সাগর নয় আকাশ নাকি এখন সীমাহীন আশ্রয়


ঋণ

ভেবে দেখলাম অনেকের কাছে আমার ঋণ
জড় এবং জীব, মানুষ গাছ আর বাতাস
ঋণ হয়ে আছে পানির কাছে, কাদার কাছে
এমনকি লেজ খসা একটা টিকটিকির কাছেও।

জর্জরিত ক্লান্ত চোখে দূর আকাশে শান্তি খুঁজি
অনন্তে নাকি ঝাঁক ঝাঁক ভালবাসার কুঁড়েঘর
তারার সাথে কথা বলতে যখন মন বাড়াই
নক্ষত্রও বলে বসে ওঁর কাছে আমি নাকি ঋণী।

গাছকে জিজ্ঞেস করলে সে দমকা হাওয়া মারে
অনর্গল বেকুব বেকুব প্রতিধ্বনিতে গাল পাড়ে
লক্ষ বছরের ঝরা মরা লুসি নিশ্চুপ হয়ে রয়;
আর আরডিকে শুধালে সে ও সাপচোখে চায়।     

আমার ভাবনাগুলো ক্রমশ জটিল থেকে স্বচ্ছ হচ্ছে
অস্তিত্ব বদলাচ্ছে অদ্ভুত থেকে ভুত কিম্বা অন্যে
সাগর নয় আকাশ নাকি এখন সীমাহীন আশ্রয়;
অতএব বায়বীয় ঋণ আমি শুধবনা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

কাজী রহমান ১২/২৯/২০১০ লস আঞ্জেলেস

ডায়াবেটিস থেকে অন্ধত্ব : চর্বিতে লিভারের ক্ষতি : ডায়াবেটিস রোগীর নাস্তা


ডায়াবেটিস থেকে অন্ধত্ব

ডা. ফারহানা হোসেন
ডায়াবেটিস একটি হরমোনজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হলে অনেকে চিন্তিত হয়ে পড়েন। অবশ্য চিন্তিত হওয়ার কথাও বটে, কারণ ডায়াবেটিসে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে একটু সচেতন হলেই ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা থেকে আমরা মুক্ত থাকতে পারি। ডায়াবেটিসে শরীরের যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি হয় চোখ তার মধ্যে একটি। চোখ অমূল্য সম্পদ, সাধারণভাবেই চোখের যত্ন নেওয়া উচিত। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের যেহেতু চোখের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে তাই যত্নটা একটু বেশিই নিতে হবে ।

ডায়াবেটিসে হঠাৎ কারও দৃষ্টিশক্তি লোপ পেতে পারে, তাই তাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে সে ঝাপসা দেখছে কি-না। এই রোগে ব্লাড সুগার বেড়ে গেলে চোখের পাওয়ার বারবার পরিবর্তন হতে পারে । আপনি হয়তো ডাক্তার দেখিয়ে চশমা কিনে পরছেন, ক’দিন পরই ঝাপসা দেখতে পারেন এবং চশমা বদলাতে হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে ডাক্তারের ওপর অসন্তুষ্ট হলেও মূলত ডায়াবেটিসের জন্যই এমনটি ঘটে। চালশে রোগ বাংলাদেশের একটি পরিচিত চোখের সমস্যা। সাধারণত চলি্লশ বছরে হয় বলে এ দেশের সাধারণ মানুষ একে চালশে রোগ বলে। ডায়াবেটিসে চোখে চালশেজনিত সমস্যা তাড়াতাড়ি হয়, অর্থাৎ কারও চলি্লশের আগেও চালশে হতে পারে। তাছাড়া ডায়াবেটিস রোগীর চোখের পাতার লোমকূপের ইনফেকশন, চোখের প্রেসার বেড়ে যাওয়া, চোখের মাংসপেশি অবশ হওয়া, চোখের ছানি, চোখের যে কোনো ঘা দেরিতে শুকানো, চোখের দূরদৃষ্টিজনিত সমস্যা ইত্যাদি হতে পারে। তবে সবচেেেয় বেশি ক্ষতি হয় যখন এ রোগে চোখের রেটিনা ও ভিট্রাস আক্রান্ত হয়। ডায়াবেটিসের কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছোট রক্তনালি সরু হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এতে রেটিনাতে অক্সিজেনের অভাবে অপুষ্টিজনিত কারণে প্রদাহ ও নতুন রক্তনালি তৈরি হয়, যা থেকে রক্তপাত হয়। রেটিনাতে পানি জমে ফুলে যায়, ভিট্রিয়াসে রক্তপাত হয় এবং পরবর্তী সময় রেটিনা আলাদা হয়ে সরে যেতে পারে। একে রেটিনাল ডিটাচমেন্ট বলে। চোখ পরীক্ষা করে যদি দেখা যায় রেটিনোপ্যাথি হয়েছে, তাহলে রেটিনার ছবি এবং এনজিওগ্রাম করে নেওয়া ভালো। এতে পরবর্তী সময় রেটিনার পরিবর্তন এবং রেটিনোপ্যাথির অবস্থান নির্ণয়ে সুবিধা হয়। এনজিওগ্রামের মাধ্যমে রক্তপাত, ভঙ্গুর রক্তনালির অবস্থান এবং রক্তহীন এলাকা পরিমাপ করা যায়। রেটিনোপ্যাথির পরিমাণ যদি খুবই সামান্য থাকে তাহলে কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে না। যদি সমস্যা বেশি হয়, লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে চোখের রক্তক্ষরণজনিত এ সমস্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এটি কিছুটা ব্যয়বহুল। আবার এর মাধ্যমে যে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবে, তাও নয়। রোগ যাতে আর অগ্রসর না হয় তাই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ডায়াবেটিস রোগীর চোখের অভ্যন্তরীণ প্রেসার বেড়ে গিয়ে যখন গল্গুকোমা হয় তখন তা অপটিক নার্ভকে আক্রান্ত করতে পারে, যা থেকে অপটিক নার্ভ শুকিয়ে যেতে পারে। এ ক্ষতি কোনো চিকিৎসার মাধ্যমেও ভালো হয় না। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনে ওষুধ সেবন করতে হবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ আছে কি-না তা দেখার জন্য নিয়মিত রক্তে শর্করার পরিমাণ দেখতে হবে। প্রত্যেক ডায়াবেটিস রোগীকে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাতে হবে। ডাক্তার সাধারণত রিফ্রাকশন করে চোখের পাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে কি-না, স্লিটল্যাম্পের মাধ্যমে ছানি রোগ হলো কি-না এবং অফথালমোস্কোপের মাধ্যমে চোখের রেটিনা পরীক্ষা করে থাকেন। যেসব রোগী অল্প বয়স থেকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অর্থাৎ যারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিননির্ভর তাদের পরবর্তী সময় রেটিনোপ্যাথি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ রোগীদের প্রতি চার-ছয় মাস অন্তর চোখ পরীক্ষা করে নেওয়া উত্তম। এভাবে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা করানোর মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগী চোখের জটিল সমস্যা থেকে নিজেকে অনেকটাই মুক্ত রাখতে পারবেন।
চেক্ষু বিশেষজ্ঞ ও রেজিস্ট্রার
ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল, ঢাকা

চর্বিতে লিভারের ক্ষতি

ডা. মামুন-আল-মাহতাব (স্বপ্নীল)
একটা সময় ছিল যখন ধারণা করা হতো, হার্ট বা ব্রেনে চর্বি জমে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো ভয়াবহ রোগ হলেও লিভারের ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়। কিন্তু বিগত দশকে সে ধারণায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এটি আজ প্রমাণিত, ফ্যাটি লিভার লিভারের অন্যতম প্রধান রোগ। পশ্চিমা বিশ্বে এর প্রাদুর্ভাব ব্যাপক। শতকরা ২০ ভাগ আমেরিকান ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। আমাদের দেশেও এ চিত্র বিশেষ করে শহর এলাকায় খুব একটা কম নয়।
ডায়াবেটিস রোগীর এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি। ফ্যাটি লিভারের অন্য উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বি বেশি থাকা, থাইরয়েডের সমস্যা, ক্রনিক হেপাটাইটিস-সি এবং ইনসুলিন রেজিস্টেন্স।
এটি এখন সুপ্রতিষ্ঠিত, লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ ফ্যাটি লিভার। ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত অনেকেরই লিভারে ক্রনিক হেপাটাইটিস দেখা দিতে পারে, যাকে আমরা বলি স্টিয়াটো হেপাটাইটিস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের পর ফ্যাটি লিভারই এদেশে ক্রনিক হেপাটাইটিসের প্রধান কারণ।
বেশিরভাগ ক্রনিক লিভার ডিজিজ রোগীর মতো ফ্যাটি লিভারের রোগীদেরও কোনো লক্ষণ থাকে না। তাদের কেউ কেউ পেটের ডান পাশে ওপরের দিকে ব্যথা বা অস্বস্তি, দুর্বলতা কিংবা খুব অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ার কথা বলে থাকেন। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাদের প্রায় ৫০ ভাগেরই লিভার বড় পাওয়া যায়। রক্ত পরীক্ষায় সিরাম ট্রান্স-এমাইনেজ বেশি থাকতে পারে। তবে এটি স্বাভাবিক থাকলেই যে লিভারে হেপাটাইটিস নেই এ কথা বলা যায় না। ফ্যাটি লিভার নির্ণয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পরীক্ষাটি হচ্ছে আল্ট্রাসনোগ্রাম, যদিও সিটিস্ক্যান বা এমআরআই এক্ষেত্রে বেশি নির্ভরযোগ্য।
তবে নিশ্চিত করে ফ্যাটি লিভার নির্ণয়ের পরীক্ষাটি হচ্ছে লিভার বায়োপসি।
ফ্যাটি লিভার চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো, লিভারে সিরোসিস ও ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা। অতিরিক্ত মেদ কমানো ফ্যাটি লিভার চিকিৎসার একটি অন্যতম দিক। ওজন কমানোর জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিকল্পিত ডায়েট কন্ট্রোল, এক্সারসাইজ, ওষুধ সেবন কিংবা প্রয়োজনে অপারেশন করা যেতে পারে। পাশাপাশি ফ্যাটি লিভারের কারণ নির্ণয় ও তার যথাযথ চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদেশেও সীমিত পরিসরে গবেষণা চলছে। শতভাগ কার্যকর ওষুধ আবিষ্কৃত না হলেও, বাজারে কিছু ওষুধ আছে, যা ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় উপকারী। এর বেশিরভাগ বাংলাদেশেও পাওয়া যায়।
সেহকারী অধ্যাপক, লিভার বিভাগ, বিএসএমএমইউ

ডায়াবেটিস রোগীর নাস্তা

আমাদের জানা ভালো, দিনে রাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বেলার খাবার তাহলো প্রাত:রাশ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তো বটেই।

নিউইউর্ক সিটির নিউইউর্ক প্রেসবাইটেরিয়ান হাসপাতালে সেন্টার ফর ডায়াবেটিসের ডায়াবেটিস এডুকেটার ও ডায়েটিশিয়ান এরিকাত্ররাসিস বলেন, “বিপাকীয় বিচারে ও পুষ্টির বিচারে প্রাত:রাস রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণের বড় ভূমিকা নিতে পারে। শরীরকে এটি এমন পুষ্টি যোগায়, যাতে সারাদিন শরীরে বলশক্তি পাওয়া যায়।”

নিউইউর্ক সিটির বাথ ইসরায়েল মেডিকেল সেন্টারের ফ্রিডম্যান ডায়াবেটিস ইনস্টিটিউটের অন্য এক ডায়াবেটিশিয়ান জেনিফার রেজেস্টার বলেন, ডায়াবেটিক অনেক রোগী রক্তের সুগার মান নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রাত:রাশ এড়িয়ে যান। যা ঘটে তা হলো, তাদের রক্তের সুগার মান অনেক নিচে নেমে আসে। ফলে তাঁরা খুবই ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে আর এজন্য মধ্যহ্নে অতিভোজ করে, অতিভোজন করে রাতের বেলাতেও। এতে ঘটে রক্তের সুগার মানে চড়াই উৎরাই। অথচ সেব্যক্তি ভালো করে প্রাত:রাশ খেলে এমন বিপত্তি ঘটতোনা।

যদি কোনো লোক সকালবেলা উঠে দেখেন রক্তের সুগার মান উচুতে যেমন ৩০০ মিলিগ্রাম তবু প্রাত:রাশ খেতে হবে, তবে এতে প্রোটিনের প্রাধান্য থাকবে। শর্করা সামান্য খেলে হয়, যেহেতু রক্তের শর্করা উচুতে। আর সেজন্য একে আর বাড়ানোর প্রয়োজন নাই। তবে পরের বেলার খাবারে যখন রক্তের সুগার নেমে আসবে, তখন আবার শর্করাকে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ঢোকাতে পারবো খাবারে।

কি খেতে হবে ?

প্রাত:রাশে চাই সুষম খাবার। ভালো প্রাত:রাশে থাকবে প্রোটিন, মেদ ও জটিল শর্করা যেমন আটার রুটি বা ঢেঁকিছাটা লাল চাল বা ওটমিল্ । ফল খেতে হয়। জার ফলের জুসের চেয়ে গোটা ফল অনেক ভালো। ফলের জুস খেলে রক্তের সুগার মানের যে উঠানামা হয়, গোটা ফল খেলে তা হয়না। তাই কমলার রসের চেয়ে গোটা কমলা, নাসপাতি বা আপেল অনেক ভালো। প্রাত:রাশের জন্য অনেকগুলো ভালো বিকল্প আছে যেমন-
০০ ১ টি ডিমের শ্বেত অংশের ওমলেট, একসস্নাইস আটার রুটি, এক টুকরো ফল।
০০ একটি ডিমের স্যান্ডউইচ, আটার রুটি আর এক টুকরা ফল।
০০ প্রতিসপ্তায় ৪টি ডিমের বেশি খাওয়া ঠিক হবেনা সেজন্য ডিমের শ্বেত অংশের স্যান্ডউইচ নিলে ভালো, অথবা একটি ডিমের সঙ্গে দুটো বা তিনটি ডিমের শ্বেতঅংশের ক্্রাম্বল করে খেতে পারেন।
০০ এক বাটি ওটমিল তৈরি করুন। অর্ধেক বাটি ওট বাজইচূর্ণ নিয়ে। শস্যখাদ্য বেশি খাওয়া হয়ে যায় সহজেই, তাই কতখানি নিলেন তা বেশি গুরতি্বপূর্ণ।
০০ দুই সস্নাইস গমের রুটি এবং পিনাট মাখন দিয়ে তৈরি স্যান্ডউইচ খাওয়া যায়।
০০ দধি, বাদাম ও ফল। টকদই, বাদাম এবং ফল।
০০ খই/মুড়ি/পপকর্ন এবং ননীহীন দুধ।
০০ আশযুক্ত শস্য খেলে রক্তের সুগার থাকে সুনিয়ন্ত্রণে।

অধ্যাপক ডা: শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক
ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস
বারডেম, ঢাকা।

এই পানীয় যেখানে তুমুল জনপ্রিয়, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে যথেষ্ট অসন্তোষ রয়েছে, সেই বাংলাদেশে এমন অরাজনৈতিক অথচ জনমুখী আন্দোলন গড়ে তোলা কি সম্ভব?


দ্য টি পার্টি

জামান সরদার

এ দেশে চায়ের প্রচলনে ব্রিটিশ বেনিয়ারা যেসব বাণিজ্যিক কৌশল গ্রহণ করেছিল, তা এখন হাস্যরসের উপাদান। বাঙালির সান্ধ্য আড্ডা কীভাবে ‘পার্টি’তে রূপান্তরিত হলো এবং সেখানে চায়ের একক আধিপত্য খর্ব হয়ে পানীয় বৈচিত্র্য ঘটল, সেও এক ইন্টারেস্টিং ইতিহাস। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘টি পার্টি’ কিন্তু আরও মজার। অনেকেই জানেন, ব্রিটিশরা তাদের একটি উপনিবেশ ভারতের নাগরিক সমাজকে চায়ে মাতোয়ারা করতে সফল হলেও আরেক উপনিবেশ মার্কিন মুলুকে খুব একটা কায়দা করতে পারেনি। চা সেখানে বরং গণতোপের মুখে পড়েছিল। যে কারণে আমেরিকায় এখনও চা নয়, কফির আধিপত্য। মার্কিন নাগরিকদের বছরে মাথাপিছু কফি গ্রহণ ৪ কেজি ২০০ গ্রাম হলেও চায়ের পরিমাণ শুধু ২০০ গ্রাম।
বিশ শতকের গোড়ার দিকে ভারতীয় উপমহাদেশে আমরা যেভাবে লবণ সত্যাগ্রহ পালন করেছি, সেই আঠারো শতকের শেষ ভাগেই আমেরিকানরা একই স্টাইলে ‘টি ডাম্পিং’ কর্মসূচি পালন করেছে। আমাদের মতো আমেরিকানরাও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির কর বসানোর প্রতিবাদে চা বর্জন করেছিল। ১৭৭০ দশকে বিক্ষোভকারীরা জোর করে বোস্টন উপকূলে ভেড়ানো ব্রিটিশ জাহাজে উঠে চায়ের কার্টন কেড়ে নিয়ে সাগরে ফেলে দিত। পাড়ায় পাড়ায় এমন স্বেচ্ছাসেবক দল গঠিত হতে থাকে। চা-বিরোধী এই ছোট অথচ খুবই জনপ্রিয় দলগুলোর নাম হয় ‘বোস্টন টি পার্টি’।
পুরনো আদলের এ আন্দোলন ফের যুক্তরাষ্ট্রের, বিশেষ করে নিউইয়র্ক স্টেটে ফিরে আসে গত বছরের গোড়ার দিকে। ওই রাজ্যের গভর্নর বেশ কিছু বাড়তি কর আরোপের প্রস্তাব করলে স্থানীয় লোকজন খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ করে। বোস্টন শব্দটি ছেঁটে ফেলে তারা এর নাম দেয় ‘টি পার্টি’ বিক্ষোভ। বলাবাহুল্য, আমেরিকা হচ্ছে হাজার করের দেশ_ অন্যান্য রাজ্যেও এমন কিছু কর ছিল যেগুলো নাগরিকরা পছন্দ করছিল না। ফলে দ্রুতই ‘টি পার্টি’ গোটা যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী পর্যায়ে কেবল কর হ্রাস নয়; তাদের তৎপরতায় যুক্ত হয় সরকারের ব্যয় কমানো, জাতীয় ঋণ কমানো, ফেডারেল বাজেট ঘাটতি কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের আদি সংবিধান মেনে চলার দাবি।
বলাবাহুল্য, টি পার্টি রাজনৈতিক দল নয়; কিন্তু জনপ্রিয়তায় রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে কমও নয়। সদ্য সমাপ্ত সিনেট ও কংগ্রেস নির্বাচনে তারা যেসব প্রার্থীকে সমর্থন দেয় তারা বেশ ভালো ফলও করেছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে টি পার্টি এখন এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, টাইম ম্যাগাজিন ২০১০ সালে তাদের পারসন অব দ্য ইয়ার তালিকায় এই সংগঠনকে অন্যতম রানারআপ নির্বাচিত করেছে।
মোদ্দা কথা, অরাজনৈতিক সংগঠন কীভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারে, চায়ে অরুচির দেশে ‘টি পার্টি’ তা ভালোভাবে দেখিয়ে দিয়েছে। এই পানীয় যেখানে তুমুল জনপ্রিয়, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে যথেষ্ট অসন্তোষ রয়েছে, সেই বাংলাদেশে এমন অরাজনৈতিক অথচ জনমুখী আন্দোলন গড়ে তোলা কি সম্ভব?

প্রতারক চক্র শাস্তির আওতায় বাইরেঃ প্রবাসীদের জমি-জমার উপর নজর এখন জালিয়াত চক্রের


রাজধানীতে জমি দখলে তৎপর প্রতারক চক্র

 

বসতবাড়ি নিয়ে সংশয়ে প্রবীণ সাংবাদিক

রাশেদ মেহেদী
রাজধানীর এক অভিজাত এলাকার জমি প্রতারণার মাধ্যমে দখল চেষ্টার তথ্য পাওয়া গেছে। এ প্রতারক চক্রের গডফাদার হিসেবে ক্ষমতাসীন মহাজোটের সাংসদ আবদুস সাত্তার এবং দেশের একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। রাজনৈতিক নেতা, রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ও প্রশাসনের যোগসাজশে জমি দখলে জালিয়াত চক্র কীভাবে কাজ করে তার একটি চিত্র পাওয়া গেছে সরকারি এক তদন্ত প্রতিবেদনে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রতারক চক্রটি কৌশলে দেশের প্রথিতযশা এক প্রবীণ সাংবাদিক আবদুর রহিমের বাড়ি দখলের চেষ্টা করছে। ১৯৯৯ সাল থেকে ওই বাড়িটি দখলের তৎপরতা শুরু হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে পূর্তমন্ত্রী মীর্জা আব্বাসের কাছেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন আবদুর রহিম। বর্তমান মহাজোট সরকারের অনেক মন্ত্রীও দখল প্রক্রিয়ার বিষয়টি জানেন বলে প্রবীণ সাংবাদিক আবদুর রহিম দাবি করেন। এদিকে সমকালের সঙ্গে আলাপকালে সাংসদ আবদুস সাত্তার বলেন, সাংবাদিক আবদুর রহিম বাড়িটির মূল মালিক নন; তিনি সেখানে অবৈধভাবে বসবাস করছেন।
ঘটনার শুরু যেভাবে : সরকারি নথিপত্রে দেখা যায়, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, লন্ডনের সাবেক প্রেস মিনিস্টার এবং ‘দি বাংলাদেশ অবজারভারে’র সাবেক নির্বাহী সম্পাদক, প্রবীণ সাংবাদিক আবদুর রহিম ১৯৬৭ সালের ২২ মে সরকারিভাবে গুলশানের তৎকালীন ১৫নং সড়কে একটি প্লট বরাদ্দ পান। একই সময়ে এবিএম মূসাসহ কয়েকজন খ্যাতনামা সাংবাদিক সে সময় প্লট বরাদ্দ পেয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালের ৪ মে তৎকালীন ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট তাদের বাড়ি নির্মাণের অনুমতি দেয়। পরে সোনালী ব্যাংক এবং হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন থেকে ঋণ নিয়ে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করা হয়। এদিকে ১৯৯৯ সালে এক ব্যক্তি রাজউকে গিয়ে নিজেকে আবদুর রহিম পরিচয় দিয়ে এ জমির মালিকানা দাবি করেন। মোস্তফা নামে এক ব্যক্তিকে তিনি আমমোক্তার নিয়োগ করতে চান। সাজানো আবদুর রহিমের কাগজপত্র সন্দেহজনক মনে হলে রাজউকের তৎকালীন উপ-পরিচালক (এস্টেট) মজিবুর রহমান বিষয়টি তদন্ত করেন এবং জালিয়াত চক্রকে চিহ্নিত করেন। তবে রহস্যজনক কারণে এ চক্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে ভুয়া আবদুর রহিমসহ এ জালিয়াত চক্রের অন্যরা ‘উধাও’ হয়ে যায়।
২০০৬ সালে একই চক্র আবার তৎপরতা শুরু করে। আবদুর রহিম ঘটনার বিবরণ দিয়ে সমকালকে জানান, এক সন্ধ্যায় তার কাছে একটি ফোন আসে। ফোনে এক ব্যক্তি নিজের পরিচয় না দিয়েই তার কাছে জানতে চায়, তিনি তার গুলশানের বাড়িটি বিক্রি করবেন কি-না। পরিচয় জানতে চাইলে কলদাতা ফোন রেখে দেন। পরে আবার ফোন করে ওই ব্যক্তি তৎকালীন পূর্তমন্ত্রী মীর্জা আব্বাসের অফিসে যেতে বলেন। আবদুর রহিম মন্ত্রীর অফিসে গিয়ে জানতে পারেন, কলদাতা ওই ব্যক্তি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির পদস্থ কর্মকর্তা। মন্ত্রীর সামনেই ওই কর্মকর্তা আবদুর রহিমকে বলেন, তিনিই তাকে ফোন করেছিলেন। আবদুর রহিমকে মন্ত্রী মীর্জা আব্বাস জিজ্ঞেস করেন, তিনি গুলশানের বাড়ি বিক্রি করবেন কি-না। বাড়িটি বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান আবদুর রহিম। পরে তিনি মির্জা আব্বাসকে বলেন, তার বাসভবনের পাশেই গুলশান লেকের ওয়াকওয়েতে ওই কর্মকর্তা তার আত্মীয়ের নামে জমি দখল করেছেন। ওই জমির পাশেই তার জমি হওয়ায় এ জমিও দখলের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতারক চক্রের জাল যেভাবে বিস্তৃত হলো : ওই রিয়েল এস্টেট কোম্পানির কর্মকর্তা গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার হয়ে জেলে যান। তবে প্রতারকদের তৎপরতা বন্ধ হয়নি। শাহজাহান মোল্লা নামে এক ব্যক্তি নিজেকে প্রবাসী এক আবদুর রহিমের আমমোক্তার পরিচয় দিয়ে এই জমি বিক্রির ঘোষণা দেন। শাহজাহান মোল্লা নিজেকে আমমোক্তার দাবি করলেও তার দাবিদার মালিক প্রবাসী আবদুর রহিমকে কোথাও উপস্থাপন করতে পারেননি। ২০০৮ সালের ৫ মে প্রতারক চক্রের অপর দুই সদস্য ক্রেতা সেজে বাড়ির প্রকৃত মালিক আবদুর রহিমের কাছে যান। আবদুর রহিম ঘটনা বুঝতে পেরে পুলিশে খবর দিলে তারা গ্রেফতার হন। পরে ভুয়া আমমোক্তার শাহজাহান মোল্লা ও শাহজাহান সিরাজকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা হয়। এ মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে আবদুর রহিম জানতে পারেন, তার জমি দখলের জন্য এরই মধ্যে প্রতারক চক্র একটি দেওয়ানি মামলা করেছে। শুরু হয় ন্যায়বিচারের আশায় আদালতপাড়ায় ঘুরে বেড়ানো। সেই থেকে এখন পর্যন্ত আদালতপাড়ায় ঘুরছেন দেশের প্রবীণ এ সাংবাদিক।
এরই মধ্যে প্রতারক চক্র জামিনে বের হয়ে এসেছে, প্রায় তিন বছরেও মামলার রায় হয়নি। যথাযথ প্রমাণ থাকলেও প্রতারক চক্র শাস্তির আওতায় আসেনি। বরং প্রতারক চক্র চলতি বছরের জুনে একদল সন্ত্রাসী পাঠায় রাজউকের মহাখালী শাখা অফিসে। তারা সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবদুর রহিমের বাড়ির নথিপত্র দেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর থানায় জিডি করেন সাংবাদিক আবদুর রহিম। তিনি সমকালকে জানান, বর্তমানে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আবদুস সাত্তার নতুন গডফাদার হিসেবে প্রতারক চক্রকে মদদ দিচ্ছেন। বিষয়টি সরকারের উচ্চ মহলের অনেকেই অবহিত। তারপরও আবদুস সাত্তারের নাম উল্লেখ করে প্রতারক চক্র প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে তাকে। আলাপকালে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে জানতে চান, শেষ জীবনে আর কত হয়রানির শিকার হলে প্রতারক চক্রের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত হবে? ‘নিশাচরের নিশিদিন’ খ্যাত সাংবাদিক আবদুর রহিমের আক্ষেপ_ বর্তমান সরকারের একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ প্রভাবশালী অনেকেই প্রকৃত ঘটনা জানেন, প্রতারক চক্রকেও চেনেন, তারপরও তাকে হয়রানি আর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে!
সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে প্রতারক চক্রের জালিয়াতি : আদালতে মামলা থাকলেও বর্তমান সরকারের আমলে সাংবাদিক আবদুর রহিমের সেই বাসভবন এবং জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। গত ১৩ ডিসেম্বর দুটি কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। রিপোর্টে বলা হয়, মূল বরাদ্দপত্রে প্লটের মালিকের নাম লেখা আছে আবদুর রহিম (স্টাফ করসপনডেন্ট, দি পাকিস্তান অবজারভার)। প্রস্তাবিত প্লট ২০-এ, রোড-১৫ এবং জমির পরিমাণ ১০ কাঠা ১ ছটাক উল্লেখ করা আছে। বাড়িতে বর্তমানে বসবাসরত আবদুর রহিম যে বরাদ্দপত্র দিয়েছেন তার সঙ্গে মূল বরাদ্দপত্রের হুবহু মিল রয়েছে। অন্যদিকে আমমোক্তার দাবিদার শাহজাহান মোল্লা যে বরাদ্দপত্র জমা দিয়েছেন সেখানে লেখা আছে_ বরাদ্দ প্রাপকের নাম মোঃ আবদর রহিম, এস/ও এমভি আবদুস সোবহান, ঠিকানা : প্লট ২০-এ, ডবি্লউ (সি) রোড-১৫ (পুরনো), ২৬ (নতুন)। জমির পরিমাণ ১০ কাঠা ৩ ছটাক দেখানো হয়েছে। সরকারি তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, শাহজাহান মোল্লা প্রদর্শিত বরাদ্দপত্রে মূল নথির সঙ্গে কয়েকটি বড় অসঙ্গতি রয়েছে। যেমন ১৯৬৭ সালে গুলশানে নতুন রাস্তা বলে কিছু ছিল না। শুধু একটি সড়ক (নং-১৫) উল্লেখ করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। সড়কের নতুন নম্বর দেওয়া হয় আরও প্রায় বিশ বছর পর। অতএব ১৯৬৭ সালের বরাদ্দপত্রে ২৬নং নতুন সড়কের উল্লেখ অসম্ভব। ১৯৬৭ সালে বরাদ্দকৃত জমির পরিমাণ ছিল ১০ কাঠা ১ ছটাক। এর কয়েক বছর পর জমি রেজিস্ট্রেশনের সময় জমির প্রকৃত পরিমাণ ১০ কাঠা ৩ ছটাক পাওয়া যায়। ফলে ১৯৬৭ সালের বরাদ্দপত্রে ১০ কাঠা ৩ ছটাক উল্লেখ কোনোভাবেই সঠিক নয়। এছাড়া বরাদ্দপত্রে মালিকের নামের আগে মোঃ উল্লেখ না থাকলেও প্রতারক চক্রের বরাদ্দপত্রে মোঃ উল্লেখ আছে। তৎকালীন সরকারি বরাদ্দপত্রের শিরোনামে স্যার/ম্যাডাম উল্লেখ থাকত। প্রতারক শাহজাহান মোল্লার বরাদ্দপত্রে শুধু স্যার উল্লেখ আছে, ম্যাডাম নেই। তদন্ত কমিটি এসব প্রমাণ তুলে ধরে বর্তমানে বসবাসকারী সাংবাদিক আবদুর রহিমকে প্রকৃত মালিক হিসেবে উল্লেখ করেছে। রিপোর্টে শাহজাহান মোল্লার প্রদর্শন করা কাগজপত্র সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বিধায় তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানানো হয়েছে। সরকারি তদন্ত রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৪ নভেম্বর রাজউকে পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী সাংবাদিক আবদুর রহিম উপস্থিত হলেও শাহজাহান মোল্লা তার আমমোক্তারদাতা আবদুর রহিমকে উপস্থিত করতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি কোথায় বাস করেন তাও জানাতে পারেননি শাহজাহান মোল্লা। মূলত শাহজাহান মোল্লার দাবি করা আবদুর রহিমের অস্তিত্ব এখন পর্যন্ত কোথাও দেখা যায়নি। এই ‘অদৃশ্য’ রহিমকে পুঁজি করেই দৃশ্যমান রয়েছে এই প্রতারক চক্র।
সাংসদ আবদুস সাত্তারের বক্তব্য : বর্তমানে প্রতারক চক্রের নতুন গডফাদার হিসেবে উঠে এসেছে সরকারি দলের সাংসদ আবদুস সাত্তারের নাম। শনিবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমমোক্তার দাবিদার শাহজাহান মোল্লা তার দূরসম্পর্কের আত্মীয়। এ কারণে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তিনি দাবি করেন, সাংবাদিক আবদুর রহিম মূল মালিক নন এবং তিনি সেখানে অবৈধভাবে বসবাস করছেন। তিনি শাহজাহান মোল্লাকেই আমমোক্তার সূত্রে প্রকৃত মালিক উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিক আবদুর রহিমের কাছে প্রকৃত কাগজপত্র নেই। তার বাড়ির রেজিস্ট্রেশন নেই, তিনি আদালতেও কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। সরকারি তদন্ত রিপোর্টের উল্লেখ করে শাহজাহান মোল্লার কাগজপত্রে ১৯৬৭ সালে নতুন রাস্তা উল্লেখসহ একাধিক ভুল তথ্যের ব্যাপারে জানালে তিনি বলেন, বিষয়টি আদালতে আছে, সেখানেই সমাধান হবে।

সিনিয়র সন্ত্রাসীরা যাতে বিপদে না পড়ে সে জন্য পথশিশুদের ঠেলে দেয়া হয় বিপদের মুখে। সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া দুই শিশু অপরাধী এমন তথ্য দিয়েছে।


পথশিশুরা ব্যবহার হচ্ছে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের মেসেঞ্জার হিসেবে

গ্রেফতারে মাঠে পুলিশ

আমিনুল ইসলাম

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দাবিকৃত চাঁদার টাকা সংগ্রহ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে পথশিশুদের। রাজধানীর ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী ডাকাত শহীদ ও কচিসহ বিভিন্ন দাগি সন্ত্রাসীর হয়ে তারা চাঁদার টাকা সংগ্রহ করছে। চাঁদার টাকা সংগ্রহের সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতে পারে এমন আশঙ্কায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বা সিনিয়র সহযোগীদের সেখানে পাঠানো হয় না। সিনিয়র সন্ত্রাসীরা যাতে বিপদে না পড়ে সে জন্য পথশিশুদের ঠেলে দেয়া হয় বিপদের মুখে। সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া দুই শিশু অপরাধী এমন তথ্য দিয়েছে। তারা শীর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত শহীদ ও কচির নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে এসব কিশোর সন্ত্রাসী কখনোই ডাকাত শহীদ বা কচিকে দেখেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাকাত শহীদের শুধু চাঁদা দাবির মেসেঞ্জার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে শতাধিক কিশোরকে। এদের বেশির ভাগই পথশিশু। চাঁদা দাবির পরদিন থেকে ডেডলাইন পর্যন্ত এরা দাবিকৃত ব্যক্তিকে বিভিন্নভাবে রিমাইন্ডার দিতে থাকে। কখনো কখনো সরাসরি, কখনো মোবাইল ফোন বা অন্য কোনোভাবে ওই ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ বজায় রাখে। এরপর টাকা নিয়ে কবে, কোথায় কখন আসতে হবে এবং ওই টাকা কিভাবে দিতে হবে তাও বলে দেয় এ শিশু অপরাধীরা। তবে তারা এসব করে থাকে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডদের নির্দেশনায়।

গত ২৩ ডিসেম্বর ডাকাত শহীদের নামে চাঁদা নেয়ার সময় শ্যামপুর থানা পুলিশ হাসান (১৪) নামে এক শিশুকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। গ্রেফতারের পর হাসান পুলিশকে জানায়, ২৫ ডিসেম্বর অপর একজন চাঁদার টাকা আনতে যাবে। তার এই তথ্য মতে পুলিশ আজিম হোসেন রনজু নামে অপর একজনকে গ্রেফতার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, ডাকাত শহীদের কিশোর অপরাধীর তালিকা আরো বড় হতে পারে। এসব অপরাধীকে গ্রেফতারে কয়েকটি ভাগে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশু হাসান ঢাকার অলিগলি ঘুরে বেড়াত। কাজ নেই, খাবার নেই এমন অবস্থায় চলতে থাকে তার জীবন। এক সময় সায়দাবাদ নামাপাড়ায় মোশাররফ নামে এক ব্যক্তি নিজেই হাসানের সাথে পরিচিত হয়। পরে ওই ব্যক্তি হাসানকে রাস্তায় রাস্তায় পানি বিক্রির কাজ দেয়। দুই মাস আগে মোশাররফ তাকে বলে, ‘আজ আর পানি বিক্রি করতে হবে না। সূত্রাপুর থানার পাশে ক্যাপিটাল হাসপাতালের গেটের সামনে এক ব্যক্তি তাকে এক লাখ টাকা দেবে। ওই টাকা নিয়ে আসতে হবে।’ খবরের কাগজে মোড়ানো এক লাখ টাকা মোশাররফের হাতে তুলে দেয় হাসান। আর এভাবেই শুরু হয় তার অপরাধী জীবন। এরপর নয়াবাজার ব্রিজের পাশে মাজারের গেটের সামনে, পোস্তগোলা ডায়ানা সিনেমা হলের সামনে, পোস্তগোলা কটন মিল গেটের সামনে থেকে একাধিকবার মোট ১০ লাখ টাকা নিয়েছে। হাসান পুলিশকে জানায়, এরপর সে নিজেও ডাকাত শহীদ ও কচির নামে ফোনে চাঁদা দাবি করতে শুরু করে। গত ১২ ডিসেম্বর শহীদ ফারুক রোডের হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী সাত্তারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে হাসান। কিন্তু ওই ব্যবসায়ী চাঁদা না দিয়ে থানায় জিডি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাসান ২৩ ডিসেম্বর দুপুরে আরো পাঁচ-ছয় শিশু সন্ত্রাসীকে সাথে নিয়ে সাত্তারের দোকানের সামনে তাকে খোঁজ করতে থাকে। এ সময় তাকে না পেয়ে কর্মচারীদের মারধর করে দু’টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলে আসে। অবশেষে গত বুধবার পোস্তগোলা ফায়ার সার্ভিসের সামনে ব্যবসায়ী আলী আহম্মদের কাছ থেকে চাঁদার টাকা আনতে গেলে সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। হাসান পুলিশকে জানায়, তার জানা মতে, ডাকাত শহিদ ও কচির নামে চাঁদা সংগ্রহকারী শতাধিক শিশু-কিশোর রয়েছে। এরা কেউ ডাকাত শহীদ বা কচিকে দেখেনি। ওপর থেকে যে নির্দেশ আসে সে অনুযায়ী কাজ করে যায়। এর জন্য মাসিক কোনো বেতন নেই। তবে রোজগার ভালোই হয়।

শ্যামপুর থানার ওসি মিয়া কুতুবুর রহমান চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, হাসানসহ অসংখ্য শিশু অপরাধী রয়েছে যারা ডাকাত শহীদ ও কচিসহ বিভিন্ন শীর্ষ সন্ত্রাসীর চাঁদার টাকা সংগ্রহকারী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এদের কারা ব্যবহার করছে এবং এ টাকা কোথায় যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে অপরাধীদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে পুলিশ মাঠে নেমেছে।

প্রায় লজ্জারাঙ্গা সুখী মেয়েটার নাম বদলে দিলাম জলকন্যা


মেঘকন্যা

মেঘকন্যার আবেগি কবিতায় অবিরাম ভালবাসা;
আমার ধুসর ভাবনায় নস্টালজিয়া
মেয়েটার কবিতায় তখন অনন্ত উচ্ছ্বাস বারংবার;
আমাতে সঙ্গোপণে অনেক ক্লান্তির মহাভার
মনে হোল মেঘের সঙ্গে তার খুব ভাব;
আমি ভাবি, ও হয়তো শুধুই জল।

প্রানবন্ত একটি নুতন ফুলের মত লাগছিল ওকে
অথচ আমার জগত বেমক্কা হিসাবে হিসেবি
জলপ্রপাতের মত একগুয়ে ছন্দময়্ ওর চলা;
আর আমার বুকপকেট ব্যাথার ওষুধে ঝোলা
স্পষ্ট দেখছি মিষ্টি মেয়েটার চোখে কত রঙ;
আবার যুগপৎ আমি দেখছি সব ঝাপসা।

কবিতার রেশ না মিলাতেই মেয়েটাকে ডাকলাম;
চোখে ঝাপসা দেখছি না আর এখন
বললাম কে বেশি সুন্দর, কবিতা তা নাকি ও;
অবাক হয়ে দেখলাম, ভাল লাগছে বেশ
প্রায় লজ্জারাঙ্গা সুখী মেয়েটার নাম বদলে দিলাম জলকন্যা

আমার বিমূর্ত ভাবনার রঙ অবশেষে শাদা হল।

কাজী রহমান ১২/২৭/২০১০ লস এঞ্জেলেস

দূর্যোগপূর্ণ এই বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে এঞ্জেলেসেবসবাসরত হাজার হাজার বাংলাদেশি এই বিজয় বহরে অংশ গ্রহণ করে।


লস এঞ্জেলেসের লিটল বাংলাদেশে বিজয় দিবসে বিজয় বহর অনুষ্ঠিত

তপন দেবনাথ, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস থেকে [ খবর ডট কম থেকে ]


মহান বিজয় দিবস ২০১০ উদযাপন উপলক্ষে লস এঞ্জেলেসের লিটল বাংলাদেশে বাফলার আয়োজনে বিজয় বহর অনুষ্ঠিত হয়।এ উপলক্ষে ১৯ ডিসেম্বর স্থানীয় দেশি রেস্টুরেণ্টে এক গণজমায়েতে বিজয় বহরেরর উদ্বোধন করেন লস এঞ্জেলেস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলারের কনসাল জেনারেল জনাব মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন।এখানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ডঃ জয়নাল আবেদিন, ডাঃ মোহাম্মদ সিরাজুল্লাহ্‌, ইসমাইল হোসেন, ড্যানি তৈয়ব, মুজিব সিদ্দিকী ,অভিনেত্রী নীপা মোনালিসা প্রমুখ।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা খচিত টুপী, হ্যাট ব্যান্ডেনা আর রঙ বেরঙের পোষাক পরে শিশু-কিশোর যুবা-বৃদ্ধা মেতে উঠে বিজয়ের বিজয় বহরের অনুষ্ঠানে। থার্ড স্ট্রীট ও আলেকজান্দ্রিয়ায় কাছে এলে শুরু হয় ক্লিক ক্লিক ফটো তোলার প্রতিযীগিতা। কারণটি হলো, সেখানেই রাস্তার লাইট পোস্টে রয়েছে ‘ ঐতিহ্যবাহী লিটল বাংলাদেশ সাইন বোর্ড।’ এর পর পরই মোটর শোভা যাত্রা বা বিজয় বহরটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উড়িয়ে দেশাত্নবোধক গানের সুরে সুরে রিগল্যান্ডের দিকে রওয়ানা হয়। এই রিগল্যান্ডেকে এখানকার বাংলাদেশি কমউনিটিতে বলা হয় রাঙ্গামাটি। সেখান থেকে আর্টেশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে , আর্টেশিয়াকে বলে লিটল ঢাকা। উৎসব চলে রাত দু’টো অব্দি। বিজয় বহরের নেতৃতে ছিলেন মুজিব সিদ্দিকী, ডঃ জয়নাল আবেদিন ও অন্যান্য । স্বাধীনতার ৪০ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশের বাহিরে তথা যুক্তরাষ্টে এই প্রথম বারের মত এমন একটা বিজয় বহর উৎসব অনুষ্ঠিত হলো।গত কয়েকদিন ধরে এখানে ঘন ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছে। দূর্যোগপূর্ণ এই বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে এঞ্জেলেসেবসবাসরত হাজার হাজার বাংলাদেশি এই বিজয় বহরে অংশ গ্রহণ করে।

%d bloggers like this: