্ড) কিনতেও বেশি দাম দিতে হয়। তাতে গড়ে ডলারের দাম বেড়ে যায়।

এদিকে ডলার সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা এলসি খুলতে পারছেন না। বড় ধরনের এলসি খুলতে গেলে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের আগেই জানিয়ে দিচ্ছে ডলার নেই। এলসি খোলা যাবে না। রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে আসায় এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসছে বলে বেশ কয়েকটি ব্যাংক কর্মকর্তারা বাংলানিউজকে জানিয়েছেন।

গত ৫ জুলাই পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১হাজার ৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। এরপর সম্প্রতি এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) পরিশোধ করা হয়েছে ৮৪ কোটি ডলার। ফলে বৈদেশিক রিজার্ভ এখন হাজার কোটিতে নেমে এসেছে।

বিশ্বব্যাপী ডলারের দাম কমলেও বাংলাদেশে ডলারের দাম বাড়ার বিষয়টিকে অনেকেই নেতিবাচক দিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এর ফলে আমদানি পণ্যের দাম বেশি হবে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।

ব্যাংক পাড়া নামে খ্যাত মতিঝিলের বানিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার ডলার প্রতি ৭৪ দশমিক ২০ টাকায় ক্রয় ও ৭৫ দশমিক ২০ টাকায় বিক্রয় হয়েছে। দু’একটি ব্যাংকে তা ৭৭ টাকায়ও লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে। আর কার্ব মার্কেটে ডলার বিক্রি হয়েছে ৭৭ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রাবাজার তথ্যে দেখানো হয়েছ প্রতি ডলারের ক্রয়মূল্য ৭৪ টাকা ৫২ পয়সা আর বিক্রিমূল্য ৭৪ টাকা ৫৩ পয়সা।

এক সপ্তাহ আগে ব্যাংকগুলোতে ডলার লেনদেন হয়েছে ৭৪ টাকায় আর কার্ব মার্কেটে লেনদেন হয়েছে সর্বোচ্চ ৭৬ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে হঠাৎ করেই ডলারের বাজারে এমন উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ায় খোদ ব্যাংকাররাও এখন এ নিয়ে চিন্তিত। ডলারের দামও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশী টাকার মান কমছে প্রতিনিয়তই। অর্থাৎ মুদ্রার অবমূল্যায়ন হচ্ছে। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে ব্যাংকের অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ডলারের এ সংকট সাময়িক। আসন্ন রমজান উপলক্ষে প্রচুর পরিমাণে এলসি খোলা হয়েছে এবং এখনও খোলা হচ্ছে। এজন্য কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। খুব দ্রুত এ সংকট কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: