বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সংহত করার জন্য এবং দেশের অধিকাংশ মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির অসমাপ্ত লড়াইয়ের সাফল্যের জন্য মওলানা ভাসানীর প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনীতির পুনরুজ্জীবন এখন ভীষণ জরুরি।

মওলানা ভাসানীর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনীতির পুনরুজ্জীবন সবচেয়ে জরুরি

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যু দিবস নভেম্বর ১৭। ১৯৭৯ সালের এই দিনে বাংলাদেশের নিপীড়িত দরিদ্র মানুষের, বিশেষ কৃষকের, সবচেয়ে কাছের মানুষ, মওলানা ভাসানী মৃত্যুবরণ করেন। ভাসানী আমৃত্যু উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার লড়াই করেছেন। লড়াই করেছেন দেশের বিপুল অধিকাংশ মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণমুক্তির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সিপাহসালার।

১৯৪৭ সালে মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগ সরকার নানান গণবিরোধী কাজে লিপ্ত হলে ১৯৪৮ সালে মওলানা ভাসানীই গড়ে তোলেন আওয়ামী মুসলিম লীগ। অর্থাৎ জনগণের মুসলিম লীগ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে, ১৯৫৪ সালে, তারই প্রধান উদ্যোগে স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য গঠন করেন ২১ দফাভিত্তিক যুক্তফ্রন্ট। সে বছরের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লীগের ভরাডুবির পেছনে ভাসানীর ভূমিকাই সর্বোচ্চ। ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগকে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য এ মওলানা ভাসানীই, দলের অপরাপর অনেক নেতার বিরোধিতা সত্ত্বেও, মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নামকরণ করেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করার পর, ১৯৫৬ সালে, যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাভিত্তিক পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে অগ্রাহ্য করলে মওলানা ভাসানীই গর্জে ওঠেন। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে কটাক্ষ করলে একই সালে, এ মওলানা ভাসানীই ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। সোহরাওয়ার্দী ও শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখের মার্কিনপন্থী পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে না আসার প্রতিবাদে ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে ১৯৫৭ সালে গঠন করেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সামরিক শাসন জারি করে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করলে সামরিক শাসনবিরোধী জাতীয় সংগ্রাম গড়ে তোলার জন্য সবচেয়ে সাহসী ও উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন এই ভাসানী। তারই নেতৃত্বে সূচিত সামরিক শাসনবিরোধী সংগ্রাম ১৯৬৯ সালে এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান তৈরি করে সামরিক শাসনের তখতে তাউস কাঁপিয়ে দেয় – যে সংগ্রামের ভেতর দিয়ে উঠে আসে ‘স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব পাকিস্তান’ সৃষ্টি করার রাজনৈতিক স্লোগান। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পরও পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করলে মওলানা ভাসানী জানুয়ারিতে প্রকাশ্যে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন এবং পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা-সংলাপরত শেখ মুজিবুর রহমানকে আপস করার পরিবর্তে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার আহবান জানান।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে তৎকালীন ভারত সরকারের নজরবন্দি থাকা অবস্থায়ও মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগের খন্দকার মোশতাক আহমদপন্থী গ্রুপের আপসবাদী ধারার বিরুদ্ধে সদা তৎপর থাকেন এবং স্বাধীনতাপন্থী নেতৃত্বকে সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করেন। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর থেকে ১৯৭৯ সালে জীবনাবসান পর্যন্ত মওলানা ভাসানী এ দেশের নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে সব সরকারের গণবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সংগ্রাম পরিচালনা করেন।

তার দৈহিক জীবনাবসানের মধ্য দিয়ে তার সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদবিরোধী ক্ষুরধার গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাটি ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সংহত করার জন্য এবং দেশের অধিকাংশ মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির অসমাপ্ত লড়াইয়ের সাফল্যের জন্য মওলানা ভাসানীর প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনীতির পুনরুজ্জীবন এখন ভীষণ জরুরি। [● সাপ্তাহিক বুধবার ]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info,

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: