সব পরিবর্তনই উন্নয়ন নয়, যেমন সব চলাই সামনে এগিয়ে যাওয়া নয়। এ কথাটা আমাদের নাট্যকাররা অনুধাবন করলেই মঙ্গল।

টিভি নাটকে ভাষার ব্যবহার

খু র শী দা হ ক

Bangla Natok

Bangla Natok


ভাষা হচ্ছে মানুষের অনুভূতি প্রকাশের মহত্তম মাধ্যম। শুধু তাই নয়, মানুষের মুখের ভাষার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয় তার চরিত্র, তার বেড়ে ওঠা, তার পারিপার্শ্বিক। কাজেই উপন্যাস, গল্প বা নাটকে বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গে চরিত্রগুলোর মুখের ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ। একটা উপন্যাস, গল্প বা নাটকের সাফল্য নির্ভর করে যেমন তার বিষয় ও উপস্থাপন, তার কলাকুশলী বা চরিত্রগুলোর অভিনয়নৈপুণ্যে, তেমনি ভাষা প্রয়োগে। আমাদের দেশের টেলিভিশন নাটকের ভাষা নিয়ে আজকাল দর্শকমহলে একটা আলোড়ন তৈরি হয়েছে। কারণ সাম্প্রতিককালের নাট্যকাররা কখনও নাটকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষা ব্যবহার করছেন, কখনও তারা ঘরে নিত্যদিনের ব্যবহৃত ভাষা ব্যবহার করছেন, আবার কখনও সংলাপ লিখছেন সমাজে চালু হওয়া উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীদের মুখের ভাষার অনুসরণে। এ কারণেই টেলিভিশন নাটকের ভাষা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে ড্রয়িংরুমে, চায়ের আড্ডায়, ছোট-বড় বিভিন্ন ফোরাম এবং সংবাদপত্রের পাতায়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান টিভি নাটকের সংলাপ ও প্রমিত বাংলা শীর্ষক তার এক লেখায় ইদানীংকালের টিভি নাটকের ভাষা ও সংলাপ নিয়ে আলোচনা করেছেন। বলেছেন, ‘দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে যদি নাটকের নামে অশুদ্ধ বাংলা ভাষার নাটক বছর ধরে চলতে থাকে তাহলে এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা প্রমিত বাংলার বদলে কোন বাংলা শিখবে?’

তার কথার সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করছি। আশির দশকে যখন দেশে একমাত্র জাতীয় টেলিভিশন বিটিভি ছিল, তখন বিটিভিতে যেসব নাটক প্রচারিত হতো, সেসব নাটক এ উপমহাদেশে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। সেসব নাটকে বিষয় বৈচিত্র্য ছিল। সেগুলোতে প্রমিত বাংলার ব্যবহার দেখেছি আমরা। কালেভদ্রে আমরা দু’একটি নাটক দেখেছি, যাতে আঞ্চলিক ভাষার মধ্যে নোয়াখালীর ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া নাটকে যদি চাকর-চাকরানি, নিম্নশ্রেণী বা গ্রাম থেকে আসা মানুষের চরিত্র থাকে তবে তাদের গ্রাম্য বা আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে দেখেছি। বাসায় বাবা মা ভাই বোন নায়ক নায়িকা আত্মীয় স্বজন সবাই প্রমিত বাংলায় কথা বলত। ইদানীংকালে যথেচ্ছভাবে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ঢাকা, পুরান ঢাকা, সিলেট, যশোর, খুলনা এমনকি পাবনার ভাষাও নাটকে ব্যবহৃত হচ্ছে। নাটকে উচ্চবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত সব শ্রেণীর মানুষ, এমনকি স্ড়্গুল-কলেজ ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরাও আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছে। আঞ্চলিক বা গ্রাম্যভাষা শুনতে তাৎক্ষণিকভাবে ভালোই লাগে; কিন্তু এক অঞ্চলের ভাষা অন্য অঞ্চলের মানুষ সহজে বোঝে না। টেলিভিশন তো এক অঞ্চলের মানুষের শোনার বা দেখার নয়- টেলিভিশন সবার জন্য। সবচেয়ে বড় কথা হল, আমাদের আগামী প্রজন্ম ও আজকের তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরী এবং শিশুরা এ ভাষা, এ সংলাপ শুনে শুনে একটা ‘জগাখিচুড়ি’ ভাষা শিখছে। এরপর যখন কর্মজীবনে প্রবেশ করবে, তখন তারা এরকম ‘জগাখিচুড়ি’ ভাষায় কথা বলবে, যা মোটেও শোভনীয় নয়। উচিতও নয়। যদি তাই হতো তবে স্ড়্গুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটির শিক্ষক এবং বিভিন্ন সভা-সমিতিতে বক্তৃতায় লোকজন স্ব স্ব অঞ্চলের ভাষায় বক্তৃতা দিতেন, কথা বলতেন। শিক্ষকটি ঘরে বসে হয়তো গাইয়া ভাষায় (খাইছো, করছে, আমাগো) কথা বলছেন, তিনি কিন্তু তার কর্মস্থলে গিয়ে ওই ভাষায় কথা বলছেন না। তিনি বলছেন, ‘তোমরা এই পড়াটা মুখস্থ করে এসেছো তো?’ ( আনছো তো নয়) বাইরের জগতে এলে সব আঞ্চলিক ভাষা তাদের উচ্চারণগত দূরত্ব কমিয়ে একটা ‘স্ট্যান্ডার্ড’ ভাষায় চলিত, শুদ্ধ, পরিশীলিত, প্রমিত ভাষায় রূপান্তরিত হয়। আর এটাই হওয়া উচিত টেলিভিশন নাটকের ভাষা (ব্যতিক্রম বাদে)। ইদানীংকালের টেলিভিশনে নাটকের আরেকটি প্রবণতা হল আজকাল তরুণ-তরুণীরা যে ভাষায় কথা বলে সেই ভাষাকে নাটকে উপস্থাপন করা। বর্তমানের তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে তুই তোকারি করে কথা বলে। কথা বলার সময় তারা শ্লীলতা-অশ্লীলতার সীমারেখা মানে না। তাদের আচার-আচরণে যেমন উদ্‌ভট পরিবর্তন এসেছে, তেমনি এসেছে ভাষা ব্যবহারে। সে ভাষাটিকেই হাতিয়ার করেছেন নব্য নাট্যকাররা। আমাদের জীবন ও সমাজে তরুণ-তরুণীদের এ ভাষা যেমন সমর্থনযোগ্য নয়, তেমনি টেলিভিশন নাটকেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। একটা কথা বিবেচনায় রাখতে হবে যে, টেলিভিশন এমনই এক গণমাধ্যম, যা সব শ্রেণীর, সব পেশার সব রকম মানুষ দেখে ও শোনে। তাই টেলিভিশনের সম্প্রচার এমন হতে হবে, যা প্রায় সবার অনুসরণযোগ্য হয়।

বাংলাদেশের মানুষ পাশের দেশে ‘বাঙাল’ বলে পরিচিত। নিজেরই অভিজ্ঞতা রয়েছে এ ব্যাপারে। পাশের দেশের এক প্রথিতযশা ডাক্তার ও তার স্ত্রী আমার বাসায় কয়েকদিন ছিলেন। তারা শুদ্ধ বাংলায় কথা বলেন। কিন্তু তারা যতদিন আমাদের বাসায় ছিলেন ভাষা ব্যবহার করেছেন এ ভাবে, কি করতাছো তোমরা? তোমরা কি বাজারে যাইবা? গান শুনবা? খাইবা এখন? উপহাসছলে কথাগুলো বলা হলেও তা ছিল কিছুটা শ্লেষাত্মক। বাংলাভাষার ইতিহাস যদি আমরা খুঁজে দেখি তবে দেখব পৃথিবীতে প্রায় ২৩ কোটি বাংলাভাষী আছেন। বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসাম ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশেও বহু বাংলা ভাষাভাষী রয়েছেন। অঞ্চলভেদে বাংলাভাষা ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়েছে। ভাষাবিদ ড: সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তিনটি প্রধান আঞ্চলিক বা স্থানিক বাংলাভাষাকে চারটি বৃহৎগুচ্ছে ভাগ করেছেন- রাঢ়, বঙ্গ, কামরূপা ও বরেন্দ্র। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অঞ্চলভেদে বিভিন্ন এলাকার মৌখিক ভাষা ভিন্ন ভিন্ন। তবে তারা নদীয়ার মধ্যে পশ্চিম এলাকার ভাষাকে আদর্শ বা স্ট্যান্ডার্ড ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সে ভাষায়ই তারা কথা বলেন, নাটক লেখেন (দু’একটি ব্যতিক্রম বাদে)। আমাদের টেলিভিশনেও এরকমভাবে আঞ্চলিক ভাষার দূরত্ব কমিয়ে ‘এক’ ভাষা- চলিত, শুদ্ধ, মার্জিত ভাষা ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘ভাষা অবতীর্ণ হয়েছে মানুষকে মানুষের সাথে মেলাবার জন্য। যে মিলন নিকটের এবং প্রত্যহের।’ আর এ কাজটা আঞ্চলিক ভাষার মাধ্যমে কখনও সম্্‌ভব নয়। ইদানীংকালের নাট্যকাররা সময়ের পরিবর্তন এবং নাটকে নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলছেন। মানছি, সময়ের পরিবর্তনে মানুষের জীবনযাত্রা, স্টাইল, রুচি, অভ্যাস, চলাফেরা, বসনভূষণ, কথাবলা সবকিছুতেই পরিবর্তন আসে। কিন্তু যে পরিবর্তন আমাদের সামনের দিকে না নিয়ে পেছনের দিকে ঠেলে দেয়, তা গ্রহণ করা সমীচীন নয়। আমেরিকান ঔপন্যাসিক এলেন গ্লাসগো বলেছেন- ‘All changes is not growth as all movements is not forward‘ অর্থাৎ সব পরিবর্তনই উন্নয়ন নয়, যেমন সব চলাই সামনে এগিয়ে যাওয়া নয়। এ কথাটা আমাদের নাট্যকাররা অনুধাবন করলেই মঙ্গল।

খুরশীদা হকঃ সাবেক বার্তা সম্পাদক, বাংলাদেশ টেলিভিশন

অশ্লীল ও উদ্ভট!

সোনালি রুপালি প্রতিবেদক
বাংলা সিনেমার অশ্লীলতা আর উদ্ভটতা নিয়ে কম আলোচনায় হয়নি। দেশ উচ্ছন্নে গেল বলে একটি রব সুশীল সমাজ থেকে উঠেছিল। সিনেমার প্রতি তাদের তীর্যক তর্জনীতে সিনেমার পরিবেশ ভালো হয়ে গেছে বলা যায়। এখন সিনেমায় কোনো অশ্লীলতা বা উদ্ভটতা নেই। কিন্তু সিনেমা থেকে এই অশ্লীলতা-উদ্ভটতা এখন ছোটপর্দায় আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু সুশীল সমাজের তর্জনী কোনো এক রহস্যজনক কারণে মুঠোবন্দি হয়ে রয়েছে। হালে সিনেমায় নায়িকাদের স্লিভলেস ব্লাউজ বা হাঁটুর ওপর পর্যন্ত কাপড় এলাউ করছে না দেশের তথাকথিত সেন্সর বোর্ড। অথচ টিভি নাটকে দেশের অনেক বরেণ্য শিল্পীকেও দেখা যাচ্ছে ভারতীয় সিরিয়ালগুলোর আদলে সাজতে। তরুণী নায়িকাদের প্রায়ই দেখা যাচ্ছে অশালীন পোশাকে। কিন্তু কেন জানি এ নিয়ে কেউ কোনো উচ্চবাচ্য করছে না।
নাটকের সংলাপে এখন এমন সব শোনা যাচ্ছে যা পারিবারিক বিনোদন বলে স্বীকৃত নয়। মদ্যপানের আগে ‘বিসমিল্লাহ’ বলতেও দ্বিধা করছেন না অনেক বরেণ্য নাট্যকার-নির্দেশক। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলেও টিভি পর্দা বলে নীরব থাকতে হবে এমন কোনো সংবিধান তৈরি হয়েছে কিনা সেটাও কারও জানা নেই। নিজে নাটক নির্মাণ করছেন অথচ নাটকের প্রযোজক-পরিচালককে দেখানো হচ্ছে দুশ্চরিত্র, লম্পট হিসেবে। দেখানো হচ্ছে, নাটকের শিল্পীরা এখন রাস্তায় বসে থাকেন কাজের আশায়। বিষয়টি নিয়ে নাট্যাঙ্গনেও কোনো প্রতিক্রিয়া হয়নি। বেশিরভাগ নাটকের সংলাপেই এখন শোনা যাচ্ছে ‘চলিত’ ভাষা (এই চলিত বলতে বোঝানো হয়েছে শিল্পীরা যে যে ভাষায় কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এবং যেসব ভাষা সার্বক্ষণিক সাধারণ মানুষের মুখে শোনা যায়)। সারা বছরই তরুণ এবং নন্দিত অনেক নাট্যকার-নিদের্শকদের নাটকে দেখা গেছে ভাষার মর্যাদাহীন ব্যবহার, বিতর্কিত বিষয়বস্তু এবং অশালীন উপস্থাপনা। হাতে গুনলে এমন নাটকের সংখ্যা ডজন ডজন বের হবে। সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার আশায় একটি শ্রেণী এই উদ্ভটতার দিকেই ছুটেছে বছরজুড়ে। নতুন বছরে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার আশা করেছেন নাট্যজনরা। পাশাপাশি গত এক বছর সুশীল সমাজ বিষয়টিকে হজম করায় হতাশ হয়েছেন সাধারণ দর্শক।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info,

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: