মানবদেহের ৮০ শতাংশ রোগ হয় অনিরাপদ খাদ্য ও পানির কারণে

মানবদেহের ৮০ শতাংশ রোগ হয় অনিরাপদ খাদ্য ও পানির কারণে

মানুষের শরীরের রোগব্যাধির প্রায় ৮০ শতাংশ হয় অনিরাপদ খাদ্য ও পানির কারণে। এ অবস্থা থেকে আমাদের রক্ষা পেতে হলে নিরাপদ এবং মানসম্পন্ন খাদ্য ও পানি নিশ্চিত করা আবশ্যক।
‘মানসম্পন্ন ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালক এ কে ফজলুল আহাদ এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, খাদ্যের মান ঠিক রাখা শুধু বিএসটিআইয়ের দায়িত্ব নয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, পৌর করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের দায়িত্বও অপরিসীম। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা পরিষদ রয়েছে। এ পরিষদ দেশি ও আমদানি করা খাদ্যের গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ করবে।
ক্যাপ অ্যান্ড হার্ডির চেয়ারম্যান এইচ এম আখতার খান বলেন, বাংলাদেশে একসময় গোলাভরা ধান, গোয়ালভরা গরু আর পুকুরভরা মাছ ছিল। তখন মানুষ খাদ্যে ভেজালের চিন্তাও করেনি। কিন্তু কালের বিবর্তনে এ মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে। এখন একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় খাদ্যসামগ্রীতে ভেজাল মেশাচ্ছেন, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক রফিক উল্লাহ। তিনি বলেন, মানসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য বহুল আলোচিত বিষয়। তবে আশঙ্কার কথা হলো, পানীয় জল থেকে শুরু করে শিল্পোৎপাদিত খাদ্যপণ্য ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ—কোনো কিছুই আজ আর ভেজালমুক্ত নয়। অতি মুনাফালোভী একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী এ কাজে অধিক তৎপর। নগরের বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে গ্রামের ক্ষুদ্র দুধ বিক্রেতাসহ সবাই আজ ভেজালের অভিশাপে জড়িত। এসব ব্যবসায়ী ফল, দুধ, মাছের পচন রোধে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করেন। ফলকে আকর্ষণীয় করতে বিষাক্ত রং ও সুগন্ধি ব্যবহার করেন।
সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় কৃষিবিদ সৈয়দ আব্দুর রব বলেন, বাংলাদেশ উষ্ণ-অবউষ্ণ জলবায়ুর দেশ। এখানে প্রায় ৭০ ধরনের ফল জন্মে। দেহের জন্য পুষ্টিকর এসব ফল সরাসরি খাওয়া যায়। এসব দেশি ফল থেকে পুষ্টির সবটুকুই পাওয়া সম্ভব। এসব ফল আগাম বাজারজাত করতে কৃত্রিম উপায়ে পাকানো হয়। ফল পাকাতে ব্যবসায়ীরা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নানা ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য মেশান। বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রিত এসব ফল খেলে দীর্ঘমেয়াদি বদহজম, পেটের পীড়া, পাতলা পায়খানা, জন্ডিস, গ্যাস্ট্রিকসহ নানা রোগ হতে পারে।
বিএসটিআইয়ের পরিচালক (মান) সৈয়দ হুমায়ুন কবির বলেন, সুস্থ ও সবল থাকার জন্য সবাইকে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। সবাইকে সচেতন করার লক্ষ্যেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সাধারণ জনগণকেও ভেজালবিরোধী অবস্থান নিতে হবে। তাঁদের এ ক্ষেত্রে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারীর বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশা, মোহাম্মদ আল-আমীন ও বিএসটিআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গতকালের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। তাঁরাও ভেজাল খাদ্য মোকাবিলায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার সমর্থনে বক্তব্য দেন।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: