সিনিয়র সন্ত্রাসীরা যাতে বিপদে না পড়ে সে জন্য পথশিশুদের ঠেলে দেয়া হয় বিপদের মুখে। সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া দুই শিশু অপরাধী এমন তথ্য দিয়েছে।

পথশিশুরা ব্যবহার হচ্ছে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের মেসেঞ্জার হিসেবে

গ্রেফতারে মাঠে পুলিশ

আমিনুল ইসলাম

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দাবিকৃত চাঁদার টাকা সংগ্রহ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে পথশিশুদের। রাজধানীর ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী ডাকাত শহীদ ও কচিসহ বিভিন্ন দাগি সন্ত্রাসীর হয়ে তারা চাঁদার টাকা সংগ্রহ করছে। চাঁদার টাকা সংগ্রহের সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতে পারে এমন আশঙ্কায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বা সিনিয়র সহযোগীদের সেখানে পাঠানো হয় না। সিনিয়র সন্ত্রাসীরা যাতে বিপদে না পড়ে সে জন্য পথশিশুদের ঠেলে দেয়া হয় বিপদের মুখে। সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া দুই শিশু অপরাধী এমন তথ্য দিয়েছে। তারা শীর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত শহীদ ও কচির নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে এসব কিশোর সন্ত্রাসী কখনোই ডাকাত শহীদ বা কচিকে দেখেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাকাত শহীদের শুধু চাঁদা দাবির মেসেঞ্জার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে শতাধিক কিশোরকে। এদের বেশির ভাগই পথশিশু। চাঁদা দাবির পরদিন থেকে ডেডলাইন পর্যন্ত এরা দাবিকৃত ব্যক্তিকে বিভিন্নভাবে রিমাইন্ডার দিতে থাকে। কখনো কখনো সরাসরি, কখনো মোবাইল ফোন বা অন্য কোনোভাবে ওই ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ বজায় রাখে। এরপর টাকা নিয়ে কবে, কোথায় কখন আসতে হবে এবং ওই টাকা কিভাবে দিতে হবে তাও বলে দেয় এ শিশু অপরাধীরা। তবে তারা এসব করে থাকে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডদের নির্দেশনায়।

গত ২৩ ডিসেম্বর ডাকাত শহীদের নামে চাঁদা নেয়ার সময় শ্যামপুর থানা পুলিশ হাসান (১৪) নামে এক শিশুকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। গ্রেফতারের পর হাসান পুলিশকে জানায়, ২৫ ডিসেম্বর অপর একজন চাঁদার টাকা আনতে যাবে। তার এই তথ্য মতে পুলিশ আজিম হোসেন রনজু নামে অপর একজনকে গ্রেফতার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, ডাকাত শহীদের কিশোর অপরাধীর তালিকা আরো বড় হতে পারে। এসব অপরাধীকে গ্রেফতারে কয়েকটি ভাগে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশু হাসান ঢাকার অলিগলি ঘুরে বেড়াত। কাজ নেই, খাবার নেই এমন অবস্থায় চলতে থাকে তার জীবন। এক সময় সায়দাবাদ নামাপাড়ায় মোশাররফ নামে এক ব্যক্তি নিজেই হাসানের সাথে পরিচিত হয়। পরে ওই ব্যক্তি হাসানকে রাস্তায় রাস্তায় পানি বিক্রির কাজ দেয়। দুই মাস আগে মোশাররফ তাকে বলে, ‘আজ আর পানি বিক্রি করতে হবে না। সূত্রাপুর থানার পাশে ক্যাপিটাল হাসপাতালের গেটের সামনে এক ব্যক্তি তাকে এক লাখ টাকা দেবে। ওই টাকা নিয়ে আসতে হবে।’ খবরের কাগজে মোড়ানো এক লাখ টাকা মোশাররফের হাতে তুলে দেয় হাসান। আর এভাবেই শুরু হয় তার অপরাধী জীবন। এরপর নয়াবাজার ব্রিজের পাশে মাজারের গেটের সামনে, পোস্তগোলা ডায়ানা সিনেমা হলের সামনে, পোস্তগোলা কটন মিল গেটের সামনে থেকে একাধিকবার মোট ১০ লাখ টাকা নিয়েছে। হাসান পুলিশকে জানায়, এরপর সে নিজেও ডাকাত শহীদ ও কচির নামে ফোনে চাঁদা দাবি করতে শুরু করে। গত ১২ ডিসেম্বর শহীদ ফারুক রোডের হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী সাত্তারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে হাসান। কিন্তু ওই ব্যবসায়ী চাঁদা না দিয়ে থানায় জিডি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাসান ২৩ ডিসেম্বর দুপুরে আরো পাঁচ-ছয় শিশু সন্ত্রাসীকে সাথে নিয়ে সাত্তারের দোকানের সামনে তাকে খোঁজ করতে থাকে। এ সময় তাকে না পেয়ে কর্মচারীদের মারধর করে দু’টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলে আসে। অবশেষে গত বুধবার পোস্তগোলা ফায়ার সার্ভিসের সামনে ব্যবসায়ী আলী আহম্মদের কাছ থেকে চাঁদার টাকা আনতে গেলে সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। হাসান পুলিশকে জানায়, তার জানা মতে, ডাকাত শহিদ ও কচির নামে চাঁদা সংগ্রহকারী শতাধিক শিশু-কিশোর রয়েছে। এরা কেউ ডাকাত শহীদ বা কচিকে দেখেনি। ওপর থেকে যে নির্দেশ আসে সে অনুযায়ী কাজ করে যায়। এর জন্য মাসিক কোনো বেতন নেই। তবে রোজগার ভালোই হয়।

শ্যামপুর থানার ওসি মিয়া কুতুবুর রহমান চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, হাসানসহ অসংখ্য শিশু অপরাধী রয়েছে যারা ডাকাত শহীদ ও কচিসহ বিভিন্ন শীর্ষ সন্ত্রাসীর চাঁদার টাকা সংগ্রহকারী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এদের কারা ব্যবহার করছে এবং এ টাকা কোথায় যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে অপরাধীদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে পুলিশ মাঠে নেমেছে।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: