ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এদেশের তৈরি পোশাকের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে

তৈরি পোশাকের নয়াবাজারে ঢুকতে পারছে না বাংলাদেশ

ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি, উরুগুয়ে, পর্তুগালসহ ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দারুণ চাহিদা। একই অবস্থা আফ্রিকার কয়েকটি দেশে। তবে এসব দেশের নতুন বাজারে ঢুকতে পারছেন না দেশের তৈরি পোশাকের উদ্যোক্তারা। সরকারি পর্যায়ে নানা জটিলতা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস না থাকায় এ সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের সবচেয়ে বড় রফতানি আয়ের খাত তৈরি পোশাক শিল্প। এ শিল্পের বাজার প্রতিনিয়তই বাড়ছে। দেশের রফতানি আয়ের প্রায় ৭৮ শতাংশই আসে এ খাত থেকে। মূলত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি রফতানি হচ্ছে। সাড়ে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এ শিল্পটি বাজার সম্প্রসারণের জন্য নানা উদ্যোগ নিলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস অথবা কাউন্সিলিং সেন্টার না থাকায় উদ্যোগগুলো কাজে লাগছে না।
এদিকে পোশাক শিল্পের নতুন বাজার খুঁজতে গিয়ে গত বছর বিজিএমইএর একটি প্রতিনিধি দল ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি, উরুগুয়ে, পর্তুগালসহ ল্যাটিন আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করে। এ ভ্রমণের ফলাফল হিসেবে সম্প্রতি শেষ হওয়া বাটেক্সপো মেলায় উপরোক্ত দেশগুলোর ক্রেতাদের অংশগ্রহণ এবং এদেশ থেকে তারা পোশাক কেনার জন্য স্পট অর্ডারও দিয়েছেন।
এবারের বাটেক্সপো মেলায় মোট ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের স্পট অর্ডার পেয়েছেন এদেশের পোশাক শিল্প মালিকরা। পাশাপাশি আরও ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু অর্ডার পেলেও সেসব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস বা কাউন্সিলিং সেন্টার না থাকায় রফতানি কার্যক্রম দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে না।
যেসব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস রয়েছে সেসব দেশে বাণিজ্যিক কর্মকর্তা না থাকায় রফতানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে অনেক সময় লেগে যায়। ফলে বাংলাদেশকে প্রতি বছরই কোনো না কোনো বায়ার হারাতে হচ্ছে।
বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ১৯৩টি দেশের মধ্যে মাত্র ৩৯টি দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস অথবা কাউন্সিলিং সেন্টার রয়েছে।
একদিকে নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ শিল্পকে যতই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বিজিএমইএ, অন্যদিকে সরকারের কূটনৈতিক পর্যায়ে জোর লবিংয়ের অভাবে বিশেষ করে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে দূতাবাস না থাকায় দেশগুলোতে পোশাক রফতানি করতে পারছেন না রফতানিকারকরা। ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এদেশের তৈরি পোশাকের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে বলেও জানিয়েছে বিজিএমইএর একটি সূত্র।
এশিয়ার অনেক দেশে দূতাবাস থাকলেও বাণিজ্যিক পরামর্শক না থাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও কয়েকটি দেশেও পোশাক রফতানির অর্ডার পেয়েছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। কিন্তু দ্রুত ভিসাপ্রাপ্তি এবং দূতাবাসগুলোতে বাণিজ্যিক লবিস্ট না থাকার কারণে খুব সহজে রফতানি করতে পারেছেন না পোশাক শিল্প মালিকরা।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় করতে পারবে এ দেশ। ফলে দেশের অর্থনীতি আরও মজবুত হবে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক আশার কথা শুনিয়েছেন; কিন্তু এখনও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ আমাদের চোখে পড়েনি।
তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলিসহ দক্ষিণ আফ্রিকায় বাজার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এ বাজার ধরে রাখার জন্য এবং সম্প্রসারণের জন্য ব্যবসায়ীদের সে দেশগুলোতে যেতে হয়। কিন্তু আমরা তা পারছি না। ফলে বাজার সম্প্রসারণ হচ্ছে না।
বাংলাদেশ নিটঅয়্যার মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এ বিষয়ে গতকাল আমার দেশকে বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার পর যেমন ইউরোপ-আমেরিকায় তৈরি পোশাকের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি নতুন বাজারও তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আফ্রিকার অনেক দেশ আছে যেসব দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক তৃতীয় কোনো দেশ থেকে রফতানি হচ্ছে; কিন্তু এ সুযোগ বাংলাদেশ নিতে পারছে না।
আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info,

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: