ইউনাইটেড স্টেটস সাইবার কমান্ড

মার্কিন নিরাপত্তার হুমকি

মঈনুল আলমঃ আলকায়েদা বা তথাকথিত ‘ইসলামি সন্ত্রাস‘কে যুক্তরাষ্ট্র এখন তার প্রধানতম শত্রু বলে ভাবছে না, বরং চলতি দশকের মধ্যেই অনেক বেশি ভয়াবহভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত ও পঙ্গু করে দিতে সক্ষম এক ‘মহাহুমকি’ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ শুরু হয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র প্রধান লিওন প্যানেটা মার্কিন সিনেটের সাম্প্রতিকতম এক শুনানিতে সিনেট সদস্যদের প্রতি বক্তব্যে বলেছেন, “আরেক পার্ল হার্বার তুল্য পরবর্তী যে আক্রমণের সম্মুখীন আমরা হতে যাচ্ছি সেটা ‘সাইবার অ্যাটাক’ যা একযোগে আমেরিকার বৈদুøতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে।’ (সাইবার হচ্ছে আধুনিক ডিজিটাল বিজ্ঞানের কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও আনুষঙ্গিক সব প্রযুক্তিভিত্তিক যোগাযোগ দুনিয়া।)

প্যানেটা আরো বলেন, ‘এই মহাহুমকির মোকাবেলা করার জন্য আমাদের একই সময়ে আত্মরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক, উভয় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’ লিওন প্যানেটা সিআইএ প্রধানের পদ থেকে বদলি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর (সেক্রেটারি অব ডিফ্রে) পদে আসীন হতে সিনেটের প্রাক-অনুমোদনের জন্য সিনেটের শুনানিতে এই বক্তব্য দেন।

কানাডার সর্বাধিক প্রভাবশালী সংবাদপত্র দৈনিক টরন্টো স্টার ওয়াশিংটন প্রতিনিধির পাঠানো এক বিশেষ প্রতিবেদনে (১৯ জুন) এই নব ‘সাইবার অ্যাটাক’ ও সাইবার অস্ত্র প্রতিযোগিতার ভয়াবহ আশঙ্কার তথ্য প্রকাশ করেছে। মহাসাইবার আক্রমণের আশঙ্কা শুধু ওয়াশিংটনকে উদ্বিগ্ন করে তোলেনি, লন্ডন, প্যারিস ও বিশ্বের আরো কয়েকটি বৃহৎ শক্তি দেশের রাজধানীকেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

‘সাইবার আক্রমণ’-এর ঘনায়মান সম্্‌ভাবনা বিশ্লেষণকারী পর্যবেক্ষক মহল ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করে, কয়েক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর প্রয়োগ করার জন্য যৌথভাবে ‘স্টুক্সনেট’ (ঝয়ৎষিপয়) নামে যে ‘ভাইরাস’ সৃষ্টি করেছিল, তারই প্রযুক্তির পথ ধরে এখন মহাধ্বংসকারী সাইবার আক্রমণ আসার দরজা খুলে যাচ্ছে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ‘স্টুক্সনেট’ ভাইরাসের আঘাত হেনে ইরানের সবগুলো গ্যাস সেন্ট্রিফিউজ অকেজো করে দিয়ে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের প্রকল্প বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী মহলে অবশ্য এমন ধারণা প্রকাশ করা হচ্ছে, ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চালানোর অসারত্ব পরিস্ফুট হয়ে ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সামরিক ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্যে এই ‘মহাসাইবার অ্যাটাক’-এর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জনমনে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রতি নমনীয় মনোভাব সৃষ্টির প্রয়াস চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই নতুন আতঙ্ক সৃষ্টিতে ফলপ্রসূভাবে অগ্রসর হচ্ছে। সরকার ‘ইউনাইটেড স্টেটস সাইবার কমান্ড’ নামে একটি অতিরিক্ত নিরাপত্তা দফতর স্থাপন করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা দফতরের (ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি) প্রধান জেনারেল কিথ আলেকজান্ডারকে ‘সাইবার কমান্ড’-এর প্রধান করা হয়েছে। বহু ডিজিটাল ও আইটিপটু ‘সাইবার

ওস্তাদ‘কে নবগঠিত ‘সাইবার কমান্ড’-এ নিযুক্তি দেয়া হচ্ছে। ‘সাইবার সিকিউরিটি আইন’ প্রণয়ন করা হচ্ছে কংগ্রেসে, তা উথাপন করে আইনে পরিণত করার জন্য।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের যৌথভাবে উদ্‌ভাবিত ‘স্টুক্সনেট’ নামের যে ডিজিটাল অস্ত্র দ্বারা ২০১০ সালে ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছিল, তার প্রযুক্তি এতই জটিল যে, অতি সীমিতসংখ্যক ডিজিটাল অতিবিশারদ ছাড়া কেউ এটা বুঝতেই পারবে না, এটাকে নকল করা তো দূরের কথা। ২০১০ সালে ইরানের নাতাঞ্জ শহরে অতি গোপনীয় ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা’র ওপর ‘স্টুক্সনেট’ প্রয়োগ করে স্থাপনার অন্তত এক হাজার ‘সেন্ট্রিফিউজ’ একই সময়ে বরবাদ করে দেয়া হয়। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তত তিন বছর পিছিয়ে গেছে।

‘স্টুক্সনেট’ ডিজিটাল অস্ত্র বানানো এত কম ব্যয়সাপেক্ষ যে, গুটিকয়েক দক্ষ কম্পিউটার প্রোগ্রামার নিয়ে ও সাকুল্যে ১০ মিলিয়ন ডলারের (৮০ কোটি টাকা) বাজেট দিয়ে যেকোনো সংস্থা এ অস্ত্র প্রয়োগ করে উদ্দিষ্ট দেশের যেকোনো স্থাপনাকে অকেজো করে দিতে পারবে। শুধু পারমাণবিক স্থাপনাই নয়, যেকোনো পাইপলাইন সিস্টেম, বিদুøৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও বিদুøৎ পরিবহন গ্রিড, পরিবহন নেটওয়ার্ক, বিমান পরিচালনার কন্ট্রোল সিস্টেম ইত্যাদি এই ‘স্টুক্সনেট’ প্রয়োগ করে অচল করে দেয়া যেতে পারে।

তবে এই অস্ত্র প্রয়োগ করার জন্য কোনো এক ব্যক্তিকে সশরীরে লক্ষ্য স্থাপনাটির কন্ট্রোল কেন্দ্রে প্রবেশ করে হাতের মুঠোর ভেতরে করে নেয়া যায় এমন আকারের যন্ত্রটিকে কন্ট্রোলের কোনো একটি ‘ইউএসবি’ ্লটে বা ফোকরে ঢুকিয়ে দিতে হবে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর প্রয়োগের সময়েও অবশ্যই কোনো ব্যক্তি ওই স্থাপনায় প্রবেশ করে এই যন্ত্রটি ফোকরে ঢুকিয়ে দিয়েছিল।

যে ডিজিটাল প্রযুক্তি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সর্বসাধারণের হাতে হাতে পৌঁছে দিয়েছে মুঠোফোনের মাধ্যমে এবং এ কারণে অনেক দেশে, বিশেষ করে বর্তমানে বাংলাদেশে, যে ডিজিটাল প্রযুক্তিকে গণতন্ত্রের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলোকে নিষ্ফিদ্র ও সুরক্ষিত করার ভিত্তি বলে গ্রহণ করা হচ্ছে, সেই ডিজিটাল প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক পাশ্চাত্য দেশে তাদের নিরাপত্তার জন্য দারুণ উদ্বেগের কারণ হচ্ছে। গত সপ্তায় ইউরোপে ৫৯তম বার্ষিক বিল্ডারবার্গ সম্মেলন হয়েছে যার কোনো অফিসিয়াল প্রতিবেদন মিডিয়াতে প্রকাশ পায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি ও ‘সাইবার কমান্ড’-এর প্রধান জেনারেল কিথ আলেকজান্ডার এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে ‘অফ দ্য রেকর্ড’ আলোচ্যসূচি অধীনে একটি সেশনে গুরুত্ব ও উদ্বেগের সাথে আলোচিত হয়েছে ‘সোশ্যাল নেটওয়ার্কঃ কনেক্টিভিটি ও সিকিউরিটি ইসুøজ’ (সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ যোগাযোগের বহর এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো)।

ওই অধিবেশনের আলোচনায় কী কী দিকনির্দেশনা বেরিয়ে এসেছে, সে সম্পর্কে কোনো প্রেস ব্রিফিং পাওয়া যায়নি। তবে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, ডিজিটাল প্রযুক্তি সর্বসাধারণের হাতে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করে দেয়ার পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তার প্রতি হুমকিও ব্যাপকতর হয়ে উঠছে। এটা এখন আন্তর্জাতিক উদ্বেগের ব্যাপার।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info, dhaka stock exchabge

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: