পুঁজিবাজারে দরপতনে বিক্ষোভ ভাংচুর লাঠিচার্জে আহত ৩০


সাড়ে ৯ মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন : পুঁজিবাজারে দরপতনে বিক্ষোভ ভাংচুর লাঠিচার্জে আহত ৩০


আমার দেশ, Fri 7 Jan 2011

পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতনে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো গতকালও বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ মিছিল ও ভাংচুর চালিয়েছে। বেলা ৩টায় লেনদেন শেষ হওয়ার পর পরই বিনিয়োগকারীরা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ভবনের সামনের সড়ক অবরোধ করে ভাংচুরের ঘটনা ঘটায়। বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ করে। এমনকি বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে ঢুকে বিনিয়োগকারীদের ওপর চড়াও হয়েছে পুলিশ। পুলিশের এমন আচরণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ৬ বিনিয়োগকারীকে আটক করেছে পুলিশ। দেড় ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ শেষে বেলা সাড়ে ৪টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। ব্যাপক দরপতনের কারণে গত বুধবারও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছিল।

গতকাল ঢাকা শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দিয়ে লেনদেন শুরু হলেও ১০ মিনিটের মধ্যেই অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনের কারণে সূচকের ব্যাপক পতন ঘটে। পরবর্তী আধঘণ্টার মধ্যেই সূচক আগের দিনের চেয়ে ৫৭ পয়েন্ট কমে যায়।

এরপর সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও তা খুব একটা স্থায়ী হয়নি। শেয়ারের বিক্রি চাপ বেড়ে যাওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়। বিনিয়োগকারীরা এতে আরও আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। ফলে দ্রুত সূচকের পতন ঘটতে থাকে। পলনদেন পশষে আগের দিনের তুলনায় ডিএসই সাধারণ সূচক কমে যায় ২১৩ পয়েন্ট। এ বছরে এটিই সর্বোচ্চ দরপতন। এর আগে ৩ জানুয়ারি ২০৪ পয়েন্টের পতন হয়েছিল। নতুন বছরে এ নিয়ে টানা চারদিনই শেয়ারবাজারের সূচকের পতন হয়েছে। এ সময়ে ডিএসই সাধারণ সূচক কমেছে ৫৭০ পয়েন্ট। অপরদিকে বাজার মূলধন কমে গেছে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। গতকাল লেনদেনে অংশ নেয়া ২৪৭টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৬টি ছাড়া বাকি ২৩১টির শেয়ারের দরপতন ঘটে।

এরই মধ্যে গত ৮, ১২ ও ১৯ ডিসেম্বরের দরপতনের কারণে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের পুঁজির বড় অংশই হারিয়েছেন। এর মধ্যে গত চারদিনের টানা দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় পড়েছেন। অনেকের এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের রক্ষা করতে সরকারের জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তা না হলে শেয়ারবাজারে ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। দরপতনের পাশাপাশি শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ ব্যাপক হারে কমে গেছে। ৫ ডিসেম্বর শেয়ারবাজারে একদিনে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। এখন লেনদেনের পরিমাণ কমে এসেছে তিন ভাগের এক ভাগে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে মাত্র ৯৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। লেনদেনের পরিমাণ গত সাড়ে ৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ১৯ মার্চ ডিএসইতে সর্বনিম্ন ৯৬৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। বাজারে তারল্য প্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারল্য প্রবাহ বাড়াতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) মার্জিন লোন সুবিধা ১ঃ১.৫ হারে বাড়ালেও মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো গ্রাহকদের এ হারে ঋণ দিতে পারছে না। তারাও বড় ধরনের তারল্য সঙ্কটে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বাজার পরিস্থিতি বিষয়ে বেসরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এলিয়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের এমডি ওয়ালি উল মারুফ মতিন বলেন, পুঁজি হারিয়ে বিনিয়োগকারীরা উপায়ান্তর না দেখে রাস্তায় বিক্ষোভ করছে। কিন্তু এতে কোনো লাভ নেই। তবে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন। সরকার শেয়ার কিনলে বর্তমান সঙ্কট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। দেশের পুঁজিবাজারকে অসম্পূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। বাজার এখনও শুধু ইক্যুয়িটি বেইজড। বন্ড মার্কেট চালু করা যায়নি। ডেরিভেটিভ নেই। এর ফলে বাজারে ঝুঁকি তৈরি হলেও তা থেকে সহজে উত্তরণ সম্ভব হয় না। তিনি বিনিয়োগকারীদের অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এইমস ফার্স্ট বাংলাদেশের এমডি ও বাজার বিশ্লেষক ইয়াওয়ার সাঈদ বলেন, পুঁজিবাজারে এতদিন আইন ভঙ্গ করে অনেকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছিল। ধারদেনা করেও অনেক বিনিয়োগকারী বাজারে ফ্রেশ টাকা নিয়ে এসেছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের কারণে ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে তাদের অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয় করছে। নতুন করে বিনিয়োগও করছে না। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এখনও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে না। ফলে বাজারে শেয়ারের চাহিদা অনেকাংশেই কমে গেছে। এ কারণে বিক্রি চাপ বেড়ে যাওয়ায় শেয়ারের দর সংশোধন হচ্ছে। বর্তমানে শেয়ারের দরপতন হলেও এটি অস্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারই অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়েছিল। এ অবস্থায় বাজারে দর সংশোধন অনেকটাই অনুমিত ছিল এবং তা-ই হচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ার কিনেছেন তাদের উদ্বেগের কারণ নেই। দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগে তারা লাভবান হবেন।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ব্যাপক দরপতনের পর লেনদেন শেষে গতকাল বেলা ৩টার দিকে বিক্ষোভ শুরু করে বিনিয়োগকারী। বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা ডিএসই ভবনের সামনের রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং একটি বাস ও একটি প্রাইভেট কার ভাংচুর করে। পুলিশ বিনিয়োগকারীদের রাস্তা থেকে হটাতে বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ডিএসই ভবনের সামনের মধুমিতা সিনেমা হল ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে ঢুকে এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ব্রোকারেজ হাউসে অবস্থানরত বিনিয়োগকারীরা পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হন। এর আগে শেয়ারবাজারে দরপতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল করলেও পুলিশ কখনো বিনিয়োগকারীদের ওপর এতটা চড়াও হয়নি। কিন্তু গতকাল পুলিশ অনেকটা বেপরোয়া ছিল। পুলিশের এমন ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পুলিশের আঘাতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালে দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিনিয়োগকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুটি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তবে জলকামান আনলেও তা ব্যবহার করা হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আটজনকে আটক করে। তাদের মধ্যে দুজনকে ছেড়ে দেয়া হলেও ছয়জনকে আটক করে মতিঝিল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তারা হলেন—মামুন (২৮), আলী আকবর (৫৫), মোবারক হোসেন (৩০), বাদশা মিয়া (২৮), ফয়সাল আহমেদ (২৪), মাহমুদুল (২৫) ।

বাংলাদেশি পণ্যের গুণগত মানের কারণেই বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বেড়েছে


বিশ্ববাজারে চাহিদা বাড়ছে বাংলাদেশি পণ্যের

জাহিদ হাসান: বিদেশি বাজারগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। পণ্যের গুণগত মানের কারণে বিশ্বঅর্থনীতিতে মন্দা-পরবর্তী গত দুই অর্থবছরে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বমন্দা কাটিয়ে ওঠার পর গত দুই অর্থবছরেই বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো প্রকাশিত চলতি অর্থবছরের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রথম চার মাসের পরিসংখ্যান থেকে এ চিত্র ফুটে উঠেছে।

রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম চার মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি প্রবৃদ্ধি অজির্ত হয়েছে। গত ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধির হার ৩৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের শুধুমাত্র অক্টোবর মাসেই রপ্তানি খাতে এ প্রবৃদ্ধির হার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৯ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি অর্জিত হয়েছে। গত অর্থবছরের অক্টোবর মাসের প্রবৃদ্ধির তুলনায় এ বছরের অক্টোবর মাসের প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি। সম্প্রতি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরিসংখ্যানে এ তথ্য দিয়েছে।
চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরে জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ চার মাসে রপ্তানি খাতে অর্জিত হয়েছে ৬৭২ কোটি ১৪ লাখ ডলার। এ চার মাসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৭৭ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এ প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ৪৮৯ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় এ বছর ৩৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এবছর প্রথম চার মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও এ প্রবৃদ্ধির হার ১৬ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এবারও সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। নিটওয়্যার খাত থেকে ২৮৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে যা প্রথম চার মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় এবছর এ প্রবৃদ্ধির হার ৩৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি। ওভেন গার্মেন্টস খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ২৩৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলার যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানিমুখী এ খাতে এবছর এ প্রবৃদ্ধির হার ৩৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া কৃষিজাত পণ্য রপ্তানিতেও গত অর্থবছরের তুলনায় এ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছে বাংলাদেশ। তবে চা রপ্তানির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। চা রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় এবছর ৬৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম অর্জিত হয়েছে। হিমায়িত খাদ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ২০ কোটি ৮৪ লাখ ডলার রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে যা এবছরের প্রথম চার মাসের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি অজর্নের হার ৩৭ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও গত অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার ৩৯ শতাংশ বেশি অর্জিত হয়েছে। স্পেশালাইজড টেক্সটাইল ও হোম টেক্সটাইলের ক্ষেত্রেও গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় এবছরের প্রথম চার মাসে যথাক্রমে ২৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং ৬৭ দশমিক ০৬ শতাংশ বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। তবে প্রিন্টেড মেটারিয়েল, কাঠজাত পণ্য, কেমিক্যাল পণ্য, ফার্নিচার, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, গ্লাস ও গ্লাসওয়্যার পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় এ অর্থবছরে কম রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো কর্তৃপক্ষ বলছে, বাংলাদেশি পণ্যের গুণগত মানের কারণেই বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক মন্দা-পরবর্তী সময়ে বিদেশি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। পণ্যের গুণগত মান ধরে রাখতে পারলে এ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। [
এখন সময়]

যুক্তরাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি: যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক


যুক্তরাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি: যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক

এখন সময় প্রতিবেদন: দুনিয়া কাঁপানো উইকিলিকসের ফাঁস করে দেওয়া মার্কিন দলিলপত্রগুলোতে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশ সতর্ক।

দলিলগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে গত সাত বছরে মুসলমানদের সংখ্যা ১৬ লাখ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০ লাখে দাঁড়িয়েছে। তাতে বাংলাদেশী মুসলমানদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুসলিম জনসংখ্যার ৭৪ শতাংশই এশিয়ার বিভিন্ন দেশের, যার মধ্যে বাংলাদেশের অবদান ১৬ শতাংশ। মোট মুসলিম জনসংখ্যার ৩৯ শতাংশ এশিয়ায় জন্মগ্রহন করলেও যুক্তরাজ্যে অভিবাসী হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের অবদান ৯ শতাংশ। আর ৪৬ শতাংশ মুসলিম যুক্তরাজ্যেই জন্মগ্রহন করেছে, অর্থ্যাৎ তারা যুক্তরাজ্যের ন্যাচারাল সিটিজেন।
যুক্তরাজ্যে মুসলিম সংখ্যা বৃদ্ধি এই হারে অব্যাহত থাকলে আগামী বছর অর্থ্যাৎ ২০১১ সালে দেশটিতে মুসলিম জরসংখ্যা ২২ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য কোন কোন পরিসংখ্যানে যুক্তরাজ্যে বর্তমান মুসলিম জনসংখ্যা ২৪ লাখ ২২ হাজার বলে দাবী করা হয়।তবে যুক্তরাজ্যে সার্বিকভাবে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়লেও বৃদ্ধির এই হার কম বলে অনেকে মনে করেন। দেশটিতে জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর তালিকায় মুসলিম জনসংখ্যা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে মুসলিম সংখ্যাধিক্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেশ সতর্ক। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের পরিসংখান অনুযায়ী মুসলিম জনসংখ্যা ৭০ লাখ। এ হিসাব কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস এর। এ বছরের হিসাব অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে মোট মসজিদ সংখ্যা ১২০৯ এবং যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বৃহৎ মসজিদটি মিশিগান শহরে অবস্থিত। সম্প্রতি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে গ্রাউন্ড জিরো অর্থ্যাৎ ধ্বংসপ্রাপ্ত টুইন টাওয়ারের অবস্থান যেখানে ছিল সেখান থেকে মাত্র দুই ব্লক পরই যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম মসজিদ তথা ইসলামিক সেন্টার নির্মানের। বিষয়টি মার্কিন সমাজে যারা ইসলামের ঘোর বিরোধী তারা এর আপত্তিতে মুখর। কিন্তু এ সেন্টারের কাজ এগিয়ে যচ্ছে।

২০১০ সালে শতাধিক বাংলাদেশীর মৃত্যু । প্রবাসে ক্রাইম বেড়েছেঃ মৃত্যুর মিছিল


২০১০ সালে শতাধিক বাংলাদেশীর মৃত্যু

প্রবাসে ক্রাইম বেড়েছেঃ মৃত্যুর মিছিল

ঠিকানা রিপোর্টঃ প্রবাসে বাংলাদেশীর সংখ্যা বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিলও। ২০১০ সালে প্রায় শতাধিক বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। যা ছিলো গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি। গত বছর অধিকাংশ বাংলাদেশী মৃত্যুবরণ করেছেন হার্টএ্যাটাকে। তাছাড়া ছিলো বেশ কয়েকটি আলোচিত মৃত্যু। যার মধ্যে ছিলো বেশ কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনা, খুন এবং সুইমিং পুলে পড়ে শিশুর মৃত্যু। অন্যদিকে আমেরিকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মন্দা থাকার কারণে নিউইয়র্ক সিটিসহ আমেরিকায় হেইট ক্রাইমের সংখ্যাও বেড়েছে এবং গত বছর অনেক বাংলাদেশী হেইট ক্রাইমেরও শিকার হয়েছেন। গত বছর শতাধিক মৃত্যুর মধ্যে হার্ট এ্যাটাকে মারা গিয়েছেন প্রায় ৩০ জনের মত। যারা হার্ট এ্যাটাকে মারা গিয়েছেন তারা হলেন- বাংলা একাডেমি পুরষ্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক মোজাম্মেল হোসেন মিন্টু, একেএম শাহাদাত হোসেন সেন্টু, নুরন্নাহার চৌধুরী, মাহবুব হাসান শিমুল, আবুল খায়ের, নূরুল হক, জামাল উদ্দিন হেলালী, আহমেদ কবীর শাওন, আবু তাহের, জুনেদ খান, আলহাজ্ব বসির আহমেদ, ইকবাল হোসেন, হাফিজুর রহমান, মমিনুর আশরাফ, সেলিফা আক্তার, ড· মুশফিকুর রহমান, ডা· আনোয়ার খান, রফিকুল ইসলাম, মাসুদ আহমেদ, লতিফা শিকদার লুনা, মুকিত হোসেন, আব্দুর রশিদ, মনোরঞ্জন দাস। ক্যান্সারে মারা গিয়েছেন- কাজী ফয়সল আহমেদ, সিরাজ খান, মমতাজ বেগম খান বাবলী, মজিদ মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা ড· তৌফিক চৌধুরী, মাসুদ চৌধুরী, নূরুলস্নাহ খান, আহসান হাবিব, ডা· আজগর চৌধুরী, ইশরাত জাহান চৌধুরী, ইয়ানিহুর রহমান, লুৎফুর রহমান। হার্ট এ্যাটাকের পর ক্যান্সারে আক্রান্ত বাংলাদেশীদের সংখ্যা ছিলো বেশি। আলোচিত মৃত্যুর মধ্যে ছিলো মিশিগানে স্ত্রী সুরাইয়া পারভীনের খুনের পর স্বামী আবুল ফজল চৌধুরী খুন হন জেলে। গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন মাহবুব আলম, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন মোখলেসুর রহমান, গলায় চাদর পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, সুইমিংপুলে পড়ে মারা যায় শিশু ওয়াজি উল্যাহ, ট্রেনের ধাক্কায় নিউইয়র্কে মারা যান রশিদ উদ্দিন সুজিব, কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যায় ১৯ বছরের টগবগে যুবক আহমেদ জে, সোহান, জ্যামাইকায় রাস্তা পারাপারের সময় গাড়ি চাপায় মারা যায় ২ বছরের শিশু সামিরা জামান, ঘুমন্ত অবস্থায় নিউজার্সিতে মারা যায় মেধাবী ছাত্র কনিষ্ঠ পাল, জ্যাকসন হাইটসে এপার্টমেন্টের সিঁড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন দীন মোহাম্মদ খান, মিশিগানে আহমেদ কাদিরের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয় বাসা থেকে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন রঞ্জিত বড়ণ্ডয়া। দুবৃত্তের গুলিতে নিহত হন- রফিকুল ইসলাম, রিমন হায়দার, ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ বঙ্। বার্ধক্য বা অন্যান্য কারণে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তারা হলেন- চেরাগ উদ্দিন চৌধুরী, আবু নাসের, দেওয়ান মাসুদ বখত চৌধুরী, রোকেয়া বেগম, আয়শা আক্তার, ডা· খুরশীদ আরা বেগম, সর্দার মোহাম্মদ খলিল উদ্দিন, আলী হায়দার, সৈয়দ আবু হাসান, গিরিশ দেব, সালমা আহমেদ, গোলাপী রাণী পোদ্দার, সালমা আহমেদ, কাজী মেসবাহ উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা কাজী শামসুল আলম, ডা· এ এস মোজাম্মেল হক, নূরুল আমিন, জিয়াউদ্দিন আহমেদ মুকুল, আবুল মনসুর মুনিম, রুহুল আমিন, তজম্মল আলী, ড· সদরুল আহমেদ, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সাবেক সভাপতি ড· রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ আজহারুল হক প্রমুখ।

শর্তহীন একজন, বন্ধু; অতি একান্তে- খুব কাছে পেতেই শুধু অন্যরকম ভাল লাগে


ভাল লাগে

আমার ভাল লাগে লাফিয়ে ওঠা চমকানো বৃষ্টি জলের স্বচ্ছ ফোঁটা
ভাল লাগে অনর্গল জলধারার আধভেজা ছেঁড়া ছেঁড়া বাতাসি ছাঁট;
কেঁপে উঠে ভাল লাগে জলপরদার ওপারের হঠাৎ আলোর ঝলকানি
মাটির গন্ধ আর ঝম ঝম ঝম শব্দ, বড্ড কাছাকাছি ভাল লাগে।

মাতাল প্রকৃতির ক্রমে ভিজে ওঠা আর লজ্জা দেখতে ভাল লাগে
একটু থামা বৃষ্টির ফাকে ছোট্ট পাখির লাফিয়ে খোঁজা ভাল লাগে;
খুব ভাল লাগে ঘাপ্টি মারা ভিজে বেড়ালের বেসামাল হঠাৎ দৌড়,
ভাল লাগে আলসে কুকুরের শীতভেজা চোখের কুঁতকুঁতে চেয়ে থাকা।
 

একটুখানি দরজা খুলে কনকনে ভেজা হাওয়া গায়ে জড়াতে ভাল লাগে
একপাতা আধপাতা দুপাতা তিনপাতা করে প্রিয় লেখা, পড়তে ভাল লাগে;
ইলিশ ইলিশ গন্ধ, ভাজা পোড়া ঝাল ঝাল ভাবনা, কেমন যেন ভাল লাগে
এলমেলো উদাসি জুবুথুবু বসে থাকা আর কবি কবি ভাব ধরতে ভাল লাগে।

ভাল লাগে বেদম আবেশী উষ্ণতায় আধবোজা চোখে ঝিম মেরে চেয়ে থাকতে
কল্পনার বিশাল ডানায় ভর করে ক্রমাগত ভেসে ভেসে উড়ে বেড়াতে ভাল লাগে;
কঠিন ধরনের জটিলদের ঘোলা কাদাগোলা জলের সাথে ভাসিয়ে দিতে ভাল লাগে,
শর্তহীন একজন, বন্ধু; অতি একান্তে- খুব কাছে পেতেই শুধু অন্যরকম ভাল লাগে।

কাজী রহমান ১/৫/২০১১ লস আঞ্জেলেস

লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস নিউজ


লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস এ স্থায়ী কন্স্যুলেট অফিস হচ্ছে



জানুয়ারী ৫, ২০১১: জাহান হাসান, লিটল বাংলাদেশ
  নববর্ষের শুরুতে আমেরিকার পশ্চিম উপকূল বা ওয়েষ্ট কোষ্টের প্রবাসী ও বাংলাদেশী আমেরিকানদের অনেক দিনের আশা-আকাঙ্খা ও সময়ের দাবীর প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষনের সূত্রধরে ৫ সদস্যের এক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধি দল সপ্তাহব্যাপী সফরের শেষে আজ বুধবার লস এঞ্জেলেস ত্যাগ করেন। কন্সাল অফিসে গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে লস এঞ্জেলেসস্থ বাংলাদেশ কন্সাল জেনারেল মুক্তিযোদ্ধা এনায়েত হোসেন লস এঞ্জেলেসএ স্থায়ী কন্সুলেট স্থাপনে নিজস্ব ভবন কিনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সরকারের সদিচ্ছার কথা জানান। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বছরের শুরুতে এই উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিনিধিদল স্থায়ী কন্সুলেট স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে আসেন। এই সফরকালে প্রতিনিধিদল স্থানীয় রিয়েলটরদের সাথে ভূমি ক্রয় সহ প্রবাসীদের কল্যানে কিভাবে নতুন এই কন্সুলেট অফিস সফলভাবে কাজে আসতে পারে সেই সম্পর্কে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করেন। তারা দেশে ফিরে গিয়ে তাদের মতামত ও রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে জমা দিবেন। এই প্রস্তাবিত নতুন লিটল বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল অফিস অফ বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেসএ কন্সাল অফিস, পাঠাগার, কমিউনিটি সেন্টার, প্রার্থনা কক্ষ সহ আরো অন্যান্য সুবিধা থাকবে বলে জানা গেছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, লস এঞ্জেলেসএ গত বছর লিটল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবার পিছনে প্রবাসী ক্যালিফোর্ণিয়াবাসীদের সাথে স্থানীয় কন্সুলেটের উদ্যোগ ছিলো প্রশংসনীয়। এই প্রসঙ্গে গত দুইজন লস এঞ্জেলেসএর প্রাক্তন কন্সুলার জেনারেল জনাব শামসুল হক ও আবু জাফরের কথা পশ্চিম উপকূলের প্রবাসীরা শ্রদ্ধায় স্মরন করে। ক্যালিফোর্ণিয়ার ক্যাল-ট্রান সহ অন্যান্য ফেডারেল ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানে প্রবাসী অনেক স্বনামধন্য ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্টরা কর্মরত আছেন। রিয়েল এস্টেট ও নির্মান শিল্পেও অনেক প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী ওয়েষ্ট কোষ্টে বসবাস করেন। দেশ ও স্বচ্ছতার প্রতিp লক্ষ্য রেখে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কন্সাল জেনারেল ও বাংলাদেশ থেকে আগত ভবিষৎ প্রতিনিধিদলের সাথে আলোচনা করা অতীব জরুরী।
দেশ ও প্রবাসীদের বৃহত্তর স্বার্থে স্থানীয় প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা ও পার্টনারশীপের কোন বিকল্প নাই বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

একজন সর্বোচ্চ ৬০ বিঘা কৃষি জমি ও সর্বোচ্চ ৪০ বিঘা অকৃষি জমির মালিক থাকতে পারবেন।


ভূস্বামীদের তালিকা হচ্ছে

 

একশ বিঘার বেশি জমি ছেড়ে দিতে হবে
০০ ইত্তেফাক রিপোর্ট

ব্যক্তি মালিকানায় একশ’ বিঘার বেশি জমি না রাখা সংক্রান্ত যে আইন রয়েছে তা প্রয়োগ করার সুপারিশ করেছে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। আগামী জুন মাসের মধ্যে যারা একশ’ বিঘার বেশি ভূ-সম্পত্তির মালিক তাদের তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অপরদিকে, ব্যক্তি মালিকানায় ৬০ বিঘার অতিরিক্ত অব্যবহূত কৃষি জমি যাদের আছে তারা জমি দিয়ে কি করবে তা সরকারকে জানাতে হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে জানাতে ব্যর্থ হলে সরকার সে জমি অধিগ্রহণ করবে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে আ,ক,ম, মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকশেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, এসএএন্ডটি অধ্যাদেশ বা জমিদারি অধিকরণ ও প্রজাস্বত্ব আইন-১৯৫০, প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার-৭২ এবং ভূমি অধ্যাদেশ-১৯৮৪ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি একশ’ বিঘার বেশি ভূ-সম্পত্তি রাখতে পারবে না। বহুদিন ধরেই এ সংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না।

তিনি বলেন, একজন সবের্াচ্চ ৬০ বিঘা কৃষি জমি ও সবের্াচ্চ ৪০ বিঘা অকৃষি জমির মালিক থাকতে পারবেন। কেউ এর বেশি ভূ-সম্পত্তির মালিক হলে সরকার তার বাড়তি জমি অধিগ্রহণ করতে পারবে যা সরকারি খাস জমি হিসেবে গণ্য হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই আইন বিদ্যমান থাকলেও আজ অবধি তার যথাযথ প্রয়োগ সম্ভব হয়নি। কমিটি এই আইন কার্যকর করার সুপারিশ করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা বেশি জমির মালিক তারা নিজেদের পছন্দ মতো জায়গা থেকেই একশ’ বিঘা জমি রাখতে পারবেন। তবে অবশিষ্ট জমি সরকারকে অবশ্যই দিয়ে দিতে হবে।

বিপুল পরিমাণ জমি অব্যবহূত থাকায় দেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই আইন কার্যকর হলে বৈষম্য কমে আসবে বলেও মনে করে সংসদীয় কমিটি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আবাসন প্রকল্পের নামে অনেক এলাকার নিচু জমি ভরাট করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসকদের নিচু জমি ভরাট বন্ধ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করতে। সেই সাথে বিভিন্ন এলাকায় দখল হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কমিটির সভাপতি বলেন, বৈঠকে তিনটি সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজধানীতে ৪৩টি খালের জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে রেকর্ড হয়েছে বলে আমরা প্রমাণ পেয়েছি। এর সাথে জড়িতদের খুঁজে করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলের খতিয়ান বিক্রির অনিয়ম ও ময়মনসিংহের ভূমি সংক্রান্ত অপর এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে আরো দুটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

%d bloggers like this: