সারাবিশ্বের পত্রপত্রিকা ও নিউজ এজেন্সিগুলো উইকিলিকসের ফাঁস করা তারবার্তাগুলো প্রকাশ করছে। জনগণের স্বার্থেই এসব প্রকাশ করা হচ্ছে। বেশির ভাগ পশ্চিমা নেতাই উইকিলিকসের তথ্য ফাঁস ঘটনার নিন্দা করলেও, এমনকি এগুলো মানুষের জীবন বিপন্ন করবে বলে ঘোষণা দিলেও নিজ নিজ মিডিয়াকে এসব তারবার্তা প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন না।

উইকিলিকস মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনবে?

wikileaks

wikileaks


ও সা মা আ ল শ রী ফ
“Could become as important a journalistic tool as the Freedom of Information Act.” – Time Magazine…<<উইকিলিকসের ওয়েবসাইট

এ সপ্তাহে উইকিলিকসের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের গুরুত্বপূর্ণ লাখ লাখ তারবার্তা ফাঁস হওয়ার ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ, বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, অন্য দেশের সঙ্গে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়কে কিভাবে দেখেন, তা এসব তারবার্তার মাধ্যমে গোটা বিশ্বের কাছে উন্মোচিত হয়ে গেল। কূটনীতির দুনিয়া সম্পর্কে এতদিন যে সাধারণ ধারণা ছিল, তা উইকিলিকস কেলেংকারির ধাক্কায় বদলে যাবে। ১৯৬৬ থেকে ২০১০- প্রায় সাড়ে চার দশকে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে বিশ্বের ২৭৪টি মার্কিন দূতাবাস, কনসুলেট অফিস ও কূটনৈতিক মিশনের মধ্যে যেসব তারবার্তা চালাচালি হয়েছে, তারই বিশাল ভাণ্ডার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে উইকিলিকস। এত বড় তথ্য ফাঁসের ঘটনা এর আগে ঘটেনি। ক’দিন আগে ইরাক যুদ্ধের কিছু দলিল ফাঁস করেছিল উইকিলিকস। এ নিয়েও হৈচৈ হয়েছে। তবে উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ওদের কাছে যত তথ্য আছে তার আকার ইরাক যুদ্ধের দলিলের চেয়ে সাত গুণ বেশি। এসব তারবার্তা নিঃসন্দেহে অস্বস্তিতে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে। সেই সঙ্গে তার মিত্রদের জন্যও বিষয়টি বিব্রতকর। কিন্তু এর চেয়েও বড় কথা হল, এ তথ্য ফাঁসের ঘটনা কূটনীতি জগতেও পরিবর্তন আনবে। বিভিন্ন দেশের সরকার বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবে, সে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাববে।

বিভিন্ন দেশের মধ্যে কূটনৈতিক কার্যক্রমের শুরু কয়েকশ’ বছর আগে। প্রতিটি দেশের পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এর মাধ্যমে শুধু বন্ধু নয়, শত্রুদের সঙ্গেও খোলাখুলি আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক আলোচনা, বোঝাপড়া বা তথ্য আদান-প্রদানের মতো বিষয়গুলো জনগণের কাছ থেকে আড়াল রাখাই হল নিয়ম। সরকারগুলো জনগণকে কূটনীতির টেকনিক্যাল টার্ম প্রয়োগ করে নিজেদের মতো করে সবকিছু বোঝায়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব বক্তব্যের সত্যতা খুবই কম।

এই যে কূটনীতির জগৎ নিয়ে এত লুকোচুরি, কূটনৈতিক কার্যক্রমের ওপর ভারি একটা পর্দা ঝুলিয়ে একে চিরতরে জনগণের আড়ালে রাখার চেষ্টা- উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় এ জগৎটাই উন্মুক্ত হয়ে গেল। গত দুই দশকের ডিজিটাল বিপ্লবের ফলেই এটা সম্্‌ভব হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য নীতির ওপর এ ঘটনার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বুদ্ধিবৃত্তিক ও আইনগত কাঠামোর মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে এর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং এ নিয়ে বিতর্ক চলবে। আর এসবের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনা আরও ঘটতে থাকবে।

তবে এ মুহূর্তে যে ক্ষতিটা হয়ে গেছে তা সারানো জরুরি। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে বন্ধু ও মিত্র রাষ্ট্রগুলোর কাছে দৌড়াতে হবে। বিশেষ করে উইকিলিকসে প্রকাশিত কিছু তারবার্তায় যেসব বন্ধুরাষ্ট্রের নেতা সম্পর্কে মার্কিন নেতারা অযাচিত মন্তব্য করেছেন, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রাখতে হবে। আবার তাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আস্থা ফিরিয়ে আনতেও কাজ করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। কারণ অনেক দেশ বা সংস্থা সম্পর্কে মার্কিন নেতারা বিব্রতকর মন্তব্য করেছেন, এমনকি কোথাও কোথাও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিপজ্জনক কিছু নীতি গ্রহণের কথাও প্রকাশ পেয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের মার্কিন কূটনীতিকরা গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সম্পর্কে তাদের মন্তব্য ও তাদের চরিত্রহননের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিব্রত হবেন। আবার কেউ কেউ বুঝে নেবেন যে বিশেষ কিছু এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জায়গায় তাদের সমঝোতা করতে হবে। বিশেষ করে পাকিস্তান, উপসাগরীয় এলাকা এবং ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতায় কিছু ছাড় দিতে হবে।

এখানে বিপরীত একটা দিকও আছে। শুধু কি যুক্তরাষ্ট্রই এভাবে অন্যান্য দেশে কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়? উইকিলিকস যদি রাশিয়া ও চীনের কূটনৈতিক তারবার্তাগুলো পেত, আর সেগুলো প্রকাশ করত; তবে একইভাবে সেগুলো পড়েও বিশ্ববাসী চমকে উঠত। একই ধরনের ঘটনা সেসব দেশের ক্ষেত্রেও ঘটে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো এত বড় আকারে হয়তো নয়।

উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে এরই মধ্যে ‘ক্যাবলগেট’ নাম দেয়া হয়েছে। সত্তরের দশকে নিক্সন সরকারের আমলের সাড়া জাগানো ‘ওয়াটারগেট’ কেলেংকারির মতো এই নাম। এ ‘ক্যাবলগেট’ কেলেংকারি যুক্তরাষ্ট্রেই শুধু সম্্‌ভব হয়েছে, অন্য দেশে এটা সম্্‌ভব ছিল না। কারণ উইকিলিকস মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কিছু ব্যর্থ সিস্টেমের সুযোগ নিয়েছে। এ দুর্বলতার পেছনে ৯/১১ বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধের মতো বিষয়গুলো থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের খুব অভাব। তাছাড়া তাদের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদানও কম। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূমির ওপর সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ঠেকাতে দেশটি ব্যর্থ হচ্ছে।

তবে এ ঘটনা থেকে ভালো কিছুও তো পাওয়া যেতে পারে, নয় কি? দেখা গেছে সারাবিশ্বের পত্রপত্রিকা ও নিউজ এজেন্সিগুলো উইকিলিকসের ফাঁস করা তারবার্তাগুলো প্রকাশ করছে। তাদের যুক্তি হল, জনগণের স্বার্থেই এসব প্রকাশ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে তাদের পররাষ্ট্রনীতি তৈরি করে, বিশেষ করে উত্তর কোরিয়া, ইরান, চীন ইত্যাদি স্পর্শকাতর ইসুøতে মার্কিন নেতা ও কূটনীতিকদের কাজকর্মের কথা জানার অধিকার বিশ্ববাসীর রয়েছে। তাই বেশির ভাগ পশ্চিমা নেতাই উইকিলিকসের তথ্য ফাঁস ঘটনার নিন্দা করলেও, এমনকি এগুলো মানুষের জীবন বিপন্ন করবে বলে ঘোষণা দিলেও নিজ নিজ মিডিয়াকে এসব তারবার্তা প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন না।

তাই সম্্‌ভবত এসব ঘটনা থেকে ভালো কিছুও বেরিয়ে আসবে। যুক্তরাষ্ট্র একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, এটা ঠিক। কিন্তু দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর থেকে দেশটির পররাষ্ট্রনীতি পুরোপুরি আগ্রাসী, কখনও কখনও অনৈতিক। উইকিলিকস বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত ভূমিকাগুলোর ওপর সামান্য আলো ফেলতে পেরেছে মাত্র। ওরা আরও তথ্য প্রকাশ করলে আরও অনেক অপ্রীতিকর সত্য বেরিয়ে আসবে। মার্কিন নেতারা বিশ্বজুড়ে নানা আলোচিত ঘটনায় কিভাবে কতটুকু জড়িত ছিলেন তা জানা যাবে।

এর মানে আবার এটা নয় যে, কূটনীতিকরা রাতারাতি বদলে যাবেন। তবে মার্কিন কূটনীতির ধারাটা বদলে যেতে পারে। ডিজিটাল তথ্যপ্রবাহের এ যুগে কোন কিছুই জনগণের চোখের আড়ালে রাখা সম্্‌ভব নয়। হয়তো আরও দৃঢ় নেটওয়ার্ক দিয়ে তথ্য ফাঁসের ঘটনা বন্ধ করার চেষ্টা হবে। আইনি কাঠামোগুলোও জোরদার করা হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে এখন তাদের পররাষ্ট্রনীতি চালাচ্ছে- সেটা কি বদলে যাবে?

আরব নিউজ পত্রিকা থেকে ভাষান্তরঃ ফারহানা মিলি

ওসামা আল শরীফঃ জর্ডানের প্রবীণ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার
Prosecuting WikiLeaks For Publishing Documents Would Raise Serious Constitutional Concerns, Says ACLU

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: