এমবেডেড ‘বুদ্ধিজীবী’ বা নব্য ঝলমলে সুখী দাসসমাজ : তবে নিছক জীবিকার জন্য নয়, বাণিজ্যের জন্য এবং নির্দিষ্টভাবে করপোরেট পুঁজির দাস হিসেবে নিজের শিক্ষা, মেধা ও সৃজনশীলতাকে ব্যবহার করা বর্তমান বিশ্বে ডিগ্রিপ্রাপ্ত সুবিধাভোগী সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। পুঁজির সঙ্গে বাঁধা ‘মাথাওয়ালা’ এই নব্য দাসসমাজ পুঁজির আন্তর্জাতিকীকরণের সঙ্গে সঙ্গে নিজেও আন্তর্জাতিকীকৃত হয়েছে।

বাংলাদেশের ‘বুদ্ধিজীবী’ ও ‘সুশীল সমাজ’-১

আনু মুহাম্মদ
‘বুদ্ধিজীবী’ শব্দের বিভ্রান্তি : বুদ্ধিজীবী শব্দটির আক্ষরিক অর্থ দিয়ে এমন ব্যক্তিকে বা ব্যক্তিদের বোঝানো হয় যিনি বা যারা বুদ্ধি দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। জীবিকা নির্বাহ করতে বুদ্ধি ব্যবহার করেন না এ রকম কোনো মানুষ নেই, ছিল না। অন্যদিকে শ্রমজীবী বলতে বোঝায় সেইসব মানুষকে, যারা কায়িক শ্রম বা শরীরের মেহনত দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু এমন কী কাজ আছে যেটাতে শরীরের শ্রম লাগে না? বসে বসে যে কাজ সেখানেও কোনো না কোনো মাত্রায় শরীরের কাজ আছে। আবার পেশাজীবী একটা শব্দ দিয়ে বোঝানো হয় তাদের যারা কোনো নির্দিষ্ট পেশায় কাজ করেন। যে কোনো জীবিকা অর্জনের কাজই তো কোনো না কোনো পেশার। তাহলে? তবে একজন লেখক বা অফিসের কর্মচারী পেশিশক্তি যতটা ব্যবহার করেন তার চেয়ে বহুগুণ ব্যবহার করতে হয় একজন মজুরকে যাকে সাধারণভাবে শ্রমজীবী বলা হয়।

তাহলে একভাবে বলা যায় যে কায়িক অথবা মানসিক শ্রমের আপেক্ষিক গুরুত্ব দিয়ে একেকটি নামকরণ করা হয়। কিন্তু সেভাবেও বুদ্ধিজীবী কথার অর্থ ঠিক হয় না। একজন উদ্যোক্তা, অফিস আমলা, ব্যবসায়ীও বুদ্ধি বা মানসিক শ্রম দিয়েই কাজ করেন কিন্তু তাদের বুদ্ধিজীবী বলা হয় না। বুদ্ধিজীবী বলতে বোঝানো হয় সেইসব মানুষকে যারা বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা করেন। এই চর্চার চরিত্র আবার সবার ক্ষেত্রে এক নয়। এর মধ্যেও বড় দুটি ধারা আছে; একটি যারা প্রচলিত বা অধিপতি চিন্তা, মতাদর্শ ধারণ করেন এবং তা ব্যাখ্যার দায়িত্বে লিপ্ত থাকেন। ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত থাকাই তাদের প্রধান ধরন। আরেকটি ধারা অধিপতি চিন্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন, নিজ নিজ বুঝ ও ক্ষমতা অনুযায়ী নতুন চিন্তা ও মতাদর্শ সৃজনে ব্রতী এবং জনগণের মুক্তির লড়াইয়ে নানাভাবে যুক্ত হন।

লেখক, শিল্পী, গবেষক, শিক্ষক-সবাইকে সাধারণভাবে এই কথিত বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়। কিন্তু এ রকম পেশায় থাকলেই কেউ বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত হবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবার এসব পেশায় যুক্ত না থেকেও কেউ সৃজনশীল বা মননশীল কাজে যুক্ত থাকতে পারেন। তাই বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা, মতগঠন, মতাদর্শ গঠন বা ভাঙন, শিল্পচর্চা এসব কাজ যে সব সময় জীবিকা তা নয়। বরঞ্চ অনেক ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় মতাদর্শিক অবস্থানের কারণে অনেকের জীবিকাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই কারণে ‘বুদ্ধিজীবী’ শব্দটি, অর্থ বিবেচনায়, বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই এককভাবে বিদ্বজ্জন এবং সামষ্টিকভাবে বিদ্বৎসমাজ শব্দ দুটি বরং যা বোঝানো হয় তার কাছাকাছি।

এমবেডেড ‘বুদ্ধিজীবী’ বা নব্য ঝলমলে সুখী দাসসমাজ : তবে নিছক জীবিকার জন্য নয়, বাণিজ্যের জন্য এবং নির্দিষ্টভাবে করপোরেট পুঁজির দাস হিসেবে নিজের শিক্ষা, মেধা ও সৃজনশীলতাকে ব্যবহার করা বর্তমান বিশ্বে ডিগ্রিপ্রাপ্ত সুবিধাভোগী সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। পুঁজির সঙ্গে বাঁধা ‘মাথাওয়ালা’ এই নব্য দাসসমাজ পুঁজির আন্তর্জাতিকীকরণের সঙ্গে সঙ্গে নিজেও আন্তর্জাতিকীকৃত হয়েছে।

ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের সময় ‘এমবেডেড জার্নালিস্ট’ পরিচয়টি বিশ্বব্যাপী প্রচার লাভ করে। এর দ্বারা দখলদার মার্কিন সেনাবাহিনী ও তাদের প্রচারব্যবস্থার সঙ্গে বাঁধা সাংবাদিকতা বোঝানো হচ্ছিল। এ রকম সাংবাদিক তৈরি ও লালনপালনের কারণ কী-এ রকম এক প্রশ্নের উত্তরে এক মার্কিন জেনারেল বলেছিলেন, ‘সত্যি বলতে কি আমাদের দরকার যুদ্ধজয়। এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো তথ্যের যুদ্ধ। সুতরাং তথ্যের সব ক্ষেত্রের ওপর আমাদের আধিপত্য নিশ্চিত রাখবার জন্যই আমরা এই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ বলাই বাহুল্য, এ রকম এমবেডেড গোষ্ঠী শুধু সাংবাদিকতা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই।

দখলদার মার্কিন বাহিনীর যেমন ছিল এমবেডেড জার্নালিস্ট তেমনি তার সহযোগী দখলদার বহুজাতিক পুঁজির আছে এমবেডেড কনসালট্যান্ট, এমবেডেড এক্সপার্ট, এমবেডেড রাইটার, এমবেডেড ফিল্ম মেকার, এমবেডেড মিডিয়া, এমবেডেড সিভিল সোসাইটি বা ‘সুশীল’ সমাজ। একইভাবে একচেটিয়া বা বহুজাতিক পুঁজিও তাদের আধিপত্য নিশ্চিত করবার জন্যই নানা ধরনের মত নির্মাণের গোষ্ঠী তৈরি ও লালনপালন করে। এই শেকলে বাঁধা ‘বুদ্ধিজীবীরা’ শিল্পচর্চা, বুদ্ধিচর্চা, গবেষণাচর্চা করেন পুঁজির চাহিদা অনুযায়ী, তাদের ভাড়াটিয়া হিসেবে। বহুজাতিক পুঁজি, সংস্থা ও বাহিনীর জোরে এদের যে দাপট তাতে শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতিজগতে প্রকৃত শিক্ষাবিদ, গবেষক আর শিল্পী সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রান্তিক হয়ে পড়েন।

এখন বাণিজ্য আর পুঁজির আধিপত্য বিস্তারে নিয়োজিত আছে বিশ্বের বহু নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয়, থিঙ্কট্যাঙ্ক, ফাউন্ডেশন। শিক্ষা আর গবেষণায় তহবিল জোগানের মাধ্যমে, স্পনসরড শিল্পচর্চার বিস্তারের মাধ্যমে সংযোগসূত্র তৈরি হয়, দাস-আকাঙ্ক্ষা জোরদার হয়, আপন জগৎ পরের দখলে যায়। বিশ্বব্যাপী পুঁজির ক্রিয়ার সহযোগী হিসেবে এই এমবেডেড গোষ্ঠীও নানা মাটির নানা ভাষা আর পোশাকে জন্মায়, কিন্তু ধারণ করে পুঁজির অভিন্ন বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি আর অবতীর্ণ হয় অভিন্ন ভূমিকায়।

মধ্যবিত্তের শেকড় ও শৃঙ্খল : বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তির এই দুই ধারা প্রধানত মধ্যবিত্তের মধ্যেই বিকশিত হয়। সমাজের অন্যান্য অংশের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা অনুপস্থিত তা নয়, তবে প্রাতিষ্ঠানিক বা পেশাগত আনুকূল্য, অবস্থানগত সংশয় আর দোলাচল মধ্যবিত্ত সমাজের মধ্যেই সৃজনশীল বা মননশীল কাজের মানুষ আশ্রয় করে বেশি কিংবা বিদ্যমান ব্যবস্থায় তা নজরে পড়ে বেশি। বাংলাদেশের বিদ্বৎসমাজের দেহ ও মন বুঝতে গেলে অতএব এই মধ্যবিত্তের গঠন ও গতিশীলতা দেখা দরকার।

একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে ‘মিডল ক্লাস’ ধারণা এবং তার পরিচয় আমরা পাই ইউরোপে, ফরাসি বিপ্লবেরও আগে থেকে। এই জনগোষ্ঠী হলো ভূস্বামী, সামন্তপ্রভু এবং রায়ত কৃষকের মাঝামাঝি মানুষ। ইউরোপে সামন্তবাদী ব্যবস্থা যত ক্ষয় ও ভাঙনের দিকে যেতে থাকে ততই এই জনগোষ্ঠীর অবয়ব স্পষ্ট হয়, আয়তনও বাড়ে। ফরাসি ভাষায় এদের বলা হতো বুর্জোয়া। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছিলেন প্রধানত ব্যবসায়ী, কারিগর, পরে আরো যোগ হন ব্যাংকার এবং উদ্যোক্তা। এই জনস্তরেই আরো ছিলেন লেখক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, দার্শনিক বা বিদ্বৎসমাজ। সামন্তবাদী অভিজাততন্ত্রী এবং ধর্মতন্ত্রী সমাজ রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরোধী যে রাজনৈতিক দার্শনিক লড়াই চলছিল সেখানে এই শ্রেণীটির ভূমিকা ছিল নেতৃস্থানীয়।

ইউরোপে সপ্তদশ শতক থেকেই ‘ঐশ্বরিক’ রাজশক্তি এবং অভিজাততন্ত্রের বংশানুক্রমিক আধিপত্যবিরোধী জনমত সংহত হতে থাকে। বিজ্ঞানের নানা আবিষ্কার, দার্শনিক নতুন জোয়ার এবং পুরনো ব্যবস্থার ভাঙন এই জনমতকে ক্রমে একটি রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করে। ইংল্যান্ডে রাজনৈতিক ভারসাম্যের পরিবর্তন, অষ্টাদশ শতকে ফরাসি বিপ্লব, ঔপনিবেশিক অবস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সমাজ ইতিহাসে এবং চিন্তাজগতে এক নতুন পর্বের সূচনা করে। সেখানে ঐশ্বরিক বিধানের স্থানে মানুষের অস্তিত্ব আর মানুষের কর্তৃত্ব সাধারণভাবে স্বীকৃত হয়। অভিজাততন্ত্র, ধর্মতন্ত্র, ঐশ্বরিক ক্ষমতার সঙ্গে রাজক্ষমতা যুক্ত করে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি খর্ব হতে থাকে।

উনিশ শতকে পুঁজিবাদের বিকাশ ও উৎপাদন ক্ষেত্রে যান্ত্রিক ব্যবহার বৃদ্ধি পরস্পরকে শক্তি জুগিয়েছে। নগরের বিকাশ সে সময় দ্রুততর হয়। নগরকেন্দ্রিক তৎপরতা বৃদ্ধি পায়, সমাজে অনেক স্তর ও পেশার জন্ম হয়, আয়েরও বিভিন্ন স্তর দেখা যায়। পুরনো সামন্ত শ্রেণীর ভাঙন ঘটে এবং বুর্জোয়া শ্রেণী ক্রমে হয়ে ওঠে ‘উচ্চ শ্রেণী’ অর্থাৎ সর্বোচ্চ সম্পত্তি মালিক শ্রেণী। আদি ধারণার যে মধ্যবিত্ত সেই বুর্জোয়া শ্রেণীর বিত্তের দিক থেকে উচ্চ পর্যায়ে গমন এবং সামাজিক অবস্থানের দিক থেকে শাসক শ্রেণীর ভূমিকায় আসীন হওয়ার ফলে গোটা সামাজিক বিন্যাস এক নতুন পর্বে প্রবেশ করে।

এরপর থেকে মধ্যবিত্ত হিসেবে তারাই অভিহিত হতে থাকে যাদের আরেক নাম পেটি (ক্ষুদে) বুর্জোয়া শ্রেণী। এই জনগোষ্ঠী শ্রমিক নয়, আবার মালিক হিসেবেও তেমন কিছু নয়। তবে এদের জীবন-জীবিকা বুর্জোয়াজগতেই, মানসিকভাবে তারা সেই শ্রেণীর ভাব ও ভাষাই ধারণ করে। সাধ থাকে সে রকমই কিন্তু সাধ্য থাকে না। সংকট, সংশয় আর দোলাচলের উৎস সেখানেই। আবার এদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে সবার নিচে পিষ্ট মানুষেরও, যারা সমাজে সংখ্যাগরিষ্ঠ। এদের প্রতি মধ্যবিত্ত বরাবর বিরূপ তবে এই যোগাযোগ মধ্যবিত্তের কাউকে কাউকে নিজের বদ্ধঘর থেকে বেরিয়ে দুনিয়া দেখার চোখ দেয়। সেখানেই সৃষ্টি হয় নতুন মানুষ, মুক্ত মানুষ। এই টানাপোড়েন নিয়ে বিদ্বৎসমাজও গড়ে ওঠে।

ইউরোপের সেই পুঁজিবাদ বিশ্বের বাকি অঞ্চলে হাজির হয় ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবে। তার দরকার হয় এই অঞ্চলগুলোতে নিজের প্রয়োজনমতো ভাঙচুর ও নির্মাণ। দরকার হয় প্রয়োজনমতো অতীত রক্ষণ ও নিজের আরদালি একটি ‘ভদ্রলোক’ শ্রেণী তৈরি যারা ভক্তি, দাসত্ব ও স্মার্টনেসের অভূতপূর্ব সমন্বয় নিয়ে গড়ে উঠবে। ভারত এবং বাংলায় তাই গড়ে উঠেছিল। তাদের উত্তরসূরিরাই পূর্বসূরির ছায়ায় বেড়ে উঠেছে। বলা দরকার, এই ঘটনাটা একরৈখিক হয়নি। এখানেও গড়ে উঠেছিল কেউ কেউ ভিন্ন মানুষ।

বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের শেকড় অনুসন্ধানে তাই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনই পাওয়া যায় প্রত্যক্ষভাবে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আগে এই অঞ্চলের যে জনবিন্যাস তাতে মধ্যবিত্ত বলে স্থির কোনো জনগোষ্ঠী পাওয়া যায় না। সেই শাসনের মধ্য দিয়ে মধ্যবিত্ত গোষ্ঠী গঠনের বড় কারণ হচ্ছে সেই শাসন পুঁজিবাদকেই প্রতিনিধিত্ব করছিল। আর মধ্যবিত্ত আসলে আধুনিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থারই একটি জনস্তর। সে বিষয়ে এখানে শুধু এটুকু বলা যায় যে, ব্রিটিশ শাসনে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, প্রশাসনিক প্রয়োজনে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন পেশা গঠন, প্রথমে শাসক কোম্পানি পরে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিতভাবে কেরানি, সওদাগর গোষ্ঠীর আবির্ভাব, শিক্ষক, সাংবাদিক, উকিল জনগোষ্ঠীর সম্প্রসারণ ইত্যাদি একটি শহুরে মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী গঠন করেছিল।

বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে এর মধ্যে প্রধানত ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ। সে কারণে উনিশ শতকে বাংলায়, বিশেষত তার কেন্দ্রে যে বিপুল লেখালেখি, প্রকাশনা, নতুন চিন্তা, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও আন্দোলন দেখা যায় তাতে মুসলমানের অংশগ্রহণ ছিল খুবই কম। ক্রমে মুসলমানের মধ্যে শিক্ষার বিস্তার তাদের নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে। পরকালের চেয়ে ইহকালে নিজেদের অবস্থান নিয়ে তাদের মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। হিন্দুদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার বোধ তৈরি হয়। ব্রাহ্মণ্য আধিপত্য থেকে বের হওয়ার জন্য নিজের পরিচয় নির্দিষ্ট করবার তাগিদ তৈরি হয়। বৈষম্য-নিপীড়ন ব্যাখ্যা ও তার অবসানের শ্রেণী রাজনীতিকে সরিয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে হিন্দু নিপীড়কের মুখোমুখি দাঁড়ায় মুসলমানদের একটি প্রভাবশালী অংশ। মুসলমান বৃহৎ সম্পত্তিমালিক আর মধ্যবিত্ত এই অবস্থানেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।  ক্রমে এ থেকে এই অঞ্চলের মুসলমানের রাষ্ট্রচিন্তা এবং পাকিস্তান আন্দোলন।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: