যে কোনো তারেই তিনি অন্ধের ন্যায় সুরের ঝঙ্কার তুলতেন

বিস্ময়কর মোজার্ট
মাখরাজ খান

মোজার্টের মতো বিস্ময়কর সংগীত প্রতিভা আজো বিরল। সংগীতের প্রতি তার ছিল গভীর অনুরাগ। এখনো সংগীতে মোজার্টের আশ্চর্য জ্ঞান নানাভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হচ্ছে।

মাত্র ৩ বছর বয়সে শিশু উলফগ্যাং অ্যামাদিউস মোজার্ট পিয়ানো বাজাতে শুরম্ন করে। অন্য শিশুদের মতো তারও ছিল সবকিছুর প্রতি অসীম কৌতূহল। তাই শৈশবেই মোজার্টকে সংগীতের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে দুইবার বলতে হয়নি। আসলে তার কান ছিল অতিমাত্রায় স্পর্শকাতর। তাই অনায়াসে ৮ বছরের বালক মোজার্টকে বেহালার তারে সুর তৈরিতে তেমন বেগ পেতে হয়নি।

উলফগ্যাংয়ের পিতা ‘স্ট্রিং কোয়ার্টেট’ বা দুই বেহালায় গীত সংগীত বাজাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। বাড়িতে তিনি একদিন কোয়ার্টেট বাজাতে মনস্থ করলেন; কিন্তু সেদিন অন্য বেহালাবাদক ছিলেন অনুপস্থিত। বদলে ৫ বছর বয়স্ড়্গ তরম্নণ মোজার্ট বেহালাবাদকের স্থলে বহাল হলো। মোজার্ট তখনো কোয়ার্টটেটের সঙ্গে সম্পূর্ণ অপরিচিত। তবুও তিনি একজন পেশাদার বেহালাবাদকের মতোই কোয়ার্টেটে অংশ নিলেন। যেন কয়েক সপ্তাহ রেওয়াজ করেছেন। পুত্রের এমন আশ্চর্য সংগীত পারঙ্গমতায় মোজার্টের পিতা ও উপস্থিত শিল্পীরা চরমভাবে বিস্মিত হলেন; কিন্তু শিশু মোজার্ট প্রায় তাচ্ছিলের সুরে পিতাকে বললো, ‘নির্ঘাত তুমি অন্য বেহালার অনুশীলন ঠিকভাবে করোনি, করেছো কি?’

উলফগ্যাং শৈশবেই পেশাদার সংগীতজ্ঞের মতো সুর তৈরিতে মেতে ওঠে। বিস্ময়কর যে, মাত্র ৫ বছর বয়সে মোজার্ট পিয়ানোতে ২ মিনিটের সুর সংযোজন করে। ৭ বছর বয়সকালে লিখে ফেলে বিখ্যাত ‘সোনাটা’। তারপর মোজার্ট একটি পূর্ণাঙ্গ সিম্ফনি রচনা করে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, তখন তার বয়স মাত্র ৮ বছর।

মোজার্টের পিতার ছিল সংগীতের জগতে অবাধ বিচরণ। স্বভাবতই তাই সংগীতের তীর্থভূমি ইউরোপ ভ্রমণে তার সফরসঙ্গী হন তরম্নণ উলফগ্যাং। গানের আসরে যুবক মোজার্টের মর্মস্পর্শী সুরে ইউরোপের বড় বড় সংগীতজ্ঞরা পর্যন্ত
বিস্ময়াভূত হয়ে যান। মোজার্টের গীত সুরকে মনে হচ্ছিল যেন দ্বৈববাণী। শ্রোতারা সুরের আবেশে বিহ্বল হয়ে পড়ে। কোনো সুর একবার শুনেই তিনি পেশাদার সংগীতজ্ঞের মতো অবিকল বাজাতে পারতেন। মোজার্ট সংগীতে যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে মোটেই ভাবিত ছিলেন না। বরং যে কোনো তারেই তিনি অন্ধের ন্যায় সুরের ঝঙ্কার তুলতেন। মোজার্ট জটিল সুরকেও সহজে আয়ত্তে আনতে পারতেন। তারপর কয়েক ঘণ্টা বা দিনব্যাপী অনুশীলনে অভ্যস্ত<একজন প্রথম সারির শিল্পীর মতো নির্ভুলভাবে বাজাতেন। রোমে একবার পবিত্র সপ্তাহ উদযাপনকালে পোপের গায়কবৃন্দ গ্রিগরিও এলিগরির ধর্মীয় সংগীত 'মিসরিরি' পরিবেশন করে। তখন থেকেই পোপের অনুমতি ব্যতিরেকে বিশ্বের কোনো স্থানে এর প্রদর্শন নিষিদ্ধ ছিল। উলেস্নখ্য, 'মিসরিরি'র একটি মাত্র অনুলিপি রড়্গিত ছিল পোপের ভাৈরে। এরপর পোপ সরকারের এক আদেশে বলা হয়, এ পবিত্রকর্মের কোনো অংশের প্রদর্শন বা পরিবেশনকারী ব্যক্তিকে শাস্তিস্বরূপ ধর্ম সম্প্রদায় থেকে বহিষ্ড়্গার করা হবে। মিসরিরি হলো এক ধরনের সুদীর্ঘ ও জটিল ধর্মসংগীত। মোজার্ট এটি গীতকালে মাত্র একবারই শুনেছিলেন। তিনি ঘরে ফিরে স্মৃতির পুরোটাকেই সংগীতে রূপান্তর ঘটান। পোপ মোজার্টের সংগীত-প্রতিভায় পরম বিস্মিত হন। প্রতিদানে তিনি বালক মোজার্টকে অভিশাপের পরিবর্তে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক 'ক্রস অব দ্য অর্ডার অব দ্য গোল্ডেন স্পার'-এ ভূষিত করেন। ১৭৯১ সালে সংগীত জগতের বিস্ময়কর প্রতিভা উলফগ্যাং অ্যামাদিউস মোজার্টের কর্মমুখর জীবনের সমাধি ঘটে। মোজার্ট তার কর্মময় সংগীতজীবনে বিশ্বের সংগীতানুরাগীদের জন্য রেখে যান ৬০০ অপেরা, নাতিদীর্ঘ অপেরা, পিয়ানো ও স্ট্রিং কোয়ার্টেটের অর্কেস্ট্রা, বেহালার সোনাটা, সেরিনেইডস, মোটেটস, মাসেসসহ অনেক ধরনের ধ্রম্নপদী সংগীত। আজ অব্দি বিশ্বের সংগীতের জগতে অত্যাশ্চর্য ব্যাপার যে এই অতিব্রজ ও মেধাবী মোজার্ট কেবল ৩৫ বছর বেঁচেছিলেন।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info,

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: