‘তারা (রাজনীতিবিদরা) জনগণকে গরিব রাখতে চায়। কেন তেমন রাখতে চায়, তা যদি না জানো এবং এখন জানতে চাও, তা হলে বলছি।

২০১১: ক্রান্তিকালে মানবজাতির ভাগ্য

আলমগীর মহিউদ্দিন

গত পাঁচ দশকের দর্শক হিসেবে নতুন বছরের প্রাক্কালে গ্রিক নাট্যকার অ্যারিস্টোফেনকে কখনো মনে পড়েনি আর অনিরাপত্তা, অবিচার ও অসম্মানের ভীতি এমন করে তাড়া করেনি, যেমনটি খ্রিষ্টীয় ২০১১ সালটি করছে। এমন অবস্থা শুধু বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য তা নয়, সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষের জন্য যেন তিলে তিলে এটি বেড়ে উঠেছে।

অ্যারিস্টোফেনকে কেন মনে পড়ে? তিনি তার পাঁচটি বিখ্যাত নাটকে তার যন্ত্রণাকে বিধৃত করেছিলেন। তার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠছিল কেমন করে এথেনীয় গণতন্ত্রের ধীরলয়ে মৃত্যু ঘটছে, অথচ তাকে বাঁচানোর জন্য সংস্কারমুক্ত উদারপন্থীসহ নেতৃত্বের দাবিদারদের কোনো উদ্বেগ নেই। তিনি দুর্নীতিকে গণতন্ত্র হত্যার প্রধান বাহন হিসেবে চিহ্নিত করে সবাইকে বলতে চেয়েছেন, তোমরা ঘুম থেকে জেগে ওঠো। কারণ, তোমরাই সর্বপ্রথম গণতন্ত্রের মৃতুøর জন্য দায়ী হবে এবং ফল ভোগ করবে। তিনি বিশেষ করে সংস্কারমুক্ত উদারপন্থীদের আহ্বান করে বলেছেন, ক্ষমতাপ্রিয় দুর্নীতিবাজদের ঠেকাতে না পারলে সাধারণ মানুষের কোনো মঙ্গল হবে না। কারণ, তারা মানুষকে দাস বানিয়েই ক্ষমতাকে উপভোগ করতে চায় এবং এ কাজে সবাইকে কখনো বাগ্মিতা, কখনো বা ভয় অথবা কখনো ক্রূর শক্তিপ্রয়োগে তাদের উদ্দেশ্য সাধন করতে চায়। অবাক হতে হয়, অ্যারিস্টোফেন দুই হাজার ৪০০ বছর আগে কেমন করে আজকের বিশ্বের অবস্থাকে এত নিখুঁতভাবে ধারণ করলেন। তার দি ক্লাউডস, দি ওয়াসপস, দি বার্ডস, দি ফ্রগস, লিসিস্ট্রাটা নাটকগুলোতে আজকের বিশ্বের গণতান্ত্রিক অবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য সেই একই মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক ব্যবহারের চিত্র চিত্রণ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, যেসব রাজনৈতিক নেতা বলে ‘আমি কখনোই এথনীয়দের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব না’, বা ‘আমি এথেনীয়দের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সব কিছু বিসর্জন করার জন্য প্রস্তুত’, তারা শুধু ক্ষমতা দখল এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার দখল করতে চায় জনগণকে দাস বানিয়ে। কী অপূর্ব বর্তমান অবস্থার চিত্রায়ণ! তার দি ওয়াসপস (অর্থ ভীমরুল) নাটকে বলেছিলেন, ‘তারা (রাজনীতিবিদরা) জনগণকে গরিব রাখতে চায়। কেন তেমন রাখতে চায়, তা যদি না জানো এবং এখন জানতে চাও, তা হলে বলছি। তারা (রাজনীতিবিদ ও তাদের দোসর) একটি বার্তা স্পষ্ট দিতে চায় তা হলো, আমরা কারা? আমরা তোমাদের প্রশিক্ষক। তোমাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। যখন আমরা হুইসেল বাজাব তখন তোমরা আমাদের প্রতিপক্ষের ওপর তোমাদের জীবনবাজি ধরে, ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে।’ কী আশ্চর্য বর্তমানের অবস্থার চিত্র চিত্রণ! অ্যারিস্টোফেনের সবচেয়ে উদ্বুদ্ধকারী নাটক ছিল লিসিসস্ট্রাটা। নায়িকার নামে। এ নামের অর্থ হলো ‘সামরিক বাহিনী বিধ্বংসকারী’। অ্যারিস্টোফেন যেকোনো ধরনের যুদ্ধ, তা বিশেষ করে সামাজিক বিনির্মাণের নামেই মিথ্যা যুদ্ধ, অপছন্দ করতেন। তাই এই নাটক। এর মূল প্রতিপাদ্য ছিল এথেনীয়দের ২১ বছরের পেলোপনেসিয়ান যুদ্ধ যা ধীরে ধীরে তাদের গণতন্ত্রের মূল চালিকাশক্তিকে নির্মূল করে দেয়। এ নাটকে তিনি জনগণকে যুদ্ধের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘আইন অমান্যকারী আন্দোলনে’ উদ্বুদ্ধ করেন। কারণ, তিনি বিশ্বাস করতেন স্বৈরাচার গণতন্ত্রী (ডেমোক্র্যাটিক টাইরাস্ট) স্বৈরাচার থেকেও ভয়ঙ্কর। তারা প্রায়ই রাষ্ট্রকে যুদ্ধ করতে উদ্বুদ্ধ করে অথবা নানা উত্তেজনামূলক বক্তৃতা অথবা কর্মকাণ্ড দিয়ে সামাজিক অশান্তি জিইয়ে রেখে তাদের ক্ষমতাকে দৃঢ় করতে চায়। তিনি বিশ্বাস করতেন, যুদ্ধ ও সামাজিক অশান্তি শুধু অগণতান্ত্রিক শক্তিকে মদদ জোগায়। যখন এ কর্মকাণ্ড ক্ষমতাসীনরা পরিচালনা করে তখন জনগণ গৃহপালিত পশুদের চেয়েও নীচে নেমে যায়।

অবশ্য অ্যারিস্টোফেন এ কথাও বলেছেন, ‘যখন জনগণ এসব কর্মকাণ্ডের আসল স্বরূপ বুঝতে পারে, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। কারণ, স্বৈরাচারী শাসক সব সময় চেষ্টা করে রাষ্ট্রীয় স্বাভাবিকতাকে ওপরে স্থান দিতে। এতে তারা জনগণের বিশ্বাসভিত্তিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈধতাকে ধ্বংস করে তাদের ক্ষমতা পোক্ত করে। যারা এর বিরোধিতা করে তাদের নির্মমভাবে সরিয়ে দেয় অথবা নীরব থাকতে বাধ্য করে। এ ব্যাপারে বিখ্যাত মার্কিনি চিন্তাবিদ হানাহ্‌ আরেন্ডট (অরিজিন অব টোটালিটারিয়ানিজম গ্রন্থের লেখক) বলেছেন, ‘সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করতে চায় না, ‘স্বাভাবিক’ অবস্থায় কেমন করে ‘সর্বগ্রাসী অপরাধ’ সম্ভব। আসলে নানা কর্মকাণ্ড দিয়ে সাধারণ মানুষকে বাস্তবতাকে অস্বীকার করার মনমানসিকতা সৃষ্টি করা হয়।

এ বর্ণনাগুলো যদি বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা করা যায়, দেখা যাবে ২০১০ ব্যাপী সব ক্ষমতাবানের কর্মকাণ্ডের সাথে মিলে যাবে। সাধারণ মানুষ তিনটি ইংরেজি শব্দের মাঝে নীত হয়েছে। অনিরাপত্তা (ইনসিকিউরিটি­ যার সাধারণ বাংলা নিরাপত্তাহীনতা), অবিচার (ইনজাস্টিস) ও অসম্মান (ইনডিগনিটি)। অর্থাৎ ২০১১ সালকে আমরা এ নামেই সম্বোধন করতে পারি। অ্যারিস্টোফেনের এক চরিত্রের বক্তব্য থেকেই এ নামকরণ। সে চরিত্রে বলেছিল, সাধারণ মানুষ ‘নিরাপত্তাহীনতায়’ ভুগলে বিচারের দ্বারস্থ হয়। তখন তার ভাগ্যে জোটে ‘অবিচার’ এবং এর ফল হয় তার ‘অমর্যাদা ও অসম্মান’। এই তিন ধাপের শেষ ধাপটি নৈতিকতাবোধসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে সবচেয়ে অগ্রহণীয় এবং মৃতুøতুল্য। এ জন্যই স্বৈরাচারী শাসকরা জনগণকে অথবা তাদের প্রতিপক্ষকে অসম্মান ও মর্যাদাহীনতায় পর্যবসিত করে। অন্য কথায় ২০১০ সালে বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকাণ্ডের বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে সাধারণ মানুষ ও প্রতিবাদী জনগোষ্ঠী সর্বত্র নিরাপত্তাহীনতা ও অবিচারের লক্ষ্য হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতিবাদী বা সত্য উদঘাটনকারীরা মামলা, জেলজুলুমসহ নানা হয়রানির মুখে পড়েছে। আর সবচেয়ে উল্লেখ্য, এই হয়রানির প্রক্রিয়াতে সর্বাগ্রে যে সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানগুলো নেতৃত্ব দিচ্ছে, তাদের সাংবিধানিক এবং নৈতিক দায়িত্ব হলো নাগরিকদের নিরাপত্তা, বিচার এবং তাদের সম্মান নিশ্চিত করা। তাই যখন রক্ষকই নির্যাতনকারী হয়, তখন বলাই বাহুল্য শান্তি-শৃঙ্খলা, জীবনব্যবস্থার কী অবস্থা এবং তার বর্ণনার প্রয়োজন পড়ে না। যেহেতু এ অবস্থা এখন সাধারণ সূচকের মতো রূপ ধারণ করেছে এর পরিবর্তনের সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতে নেই। অর্থাৎ আগামী বছরে এমন কর্মকাণ্ড আরো বিকশিত হবে বলে ধারণ করা যায়।

যদি তা-ই হয়, তবে সর্বস্বীকৃত পাঁচটি অধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে না। এ অধিকারের মাঝে খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য রয়েছে। এর কোনোটিই সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে না। গত কয়েক মাসের বিচার ও নিরাপত্তা বিষয়ের কর্মকাণ্ডগুলো সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতির সৃষ্টি করেছে। তাদের অনেক প্রশ্নের মাঝে যে প্রশ্ন তাদের বেশি আলোড়িত করছে, তা এ দু’টি বিষয় নিয়েই। তাদের নিরাপদ জীবনের দাবি করার অধিকারও কি হারিয়ে গেল? এমন অবস্থার সম্মুখীন জনগণ আর কখনো হয়নি। তাই ২০১১ সাল আর্থিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের জন্য কোনো আশার বাণীর ইঙ্গিত দিচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বছর কী এমন আশার বাণী শোনাতে পারবে? এক কথায়, না। সবচেয়ে আশাবাদী ও প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাপ্তাহিক ইকোনমিস্টের ধারণাও তাই। এমনকি লন্ডনের ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বক্তব্যও তাই। তাদের গিডিয়ন রচম্যান (জিরো সাম গ্রন্থের লেখক) লিখেছেন, ‘গত দু’বছরে বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলো নতুন মহামন্দার সাথে জাপটাজাপটি করেছে। ২০১১ সালে এটা পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, এ অর্থনৈতিক সঙ্কট আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে নষ্ট করে ফেলেছে। বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মূল কারণ অর্থনৈতিক সঙ্কট।’ টাইমস সর্বদাই আশাবাদী ও পশ্চিমা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখপত্র। তার বক্তব্য অনুসারে চীন-মার্কিন সম্পর্ক আরো খারাপ হবে; ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মতদ্বৈধতা ও বিভাজন বাড়বে; এমনকি ইউরোও সঙ্কটের সম্মুখীন হবে; আর আবহাওয়া পরিবর্তন, আণবিক শক্তি প্রভৃতি নিয়ে বর্তমানের বিশ্ব কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন ঘটবে। এর ফলে বর্তমানের যুদ্ধের পরিধি বাড়তে পারে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো তাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে চাইবে। এর ফলে বাংলাদেশের মতো ছোট দেশগুলোর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সঙ্কটের মুখোমুখি হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষার প্রচেষ্টাকে সে দেশের কংগ্রেস ব্যাহত করার ফলে বিশ্ব পরিস্থিতির বর্তমান সঙ্কটমুখী যাত্রার গতি হয়তো আরো বাড়তে পারে। তবে আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা হান্স মরগ্যানথুর ১০ নভেম্বর ১৯৭৯-এর এক মন্তব্য অনুসারে বিশ্ব অপ্রতিহত গতিতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে চলেছে। তাকে তার অন্যতম শিষ্য অধ্যাপক ফ্রান্সিস এ বয়েল সে দিন জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক (রাজনৈতিক) সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী?’ তার জবাবে এই মৃতুøপথযাত্রী পণ্ডিত বলেছিলেন, ‘ভবিষ্যৎ, কিসের ভবিষ্যৎ?’ আমি খুবই নিরাশাবাদী (এ ব্যাপারে)। বিশ্ব অপ্রতিহত গতিতে তৃতীয় বিশ্ব মহাযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এবারের যুদ্ধ হবে আণবিক ধ্বংসযজ্ঞ। কারণ, আন্তর্জাতিক রীতি-পদ্ধতি অত্যন্ত অস্থিরচিত্ত হয়ে পড়েছে। এখান থেকে ফেরার কোনো চেষ্টা দেখা যাচ্ছে না।’ অধ্যাপক বয়েল বলেছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ সংঘটনের প্রকৃত অবস্থাগুলো এখন বিরাজ করছে। ডেমোকলের তরবারির মতো এ অবস্থাগুলো বিশ্বমানবতার ওপর এখন ঝুলছে। এ মহাবিপর্যয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করার জন্য যে সামগ্রিক চেষ্টা তার স্পষ্ট কোনো প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে না। অধ্যাপক বয়েল স্পষ্ট করে যে কথাটি বলেননি তা হলো, ইসরাইলকে কেন্দ্র করে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো একের পর এক গত ছয় দশক ধরে ঘটানো হচ্ছে তার চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রথম ধাপ হবে সম্ভবত ২০১১ সালে। যদি এমনটি ঘটে, তাহলে তা হবে মানবজাতির ধ্বংস। এর মধ্যেই এক ক্যাথলিক খ্রিষ্টান গোষ্ঠী ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, (সৃষ্টিকর্তার) শেষ বিচার শুরু হবে ২০১১-এর মে মাসে এবং বিশ্ব ধ্বংস হবে ২০১১-এর অক্টোবর মাসে। তারা দিনপঞ্জিও দিয়েছে। এটা পরাশক্তির পরোক্ষ হুমকির প্রকাশ কিনা জানা যায়নি। তবে যদি লন্ডনের গার্ডিয়ানের ভাষ্য মেনে নেয়া হয় তাহলে মানবজাতির জন্য দুয়েকটি আলোর কণা রয়েছে। ২০১০-কে পর্যালোচনা করে বলেছে, এ বছরে অন্যান্য অনেক কিছুর মাঝে ০১. প্রমাণ হয়েছে যে, বিশ্বরাজনীতির ভীষণ অবমূল্যায়ন হয়েছে; ০২. রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ডেনিসোডা গুহায় যে আঙুলের হাড় পাওয়া গেছে, তা প্রমাণ করে বর্তমান মানবজাতি ছাড়াও আরো অন্তত চার মানবজাতির অস্তিত্ব প্রমাণ করে। এটা আরো প্রমাণ করে বানর থেকে মানবজাতির জন্ম হয়নি। ০৩. উইকিলিকস প্রমাণ করেছে দু’টি জিনিস­ তথ্য গোপন করা কঠিন এবং তার বাহককে প্রায়ই সে জন্য মূল্য দিতে হয়। ০৪. ধনীরাও মাঝে মঝে উদার হয় কারণ বিল গেটস ও বুফেট তাদের সম্পদের একাংশ গরিবদের দেবে বলেছে। ০৫. এখনো ভালো উপন্যাস-গল্প মানুষকে আকৃষ্ট করে। ০৬. ছাত্ররা এখনো সামাজিক প্রতিবাদের বাহন। ০৭. অর্থনৈতিক সঙ্কটে স্টক মার্কেট নেতৃত্ব দেয় ০৮. মধ্যবিত্তরা চাপের মুখে­ ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। ০৯. আইপ্যাড প্রকাশনা শিল্পে নতুন আবির্ভাব এবং এটা প্রকাশনার ধারণাকে পাল্টে দেবে। ১০. সুপার সালমন মাছ বিশ্ব খাদ্য ঘাটতি মেটাবে। ১১. গভীর সমুদ্রে তেল অনুসন্ধান কাজটি মানববিপর্যয়ের কারণ হিসেবে চিহ্নিত থাকবে ১২. ফেসবুক গুগলকে হারিয়ে দেবে। ১৩. চীন আমেরিকাকে পেছনে ফেলে দেবে। ১৪. ক্রেইগ ভেন্টর দাবি করেছেন, তিনি কৃত্রিম জীবন তৈরি করেছেন, যা নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী স্যার জন সুলসস্টন অস্বীকার করে বলেছেন, এটা বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলোকে কুক্ষিগত করার প্রচেষ্টা। যদিও এমন আবিষ্কার সাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। ১৫. মার্কিনি রাজনীতির কেন্দ্র ভেঙে পড়ছে এবং তার সাথে তাদের আর্থিক ক্ষমতার দাপট।

গার্ডিয়ানের বক্তব্য অন্যান্য পশ্চিমা বিশ্লেষকের চেয়ে পৃথক তেমন নয়। তবে কেউ-ই আশার আলোকণার সন্ধান দিতে পারেনি। তাই বলা যায়, ২০১১ সাল হবে বিশ্বমানবতার ভাগ্য নির্ধারণের হিসাব-নিকাশের সময়রেখা। এ সময়টিতে যারা ক্ষমতাবান, নেতৃত্বে আসীন তাদের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে মানবজাতি শান্তির পথে, উন্নতির পথে যাবে কি না। অথবা তারা স্বার্থপরদের (করপোরেট শক্তিসহ) ক্রীড়নক হয়ে মানবজাতিকে অবধারিত ধ্বংসের শেষ সীমায় নিয়ে যাবে। [ নয়া দিগন্ত ]

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: