আমরা এই প্রচারমাধ্যমগুলোকে ব্যক্তিমাধ্যম না বলে গণমাধ্যম বলব?

প্রসঙ্গ গণমাধ্যম : আসলে কোনটি মূলধারা

আহম্মদ ফয়েজ গণমাধ্যমকে বলা হয় সমাজের আয়না, অর্থাৎ সমাজে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠবে এই গণমাধ্যম নামক আয়নাটিতে। গণমানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পারিবারিক চিত্রও প্রকাশিত বা প্রচারিত হতে পারে গণমাধ্যমে।

কিন্তু আমাদের সংবাদমাধ্যমগুলো মূলত নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রচার-প্রপাগান্ডা চালানোর জন্যই ব্যবহৃত হয় বা হয়ে আসছে। অতএব, এখানে প্রশ্ন আসতে পারে তবু আমরা এই প্রচারমাধ্যমগুলোকে কেন ব্যক্তিমাধ্যম না বলে গণমাধ্যম বলব? এই প্রশ্ন হয়তো এর আগেও কারো না কারোর মধ্যে কাজ করেছে, তবে করলেও এখন পর্যন্ত প্রশ্নটি প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।

বর্তমানে গণমাধ্যমকে দুই রকমের নামকরণের মাধ্যমে একটা নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলা হয়েছে। মূলধারার গণমাধ্যম এবং বিকল্পধারার গণমাধ্যম। মূলধারার গণমাধ্যম বলা হয় সেগুলোকেই যেগুলো নানা রকমের সংবাদ পরিবেশন করে তবে এর মূল উদ্দেশ্য থাকে বিশেষ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করা। এই প্রচারযন্ত্রগুলো নিজেদের স্বার্থকে মাথায় রেখে সুবিধামতো অভ্যন্তরীণ নীতিমালা ঠিক করে নেয়। সে কারণে সাংবাদিক এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে গেলে নতুন প্রতিষ্ঠানের নিয়ম, নীতিমালা মেনে তাদের সুরেই কথা বলতে হয়। সে বিবেচনায় এই তথাকথিত মূলধারার গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা হয়ে ওঠেন বাজারের একরকম পণ্য। যে প্রতিষ্ঠান যত বেশি দামে কিনতে পারে সে প্রতিষ্ঠানের কাছেই ধরা দেয় এই পণ্যটি। তবে এর কিছু ব্যতিক্রমও ঘটে। নিজস্ব আদর্শ, চিন্তাচেতনাকেও অনেকে আগলে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যান শেষ পর্যন্ত। অনেকে টিকে থাকতে না পেরে পেশার কাছ থেকে ছুটি নেন এমন ঘটনাও আছে। কথিত এই মূলধারায় এমন বহু ঘটনাই ঘটে যেসব তেমন একটা আলোচনায় আসে না। কারণ সেখানে প্রত্যেকের কাছেই নিজের আখেরে কী হবে, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অপরদিকে গণমাধ্যমের যে অংশটিকে বিকল্পধারার গণমাধ্যম বলা হয়, তারা আসলে সে অর্থে সাংবাদিকতার ধরাবাঁধা নিয়মকানুন মেনে চলে না এবং কোনো কারণেই সেটা মেনে চলার প্রয়োজন বোধ করে না। একরকম অনিয়মতান্ত্রিকতাকে নিয়ম করে গণমানুষের হয়ে কথা বলার চেষ্টা করাটা বা করাই হচ্ছে বিকল্পধারার গণমাধ্যমের প্রধানতম চরিত্র। যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত রাস্তার পাশে মানুষ না খেয়ে না পরে বেঁচে থাকতে বাধ্য হচ্ছে এবং সেটা সব মানুষ প্রত্যক্ষ করছে। সেখানে বিকল্পধারার গণমাধ্যম প্রয়োজন বোধ করে না রাস্তার পাশের এই মানুষের সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরি করে সেটা প্রচার বা প্রকাশ করার। বরং এসব না করে কেন এই মানুষকে না খেয়ে বা না পরে বাঁচতে হয় সেই কারণ বের করে আনাটাই তাদের কাছে মুখ্য। আর এখানে কথিত এই মূলধারার গণমাধ্যম বিভিন্ন রকমের সাক্ষাৎকার প্রচার বা প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে আবেগপ্রবণ করে তোলার মাধ্যমে এড়িয়ে যায় আসল বিষয়টি। তাদের প্রচারিত বা প্রকাশিত প্রতিবেদনে কখনোই মানুষ খুঁজে পায় না আসলে কাদের জন্য আজ এরা রাস্তার বাসিন্দা। এভাবে অনেক প্রকৃত বিষয় বা সত্যকে আড়াল করাই কথিত মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর কাজ। আর আমরা আশাবাদী হই এই ভেবে যত বেশি মিডিয়া আসবে ততই প্রতিযোগিতা বাড়ার কারণে মানুষ একটু বেশিই সত্য জানতে পারবে। আসলে আমাদের এই স্বপ্ন কখনোই সত্য হয়নি, হয় না, হওয়ারও নয়। কারণ এসব গণমাধ্যমের সবার চরিত্রই এক। গণমানুষের স্বপ্ন কিনে নিতে যে কোন সময় এক হয়ে যায় এরা।

প্রশ্ন এখানে স্পষ্ট হয়, যাদের আমরা মূলধারার বলছি, আসলেই কি তারা মূলধারার?

সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ এবং নানা অভাব-অভিযোগের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে যে গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশন করে, অর্থাৎ লোকে যাকে বিকল্পধারার গণমাধ্যম বলে, গণমাধ্যম যদি সত্যিই সমাজের আয়না হয় তাহলে নিশ্চয়ই এই বিকল্পধারার গণমাধ্যমগুলোই আসল ধারার গণমাধ্যম।

তবুও যদি এ বিষয়ে কারো কোনো বিশেষ আপত্তি থাকে, তাহলে বলা যেতে পারে আসলে সাংবাদিকতার ধারা ব্যাখ্যায় সামান্য, তবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসা প্রয়োজন। সেটা হতে পারে মূলধারার গণমাধ্যম (যাদের এখনো লোকে গণমাধ্যম বলে), বিকল্পধারার গণমাধ্যম (যেটি এখনো বিকল্পধারার গণমাধ্যম) এবং নতুন একটি আসতে পারে যার নাম হতে পারে বাণিজ্যিক ধারার গণমাধ্যম। এই বাণিজ্যিক ধারার গণমাধ্যমটির কাজ হবে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রচার-প্রপাগান্ডা চালিয়ে নিজস্ব স্বার্থ হাসিল করা, এতে সাধারণ পাঠকের কিছু যায় আসে না। [ আহম্মদ ফয়েজ ● সাপ্তাহিক বুধবার ]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info,

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: