বাংলাদেশের মানুষ গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়েছে। এতে চোখ টাটানোর কারণ দেখি না। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অর্থবিত্তের মালিক হতে দোষ কী?

বিজয়ী জাতি পরাজয় মেনে নেবে না

১৬ ডিসেম্বর। আমাদের বিজয় দিবস। স্বাধীনতা ও মানচিত্র অর্জনের দিন। এমন দিনে অতীত স্মৃতি আপ্লুত করে। বর্তমানের সাথে অতীত মিলিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। ভবিষ্যৎ ভাবনাও ঘিরে ধরে। প্রত্যাশা-প্রাপ্তির অঙ্ক মেলাতে গিয়ে অনেকেরই দুঃখ বাড়ে। অজানা কোনো শঙ্কা এসে মনের ওপর ভর করে। স্বাধীনতা প্রাপ্তির চেয়ে রক্ষার দায়বোধ বেশি এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অজানা শঙ্কা জাগিয়ে দেয়। এক বছর পর আমাদের বিজয়ের চার দশক পূর্ণ হবে। একটি জাতিরাষ্ট্র ও সার্বভৌম দেশের জন্য এ সময়টুকু নেহাত কম নয়। অর্জনের তালিকা বানাতে গিয়ে যারা দুঃখবোধতাড়িত হন, তারা প্রত্যাশার ব্যাপারে অনেক বেশি আশা করেন এমন নয়, বরং আশাহত হওয়ার মতো অনেক ঘটনাই দুঃখবোধ বাড়ায়। অনেক দেশের তুলনায় আমাদের পিছিয়ে থাকার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রবঞ্চনার বিষয়টি তারা মেনে নিতে কষ্ট পান। এই কষ্ট ও দুঃখবোধ থাকাটাই উচিত। দুই কারণে এটি থাকা প্রয়োজন। প্রথমত, তুষ্টিবোধ কিংবা পরিতৃপ্তি মানুষকে ভবিষ্যৎ ভাবনায় বেশি উৎসাহী করে না। অতৃপ্তি ও দুঃখবোধ হতাশার নামান্তর না হলে সামনে চলার জন্য এটি প্রয়োজনও। অপর দিকে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের পিছিয়ে পড়ার দৃশ্য ও অদৃশ্য কারণ অনুসন্ধান করাটাও জরুরি। রোগ চিহ্নিত করা সম্ভব না হলে চিকিৎসা বিফলে যায়। আমাদের সমস্যা হচ্ছে, নীতিনির্ধারকদের কারো মনে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে চলার ভিশন নেই। মিশনও নেই। এমন কোনো ধারণাও কেউ লালন করেন না। তারা বাবার তালুক কিংবা পাঁচসালা লিজের মতো ক্ষমতাচর্চায় ব্যস্ত থাকেন। কোনো মতে জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে ভোটের দায় শোধ করতে চেষ্টা করেন। তাও সম্ভব হয় না। অর্থবিত্ত ও ক্ষমতার মোহ তাদের অন্ধ করে দেয়। ফলে দলের ও নিজেদের স্বপ্ন পূরণ হলেও একটি জাতির স্বপ্ন পূরণের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যায়। সামনে চলার পথটি রুদ্ধ হয়ে যায়। পশ্চাৎপদ চিন্তা গ্রাস করে নেয়। ভবিষ্যৎ ভাবনায় স্বপ্নচারী না হয়ে নেতৃত্ব অতীতচারী হয়ে ওঠে। জাতি বিভক্ত হয়ে পড়ে। বিদেশীরা ‘ভাগ করো, শাসন করো’ নীতির সুফল ভোগ করে।

সব দেশে গণতন্ত্র সব সময় কার্যকর নাও হতে পারে। এটি সব সমস্যা সমাধানের ধন্বন্তরিও নয়। একটা দেশ ও জাতিকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কথিত অধরা গণতন্ত্র যা না জরুরি তার চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার নিশ্চয়তা। জাতীয় ঐক্য ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতা। মানুষের শ্রম ও ইচ্ছাশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর মতো ব্যবস্থা না থাকলে গণতন্ত্র ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যেতে বাধ্য। তাতে দেশপ্রেমও অর্থহীন হয়ে যায়। শাসক শ্রেণীর দুর্বৃত্তপনা জনগণকে দেশপ্রেম উপেক্ষার পথ দেখায়। সুবিধাভোগী চরিত্রের মানুষ ভোগসর্বস্ব পঁুজিতন্ত্রের দিকে ঝঁুকে পড়ে। পঁুজির দাসত্ব মেনে নিয়েও ভোগবাদে ডুবে যায়। তখন জাতীয় সংসদে ‘বোবাবাজদের’ উপস্থিতি বাড়ে। আ স ম রবের মতো লোকরা সংসদ সদস্যদের ‘বোবাবাজ’ মন্তব্য করে দুঃখ ঘোচানোর চেষ্টা করেন। এক সময় এই আ স ম রবই জাতীয় সংসদকে ‘শুয়োরের খোঁয়াড়ে’ বলে মনকে হালকা করতে চেয়েছিলেন। ‘বাতাসে রক্তবারুদ ও ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাওয়া’র মতো সরস মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদেররা সান্ত্বনা খুঁজতে চান। এতে সমস্যার সমাধান হয় না। পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটে না।

আজ যখন বলা হয় ‘দেশ স্বাধীন না হলে যাদের মুদি দোকান করতে হতো তারাই এখন গাড়ি হাঁকিয়ে চলে’ এমন কথা বলে কাদের সিদ্দিকীর মতো মানুষ দুঃখবোধের প্রকাশ ঘটাতেন না, নিজের রক্তক্ষরণের মাত্রাও বাড়াতেন না। এমন বক্তব্যের মাধ্যমে একই সাথে দু’টি বাস্তব চিত্র ভেসে ওঠে। প্রথমত, স্বাধীনতার সুবিধাভোগীদের অবস্থা বোঝা সম্ভব হয়। স্বাধীনতার নামে লুটেরাদের দৌরাত্ম্য স্মরণ করিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, স্বাধীনতাকে ত্যাগের অর্থে না বুঝে শ্রেণিবৈষম্যের ধারায় বুঝতে উৎসাহিত করে। তখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আপ্তবাক্য বলেই মনে হয়। ফলে নিদারুণ কষ্টবোধ এসে ধরা দেয়, দুঃখ বাড়ায়। বিবেক আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, কিন্তু দংশন বাড়িয়ে দেয়।

আমাদের কোনো বুদ্ধিজীবী, রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞানী বর্তমান অবস্থায় সন্তুষ্ট নন। সরকার যায় সরকার আসে, তারাও মন্দের ভালো একটা অবস্থান নেন। কোনো বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেন না। ক্ষমতার কোলবালিশের মতো আচরণ করেন। আমরা যারা বিজয় দেখেছি, স্বাধীনতার রক্তঝরা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছি। সাক্ষী হয়ে আছি নানা ধরনের প্রবঞ্চনা-শোষণ-নির্যাতন-নিপীড়ন ও অপশাসনের। সোনার হরিণসম গণতন্ত্রের জন্য অবিরাম সংগ্রামের ইতিহাসও আমাদের তাড়া করে। আমরা একই সাথে নেতৃত্বের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও নানা ধরনের অপকর্মেরও দুঃসহ স্মৃতিভারে আক্রান্ত। স্বাধীনতার আন্দোলন-সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের কেউ কেউ এখনো জীবিত। অনেক মুক্তিযোদ্ধা এখনো কর্মক্ষম। অনেক নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষ আজো দুঃখদিনের দুঃসহ স্মৃতি লালন করে বেঁচে আছেন। অথচ অনেকের কাছে স্বাধীনতা যেন কষ্টে পাওয়া কোনো বিষয় নয়। শুধুই রাজনৈতিক উত্তরণের ফসল। বাস্তবতা হচ্ছে, কিছু লোক স্বপ্ন দেখলেই স্বাধীনতা ধরা দেয় না। এর জন্য দীর্ঘ প্রেক্ষিত রচনা করতে হয়। জুৎসই প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করতে হয়। পুরো জাতিকে জাগাতে হয়। পুরো জনশক্তিকে সম্পৃক্ত করতে হয়। আজ বিভাজনের রাজনীতির হতাশাজনক অবস্থানে দাঁড়িয়ে যেকোনো দেশপ্রেমিক মানুষ হতাশ হবেনই। কষ্টও পাবেন। আশাহতের মতো বিষয় মনে হবে মহিমান্বিত স্বাধীনতার মতো গৌরবগাথাকেও। আমরা আমাদের সব অর্জনকে বিতর্কিত করে তুলেছি। স্বাধীনতার ঘোষণা ও ঘোষক বিতর্ক আমরাই সৃষ্টি করেছি। সেক্টর কমান্ডার বিতর্কের হোতা আমরাই। মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা বিতর্ক আমাদেরই জন্ম দেয়া। মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা, তালিকা আর জালজালিয়াতির বিতর্ক অন্যরা সৃষ্টি করেনি। হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ বিতর্কও অপনোদন করা হয়নি। অভিযুক্ত ১৯৫ জন যুদ্ধ অপরাধীকে ত্রিদেশীয় চুক্তি বলে জামাই আদরে ছেড়ে দিয়ে এখন যুদ্ধাপরাধী বিচারের রঙ্গ নাটক মঞ্চস্থ করছি আমরাই। বুদ্ধিজীবী হত্যার জন্য এত দিনের জানা ‘কাহিনী’কে চ্যালেঞ্জ করলেন জহির রায়হানের পরিবার। এসব কি বিলম্বিত সত্যের প্রকাশ, না অন্য কিছু! স্বাধীনতার অর্জনপ্রক্রিয়া থেকে সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন পর্যন্ত বিতর্কের পাহাড় সৃষ্টি করা হয়েছে। পৃথিবীর কোনো জাতি-রাষ্ট্র এত বিতর্ক-কুতর্ক ও ভাগ-বিভাজন নিয়ে পথ চলে না। দেশের জনগণকে বিভক্ত করার জন্য বিদেশী মদদে নাচে না।

বাংলাদেশের মানুষ গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়েছে। এতে চোখ টাটানোর কারণ দেখি না। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অর্থবিত্তের মালিক হতে দোষ কী? অথচ আমাদের দেশে লোপাটতন্ত্রের ওপর দাঁড়িয়েছে বেনিয়া-মারোয়াড়ি ২৪ পরিবারের স্থলে ২৪ লাখ পরিবার। অথচ চারদিকে গরিবি হাঁ করে আছে। দারিদ্র্য মুখব্যাদান করে রয়েছে। এখন আদমজী, ইস্পাহানি, বাওয়ানি নেই। আছে দেশীয় রক্তচোষা শোষক ও প্রবঞ্চক, প্রতিবেশীর লুণ্ঠন ও বাজার দখলের প্রক্রিয়া তো আছেই। শ্রেণিবৈষম্যের ভেতর বঞ্চিত মানুষের অধিকার মারাত্মকভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে। এখনো যখন জাতীয় নেতৃবৃন্দ নিয়ে বিতর্ক ওঠে, মৃত নেতারাও যখন চরিত্র হননের শিকার হন, স্বাধীনতার স্থপতিও যখন অভিযুক্তের তালিকায় উঠে আসেন, ঘোষক বিতর্কের সাথে চরমভাবে উপেক্ষিত হন মুক্তিযুদ্ধের নায়ক-মহানায়করা, তখন চার দশকের চড়াই-উতরাইয়ের স্মৃতি মনকে ভারাক্রান্ত না করে পারে না। অতীত জাতীয় নেতাদের কথা বাদ দিলেও বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো সম্মানিত মানুষের মানসম্মান, ইজ্জত-আব্রু সংরক্ষিত নেই। জাতীয় নেতৃত্বের পারিবারিক সম্মান, নোবেল লরিয়েটের ব্যক্তিগত খ্যাতি, সম্মানিত আলেমের মর্যাদা কোনোটাই আক্রমণের টার্গেটের বাইরে নেই। এটা কোনো স্বাধীন জাতির আচরণ হতে পারে না। এর সাথে বিদেশী মদদ পশ্চিমা খবরের কাগজেই প্রকাশিত হয়েছে।

অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের জন্য অন্তত একটা সান্ত্বনা পাওয়া সম্ভব। কিন্তু পুরো জাতিকে বিভক্ত করে রেখে, রাজনৈতিকভাবে একটা জনগোষ্ঠীকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিয়ে, তার স্বাধীন-সার্বভৌম অস্তিত্বকে বিপন্ন করে দেয়া কিভাবে শুভবুদ্ধির বিষয় ভাবা যেতে পারে। অভিযুক্ত আমাদের সিভিল প্রশাসন। দুর্নীতির ধারালো খড়গমাথায় পুলিশ। বিচার বিভাগ নিয়েও নানা প্রশ্ন। একটা রাষ্ট্রের আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ পৃথক অবস্থান থেকে স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে সমন্বিত হয়ে কাজ করে। আজ শাসন বিভাগ তথা নির্বাহী বিভাগ নিয়ে কত কথা। সব ক’টি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হয় বিতর্কিত, নয়তো অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কোনো কোনোটি নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে কত টানাপড়েন। কত দলবাজিই না চলছে। আইন বিভাগের প্রাণকেন্দ্র জাতীয় সংসদ সেটাকে কোনো অর্থেই সক্রিয় ও কার্যকর বলা যাবে না। ‘বোবাবাজ’ বলে গালমন্দ করা হয়তো একটু বাড়িয়ে বলা হলো বাস্তবে এজাতীয় সংসদ আমাদের গণতন্ত্র প্রেমের তাজমহল ছাড়া আর কী? লুই কানের স্থাপত্য নির্দেশনের অনুপম নিদর্শন ছাড়া এর অবশিষ্ট আবেদন এখন কার কাছে আছে? বিচার বিভাগ সম্পর্কে যত কম কথা বলা যায় ততই মঙ্গল। যত কম বিতর্ক তোলা যায় ততই শুভ। কাসুন্দি না ঘাঁটাই ভালো। বড় গলায় বলার মতো আমাদের স্বাধীন কোনো পররাষ্ট্রনীতি আছে এমন ধারণা করার কোনো বাস্তব কারণ আছে কি? দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। জনশক্তি রফতানির অবস্থা নাজুক। রফতানিবাণিজ্যের ধস ঠেকানো দায় হয়ে পড়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ কমতে কমতে তলানিতে এসে ঠেকেছে। পোশাক শিল্প নিয়ে রহস্যঘেরা ‘উপদ্রব’ লেগেই আছে। শোনা যাচ্ছে এ খাতটিকে পঙ্গু করে দেয়ার পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করার ষড়যন্ত্র ষোলো কলায় পূর্ণ হওয়ার পথে। গ্যাসের জন্য হাহাকার। শীতের মৌসুমেও লোডশেডিং। বিদুতের জন্য উৎপাদনের চাকা থেমে আছে। কোন ভরসায় আমরা মিথ্যা ও বাগাড়ম্বরের বেসাতিমাখা একুশ সালের ভিশনের দিকে তাকাব।

জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে রাষ্ট্র। আমাদের মাথাগোনার মতো শতধাবিভক্ত জনশক্তি আছে। তাদের শাসন-শোষণের জন্য পায়ে ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হয়েছে। আমাদের নির্দিষ্ট ভূখণ্ড আছে, তার ওপর রয়েছে শকুনের শ্যেন দৃষ্টি। দৃশ্য-অদৃশ্য, গোপন ও প্রকাশ্য নানা অসম চুক্তির বন্দিদশায় ভূখণ্ড আড়ষ্ট। মানচিত্রের এক-দশমাংশ অশান্ত ও অস্থিতিশীল করার হুমকি এখনো দেয়া হয়। স্বাধীন বঙ্গভূমির দাবি ওঠে প্রতিবেশী দেশের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে। সরকার নিয়ে কথা বলা এখন অর্থহীন। সার্বভৌমত্বকে অসম চুক্তির বেড়াজালে আটকে রাখা হয়েছে। খবরদারির যাঁতাকলে পিষ্ট করার ষড়যন্ত্র সমানে চলছে। যে দেশের জাতীয় নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রশ্নাতীত নয়, যে দেশের পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীন অবয়ব ও আলাদা বৈশিষ্ট্য ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না­ এমন দেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য প্রতিবেশীরা ছলচাতুরি করবেই। প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে বাহানা, সমুদ্রসীমা নিয়ে বিতর্ক আর সীমান্তে পাখির মতো মানুষ মারা তাৎপর্যহীন নয়। সীমান্তে ধান কাটা, জমি কেড়ে নেয়া, এফোঁড়-ওফোঁড় রাস্তা করে করিডোর- ট্রানজিট নেয়া যে দেশে সহজ, এমন বিব্রতকর ইসুতেও সরকার যখন প্রতিবাদ করার সাহস পায় না, তখন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সার্বভৌমত্ব ধারণা নিয়ে আহ্লাদ করার কী আছে!

তাই চার দশকের মাথায় এসে একজন তরুণ যখন আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন আমাদের ভাবতে হয়। আমরা আশা জাগাতে পারিনি। ভরসা জোগাতে পারিনি। অর্থবহ স্বপ্ন দেখাতেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। শুধু তা-ই নয়, অসংখ্য বিতর্কের বেড়াজালে নতুন প্রজন্মকে জড়িয়ে দিয়েছি। তাই হতাশার একরাশ গুমোট ব্যথা নিয়েও বলতে ইচ্ছে করে­ আমাদের মানচিত্রটা থাকা জরুরি। এটা নিরাপদ রাখুন, কাউকে খামচে ধরতে দেবেন না। আমাদের শত ব্যর্থতার মাঝেও নতুন প্রজন্ম সেই মানচিত্রে নতুন আশার চারাগাছ রোপণে অবশ্যই সক্ষম হবে। তাই বিনীত আবেদন, হায়েনার হিংস্র নখর ও থাবা থেকে মানচিত্রটা অন্তত দাগ ও কলঙ্কমুক্ত রাখুন। বিজয়ের দিনে জাতীয় নেতৃত্ব ও সরকারের কাছে এতটুকু মিনতি অবশ্যই করতে পারি। সেই সাথে এটাও স্মরণ করিয়ে দেয়ার দায়বোধ করি­ সরকার ব্যর্থ হয়, জাতি নয়। যে জাতি বিজয় দেখেছে সেই জাতি কখনো পরাজয় মেনে নেবে না। মাসুদ মজুমদার, বিবিধ প্রসংগ, নয়া দিগন্ত[digantaeditorial@gmail.com] জাহান হাসান লিটল বাংলাদেশ লস এঞ্জেলেস একুশ Jahan Hassan ekush los angeles

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: