বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং মেক্সিকোকে টপকে দখল করে তিন নম্বর অবস্থান।

পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ তৃতীয় : এখন জরুরি শ্রমিক-মালিক সম্পর্কোন্নয়ন

দেশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক খাতগুলোতে ভাটার টান অব্যাহত থাকলেও অন্তত একটি খাতে আশার আলো ছড়িয়ে শুরু হলো নতুন ইংরেজি বছর। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ পঞ্চম থেকে উঠে এসেছে তৃতীয় অবস্থানে। তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় খদ্দের যুক্তরাষ্ট্রের বাজার দখলের এ সাফল্য নিঃসন্দেহে শুভ সংবাদ। দেশে পোশাক শিল্পে বিরাজমান অসন্তোষ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া মিটিয়ে এই ক্রমোন্নতি ধরে রাখা সম্ভব হলে তা জাতীয় উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে— এমনটি আশা করা যায়।
প্রাপ্ত সংবাদ অনুসারে, গত আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রফতানিতে চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও মেক্সিকোর পেছনে ছিল বাংলাদেশ। এরই মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং মেক্সিকোকে টপকে দখল করে তিন নম্বর অবস্থান। এখন বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে চীন ও ভিয়েতনাম। আশা করা যাচ্ছে, এই প্রবৃদ্ধির মাত্রা সমপর্যায়ে অব্যাহত রাখা গেলে অদূর ভবিষ্যতে ভিয়েতনামকেও ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারদের সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানোসহ পোশাক শিল্পে শ্রমিক সংক্রান্ত সমস্যাবলীর সমাধান করা জরুরি।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের বাণিজ্যিক উইংয়ের পর্যালোচনা মোতাবেক ২০১০ সালের জুলাই-অক্টোবরে বাংলাদেশ প্রায় ১ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করেছে। যা ২০০৯ সালের একই সময়ে রফতানির তুলনায় ২০ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে চীনের রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল ২১ দশমিক ১৫ এবং ভিয়েতনামের ১৭ দশমিক ২৬ শতাংশ। এদিকে গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মাসভিত্তিক রফতানি ৩৫৮ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং পেছনে পড়ে মেক্সিকো। অক্টোবরে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইন্দোনেশিয়াকে অতিক্রম করে। সে সময় বাংলাদেশের ৩৭৪ মিলিয়ন ডলারের রফতানির বিপরীতে ইন্দোনেশিয়ার রফতানি ছিল ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার। নিঃসন্দেহে এই অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। তবে অনেকের মতে, এগিয়ে যাওয়ার এই আনন্দ সংবাদের নেপথ্যে কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে বৈকি। তাহলো বর্তমানে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে সস্তায় যুক্তরাষ্ট্রকে তৈরি পোশাক দিতে পারছে। এই সস্তার ঘাটতি পুষিয়ে নেয়া হচ্ছে পোশাক শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের নামমাত্র মজুরি দিয়ে। এদিকে শনৈ শনৈ এগিয়ে গেলেও দেশে পোশাক শিল্পে ঘোরতর অসন্তোষের আগুন জ্বলছে। গেল বছরজুড়ে দফায় দফায় শ্রমিক আন্দোলনে অস্থির থেকেছে গার্মেন্ট শিল্পাঙ্গন। ন্যায্য মজুরি ও ন্যায়সঙ্গত দাবি-দাওয়া পূরণের জন্য রাজপথে নেমে এসেছে শ্রমিকরা। রাজপথ অবরোধ, কর্মবিরতি, অগ্নিসংযোগ ইত্যাকার গোলযোগে রাজনৈতিক ইন্ধন এবং নাশকতামূলক তত্পরতার কথাও শোনা গেছে। কার্যত তাতে গার্মেন্ট কারখানার মালিকদের ক্ষতির বদলে লাভই হয়েছে। লাভ হয়েছে সুবিধাভোগী মধ্যবর্তী টাউটদের। শ্রমিকদের আদতেই কিছুই হয়নি। দফায় দফায় সমস্যা সমাধানে সরকারও ব্যর্থ হয়েছে। এদিক থেকে বিবেচনা করলে বিদেশে পোশাক শিল্পে রফতানিতে অগ্রগতি এবং দেশে শ্রমিক অসন্তোষ যেন দাঁড়িয়ে আছে একই সমতলে। এটা কাম্য নয়। এখন প্রয়োজন এ অবস্থার সুষ্ঠু সমাধান। যে শ্রমিকের শ্রমে-ঘামে বিস্তৃত হচ্ছে তৈরি পোশাকের বিশ্ববাজার, তা ধরে রাখতে হলে শ্রমিক-মালিক সম্পর্কোন্নয়ন জরুরি। পরিশেষে আমরা পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের উত্তোরোত্তর অগ্রসরমানতাকে স্বাগত জানাই।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: