প্রগাঢ় বেদনা চোখে নিয়ে/বন্ধু এসে বলে আজ তার/সাহায্য যে কতো দরকার/যখন মৃত্যুপুরী তারই দেশ। গিটারের সাহায্যে হৃদয় নিংড়ে দেওয়া আকুতি যিনি প্রকাশ করে গেছেন তার কি মৃত্যু আছে!

বাংলাদেশের বন্ধু
একরামুল হক শামীম

George Harrison

George Harrison

“When you’ve seen beyond yourself, then you may find, peace of mind is waiting there.” ~ George Harrison

বাংলাদেশ বাংলাদেশ_ পাশাপাশি বসিয়ে সুর দিলেই যে মানুষটির কথা মনে পড়ে তিনি জর্জ হ্যারিসন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ড থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও বুঝেছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের হাহাকার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ও উদ্বাস্তু মানুষদের সহায়তার জন্য একটি কনসার্ট আয়োজনের কথা ভেবেছিলেন রবিশঙ্কর। সেই ভাবনা জর্জ হ্যারিসনের উদ্যোগেই বাস্তবে পরিণত হয়েছিল। জর্জ হ্যারিসন উদ্যোগী হয়ে জোগাড় করেছিলেন শিল্পীদের, নিউইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেন ভাড়া নিয়েছিলেন। নিজের ম্যানেজার এলন ক্লাইনকে পুরো অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। হ্যারিসন পরে লিখেছেন, বাংলাদেশের যুদ্ধাবস্থা ও উদ্বাস্তুদের দুর্ভোগ সবাইকে উপলব্ধি করানোর জন্যই বাংলাদেশ গানটি লিখেছিলেন তিনি। এ রকম একটি গান লেখার প্রস্তাব করেছিলেন লিয়ন রাসেন। তিনবার খসড়া শেষে তৈরি হয় সেই গান : প্রগাঢ় বেদনা চোখে নিয়ে/বন্ধু এসে বলে আজ তার/সাহায্য যে কতো দরকার/যখন মৃত্যুপুরী তারই দেশ।

১৯৬৬ সাল থেকেই রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের বন্ধুত্ব। রবিশঙ্করের কাছ থেকে সেতার শেখেন হ্যারিসন। বন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আয়োজন করেন ইতিহাস সৃষ্টিকারী এক কনসার্টের_ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ। ওই একবারই জর্জ হ্যারিসন তার তারকাখ্যাতি ও জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করেছিলেন এবং তা করেছিলেন বাংলাদেশের জন্যই। এর জন্যই মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে পৃথিবীখ্যাত শিল্পীদের এক মঞ্চে হাজির করা সম্ভব হয়েছিল। কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এ হাজির হয়েছিলেন বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রিস্টন, লিয়ন রাসেল ও রিঙ্গো স্টারের মতো শিল্পীরা। সুরের ঝঙ্কারে মাতিয়ে দিয়েছিলেন উপস্থিত শ্রোতাদের। বিটলস ভেঙে যাওয়ার পর এই কনসার্টই ছিল হ্যারিসনের সরাসরি অংশগ্রহণ করা প্রথম অনুষ্ঠান। কনসার্টের গানের একটি সংকলন কিছুদিন পরেই ১৯৭১ সালে বের হয় এবং ১৯৭২ সালে এই অনুষ্ঠানের একটি চলচ্চিত্র প্রকাশিত হয়। কনসার্ট ও অন্যান্য বিষয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ সাহায্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২,৪৩,৪১৮.৫১ মার্কিন ডলার, যা ইউনিসেফের মাধ্যমে শরণার্থীদের সাহায্যার্থে প্রদান করা হয়। পরে ২০০৫ সালে নতুন আকারে ডিভিডি প্রকাশ পায়। তাছাড়াও ১৯৮২ সালে একটি মার্কিন টিভি অনুষ্ঠানে জর্জ হ্যারিসন কয়েক লাখ ডলারের একটি চেক তুলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের শিশুদের জন্য।

১৯৪৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন জর্জ হ্যারিসন। তাকে বিশ্ববাসী চিনেছে বিটলসের একজন হিসেবে। চার বিটলস সদস্যের অন্যতম হ্যারিসন। মূলত তিনি বিটলস ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬০-এ শুরু হয়েছিল বিটলস নামের ব্যান্ডের যাত্রা। কয়েক বছরের মধ্যেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে বিটলস। সঙ্গীত যে মানুষের চিন্তা-চেতনা ও জীবনযাত্রাকে, সমাজ ও রাজনীতিকে নতুন স্রোতে প্রবাহিত করে দিতে পারে, তার উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল বিটলস। ১৯৭০ সালে ভেঙে যায় পৃথিবীখ্যাত এই ব্যান্ড দল। তারপরও একক শিল্পী হিসেবে জর্জ হ্যারিসনের খ্যাতি থেমে থাকেনি। ব্যক্তিগত জীবনে জর্জ হ্যারিসন কিছুটা অন্তর্মুখী স্বভাবের ছিলেন। কিছুটা রহস্যাবৃত থাকতেই ভালোবাসতেন তিনি। জন লেনন বলেছিলেন, জর্জ নিজে কোনো রহস্য নয়, কিন্তু ওর ভেতরে তো অনন্ত রহস্য।

The Concert for Bangladesh

The Concert for Bangladesh

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের জন্য জর্জ হ্যারিসন কতটা করেছিলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে সেই ভাবনা কখনও হয়নি। কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের কথা, বাংলাদেশের মানুষের কথা। বিশ্ববাসীর সাড়া মিলেছিল দ্রুত। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে জর্জ হ্যারিসন কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মান পাননি। কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে হ্যারিসনকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। হাজার মাইল দূরে থেকে যে দেশটির জন্য প্রগাঢ় মমতায় সুরের আশ্চর্য ঝঙ্কার তুলেছিলেন নিউইয়র্কের মেডিসন স্কয়ারে, সেই দেশ দেখার সুযোগ মেলেনি তার! অবশ্য বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি একটি উদ্যোগ নিয়েছে_ মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধুদের সম্মাননা প্রদান। দেরিতে হলেও এটি একটি শুভ উদ্যোগ।

২০০১ সালের ২৯ নভেম্বর ৫৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু জর্জ হ্যারিসন। ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। বিটলস ব্যান্ডের একটি গানের শিরোনাম_ ‘হোয়েন আই অ্যাম সিক্সটি ফোর।’ কিন্তু সেই ৬৪-এর আগেই পৃথিবী ছেড়েছেন হ্যারিসন। কিন্তু গিটারের সাহায্যে হৃদয় নিংড়ে দেওয়া আকুতি যিনি প্রকাশ করে গেছেন তার কি মৃত্যু আছে! আজও তিনি স্মরণীয়। বাংলাদেশের মানুষ আজও তাকে স্মরণ করে পরম কৃতজ্ঞতায়।
The Concert For Bangladesh was the event title for two benefit concerts organized by George Harrison and Ravi Shankar, held at noon and at 7:00 p.m. on August 1, 1971, playing to a total of 40,000 people at Madison Square Garden in New York City. Organized for the relief of refugees from East Pakistan (now independent Bangladesh) after the 1970 Bhola cyclone and during the 1971 Bangladesh atrocities and Bangladesh Liberation War, the event was the first benefit concert of this magnitude in world history. It featured an all-star supergroup of performers that included Ravi Shankar, Bob Dylan, Eric Clapton, George Harrison, Billy Preston, Leon Russell, Badfinger, and Ringo Starr.

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

One Response to প্রগাঢ় বেদনা চোখে নিয়ে/বন্ধু এসে বলে আজ তার/সাহায্য যে কতো দরকার/যখন মৃত্যুপুরী তারই দেশ। গিটারের সাহায্যে হৃদয় নিংড়ে দেওয়া আকুতি যিনি প্রকাশ করে গেছেন তার কি মৃত্যু আছে!

  1. মিনহাজ আহমদ says:

    আমরা জাতি হিসেবে ভকৃতজ্ঞ নই। এই যে বিচ্ছিন্নভা্বে লেখালেখি হচ্ছে, সেটাই তার প্রমাণ। আমাদের পথভ্রষ্ট রাজনীতির কারণে জাতীয়ভাবে আমরা হয়তো সবার ঋণ স্বীকার করতে বা সবার যথাযোগ্য মূল্য দিতে ব্যর্থ হয়েছি, কিন্তু আমাদের জনগণ কিন্তু ঠিকই মনে রেখেছে তাদের অবদানের কথা।আমাদের সরকার যেদিন গণমানুষের মনের কথা বলবে, সেদিন দেশের যেমন প্রকৃত উন্নতি হবে, তেমনি জাতীয়ভাবে আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদান রক্ষকারী সবার ঋণ স্বীকার করতে বা সবার যথাযোগ্য মূল্য দিতে সক্ষম হবো।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s