…unity within diversity adds a richness and beauty to marriage and to life…


দুই ধর্মের মানুষের বিয়ে

লেখক: রফিকুল বাসার

০০ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অটুট রেখে সংসার করছেন অনেক দম্পতি
০০ বেড়ে উঠছে নতুন একটি প্রজন্ম, যাদের উত্তরাধিকার সূত্রে ধর্মীয় কোন পরিচয় নেই
০০ এটাকে সমাজের অনেক বড় পরিবর্তন বলছেন সমাজবিজ্ঞানীরা

ধর্ম পরিবর্তন না করেই দু’টি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে বিয়ের ঘটনা বাড়ছে। একই ধর্মের দু’জন বিয়ে করে ঘর সংসার করতে হবে এমন ধারণা থেকে বের হয়ে আসছেন অনেকেই। দুই ধর্মের দু’জন তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ঠিক রেখে বিয়ে করছেন। আচার-আচরণ পালন করছেন যে যার বিশ্বাস মত। এভাবে দেশের আইন অনুযায়ী বিয়ে করে সংসার করছেন অসংখ্য দম্পতি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের জুটি এখন অনেক। আর এই বিয়ের ফলে বেড়ে উঠছে নতুন একটি প্রজন্ম। যারা উত্তরাধিকার সূত্রে কোন ধর্মীয় পরিচয় বহন করছেন না। আধুনিক সমাজে সেটা প্রয়োজনও মনে করছেন না অনেকে। এই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আবার কেউ কেউ নিজেই একটি ধর্ম বেছে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ধর্ম বিশ্বাস থেকে সরে আসছেন। তবে রাষ্ট্র আইন করে এমন বিয়ের ব্যবস্থা করলেও এইসব পরিবারের সম্পত্তি বন্টনের জন্য কোন আইন নেই।

সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা সমাজের অনেক বড় পরিবর্তন। স্বাধীন সার্বভৌম দেশে সকলেই তার মত প্রকাশে স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে। নানা মতের, ধর্মের মানুষ এক সাথে বসবাস করবে এটাইতো গণতন্ত্র। আদর্শ সমাজ। বাংলাদেশের বিশেষ বিবাহ আইন ১৮৭২ (সংশোধিত ২০০৭) অনুযায়ী এই বিয়ে হচ্ছে। এই আইন অনুযায়ী, একজন মুসলমান, হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, শিখ, ইহুদি বা অন্য যে কোন ধর্মের যে কেউ যে কারো সাথে বিয়ে করতে পারবে। ধর্মের পরিবর্তন করা প্রয়োজন হবে না। অথবা দু’জনই ধর্মীয় বিশ্বাস বাদ দিয়ে বিয়ে করতে পারবে। অথবা একজন অন্যজনের ধর্ম মেনে নিতে পারবে। তবে নাবালকের সাথে কেউ বিয়ে করতে পারবে না। আইন অনুযায়ী এই বিয়ে রেজিষ্ট্রি করার জন্য সরকার একজনকে নিয়োগ দিয়েছে। বাংলাদেশে একজনই এই বিয়ে পড়িয়ে থাকেন।

” … পৃথিবীর উন্নত প্রায় প্রত্যেক দেশে ধর্মীয় পরিচয় ছাড়াই বিয়ের ব্যবস্থা আছে। এমন কি জীবন যাপনে আমাদের যেমন ধর্মীয় পরিচয় দিতে হয়। নানা ফরম পূরণ করতে গিয়ে লিখতে হয় ধর্ম। তা অনেক দেশেই নেই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দুই ধর্মের দুইজন বিয়ে করতে পারে। আইনগত কোন সমস্যা নেই। এছাড়া ইউরোপ আমেরিকাতেও একই অবস্থা। সেখানে শুধু বিয়ে নয়, কোন কাজেই ধর্মীয় পরিচয় দেয়ার প্রয়োজন হয় না। …”


প্রায় প্রতিমাসেই এই বিয়ে হচ্ছে। গত কয়েক বছরে এই বিয়ের হার বেড়েছে। ১৯৮৩ সাল থেকে এপর্যন্ত এক হিসেবে দেখা গেছে, প্রায় ৫০০ দম্পত্তি কোন ধর্ম পরিবর্তন না করেই এমন বিয়ে করেছেন। এদের মধ্যে ছেলে হিন্দু, মেয়ে মুসলমান। কিম্বা ছেলে মুসলমান, মেয়ে হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী। অনেকে আছেন আবেগে বিয়ে করছেন। অনেকে জেনে বুঝে গন্ডি ভাঙ্গার তাগিদে। অনেক পরিবার আছে এই বিয়ে মেনে নিচ্ছেন, আবার অনেক পরিবার আছে যারা মানছেন না।

ঈশান, নৈর্ঋত, নৈতিক। তিন ভাই। ওদের বাবা হিন্দু, মা মুসলমান। বাবা ব্যবসায় করেন, মা চাকরি। তিন ভাইই বয়সে এখনো ছোট। ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে ওদেরকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় ওদের বাবা-মা। ধর্মীয় পরিচয় ছাড়াই ওরা এই সমাজে বেড়ে উঠছে। ওদের বাবা উজ্জল বালো মনে করেন, ধর্মীয় পরিচয় প্রয়োজন নেই। ‘মানুষ’ হবে এটাই বড় পরিচয়।

সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষ স্বাধীন। যে যার ইচ্ছে তার সাথেই বসবাস করতে পারে। এখানে কোন বাধা নেই। দুই ধর্মের দু’জনের মধ্যে ভাল লাগার এক পর্যায়ে বিয়ের প্রসঙ্গ আসলে সমস্যা দেখা দেয়। সমস্যা দু’টো, একটা সমাজ-পরিবার আর একটা নিয়ম না জানা। সে জন্য একজন ধর্মান্তরিত হয়ে অন্যজনের সাথে জীবন যাপন করে। এক্ষেত্রে একজনকে তার ধর্মীয় বিশ্বাস পরিবর্তন করতে হয়। একজনকে ছাড় দিতে হয় অনেক বেশি। কিন্তু কেউ কারো বিশ্বাস থেকে সরে না এসেও বিয়ে করছেন। এটা সমাজের অনেক বড় পরিবর্তন। সমাজ যে কুসংস্কার, কূপমন্ডুকতা থেকে বের হয়ে আসছে তার উদাহরণ। উদার মনের পরিচয়। অন্যের বিশ্বাসের প্রতি আস্থা রাখা। সকলকে মত প্রকাশ করার সুযোগ বা স্বাধীনতা দেয়া। তবে এ স্বাধীনতা দেশের শহরাঞ্চলের মানুষ যতটা ভোগ করছেন গ্রামে ততটা নয়। তবে এক্ষেত্রে সমস্যা উত্তরাধিকারদের সম্পত্তি ভাগ নিয়ে। বাংলাদেশে ইসলাম, হিন্দু ও খৃষ্টান ধর্মীয় আইনে সম্পত্তি ভাগ হয়। কিন্তু এই পরিবারের সম্পত্তি যদি বাবা-মা ভাগ করে দিয়ে না যান বা উইল না করেন, তবে ভাগ করার কোন নিয়ম নেই।

আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমদ দুই ধর্মের দু’জনের বিয়ে বিষয়ে ইত্তেফাককে বলেন, স্বাধীন দেশে মানুষের স্বাধীনতা আছে। সেই স্বাধীনতা তারা ভোগ করছে। এখানে সবাই স্বাধীন। যে যার মত পারে। রাষ্ট্র তাকে স্বাধীনভাবে চলার নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা দিয়েছে এবং দিয়ে যাবে। দেশে সামাজিক পরিবর্তন হবে। মানুষের চিন্তার বিকাশ হবে। এক একজন এক একটা ভাববে কিন্তু অন্যের ক্ষতি করবে না এটাইতো স্বাভাবিক। দুই ধর্মের দম্পতির সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারদের মধ্যে কিভাবে বন্টন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্পত্তি যার নামে তিনি যে ধর্মের হবেন সম্পত্তিও সেই ধর্মের নিয়মে ভাগ হবে। বাবা যদি মুসলমান হন এবং সম্পত্তি যদি তার নামে থাকে তবে মুসলিম আইনে ভাগ হবে। আর মা যদি হিন্দু হন আর তার নামে সম্পত্তি থাকে তবে হিন্দু আইনে। কোন রকম সামাজিক সমস্যা না হওয়া পর্যন্ত, কোন আইনগত বাধা না আসা পর্যন্ত এই বিয়ে বিষয়ে নতুন আইনের প্রয়োজন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

” … আবেগটা কমিয়ে বাস্তবতার ভিত্তিতে চলা ভাল। আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। কোন একটা শক্তির কাছে নিজেকে সপে দিতে চাই। বিশ্বাস না করার জন্য একটা আলাদা শক্তি লাগে। আমার সেটা নেই। দুটো মানুষের সম্পর্ক এখানে বিষয়। ধর্মতো কোন বিষয় না। ধর্ম বাদ দিয়েও কেউ একসাথে থাকতে পারে। সেটা তাদের নিজেদের বিষয়। ধর্মটা আমার কাছে নিজের। বিশ্বাসটা আমার মতো। রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকা উচিত নয়। রাষ্ট্রের কাছে সবাই সমান। এখানে ধর্ম কোন বিষয় না। আমার ব্যক্তি জীবনে নিজের এত বড় শক্তি নেই যে, আমি বিশ্বাসটাকে ফেলে দেব। আমার একটা আশ্রয় প্রয়োজন। …”


প্রসঙ্গত, সরকারিভাবে এমন বিয়ে পড়ানোর একমাত্র স্থান পুরানো ঢাকার পাটুয়াটুলি। প্রাণেশ সমাদ্দার এই বিয়ের রেজিস্ট্রার। একই সাথে তিনি রাজধানীর পাটুয়াটুলির শরত্চন্দ্র ব্রাহ্ম প্রচারক নিবাসের আচার্য ও ট্রাস্টি। সেখানেই থাকেন তিনি। প্রাণেশ সমাদ্দার বলেন, শুধু ঢাকা নয় দেশের অন্যান্য জেলা থেকেও ছেলে মেয়েরা আসে বিয়ে করতে। বিশেষ করে যারা দেশের বাইরে যেতে চায় তাদের আসতেই হয়। কারণ কোর্টে বিয়ে করলে বিয়ে রেজিস্ট্রির কোন প্রমাণপত্র পাওয়া যায় না। অবশ্য কোর্টে দুই ধর্মের দু’জন বিয়ে করতে পারে না। অনেক সময় যারা জানে না তারা প্রথমে কোর্টে যায়। আর তখন আইনজীবীরা এখানে নিয়ে আসে। এখানে বিয়ে হলেও ডিভোর্স করানো যায় না। ওটা করতে হয় কোর্টে।

সূত্র জানায়, বিয়ের ১৪ দিন আগে রেজিস্ট্রারের কাছে নোটিস দিতে হয়। এরমধ্যে কারো কোন আপত্তি থাকলে সে তা জানাবে। তারপর তিনজন সাক্ষী আর পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে হাজির হতে হবে। নির্দিষ্ট ছকে ছেলে-মেয়ে দু’জন স্বাক্ষর করবে আর স্বাক্ষর করবে তিনজন সাক্ষী। এতেই হয়ে যাবে দু’জনের বিয়ে। সামাজিক আর কোন আনুষ্ঠানিকতা এখানে নেই। তবে বিয়ের পরে কেউ কেউ মিস্টি নিয়ে আসেন। উপস্থিত সবাই মিষ্টি খেয়ে নব দম্পতির মঙ্গল কামনা করেন।

বিশিষ্ট অভিনেতা এবং হিন্দু ও মুসলিম মিলিত পরিবারে বেড়ে ওঠা ত্রপা মজুমদার এমন পরিবারের সন্তান হওয়ায় নিজেকে গর্বিত মনে করেন। তিনি বলেন, আমি এমন পরিবারে জন্মে গর্ব বোধ করি। যত সহজে ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে দেখতে পারি তা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। কেউ যদি এভাবে জীবন গড়তে চায় তবে তাকে আমি সাধুবাদ জানাবো। তবে আমার মা-বাবা বলে, দরকার নেই। কারণ এভাবে জীবন কাটানোর সংগ্রামটা অনেক বেশি কঠোর। আবেগ দিয়ে অনেকে এটা করে ফেলে। আবেগটা কমিয়ে বাস্তবতার ভিত্তিতে চলা ভাল। আমি মনে করি কোন সমস্যা নেই। ধর্মটা একটা ব্যক্তিগত বিষয়। যে যার মতো ধর্ম পালন করবে। এখানে এক সাথে বসবাস করাতে কোন সমস্যা নেই। ছোট বেলা থেকে কিছু কিছু সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে। স্কুলের শিক্ষক বা অন্য অনেকে বলেছে, তুমি কোন ধর্ম পালন কর? তোমার মা-বাবা কে কোন ধর্ম পালন করে? তখন খারাপ লাগতো। বিব্রত হতাম। বড় হওয়ার পরে আর খারাপ লাগে না। বিব্রত হই না। দাদু বাড়িতে যাই। সেখানে তাদের মত সব ধরনের হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠান হচ্ছে। আবার নানু বাড়িতে যাই সেখানেও সব ধরনের অনুষ্ঠান হচ্ছে। তবে আমি নিজে ইসলাম ধর্ম চর্চা করি। আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। কোন একটা শক্তির কাছে নিজেকে সপে দিতে চাই। বিশ্বাস না করার জন্য একটা আলাদা শক্তি লাগে। আমার সেটা নেই। দুটো মানুষের সম্পর্ক এখানে বিষয়। ধর্মতো কোন বিষয় না। ধর্ম বাদ দিয়েও কেউ একসাথে থাকতে পারে। সেটা তাদের নিজেদের বিষয়। ধর্মটা আমার কাছে নিজের। বিশ্বাসটা আমার মতো। রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকা উচিত নয়। রাষ্ট্রের কাছে সবাই সমান। এখানে ধর্ম কোন বিষয় না। আমার ব্যক্তি জীবনে নিজের এত বড় শক্তি নেই যে, আমি বিশ্বাসটাকে ফেলে দেব। আমার একটা আশ্রয় প্রয়োজন।

একটি মোবাইল কোম্পানিতে চাকরি করেন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী শুভ। গত মার্চে বিয়ে করেছেন একটি মুসলমান মেয়েকে। একজনের বাড়ি পাবনা, অন্যজনের ময়মনসিংহ। ওরা কেউ তাদের ধর্ম পরিবর্তন করেনি। নিজ নিজ ধর্মে থেকেই বিয়ে করেছেন। এখন সংসার করছেন। মেয়েটি নামাজ পড়ে। ছেলেটি পূজা করে। ধর্মীয় কোন কিছুতে কারো কোন সমস্যা নেই। বাধাও নেই। সামাজিকভাবেও কোন সমস্যা নেই। দু’জনই চাকরি করছেন। বন্ধু, সহকর্মীরা স্বাগত জানিয়েছেন। সংসার গোছাতে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু বাধ সেধেছে পরিবারের অভিভাবকরা। সমস্যা শুধু পরিবার থেকে। শুভ বলেন, ধর্ম, রাষ্ট্র একটা গণ্ডি। আমরা সেই গণ্ডি থেকে বের হয়ে আসতে চেয়েছি। গণ্ডিটা ভেঙ্গে ফেলতে চেয়েছি। শুধু যে আবেগে বিয়ে করেছি তা নয়। এখানে দুইটা মানুষ এক হয়ে থাকবে সেটাই বড় কথা। মানুষতো ধর্ম এনেছে। ধর্মতো আর মানুষকে আনেনি। জীবনে মানবিকতাই বড়। অন্য কিছু নয়।

মৌসুমী (ছদ্ম নাম) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এক হিন্দু ছেলের সাথে প্রেম করেছেন। পড়া শেষে চাকরি করতে দু’জনই ঢাকায়। এগার বছর পর তাদের বিয়ে হয়। মেয়ের বাড়ি থেকে এখনো মেনে নেয়নি। ছেলের বাড়ি থেকেও মেনে নেয়নি। মৌসুমী বললেন, ধর্ম বা সমাজ যদি বড় একটা বিষয় হত আমি বিয়ে করতাম না। আমরা কেউ ধর্ম পরিবর্তন করিনি। আমাদের সন্তানকে আমরা ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে গড়ে তুলব। পরে তার যদি কোন ইচ্ছা হয় তবে সে সেটা পালন করবে। তিনি বলেন, অফিস থেকে ভাল সাহায্য পেয়েছি। বন্ধুদের অনেকে সাহায্য করেছে। এই বিয়ে করতে গেলে মানসিক শক্তিটা অনেক বড় থাকতে হবে। ধর্মটা এখানে বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে সমাজ। আমার বাবা মনে করছে তার সমাজ কি বলবে। আমি যে তার মেয়ে সেটা সে দেখছে না। আমার চেয়ে তার সমাজের কে কি বলল সেটা বড় হলো। বাবা আমার কথা ভাবছে না। সমাজ কাছের মানুষকে এক করে না, দূরে পাঠায়। সমাজ তাকে কিছু দিচ্ছে না। তিরস্কার করছে। অথচ তারা ঐ সমাজ নিয়েই থাকছে। বিয়ে করার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, পুরানো ঢাকার পাটুয়াটুলিতে গিয়ে প্রথমে নাম লিখিয়ে এসেছি। পরে নির্দিষ্ট দিনে গিয়ে বিয়ে করেছি। তিনজন সাক্ষী লেগেছে। আর দু’কপি ছবি। সাথে পরিচয়পত্রর ফটোকপি। তারপর থেকেই আমরা একসাথে আছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাসুদা এম. রশিদ চৌধুরী বলেন, এটি আধুনিকতার একটি রূপ। যেখানে ধর্মটাকে গুরুত্ব দেয়া হয় না। চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন প্রভাবে এটা হচ্ছে। সমাজ মেনে নিচ্ছে। আবার রক্ষণশীল সমাজ হলে তা মানছে না। এখানে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ নয়। স্বাধীন জীবন যাপন করছে তারা। এটা বেশি দেখা যায় শিক্ষিত সমাজে। সেখানে মনের মিলটাই গুরুত্বপূর্ণ। গোঁড়ামি কুসংস্কার ছিল, তা এখন কমে আসছে। সামাজিক বিধি-নিষেধ, বাধা কমে যাচ্ছে। সংস্কৃতির মধ্যে ধর্ম আসছে না। যারা সাংস্কৃতিক অঞ্চলে জীবন যাপন করে তারা এটা মানে না। তিনি বলেন, এই ধরেনর বিয়েতে প্রথমে পরিবার থেকে বাধা আসে। তবে তা পরবর্তীতে ঠিক হয়ে যায়। তবে আধুনিকতা পরবর্তীতে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। সামাজিক কিছু সমস্যা হয়। ছেলে-মেয়ে কি হবে। তারা কিভাবে পরিচিত হবে। এগুলো সামনে চলে আসে। তবে ইসলাম ধর্মে কিছু বাধা নিষেধ আছে। ইসলাম ধর্মে এ ধরনের বিয়ের কোন নিয়ম নেই। যদি ধর্ম না মেনে রাষ্ট্রীয় আইনে বিয়ে করে তবে ঠিক আছে।

প্রসঙ্গত, পৃথিবীর উন্নত প্রায় প্রত্যেক দেশে ধর্মীয় পরিচয় ছাড়াই বিয়ের ব্যবস্থা আছে। এমন কি জীবন যাপনে আমাদের যেমন ধর্মীয় পরিচয় দিতে হয়। নানা ফরম পূরণ করতে গিয়ে লিখতে হয় ধর্ম। তা অনেক দেশেই নেই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দুই ধর্মের দুইজন বিয়ে করতে পারে। আইনগত কোন সমস্যা নেই। এছাড়া ইউরোপ আমেরিকাতেও একই অবস্থা। সেখানে শুধু বিয়ে নয়, কোন কাজেই ধর্মীয় পরিচয় দেয়ার প্রয়োজন হয় না।

” … Free International Calls: Free mobile calls between 50 countries..Make a cheap call to Bangladesh Landline / Mobile 3.9¢ / No Pin / 1 Min rounding/ The honest LD company in the Planet …”

Say YES/ NO to inter-religious marriage..?? Click…

সরকারি নিষ্ক্রিয়তায় বাড়ছে যৌনসন্ত্রাস- দেশব্যাপী অসংখ্য যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটলেও কোনোটির বিচার হয়নি।


সরকারি নিষ্ক্রিয়তায় বাড়ছে যৌনসন্ত্রাস

দেশব্যাপী অসংখ্য যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটলেও কোনোটির বিচার হয়নি।

মঈনুল হক ● ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীর ওপর যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর আবারো সারাদেশে বিষয়টি নিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। যৌন উৎপীড়ক সন্ত্রাসীদের রুখতে আইনের যথাযথ প্রয়োগের দাবি উঠেছে। নারীর সামাজিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত আইন প্রণয়নের দাবিও সামনে আসছে। একটি অপরাধের বিচার না হওয়ায় আরেকটি অপরাধ উৎসাহিত হচ্ছে বলে আইনজ্ঞরা মনে করছেন। ভিকারুননিসার ঘটনার পর বিষয়গুলো নতুন করে সামনে এলেও দাবি নতুন নয়। আড়াই বছর ধরে দেশে অব্যাহত যৌনসন্ত্রাস ও নারী নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে ধারাবাহিকভাবে এ দাবি করে আসছেন নারী অধিকার আন্দোলন সংশ্লিষ্টরা। বিপরীতে নারী উৎপীড়করা একের পর এক রোমহর্ষক যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। যখন একটির পর একটি ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করছে তখন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলরাও কয়েকদিনের জন্য নড়ে বসছেন। আশ্বাস দিচ্ছেন কঠোর আইন প্রণয়নের। কিন্তু এরপর আবার যা তাই। আবার তারা হয়ে পড়ছেন নিষ্ক্রিয়। কার্যকর হচ্ছে না কোনো প্রতিশ্রুতি। বিচার হচ্ছে না একটি ঘটনারও। আরো বেপরোয়া হচ্ছে যৌনসন্ত্রাসীরা। জুলাইয়ের ১৫ তারিখ পর্যন্ত পনের দিনেই পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, দেশে যৌননিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে কমপক্ষে ১৮টি। শিক্ষক থেকে পুলিশ কর্মকর্তা পর্যন্ত এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকা, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার কারণে অপরাধীরা উৎসাহিত হচ্ছে বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট নারী আইনজ্ঞরা। এছাড়াও নারী অধিকার কর্মীদের মতে, রাষ্ট্রের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নারীর ওপর যৌননিপীড়নের অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের রিপোর্ট অনুযায়ী, আড়াই বছরে যৌন উৎপীড়ক সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন কমপক্ষে ৬৫ জন নারী। সন্ত্রাসীরা ধর্ষণের পর হত্যা করেছে ২২০ জনের বেশি নারী ও শিশুকে। ২০০৯ থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এক হাজার ৩০৭টি। এছাড়াও যৌন উৎপীড়কদের বিরোধিতা করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। যার মধ্যে ৭ জনই নিহত হয়েছেন এ বছরের প্রথম ৬ মাসে। মানবাধিকার সংস্থা ও পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা গেছে, যৌনসন্ত্রাস ক্রমেই বাড়ছে। নির্যাতনে হত্যা ও আত্মহননের পরিসংখ্যান দীর্ঘ হলেও বিচার হচ্ছে না কোনো ঘটনার। যেসব ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হচ্ছে সে ক্ষেত্রে প্রশাসন কিছু পদক্ষেপ নিলেও পরবর্তীতে তা চাপা পড়ে যাচ্ছে নতুন ঘটনার নিচে। অনেক ঘটনায় ক্ষমতাসীনরা যৌনসন্ত্রাসীদের পক্ষাবলম্বন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। দেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী কয়েকটি যৌনসন্ত্রাসের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের কাছে সরকারের মন্ত্রীরা যেতে বাধ্য হয়েছেন। সে সময় অনেক আশ্বাস দেওয়া হলেও তার বাস্তবায়ন আজও হয়নি। এমন হারিয়ে যাওয়া আশ্বাসের মধ্যে রয়েছে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী হাসনা রহমান সিনথিয়ার আত্মহনন, ফরিদপুরের চাঁপা রানী ও নাটোরের শিক্ষক মিজানুর রহমান হত্যাকান্ড। এই তিনটি ঘটনায় সরকারের একাধিক মন্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি ও যৌনসন্ত্রাস বিরোধী আইন প্রণয়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো ঘটনার বিচার হয়নি আজও, আইনও পাস হয়নি।

ভিকারুননিসায় শিক্ষকের যৌনউৎপীড়নের বিষয়টি প্রকাশ পাবার পর থেকে আবার নতুন করে দেশব্যাপী যৌননির্যাতনের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিতে অচলাবস্থা সৃষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অপরাধীর বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠলেও ক্ষমতাসীন সরকার তখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে নীরবতা পালন করে। আইন-শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের বিষয়ে সর্বদা সজাগ এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মুখরা মন্ত্রীরা এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর পক্ষে একটি কথাও বললেন না। প্রথম দিকে অপরাধী শিক্ষককে বাঁচানোর চেষ্টা চলেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধানসহ একাংশের উদ্যোগে। শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ওই শিক্ষক গ্রেফতার হলেও তার সহযোগীদের ধরা হয়নি। যৌনউৎপীড়ক শিক্ষককে রক্ষার অভিযোগে অধ্যক্ষের অপসারণের দাবি তীব্র হয়। স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দ্রুত সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সরকার। প্রথম মুখ খোলেন শিক্ষামন্ত্রী। অধ্যক্ষকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়ম মেনে নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। দ্রুততার সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে অ্যাডহক কমিটি গঠন ও অভিযুক্ত অধ্যক্ষকেই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ আরো তীব্র হয়ে ওঠে। বাধ্য হয়ে সরকারের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ হোসনে আরাকে ৩ মাসের ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভিকারুননিসা নিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত ও পাল্টা সিদ্ধান্তের পর সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কিন্তু যৌনউৎপীড়ক শিক্ষকের বিচার নিয়ে কোনো কথাই বলা হচ্ছে না। আজ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল কেউ প্রতিষ্ঠানটিতে যাননি।

বুধবারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে দেশব্যাপী অসংখ্য যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটলেও কোনোটির বিচার হয়নি।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনা : মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বারৈখালী গ্রামের স্কুলছাত্রী সিনথিয়া অব্যাহত যৌনহয়রানির শিকার হয়ে গত বছরের ১০ আগস্ট বিকালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। তার আত্মহত্যার ঘটনার প্রতিবাদে দোষীদের বিচারের দাবিতে বারৈখালী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। সিনথিয়ার পরিবার শ্রীনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। এ ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আত্মহননকারী শিক্ষার্থীর বাড়িতে যান এবং দোষীদের বিচারের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি যৌন হয়রানি রোধে দ্রুত আইন পাসের কথা বলেন। বর্তমানে এই মামলাটির কি অবস্থায় তা জানতে চাইলে শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘মামলাটির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এরপর কি অবস্থা তা আর জানি না।’

সিনথিয়ার পরিবার জানায়, সিনথিয়াকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় বিদ্যালয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। যেখানে পুলিশও উপস্থিত ছিল। পুলিশ অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করলে সিনথিয়াকে মরতে হতো না।

মেয়ের ওপর যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় গত বছরের ২৬ অক্টোবর ফরিদপুরের মধুখালীতে সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে হত্যা করে চাঁপা রানী ভৌমিককে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মধুখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলী জানান, চাঁপা রানী হত্যা মামলায় দেবাশীষ, সঞ্জয় ও আলমগীরকে অভিযুক্ত করে ২২ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আসামিরা আটক রয়েছে। কিন্তু মামলার আর কোনো অগ্রগতি নেই।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য আসামিপক্ষ চাপা রানীর পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগসহ বিভিন্ন কৌশল অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনার পর শিক্ষামন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রী চাঁপা রানীর বাড়িতে গিয়েছিলেন।

২০১০ সালের ১২ অক্টোবর নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার লোকমানপুরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে কলেজের শিক্ষক মিজানুর রশীদকে হত্যা করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাগাতিপাড়া থানার এসআই আবদুর রহিম ৬৪ দিন তদন্ত শেষে দুই আসামির বিরুদ্ধে ১৮ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্ত দুই আসামি গ্রেফতার হলেও পুলিশ তাদের কাছ থেকে কোনো স্বীকারোক্তি আদায় করতে পারেনি। সরকার এই ঘটনার পর মিজানুর রশীদের স্ত্রীকে চাকরি দিলেও রাজন নামে এক আসামিকে রক্ষা করার জন্য নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানার বেগুনবাড়ি গ্রামের দিনমজুর বাইরুল ইসলামের মেয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী নুরেশা খাতুন লিমা গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর একদল সন্ত্রাসীর পাশবিক নির্যাতনে মারা যায়। ঘটনার পর স্থানীয়রা দুই নির্যাতককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও অন্য আসামিরা এখনো গ্রেফতার হয়নি। নুরেশার পরিবারের অভিযোগ, ক্ষমতাসীনদের একটি অংশ আসামিদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। গোমস্তাপুর থানার ওসি জানান, যে তিন আসামি বাইরে রয়েছে তাদের একজন হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আছে। অন্য আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

২০১০ সালের ৫ জুলাই টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলার কাহারতা গ্রামের নবম শ্রেণীর এক কিশোরীকে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক হাবিবুল্লা ইতিহাস ওরফে হাবিব, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আরিফ আহমেদ এবং সখীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত শিকদারের ভাগ্নে বাবুল আজাদ ও তার নাতি আরিফুল ইসলাম আকাশ অপহরণ করে একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে হাবিবুল্লা ইতিহাস ওরফে হাবিব তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় তার সহযোগীরা ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে। সখীপুর থানা পুলিশ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১০ আদালতে হাবিবকে একমাত্র আসামি করে চার্জশিট দাখিল করে। পরে হাবিব হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছে।

যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় গত বছরের ২০ অক্টোবর বখাটেদের হাতে মাগুরার শরিফুজ্জামান নামে এক শিক্ষক আহত হন। এ ঘটনায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ডিয়ারসহ পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলাটি এখন কোনো অবস্থায় আছে তা পুলিশও জানে না। মাগুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, এমন কোনো মামলার কথা মনে করতে পারছি না। এই মামলার কোনো আসামি আটক হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে ২৫ জুন ভোলায় প্রভাবশালী একটি পরিবারের ছেলে মমিনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা দরিদ্র কৃষক পরিবারের এক কিশোরীকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয় এবং পাশবিক নির্যাতন চালায়। ভোলা থানার ওসি মোবাশ্বের আলী জানান, পত্রপত্রিকায় এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর তারা ওই মেয়েটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং একটি মামলা গ্রহণ করেন। মামলায় তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা অব্যাহত হুমকির মুখে রয়েছে। মামলারও কোনো অগ্রগতি নেই।

২৮ জুন বখাটে সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে মামলা করায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাতক্ষীরার একটি পরিবার। পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকাও রহস্যজনক। ওসির নির্দেশে ৩ বার এজাহার সংশোধন করে মামলা রেকর্ড হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যৌন নির্যাতনের ধারায় মামলাটি নেওয়া হয়নি বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ। দুর্বল ধারায় মামলা রেকর্ড হওয়ায় আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার অভাবে যৌন হয়রানির শিকার মেয়ের পিতা থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি। সাতক্ষীরা থানার ওসির কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছে এ কারণে ধরা যাচ্ছে না। আর বিষয়টি যৌন নির্যাতন নয়। এটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব।’

হাইকোর্টের নির্দেশনা : ২০০৯ সালের ১৪ মে যৌননিপীড়নের সংজ্ঞা দিয়ে যৌন হয়রানি রোধে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট কর্মস্থল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য দিকনির্দেশনা চেয়ে এ রিট দায়ের করা হয়েছিল।

রায়ে বলা হয়, সংসদে যৌন হয়রানি রোধে কোনো আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ নীতিমালা বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হবে। রায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ কেন্দ্র গঠন এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্যাতিত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ না করার কথাও বলা হয়।

যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞায় আদালত বলেন, শারীরিক ও মানসিক যে কোনো ধরনের নির্যাতন যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। ই-মেইল, মুঠোবার্তা (এসএমএস), পর্নোগ্রাফি, টেলিফোনে বিড়ম্বনা, যে কোনো ধরনের চিত্র, অশালীন উক্তিসহ কাউকে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে সুন্দরী বলাও যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। শুধু কর্মস্থল কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এ ধরনের হয়রানি ঘটে না, রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের অশালীন উক্তি, কটূক্তি করা, কারও দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকানোও যৌন হয়রানি হিসেবে গণ্য করা হবে। রায় অনুযায়ী, কোনো নারীকে ভয়ভীতি দেখানো, যে কোনো ধরনের চাপ দেওয়া, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক গড়া, দেয়াল লিখন, অশালীন চিত্র ও আপত্তিকর কোনো ধরনের কিছু করা যৌন হয়রানির মধ্যে পড়ে।

হাইকোর্টের এই নির্দেশনার পরে যৌন হয়রানি বন্ধের জন্য একটি খসড়া আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আইন কমিশনের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। রিট পিটিশনের নির্দেশনার আলোকে বিশেষজ্ঞ কমিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইনের একটি বাংলা খসড়া তৈরি করে আইন কমিশনে হস্তান্তর করে। কিন্তু আইনটি আলোর মুখ দেখেনি।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারের দায়িত্ব অনেক। হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছে তা যদি সঠিকভাবে মানা হতো তা হলেও যৌন হয়রানি অনেক কমে যেত। এ ছাড়া ডিএমপি অধ্যাদেশেও এ সংক্রান্ত আইন আছে। কিন্তু সবক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তা মানছে না। তিনি আরো বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি খসড়া আইন কমিশনে জমা দেওয়া আছে। সরকারের উচিত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই আইনটি পাস করা। আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে যৌন নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে।

অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, সামাজিকভাবে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি ও ভিকটিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে যৌন হয়রানি রোধে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। তাছাড়া যৌন নির্যাতন রোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা ও বিদ্যমানের আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত হওয়া দরকার।

আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বিচার না হওয়ার কারণে একের পর এক যৌনসন্ত্রাসের ঘটনা বেড়ে চলেছে। উৎপীড়নের শিকার নারীদের পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বরাবরই বিঘ্নিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশাসনিক ও আইনি সহায়তা দেওয়া এবং যৌন উৎপীড়কদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো উদ্যোগ রাষ্ট্রীয়ভাবে নেওয়া হচ্ছে না। সরকারের সব উদ্যোগ আটকে আছে মৌখিক আশ্বাস এবং হম্বি-তম্বির মধ্যে। দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বখাটেদের শাস্তির নামে কিছু যুবকের দিন কতকের জেল বা জরিমানা এখন অনেকটা রসিকতায় পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কঠোর আইন, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং দ্রুত বিচারের মধ্য দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করতে না পারলে যৌনসন্ত্রাসের মতো ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। এ দায় সরকারকে নিতে হবে। [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]


১৮ না পেরুতেই যৌন অভিজ্ঞতা ৫০ শতাংশ শহুরে তরুণের

বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে শক্তিশালী যৌন ব্যবসা গড়ে উঠেছে।

https://ekush.wordpress.com/2011/07/19/sex/

Violence against women in Bangladesh rising

World News
Activists say that the rate of violence against women in Bangladesh is among the world’s highest and rising.

“Violence against women is increasing day by day as a result of family disputes, dowry system and eve teasing,” says Rosaline Costa, from Hotline (Human Rights) Bangladesh, a Church-based human rights organization.

“Every day 17 out of 100 women become victims of violence at home or in the workplace and 25% of them die”, Costa explained.

“Although people are more aware of the issues because of the media, poor law enforcement and male dominance are major barriers to preventing violence against women,” Costa told ucanews.com during the recent National Day of Prevention of Violence against Women on Aug. 24.

The nation has observed the event, which is also known as “Yeasmin Day,” since 1996 to commemorate the brutal rape and killing of garment worker Yeasmin, 14, by three policemen in northwestern Dinajpur district.

Yeasmin, a Muslim girl, was on her way home from work in Dhaka when she was molested, killed and her body abandoned beside the road.

Three accused were arrested and brought to trial in Sept. 1996. All initially received life sentences. However, they were later sentenced to death in 2004.

Although the Yeasmin case remains as an example of extreme violence against women, Father Albert Thomas Rozario, secretary of Episcopal Commission for Justice and Peace, says that such brutality is absent from the history of the Catholic Church in the country.

“The Catholic Church has taken many initiatives against such violence in our six dioceses,” he said.

“Mental and physical clashes do take place in Christian communities, but not to such an extent”, concluded Father Rozario, who is also a lawyer in the Bangladesh Supreme Court Bar Council.

URL to article: http://www.cathnewsindia.com/2010/08/31/violence-against-women-in-bangladesh-rising/
URL to article: http://budhbar.com/?p=5821

আয় ও ব্যয় জরিপ- ২০১০ অনুযায়ী আয় বৃদ্ধির প্রভাবে কমেছে দারিদ্রের হার। উন্নত হয়েছে মানুষের জীবনযাত্রার মান।


আয় বড়লেও ভালো নেইে সাধারণ মানুষ

এফএনএস (সাঈদ শিপন) : পঁচ বছেেরর ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে মানুষের আয়। উন্নত হয়েছে দেশের অর্থ-সামাজিক অবস্থার। তারপরেও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্ব গতীতে কী গ্রাম কী শহর কোথাও ভালো নেই খেটে খাওয়া মানুষগুলো। নিম্ন আয়ের চাকরিজীবী থেকে শুরু করে দিনহাজিরা শ্রমিক সবারই নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয় ও ব্যয় জরিপ- ২০১০ অনুযায়ী আয় বৃদ্ধির প্রভাবে কমেছে দারিদ্রের হার। উন্নত হয়েছে মানুষের জীবনযাত্রার মান। মাথাপিছু খাদ্য গ্রহণের পরিমাণও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ। বেড়েছে শিক্ষার হার। তবে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে কার আয় বৈষম্য পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বিবিএস এর সর্বশেষ অর্থাৎ ২০১০ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ অনুযায়ী ৫ বছরের ব্যবধানে দারিদ্রের হার ১০ শতাংশের মত কমে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে। এর আগে ২০০৫ সালে এই হার ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী ২০১০ সালে শহরে দারিদ্রের হার ২১ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর গ্রামে এই হার ৩৫ দশমিক ২০ শতাংশ। ২০০৫ সালে শহর ও গ্রমীণ দারিদ্রের হার ছিল যথাক্রমে ২৮ দশমিক ৪০ শতাংশ ও ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থৎ ৫ বছরের ব্যবধানে শহরে দারিদ্রের হার কমেছে ৭ শতাংশের মত ও গ্রামে ৮ শতাংশের মত। কমেছে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও। হালনাগাদ নির্ভরশীল জনসংখ্যার হার হয়েছে ৬৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। যা ২০০৫ সালে ছিল ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

২০০৫ সালের তুলনায় ২০১০ সালে মাথাপিছু খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১০০০ গ্রামে দাঁড়িয়েছে। মাথাপিছু খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ ২০০৫ সালে ছিল ৯৪৮ গ্রাম। ২০১০ সালের জরিপ অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও খাদ্য হিসেবে কমেছে চালের ব্যবহার। বেড়েছে গমের ব্যবহার। ২০০৫ সালে মাথাপিছু চালের ব্যবহার ছিল ৪৩৯ দশমিক ৬৪ গ্রাম, যা বর্তমানে হ্রাস পেয়ে ৪১৬ গ্রাম হয়েছে। আপরদিকে আটা ও ময়দার ব্যবহার বেড়ে ২৬ দশমিক ৯ গ্রাম হয়েছে, যা ২০০৫ সালে ছিল ১২ দশমিক ৮ গ্রাম।

সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী খানা প্রতি মাসিক জাতীয় গড় আয় ১১ হাজার ৪৮০ টাকা। এর বীপরীতে ব্যয়ের পরিমাণ ১১ হাজার ২০০ টাকা। ২০০৫ সালে খানা প্রতি আয় ও ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ২০৩ টাকা ও ৬ হাজার ১৩৪ টাকা। এই হিসেবে ২০০৫ সালের তুলনায় আয় বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ব্যয় বেড়েছে ৮২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গ্রামে খানাপ্রতি মাসিক আয় ও ব্যয় দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯ হাজার ৬৪৮ টাকা ও ৯ হাজার ৬১২ টাকা। আপরদিকে শহরে আয় ও ব্যয়ের এ পরিমান ১৬ হাজার ৪৭৭ টাকা ও ১৫ হাজার ৫৩১ টাকা।

জানা যায়, বিবিএস পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে মোট ১২ হাজার ২৪০ খানার তথ্য নেয়া হয়েছে। গত বছরের ১ ফেব্র“য়ারি তেকে এ বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশের ৬১২টি প্রাথমিক নমুনা ইউনিট (পিএসইউ) থেকে মানুষের জীবনযাত্রার মৌলিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে জরিপ পরিচালনা করা হয়।
আয় যে হারে বেড়েছে ব্যয় বেড়েছে প্রায় তার দ্বিগুণ। ফলে আয় বাড়লেও ভালো নেই সাধারণ মানুষ। ২০০৫ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে ৬ কোটি ১৯ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করতো। বর্তমানে এ সংখ্য খুব একটা বদলায়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। আর এ সব মানুষগুলোকে প্রতিদিন তিন বেলা আহার জোটাতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে অনাহারেও দিন অতিবাহিত করতে হচ্ছে তাদের।

এই তো সে দিনের কথা পাঁচ বছরের মেয়ে প্রীতির শিশু পার্কে নিয়ে যাবার আবদার রাখতে পারলেন না বাবা মহাসিন (৩৪)। যাত্রাবাড়ির টিন সেটের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন মহাসিন। দুই সন্তানের জনক মহাসিন পেশায় এক জন গার্মেন্টস শ্রমিক আর স্ত্রী অন্যের বাসার গৃহপরিচারিকা। মহাসিন নিজে মাসে বেতন পান ৫ হাজার টাকা আর স্ত্রীর আয় ১ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে তার সাংসারিক আয় ৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রতিমাসে ঘর ভাড়া বাবদ ব্যয় হয় ২৪ টাকা। চাল কিনতে লাগে মাসে ১৫ টাকার ওপরে। বাকি টাকা দিয়ে মেটাতে হয় সারা মাসের বাজার খরচসহ (চাল বাদে) অন্যান্য খরচ। মহাসিন জনান, তরি-তরকারি যে দাম তাতে প্রায় সময় তাদের ভর্তা ভাত খেতে হয়। তার পরেও তাকে কোন কোন দিন এক বেলা উপোস কাটাতে হয়। এ অবস্থায় মেয়েকে শিশু পার্কে নিয়ে যাওয়া তার কাছে বিলাসিতার ব্যাপার বলে জানান মহাসিন। মহাসিনের মত খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে দেশের অসংখ্য মানুষের। জানা যায়, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে ৩ লাখের ওপর শ্রমিক রয়েছেন যারা ন্যূনতম মজুরিভুক্ত। এসব শ্রমিকদের অধিকাংশেরই প্রতিদিন এক বেলা অনাহারে কাটাতে হয়।
নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বজার দর

২২ জুলাই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৪৬ -৪৮টাকা, পারিজা চাল ৩৮-৩৯ টাকা, নাজিরশাল ৫৩-৫৪ টাকা, গুটি স্বর্ণ ৩৬-৩৭ টাকা, লাল স্বর্ণ ৩৫-৩৬ টাকা, হাসকি ৩৬-৩৭ টাকা, লাতা ৩৮-৩৯ টাকা, খোলা আটা প্রতি কেজি ৩০ টাকা, ২ কেজি প্যাকেট আটা ৬৬ টাকা, প্রতি কেজি আলু ১৫-১৬ টাকা, পেয়াজ ৩৬ টাকা, রসুন ১৪০-১৬০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, করলা ৫০-৫৫ টাকা, পটল ৪০-৪৫ টাকা, কাচা মরিচ ৬০-৭০ টাকা, ধেড়স ২০-২৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, শশা ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৩০ টাকা, ছোলা ৮২ টাকা, আদা ৯০-১০০ টাকা, হলুদ ২৫০-২৮০ টাকা, সোয়াবিন তেল খোলা ১২০-১২২ টাকা, তীর ৫ লিটার ৬০৫-৬১৫ টাকা, ২ লিটার ২৪৪ টাকা, ১ লিটার ১২৫টাকা, রুপচাঁদা ৫ লিটার ৬০৫ টাকা, ২ লিটার ২৪০ টাকা, ১ লিটার ১২৪ টাকা, ফ্রেশ ৫ লিটার ৫৮৬ টাকা, খোলা সুপার ১১০-১১২ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ৭৫ টাকা, ডিম প্রতি হালি ২৯-৩০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৪৫-১৫০ টাকা, বড় আকারের ইলিশ মাছের কেজি ৯০০-১০০০ টাকা, রুই মাছ ১৮০-২০০ টাকা, কাতল মাছ ১৭০-২০০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।

চুল দিয়ে তৈরি হচ্ছে হীরা। আর এই দামি শিল্পের পণ্য চুলের বিপুল যোগান এই বাংলাদেশ থেকেই।


চুল দিয়ে হীরা, ঝিনাইদহে বিশাল চুল বাজার প্রতি কেজি ৩৫০০ টাকা

এএনএস, (শাহনেওয়াজ খান সুমন, ঝিনাইদহ ) : চুল দিয়ে তৈরি হচ্ছে হীরা। আর এই দামি শিল্পের পণ্য চুলের বিপুল যোগান এই বাংলাদেশ থেকেই। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা শহর ঝিনাইদহে গড়ে উঠেছে বিশাল বাজার ও প্রক্রিয়াকরণ কারখানা। লাখ লাখ টাকার চুল বেচাকেনা হচ্ছে সেখানে। রীতিমতো ক্রয় অফিস খুলে তা কিনে নিচ্ছেন বিদেশীরা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পনেরোটির বেশি জেলায় চুল বিকিকিনি হচ্ছে এখানে। বিদেশী ক্রেতারা চুল কিনছেন সামান্য মূল্যে। হীরা তৈরির কাজে এটির ব্যবহারের কথা খুব একটা জানাজানি হয়নি। বিদেশী ক্রেতাদের ভাষ্য-কেনা চুল দিয়ে তাদের ফ্যাক্টরিতে বটিচুল, পরচুলা ও অন্যান্য সৌখিন জিনিস তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি তারা বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ চুল সংগ্রহ করা সম্ভব বলে জানান। কেননা মেয়েদের এত লম্বা চুল উন্নত বিশ্বে দুর্লভ।

কিন্তু বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের কোন কোন অঞ্চলে সুলভ। এখানে বড় ধরনের চুলের বাজারের স্বর্ণ সম্ভাবনার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তারা। ইন্টারনেট সূত্র এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যাদি ঘেঁটে জানা যায়- মানুষের চুল থেকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ল্যাবরেটরিতে বানানো হচ্ছে মহামূল্যবান হীরা। এতে প্রয়োজন হয় দশমিক ৫ থেকে ২ গ্রাম পর্যন্ত চুল। আবার দেহভস্ম দিয়েও সে কাজ করা হচ্ছে। দেহভস্ম হলে প্রয়োজন হয় ১০০ গ্রাম। চুল বা দেহভস্ম থেকে মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে সেখান থেকে কার্বন কণাকে বের করে নেয়া হয়। পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগে যে প্রাকৃতিক পরিবেশে হীরার জন্ম সেই একই পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয় ল্যাবরেটরিতে। মেশিনের ভিতরে কার্বন কণা দিয়ে সেখানে সৃষ্টি করা হয় অতি উচ্চ চাপ ও তাপ। এর সঙ্গে রাসায়নিক কিছু বিক্রিয়ার মাধ্যমে চুল ও দেহভস্ম থেকে সংগৃহীত কার্বন পরিণত হয় হীরায়। তবে যে প্রক্রিয়ায় এ হীরা তৈরি করা হয় তার বিসত্মারিত বিবরণ ব্যবসার স্বার্থেই প্রকাশে অনীহা উৎপাদকদের। এ উপায়ে উৎপাদিত হীরা হয় অনন্য। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির চুল থেকে যে হীরা তৈরি করা হয় তা একটিই হয়। আরেকটি হীরার সঙ্গে তা মেলে না। ফলে এ উপায়ে উৎপাদিত হীরা একজন মানুষের ডিএনএ বহন করে বলে দাবি উদ্ভাবকদের। এ পদ্ধতিতে হীরা তৈরির জন্য পশ্চিমা বিশ্বে অনেক কোম্পানি গড়ে উঠেছে। তারা এ ব্যবসা করে উপার্জন করছে কোটি কোটি ডলার। পপসমৃাট মাইকেল জ্যাকসন মারা যাওয়ার পর শিকাগোর একটি কোম্পানি এরকম এক ঘোষণা দেয়।

শিকাগোর লাইফজেম নামের ওই সংস্থা ঘোষণা দেয়- ১৯৮৪ সালে পেপসির বিজ্ঞাপন নির্মাণের সময় যখন পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনের চুলে আগুন ধরে যায়। তখন তারা সেই চুলের কিছু অংশ সংগ্রহ করেছিলেন। তা দিয়ে তারা হীরা বানিয়েছেন। ওই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ডিন ভ্যানডেনবেসিন বলেছিলেন, তারা ওই চুল দিয়ে ১০টি হীরা বানিয়েছেন। তারা ২০০৭ সালে সংগীতস্রষ্টা বিঠোফেন-এর চুল থেকে উৎপাদন করেছেন তিনটি হীরা। এর এক একটি বিক্রি করেছেন ২ লাখ ডলার মূল্যে। ল্যাবরেটরিতে উৎপাদিত এসব হীরা কি প্রাকৃতিক হীরার মতো- তা নিয়ে কৌতূহল সবার। তবে কোম্পানিগুলো বলছে- হ্যাঁ, অবিকল একই। কোন পার্থক্য নেই কৃত্রিম উপায়ে উৎপাদিত হীরা ও প্রাকৃতিক হীরার মধ্যে। কৃত্রিম উপায়ে হীরা উৎপাদন শুরু করে জেনারেল ইলেকট্রিক কোম্পানি। সে ১৯৫৬ সালের কথা। ওই সময়ে তারা যে হীরা উৎপাদন করে তা ছিল ক্ষুদ্র আকারের রতœপাথর। তবে আরও ১৫ বছর সাধনা করে এই কোম্পানি ১৯৭১ সালে উৎপাদন করে রতœ-মানের এক ক্যারেটের হীরা। কৃত্রিম উপায়ে হীরা উৎপাদনের ইতিহাস এখান থেকেই শুরম্ন। উৎপাদনকারীরা বলেছেন, কৃত্রিম উপায়ে এই যে হীরা বানানো হচ্ছে এগুলো প্রাকৃতিক হীরার মতোই উজ্জ্বল। মহারানী ভিক্টোরিয়ার সময় থেকেই ‘শোকের পাথর’ হিসেবে হীরা পরিচিত।

অর্থাৎ কাউকে স্মরণে রাখতে হীরা ব্যবহার করা হতো। কারও হাতে একটি আংটি বা গলার হার স্মরণ করিয়ে দিতো হারানো স্বজনের কথা। কিন্তু প্রযুক্তির উত্তরণের সঙ্গে সঙ্গে প্রিয়জনের ওই সব উপহার বহনের চেয়ে তাকে আরও কাছে রাখার উপায় উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। আর তা হলো প্রিয়জনের চুল বা দেহভস্ম ব্যবহার করে হীরা উদ্ভাবন। এর ফলে যে হীরা উৎপাদন হয় তা ব্যবহার করলে যে কেউ হারানো স্বজনকে সব সময় নিজের সঙ্গে সঙ্গে রাখতে পারেন। এজন্য এভাবে তৈরি করা হীরা প্রস্তুতকারক কোম্পানির নামও আকর্ষণীয়। কোনটির নাম মেমোরিয়াল ডায়মন্ড, কোনটি হার্ট ডায়মন্ড, কোনটি লাইফজেম।

ঝিনাইদহে চুলবাজার : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১৫টি জেলার চুল বিকিকিনি হয় ঝিনাইদহে। বিদেশীরা অফিস খুলেছে চুল কেনার। শহরের স্বর্ণপট্টিতে চীনের জেডসিডি কোম্পানির চুল ক্রয় কেন্দ্রে ভিড় লেগেই থাকে। প্রতিদিন অন্তত ৩০-৩৫ কেজি চুল সংগ্রহ করা হয়। এক কেজি চুলের মূল্য ৩০০০-৩৫০০ টাকা। চুলের কারখানায় কয়েক শ’ মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

সরজমিনে ঝিনাইদহের ঋষিপাড়ায় দেখা গেছে, ঋষি নারীরা সবাই ব্যস্ত, তারা কাজ করেন চুলের কারখানায়। তাদের গ্রামে গড়ে উঠেছে বিশাল কারখানা। যেখানে ফেলে দেয়া ও বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত জটবাঁধা চুলের জট ছাড়ানো হয়। সকালে কারখানার কাজে যান নারীরা, বিকাল পর্যন্ত কাজ করেন সেখানে। ঋষি সম্প্রদায়ের নারীরা জানান, আগে স্বামীর অভাবের সংসারে তাদের কিছুই করার ছিল না। ছেলেমেয়েদের মুখে তারা ঠিকমতো খাবার তুলে দিতে পারতেন না। এখন তারা কাজ পেয়েছেন, নিজেরা আয় করছেন। ঝিনাইদহের ষাটবাড়িয়া গ্রামেও বেশ কয়েকটি কারখানা গড়ে উঠেছে। গত এক বছর ধরে তাদের এলাকায় এ চুলের কারখানার কাজ চলছে। এ সকল কারখানায় কয়েক শ’ নারী কাজ করছেন। এ পাড়ার সহস্রাধিক ঋষি পরিবারের প্রায় সবার বাড়িতে এই জট ছাড়ানোর কাজ চলছে।

ষাটবাড়িয়া গিয়ে দেখা যায়, এক সঙ্গে প্রায় ৭০ জন নারী চুলের জট ছড়াচ্ছেন। বিশাল এক গুদাম ঘরের মধ্যে সারিবদ্ধভাবে তারা এই কাজ করছেন। সেখানে কর্মরত নারী দীপু দাসী জানান, তার স্বামী বৃন্দাবন দাস রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। তার চার সন্তান। তিনি জানান, ইতিপূর্বে তাদের সংসার ঠিকমতো চলছিল না। তিনি বাড়িতে মাঝে মধ্যে ডালা-কুলা তৈরির কাজ করতেন। এতে সামান্য কিছু আয় হতো। স্বামীর আর তার সামান্য আয় দিয়ে কোন রকমে বেঁচে ছিলেন। এখন তিনি প্রতিদিন ৭০ টাকা আয় করছেন। তিনি জানান, চুলের জট ছাড়ানো কাজ পেয়ে তারা খুশি। তবে তাদের পারিশ্রমিক খুব কম। মজুরি একটু বাড়িয়ে দিলে তারা ঠিকমতো সংসার চালিয়ে বেঁচে থাকতে পারবেন। প্রবীর দাসের স্ত্রী প্রেয়সী দাস জানান, এখন প্রতিদিনের পয়সা প্রতিদিন পাচ্ছেন। এতে কিছুটা সংসার চালাতে পারছেন। তবে তাদের মজুরিটা অনেক কম। যশরত দাসের স্ত্রী সীমা দাস জানান, তাদের এ কাজ প্রচণ্ড কষ্ট করেই করতে হয়। সারাদিন একটানা বসে থাকতে হয়। তাছাড়া জটবাঁধা চুলের ময়লা নাক ও মুখের মধ্যে প্রবেশ করে। এ কারণে তাদের সর্দি-কাশি লেগেই থাকে। তিনি আরও জানান, এ কাজে ব্যবহৃত সুচ তাদের কিনতে হয়। মালিকপক্ষ শুধু মজুরি দেয়। তিনি বলেন, এরপরও তারা এই কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। একই পাড়ার সুভাষ দাসের বালিকা কন্যা রূপসী দাস জানায়, সে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ছে। স্কুলে ক্লাসের ফাঁকে এখানে কাজ করে সে-ও দিনে ২০-২৫ টাকা আয় করে। তার মতো অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখার পাশাপাশি এই কাজ করছে।

কারখানার মালিক চুয়াডাঙ্গার আজগর আলী জানান, তিনি এই জটছাড়ানো চুল আগে ঢাকায় পাঠাতেন- এখন ঝিনাইদহে বিদেশীরা অফিস খোলায় সেখানে দেন। তিনি জানান, ঋষি সম্প্রদায়ের লোকজন ছাড়া এই কাজে শ্রমিক পাওয়া যায় না। এ কারণে তিনি ঝিনাইদহের এই ঋষি পাড়াকে বেছে নিয়েছেন। এখানে তিনি একটি ঘর ভাড়া নিয়ে চুলের কাজ করাচ্ছেন। তিনি জানান, তার কারখানায় গড়ে ৭০ জন নারী প্রতিদিন কাজ করে। একেক দিন একেক সংখ্যক শ্রমিক কাজ করে। তিনি জানান, যে চুল চিরুনিতে আটকে যায় সেই চুল তারা হকারের মাধ্যমে কিনে থাকেন। চুল কেনেন ১৫শ’ টাকা কেজি দরে। জট ছাড়ানোর পর ২৫শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। ১২ ইঞ্চির বেশি যত লম্বা হবে তত বেশি দামে বিক্রি হয়। এই চুল দিয়ে নানা ধরনের পণ্য তৈরি করা হয়। জেলা শহরের স্বর্ণপট্টিতে গড়ে উঠেছে খুলনা বিভাগের একমাত্র চুল ক্রয় কেন্দ্রের বিদেশী অফিস। চীন দেশের জেডসিডি কোম্পানির ঝিনাইদহ ক্রয় কেন্দ্রের কর্মকর্তা দোভাষীর মাধ্যমে জানান, এসব চুল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পট চুল তৈরি করা হয়, বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ব্যাপারে এসব পট চুল বেশি ব্যবহার হয়। এছাড়াও এসব চুল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের শৌখিন জিনিস তৈরি করা হয়। ঝিনাইদহ ক্রয় কেন্দ্র প্রতিদিন গড়ে ৩০ কেজি করে চুল সংগ্রহ করা সম্ভব হয় বলে বলে জানান তিনি। এখানে কর্মরত ঢাকার মিরপুর এলাকার দোভাষী আক্তার জানান, গ্রামাঞ্চলে ফ্যাশনের ছোঁয়া ও বিউটি পার্লার ছড়িয়ে পড়ায় এখন আর মেয়েরা চুল বড় করতে চায় না। তাই আশানুরূপ চুল সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছে না, ১০ ইঞ্চির বেশি লম্বা চুল খুব একটা মিলছে না।

বিশেষজ্ঞের মত : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল খায়ের বলেন, মানুষের চুলে প্রোটিন থাকে। এই চুল যখন মানুষের মাথায় থাকে তখন অন্যান্য পদার্থের মতো সজীব থাকে। সেলুনে গিয়ে যখন চুল কেটে ফেলা হয় তখন এই প্রোটিন প্রাণহীন হয়ে পড়ে। এই চুলকে পোড়ালে একপ্রকার কার্বন (অঙ্গার, অঙ্গারক)-এর সৃষ্টি হয়। কার্বনকে বিশেষ ব্যবস্থায় হীরায় পরিণত করা সম্ভব। কার্বন থেকেই মূলত হীরা তৈরি হয়। চুল থেকে পাওয়া হীরা দৈবিকভাবেই হীরার উপযোগী। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় যেখানে কয়লার খনি রয়েছে, তার কিছু দূরেই ডায়মণ্ড বা হীরকের খনি রয়েছে। ভূ-অভ্যনত্মরের তাপ ও চাপ যখন সঠিক মাত্রায় হয় তখনই মূলত কার্বন রূপান্তরিত হয় হীরায়। কাঠ থেকেও কার্বন তৈরি হয়। কিন্তু তা থেকে হীরা উৎপাদন সম্ভব নয়। কাঠ থেকে পাওয়া কার্বনের সূক্ষ্ম গঠন আর চুল থেকে পাওয়া কার্বনের সূক্ষ্ম গঠন এক নয়। তাই কাঠ থেকে পাওয়া কার্বন থেকে হীরা উৎপাদন করা সম্ভব নয়।

DIAMONDS MADE FROM HAIR
http://www.celebration-diamonds.com/Diamonds_made_from_hair%20.asp

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ: জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি


জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ

আজ বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী।
গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মৌলবি মুহাম্মদ ইয়াসিন খান এবং মা মেহেরুন্নেসা খানম। তাজউদ্দীনরা ছিলেন চার ভাই ও ছয় বোন। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় গ্রামের মক্তবে। এরপর ভুলেশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি শৈশব থেকে প্রতিবাদী ও বিপ্লবী মনোভাব পোষণ করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং গ্রহণ করেন। তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৪২ সাল থেকে বয়েজ স্কাউট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

ব্রিটিশ শাসকদের শোষণ থেকে জাতির মুক্তির লক্ষ্যে মুসলিম লীগের হয়ে তিনি আন্দোলন-সংগ্রামের মশাল হাতে নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। আর পরিসমাপ্তি ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরে জেলখানায় খুনিদের গুলিতে।

১৯৪৩ সালে মুসলিম লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু। ১৯৪৪ সালে বঙ্গীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং পাকিস্তান আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম হয়। সেই দলের একজন নেতা হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন মাত্রা যোগ হয়। সেই সময়কার তরুণ নেতা শেখ মুজিবের সানি্নধ্য লাভ, তাঁর সঙ্গে বাঙালি জাতির মুক্তির লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়াই গণমানুষের এ নেতার অন্যতম কাজ হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে কাপাসিয়া নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৬৬ সালে তাজউদ্দীন আহমদ লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলীয় সম্মেলনে যোগদান করেন। এই সম্মেলনেই বাঙালির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা পেশ করেন। ওই বছরই তাজউদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৯৬৬ সালের ৭ মে তিনি গ্রেপ্তার হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তাজউদ্দীন আহমদ জাতীয় পরিষদে সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের পটভূমিতে সাংগঠনিক দিকগুলো পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আস্থাভাজন সহযোগী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ অতুলনীয় দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণার পর তিনি গ্রেপ্তার হন। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে পুরো মুক্তিযুদ্ধে যিনি নেতৃত্বে দেন, তিনি হলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর তাজউদ্দীন আহমদকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি করা হয়। কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে আরো তিন নেতার সঙ্গে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

মো. মুজিবুর রহমান

More EkushTube video
http://www.youtube.com/p/8533F37F1EB52939?version=3&hl=en_US&fs=1

বাংলাদেশে মালিকদের মুনাফার হার ৪৩.১০ শতাংশ, যেখানে কম্বোডিয়ায় ৩১.০%, ভারতে ১১.৮%, ইন্দোনেশিয়ায় ১০%, ভিয়েতনামে ৬.৫%, নেপালে ৪.৪% এবং সবচেয়ে কম চীনে, ৩.২%। অর্থাৎ বাংলাদেশের মালিকরা বিশ্বের সবচেয়ে কম মজুরি দিয়ে, সরকারের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিয়ে সবচেয়ে বেশি মুনাফা করছে। এই মালিকরা নিজেরা কোটি কোটি টাকার গাড়ি-বাড়ি ব্যবহার করছে। আর শ্রমিকরা না খেয়ে জীবন যাপন করছে।


পোশাক শিল্পে দুর্দিন : ভাল নেই শ্রমিকরা

এফএনএস (আহমেদ ফয়সাল) : পোশাক শিল্পে দীর্ঘদিন থেকে চলছে শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে দ্বন্দ¡। এ দ্বন্দে¡র ফলে দেশের প্রধান এ রপ্তানি খাত পোশাক শিল্প আজ বিপর্যয়ের মুখে। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন শ্রমিক ও মালিকদের সুসম্পর্ক। সাম্প্রতিক সময়ে পোষাক শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ আবারও দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার আশুলিয়ার ৩টি পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক অধিকার আদায়ে রাস্তায় নামে এবং বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এই অসন্তোষ আজকের নয়, দীর্ঘদিনের। জানা যায়, বিনা কারণে শ্রমিক ছাটাই এবং শ্রমিকদের বেতন আটকিয়ে রাখা, শ্রমিকদের শ্রমের অধিকার এবং পাওনা বেতন প্রদানের দাবিতে বিক্ষোভ করছে পোশাক শ্রমিকরা।

মালিক পক্ষের অবহেলা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিতে দিনে দিনে অস্থির হয়ে উঠছে এ শিল্পটি। অথচ রপ্তানি আয়ের শতকরা ৭৫ ভাগ আসে তৈরি পোশাক শিল্প খাত থেকে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি শ্রম বিনিয়োগ হয় এই খাতে। সবচেয়ে বেশি পরিবার নির্ভরশীল এর ওপর। বাংলাদেশে সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত খাতও এটাই। তবে এই সুবিধার সম্পর্ণটাই যায় মালিকদের পকেটে। শ্রমিকদের দিক বিবেচনা করলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অবহেলিত খাত এই তৈরি পোশাক শিল্প। বর্তমানে বাংলাদেশের একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা! যারা ঢাকায় থাকেন এবং যারা ঢাকার বাইরে থাকেন, তারা প্রত্যেকেই জানেন যে এই টাকায় একমাস চলা কোনো মানুষের পক্ষেই সম্ভব না। পরিবার নিয়ে তো অসম্ভব কথা। বলা চলে, ঢাকার একজন ভিক্ষুকের মাসিক আয়ও একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের চেয়ে বেশি!

শ্রমিক অসন্তোষের মূল কারণ ১. চাল, ডাল, তেলসহ জিনিষপত্রের দাম বাড়ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়া, চিকিৎসা খরচ কিন্তু শ্রমিকের মজুরি বাড়ছে না; ২. সময় মতো বেতন এবং ওভারটাইম ভাতা না দেয়া, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি না থাকা; ৩. কর্মকর্তা কর্তৃক শ্রমিকদের সাথে দুর্ব্যবহার, অমানবিক ব্যবহার করা; ৪. যে কোনো অজুহাতে শ্রমিকদের ছাঁটাই, শোকজ ইত্যাদির মাধ্যমে হয়রানী করা; ৫. গণতান্ত্রিক শ্রম আইন ও ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার না থাকা, অর্থাৎ শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কথা বলার কোনো পক্ষ নেই; ৬. ব্যবসায়ীরা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রমিক অসন্তোষের সুযোগ গ্রহণ করে আবার মালিকের পক্ষ নিয়ে শ্রমিকদের উপর নির্যাতন চালায়। এমনকি মালিকদের মধ্যেও অভ্যন্তরীণ নানা বিরোধে শ্রমিকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এসব নানা বিষয়ের প্রতিক্রিয়ায় শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কারণ সারা মাস হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে জীবনযাপেনর উপযোগী ন্যূনতম মজুরি না পাওয়া।

বিজিএমইএ’র পরিচালকের হিসাবে একজন মালিক বছরে ৫০০ শ্রমিকের একটি কারখানা থেকে ১ কোটি ৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নিট মুনাফা করছে। বিজিএমই-এর এক পরিচালক জানান, বিশ্বমন্দা, জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও তারা লোকসান গুনছেন না। লাভের হার হয়ত কিছু কমেছে। আগে যেখানে হয়ত প্রতি পিসে ২০ টাকা লাভ হত, এখন সেখানে হয়ত ১৫ টাকা লাভ হচ্ছে। গার্মেন্টস শিল্পে বিভিন্ন দেশের মালিকদের মুনাফার হার পর্যালোচনা করলেও মালিকদের মিথ্যাচারের মুখোশ উন্মোচিত হয়। অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ দেখিয়েছেন, বাংলাদেশে মালিকদের মুনাফার হার ৪৩.১০ শতাংশ, যেখানে কম্বোডিয়ায় ৩১.০%, ভারতে ১১.৮%, ইন্দোনেশিয়ায় ১০%, ভিয়েতনামে ৬.৫%, নেপালে ৪.৪% এবং সবচেয়ে কম চীনে, ৩.২%। অর্থাৎ বাংলাদেশের মালিকরা বিশ্বের সবচেয়ে কম মজুরি দিয়ে, সরকারের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিয়ে সবচেয়ে বেশি মুনাফা করছে। এই মালিকরা নিজেরা কোটি কোটি টাকার গাড়ি-বাড়ি ব্যবহার করছে। আর শ্রমিকরা না খেয়ে জীবন যাপন করছে।

মালিকরা বলে, তারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে, এটাই যথেষ্ট। শ্রমিকদের এতেই কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। মজুরি যা দিচ্ছি তা দিয়েই শ্রমিকদের চলা উচিত। বাজারে যে হারে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছে সে হারে তারা মোটাচাল, মশুর ডাল, কমদামি তরিতরকারি কিনে কোনমতে জীবন যাপন করে। গার্মেন্টস-এ ওভারটাইম ডিউটি করেও দুই-আড়াই হাজার টাকা বেতন পাওয়া শ্রমিক তার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি এবং প্রোটিন পাবে কীভাবে? অথচ এরাই দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। ১৯৭৮ সালে ২টি গার্মেন্টস কারখানা দিয়ে যে শিল্পের যাত্রা শুরু সেখানে আজ প্রায় ৪৫০০টি কারখানা স্থাপিত হয়েছে। ৩০ লক্ষ শ্রমিক এ শিল্পের সাথে যুক্ত। বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা শ্রমিক (চীন ও তুরস্কের পর) বাংলাদেশকে তৃতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছে।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, তুরস্কে পোশাক শিল্পের একজন শ্রমিক প্রতি ঘণ্টায় ন্যূনতম মজুরি পান ২ দশমিক ৪৪ ডলার, মেক্সিকোতে ২ দশমিক ১৭ ডলার, চীনে ১ দশমিক ৪৪ থেকে ১ দশমিক ৮৮ ডলার, পাকিস্তানে শূণ্য দশমিক ৫৬ ডলার, ভারতে শূণ্য দশমিক ৫১ ডলার, শ্রীলঙ্কায় শূণ্য দশমিক ৪৪ ডলার এবং ভিয়েতনামে শূণ্য দশমিক ৪৪ ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশে গার্মেন্ট শিল্পে ন্যুনতম মজুরি এক হাজার ৬৬২ দশমিক ৫০ টাকা। দিনে আট ঘণ্টা কর্মদিবস ধরে এবং মাসে চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি বাদ দিলে প্রতি ঘণ্টায় ন্যুনতম মজুরি দাঁড়ায় শূণ্য দশমিক ১২ ডলারেরও কম। বিশ্বের যেকোনো দেশের পোশাক শিল্প শ্রমিকের তুলনায় এ মজুরি কম। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে শ্রমিক অসন্তোষের মূলে রয়েছে কম মজুরি।

সরকারকে মনে রাখতে হবে এই তৈরী শিল্প খাতটি একবার দেশছাড়া হলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেমে যাবে, তেমনি লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। পাটকলগুলো যেভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো, তৈরি পোশাকের কারখানাগুলোও যেন সেভাবে বন্ধ হয়ে না যায়। পাশাপাশি এ ব্যাপারে পোশাক শিল্প কারখানার মালিকদেরও খেয়াল রাখতে হবে।

Rais Bhuiyan, immigrant from Bangladesh, Muslim Victim of Post-9/11 Hate Crime, Advocates to Spare Life of Assailant


Rais Bhuiyan, Muslim Victim of Post-9/11 Hate Crime, Advocates to Spare Life of Assailant

Rais Bhuiyan, Victim of Post-9/11 Shooting Spree, Pleads To Spare Attacker Mark Stroman’s Life
Huffington Post
Just weeks after the terrorist attacks of Sept. 11, a masked man stormed into the Dallas convenience store where Rais Bhuiyan, a Muslim immigrant from Bangladesh, worked as a cashier. He asked where Bhuiyan was from — then shot him in the face at point-blank range before he could reply.

His attacker was Mark Stroman, an avowed white supremacist and methamphetamine addict, who was caught and confessed to the shooting as well as two other attacks on South Asian convenience store workers. Those men died, while Bhuiyan survived, although he was blinded in one eye and still carries 35 shotgun pellets embedded in his face.

In less than 48 hours, Stroman is scheduled to die by lethal injection at the Texas death chamber at Huntsville for the crimes. A last-ditch appeal to the Supreme Court for a stay of execution was rejected without comment in June.

But even as the clock runs down on Stroman’s time on death row, an unlikely advocate is trying to spare his life: Bhuiyan, the man he casually shot and left for dead nearly a decade ago.

Over the past several months, Bhuiyan, a devout Muslim, has mounted an aggressive campaign to convince Texas authorities to commute Stroman’s sentence to life in prison without the possibility of parole. He has asked the state board of pardons and paroles to make a positive recommendation for clemency to Gov. Rick Perry, and has asked Texas prison administrators for permission to meet face-to-face with Stroman for a victim-offender reconciliation process.

After those efforts were met with no response from Texas officials, Bhuiyan filed a lawsuit against the state, arguing that his rights as a crime victim to meet with his attacker had been unjustly denied. That lawsuit was moved from state to federal court on Monday and remains unresolved.

In an interview with HuffPost, Bhuiyan said his efforts on behalf of Stroman were motivated by his Muslim faith. The Koran teaches that those who forsake retribution and forgive those who have wronged them become closer to God, he said.
“My faith teaches me that saving a life is like saving the entire human race,” he said.

Bhuiyan is not alone in his efforts to save Stroman’s life. He has support from family members of the other victims, including the widows of the two murdered men, Waqar Husan and Vasudev Patel, he said.

“We decided to forgive him and want to give him a chance to be a better person,” Nadeem Akhtar, Husan’s brother-in-law, said in an interview.

Akhtar said that his sister, Husan’s widow, had written a letter requesting that the Dallas district attorney’s office support the effort to obtain clemency for Stroman. The district attorney’s office declined to support the petition, however.

According to those close to Stroman, the efforts by Bhuiyan on his behalf have contributed to a change of heart in a man who called his crimes “patriotic” before his trial and who prosecutors once described as a cold-blooded killer.

In an interview last week, Stroman told Ilan Ziv, a documentary filmmaker, that he was remorseful for the crimes and was deeply moved by Bhuiyan’s attempts to save his life.

“I received a message that Rais loved me and that is powerful,” said Stroman, who suffered extreme abuse and neglect as a child at the hands of his alcoholic parents, according to court records.

“I want to thank him in person for his inspiring act of compassion. He has forgiven the unforgiveable and I want to tell him that I have a lot of love and respect him,” he added.

Ziv, who met with Stroman for several hours on Monday, said the condemned man had little hope that Bhuiyan’s efforts would succeed in sparing his life.

“He’s very realistic,” Ziv said. “He knows he’s got no chance.”

Stroman’s last bid for a reprieve will come in less than 48 hours, as the Texas Board of Pardons and Paroles weighs his petition for clemency or a stay of execution. The board has voted for clemency just once in the last 10 years, a period when the state carried out a record 231 executions. A spokeswoman for Perry’s office said the governor has not expressed an opinion on the petition to the board.

Bhuiyan’s request to meet face-to-face with Stroman before the execution — a meeting that Stroman has enthusiastically agreed to — is also unlikely to occur. Michelle Lyons, a spokeswoman for the Texas Department of Criminal Justice, said that both victims and offenders must go through months of counseling and complete other preparatory work before such a meeting can take place.

“There just is not enough time to prepare the victim and the inmate for a meeting,” Lyons said.

Bhuiyan said he would have begun the mediation process long ago, but was not informed of his rights to such a meeting by the Dallas district attorney. That complaint was the basis for his lawsuit attempting to force the state to postpone Stroman’s execution until the mediation meeting could take place; a state judge in Austin ruled Monday that the suit belonged in federal court.

If the suit is dismissed and Stroman’s bid for clemency is denied, the execution will almost certainly go ahead as scheduled at 6 p.m. Wednesday evening.

For Bhuiyan, such an outcome would be a tragedy. “If he’s given a chance, it’s very likely that he can contribute to society,” he said. “If he can educate one person who is full of hate, that is an achievement.”

Yet at least one mind has been changed by Bhuiyan’s outreach — his attacker’s.

“It is due to Rais’ message of forgiveness that I am more content now than I have ever been,” Stroman said in the interview with the documentary filmmaker. “If I don’t make it I want Rais to carry on his work teaching people not to be prejudiced.”

“We need to make sure there is not another Mark Stroman,” he concluded.

The Huntsville Item, Huntsville, TX
July 20, 2011
Texas man executed for post 9/11 slaying
Staff Reporter

HUNTSVILLE — A death row inmate’s life was spared two hours longer than expected Wednesday evening due to a delay in the court appeals process.

The surviving victim of Mark Stroman’s post-9/11 shooting spree in the Dallas-area made the unconventional gesture of requesting the courts to halt Stroman’s execution in an effort to set up mediation between the two.

Rais Bhuiyan, who was left partially blind after being shot in the face by Stroman, filed a lawsuit suggesting his Muslim faith required him to forgive his offender. Bhuiyan also said he wanted to meet with Stroman to learn more about why the shootings occurred.

A federal district judge in Austin rejected Bhuiyan’s suit and request for injunction on Wednesday afternoon, the Associated Press reported. His lawyers appealed the ruling to the U.S. Supreme Court, but Justice Antonin Scalia rejected it as well.

However, Bhuiyan’s last-minute appeal in state court Wednesday evening in Austin delayed Stroman’s execution but requests to delay any further were denied.

In a separate appeal to the Supreme Court, Stroman’s lawyer Lydia Bryant pointed to Bhuiyan’s lawsuit and argued that attorneys during Stroman’s trial and in earlier stages of his appeals were deficient for not illustrating “the path that led him to this violent frenzy.”

In October 2001, Stroman murdered what he believed to have been a Middle Eastern convenience store worker in retaliation to 9/11 terrorist attacks – in which he claimed his sister was killed. But no evidence shows Stroman’s sister ever existed, according an AP source.

Stroman claimed his attacks were out of grief, rage and patriotic duty. The victim was 49-year-old Vasudev Patel, an immigrant from India, not the Middle East. Bhuiyan and the other victim who was killed were also from parts of South Asia.

Stroman was strapped to a gurney in the death chamber at 8:29 p.m. He was pronounced dead less than 25 minutes later. Prior to his death, Stroman described himself as “at peace” with his destiny and discouraged all forms of hatred.

“Even though I lay on this gurney, seconds away from my death, I am at total peace,” he said. “May the Lord Jesus Christ be with me. Hate is going on in this world and it has to stop. Hate causes a lifetime of pain.”

Stroman’s juvenile record showed he participated in an armed robbery at age 12. He served at least two prison terms for prior convictions of burglary, robbery, theft and credit card abuse. Stroman was free on bond for gun possession at the time of the shootings.

For his final meal request, Stroman received battered chicken fried steak with gravy, 12 crispy pieces of bacon, a ham and cheese omelet, fried potatoes, squash and okra. He also received three large Dr. Pepper’s and a pint of vanilla Blue Bell Ice Cream.

Stroman spoke to his personal witnesses in the death chamber until the lethal doses took its effect on him.

“Even though I lay here, I’m still a proud American – Texas loud, Texas proud. God bless America. God bless everyone,” he added.

Stroman’s death is the eighth execution in Texas this year. Eight more executions are scheduled within the next three months in the nation’s busiest death penalty state.

%d bloggers like this: