ভাবতে ভাল লাগে, গোটা বিশ্বই এখন বাংলা মোড়কে হাজির হচ্ছে!

বাংলায় দেখি বিশ্ব

 

শেখ রোকন

বেশ কিছুদিন ধরে যেভাবে ঘটা করে ঘোষণা দেয়া হচ্ছিল, তাতে করে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের নিয়মিত দর্শকের না জেনে উপায় ছিল না যে বৈশ্বিক সম্প্রচার নেটওয়ার্কটিতে অচিরেই বাংলা বোল ফুটতে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত নভেম্বরের তৃতীয় দিনে সে শুভক্ষণ আছে এবং শুরু হয় বাংলায় সম্প্রচার। স্ক্রিনের নিম্নাংশে মাঝে মাঝেই ঘোষণা দেখা যেতে থাকে- ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এখন ২৪ ঘণ্টা বাংলায়। আপনার কেবল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। যদিও কিছুদিন কিছুদিন চোখের সামনে বাংলায় ঘোষণা আর কানের মধ্যে সেই ইংরেজিই, শেষ পর্যন্ত ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকেরর ‘মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো’।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের মনোরোম চিত্রের সঙ্গে সুমধুর বাংলা যুক্ত হলে কী হয়, তা আর নতুন করে বলার কী আছে? বরং খোদ চ্যানেলটির ব্যাপারে জানা যাক। যদিও প্রতিনিয়ত মানব জাতির ২৫টা ভাষায় ডাবিং হয়ে বিশ্বের ১৪৩টি দেশের ১৬ কোটির বেশি গৃহকোণে পৌছে যাচ্ছে, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের বয়স কিন্তু বেশি নয়। মাত্র ১৩ বছর। নন-ফিকশন ধারার অন্য চ্যানেলগুলো- ডিসকভারি, হিস্ট্রি কিংবা অ্যানিমেল প্লানেট সে তুলনায় ঢের সেয়ানা। তারপরও প্রকৃতি, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও ইতিহাস বিষয়ক নবীন চ্যানেলটির- কেউ কেউ যাকে আদর করে ‘ন্যাট জিও’ ডাকে, এগিয়ে থাকার একটি কারণ বোধহয় তার প্রবীণ মাতৃ-সংস্থার সমৃদ্ধি ও পরিপক্কতা। ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং বিজ্ঞানি আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের মতো নেতৃত্ব বিজরিত বিজ্ঞান ও শিক্ষা বিষয়ক বনেদি সংস্থা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি যখন গবেষণা, প্রকাশনা ও পরিবেশ সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি একটি টেলিভিশন চ্যানেলও চালু করে, তখন তার বয়স ১১০ বছর পেরিয়ে গেছে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ যে তার চমৎকার সব তথ্যচিত্র তা বোধহয় না বললেও চলে। কিন্তু সাফল্যের পেছনে তাদের ব্যবসাবুদ্ধির কথা বলতেই হবে।
ইংরেজিতেই কিন্তুউপমহাদেশে খারাপ করছিল না ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক। কিন্তু আরও জনপ্রিয় করে তুলতে বেশ কয়েক বছরর আগেই ভারতীয় দর্শকের জন্য হিন্দি ভাষায় যাত্রা শুরু করে। তাদের হিসেব ভুল ছিল না। পরের বছর হু হু করে বেড়ে যায় দর্শক। সেই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে তেলেগু এবং এ বছর শুরু হল বাংলায় ২৪ ঘণ্টা চ্যানেল। তবে সে বাংলা যে রাবিন্দ্রীক বাংলা নয়, বলাই বাহুল্য। যেমন বৃহস্পতিবার দেখানো হচ্ছিল ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাইয়ের তথ্যচিত্র। ‘বাংলায়’ ধারা বর্ণনার একটি অংশ- ‘নাইনটিন নাইনটি ফোরে কাশ্মির ভ্যালি থেকে মওলানা মাসুদ আজহারকে এরেস্ট করা হয়’!
তাতে ক্ষতি কি? এমন বাংলা না হলে উপমহাদেশ ‘কাভার’ করবে কীভাবে? ঘরে-বাইরেও কি আমরা হামেশাই এমন বাংলাই শুনছি না। বরং ইতিবাচক দিক ভাবা যাক। বাঘ, সুন্দরবন, নদী কিংবা হেরোইন নিয়ে তৎকালীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আটক মার্কিন তরুণী এলিয়েদার সূত্রে চ্যানেলটিতে ইংরেজি ধারাবর্ণনায় বাংলাদেশ দেখা বাকি ছিল না। ভাবতে ভাল লাগে, গোটা বিশ্বই এখন বাংলা মোড়কে হাজির হচ্ছে!

skrokon@gmail.com

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

One Response to ভাবতে ভাল লাগে, গোটা বিশ্বই এখন বাংলা মোড়কে হাজির হচ্ছে!

  1. ইতিবাচকভাবে ভাবলে এটাকে অগ্রগতি বলা যায়।আর ইতিবাচকভাবে ভাবাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।কারণ আমরা নিজেরাই তো বাংলা এভাবে বলি, প্রমিত বাংলার চর্চার আমাদের মাঝেই তো খুব একটা নেই।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: