দীর্ঘমেয়াদি ব্যথাকে ‘ব্যথা রোগ’ বলা হয় যা একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা

মনোরোগে শরীর ব্যথা

 


ডা. জিল্লুর রহমান রতন
শারীরিক ব্যথা নিয়ে রোগীরা প্রায়ই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। কিন্তু যখন ব্যথার কোনো শারীরিক কারণ, যেমন_ আঘাতজনিত সমস্যা, স্নায়বিক সমস্যা, অস্থি-মাংসপেশির সমস্যা প্রভৃতি কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না তখন এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ব্যথাকে ‘ব্যথা রোগ’ বলা হয় যা একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। সাধারণত এ রোগে শরীরের এক বা একাধিক স্থানে যেমন মাথা, পেট, বুক ও হাত-পাসহ যে কোনো স্থানে মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার ব্যথা অনুভূত হয়ে থাকে। মনো-সামাজিক কারণ এ রোগের উৎপত্তি, তীব্রতা ও দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যা প্রকৃতপক্ষে শরীর ও মনের নিবিড় সম্পর্কের যোগসূত্রকেই নির্দেশ করে। এ ধরনের রোগীরা সুচিকিৎসার অভাবে বারবার চিকিৎসক বদল করেন, তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য চিকিৎসা খরচ বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি পায় ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি হয়।

নারীরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন; কিন্তু ধর্ম-বর্ণ ও সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে যে কেউ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এ রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও বংশগত প্রভাব, শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহ, আর্থ-সামাজিক দুরবস্থা ও অনগ্রসরতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এ ধরনের রোগীর দুই-তৃতীয়াংশের অন্যান্য মানসিক রোগ যেমন বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আতঙ্ক, মাদকাসক্তি ও ব্যক্তিত্বের সমস্যাসহ বিভিন্ন মনোদৈহিক সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবনে কিডনির রোগ ও ব্যথানাশকে আসক্তি হয়ে থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের ওষুধ ব্যথা কমাতে পারে না। রোগীর মনো-সামাজিক ও শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত ইতিহাস, পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্ব্াবধানে পুনর্বাসনমূলক চিকিৎসা আরম্ভ করতে হয়।

এ রোগ চিকিৎসার মূলনীতি হচ্ছে, রোগীর শারীরিক সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে রোগ সম্পর্কে তাকে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া। সে সঙ্গে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল রোগীকে ব্যাখ্যা করে আশ্বস্ত করা। এতে রোগীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কমে আসবে যা চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে কোনোভাবেই যেন শারীরিক সমস্যা নির্ণয়ে অবহেলা না করা হয় বা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। এর সঙ্গে মানসিক রোগের চিকিৎসা চালিয়ে গেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। বিষণ্নতারোধী ওষুধ এ রোগে বেশ কার্যকর। মনো-সামাজিক চিকিৎসা এ রোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। রোগীকে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরিয়ে নিতে বিভিন্ন ধরনের পুনর্বাসনমূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়ে থাকে।
মোনসিক রোগ বিশেষজ্ঞ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: