যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস, যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ!

স্টপ ! দুর্নীতিঃ

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

Corruption spreading like cancer in Bangladesh

Corruption spreading like cancer in Bangladesh

দুর্নীতি নিয়ে আজকাল মানুষের মুখে মুখে আলোচনার কোনো শেষ নেই। লেখালেখিও কম হচ্ছে না। প্রাচীনকাল থেকেই এ নিয়ে জনগণের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা-কথাবার্তা চলে আসছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে রাষ্ট্রের কর্মকৗশল ও নীতিমালায় ‘দুর্নীতিকে’ একটি স্থায়ী আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়। বিলেতি শাসকদের সুপরিকল্পিত প্রশ্রয়ে রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম ও সমাজ জীবনে দুর্নীতি দৃঢ়মূল ও বিস্তৃত হয়। ব্রিটিশরা বিদায় নেয়ার পর পাকিস্তানি যুগেও ঔপনিবেশিক আমলের দুর্নীতির ধারা অব্যাহত থাকে। স্বাধীন বাংলাদেশেও সেই দুর্নীতির ‘সংস্কৃতি’ ও ধারা দূর হয়নি, বরং তা আরো বেড়েছে।

২০০১ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলের শেষ বছরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর দুর্নীতির ইসু্য নিয়ে আলোচনা বিশেষভাবে জোরদার হয়ে ওঠে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০২, ২০০৩, ২০০৪ ও ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছরই বাংলাদেশ বিশ্বের দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ‘চ্যাম্পিয়নের’ আসনে অধিষ্ঠিত থাকে। হাওয়া ভবনকে কেন্দ করে সেসময় যে দক্ষ-মসৃণ দুর্নীতি ও লুটপাটের আখড়া প্রতিষ্ঠিত হয়, সেখানে সংগঠিত সেনসেশনাল বিভিন্ন ঘটনা দুর্নীতি নিয়ে আলোচনাকে এক নম্বরে নিয়ে আসে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অনেক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করা হয়। বলা হয় যে, ‘চুনো-পুঁটিদের না ধরা হলেও দুর্নীতিবাজ রুই-কাতলাদের রেহাই দেয়া হবে না’। ধর-পাকড়, মামলা-মোকদ্দমা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু অচিরেই একথা পরিষ্কার হতে থাকে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের আসল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক। মাইনাস-টু ফমর্ুলা কার্যকর করে ফরমাইসি শক্তিকে কৃত্রিমভাবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করাই এই অভিযানের লুক্কায়িত এজেন্ডা। উপরন্তু এরূপ খবরও জানাজানি হতে থাকে যে রুই-কাতলাদের আটক করে বা তাদেরকে ভয় দেখিয়ে কর্তৃত্ববান মহলের হাঙ্গর-কুমিররা দেদারসে ‘টু পাইস’ কামিয়ে নিচ্ছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে কেন্দ করে পরিচালিত দুর্নীতির ঘটনা সম্পর্কে অনেকের সুনির্দিষ্ট বিবরণ পরবর্তীতে প্রকাশিত হয়েছে।

Bangladesh Prime Minister Sk Hasina

Bangladesh Prime Minister Sk Hasina

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধী, দ্রব্যমূল্য, বিদু্যৎ ইত্যাদির সাথে সাথে দুর্নীতির ইসু্যটিও অন্যতম প্রধান নির্বাচনী ইসু্য হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে যে পাঁচটি ইসু্যকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয় তার দ্বিতীয় নম্বরেই স্থান পায় দুর্নীতির বিষয়টি। মেনিফেস্টোতে বলা হয় যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে দ্রব্যমূল্য সমস্যা নিরসনে নিম্নোক্ত ৬টি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। “ঃ(১) দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে শক্তিশালী করা হবে। (২) দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। (৩) ক্ষমতাধরদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণ দিতে হবে। (৪) রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরের ঘুষ-দুর্নীতি উচ্ছেদ, অনোপার্জিত আয়, ঋণ খেলাপি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কালো টাকা ও পেশীশক্তি প্রতিরোধ ও নিমর্ূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। (৫) প্রতি দপ্তরে গণঅধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিক সনদ উপস্থাপন করা হবে। (৬) সরকারি কর্মকাণ্ডের ব্যাপকভাবে কম্পিউটারায়ন করে দুর্নীতির পথ বন্ধ করা হবে।”

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের শাসনের প্রায় দু’বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। দুর্নীতির সমস্যা নিরসনের জন্য নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে যে ৬টি কাজের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছিল তার মধ্যে ৫টি আংশিকভাবে ও ৬টি অতীব ক্ষুদ্র পরিসরে বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রথম ৪টি প্রতিশ্রুতি পালনে কোন দৃষ্টিগ্রাহ্য পদক্ষেপই গ্রহণ করা হয়নি। বরঞ্চ সেসব বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতির অবনতি ও পশ্চাৎপসারণ ঘটেছে। দুদকের ক্ষমতা খর্ব করে তাকে কার্যত দন্তহীন বাঘে পরিণত করা হয়েছে। পাওয়ার সেক্টরের সব কাজকর্মকে বিচারের আওতা থেকে দায়মুক্তি দিয়ে আইন করা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার বদলে দুর্নীতি করার সুযোগ নিয়ে ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ করে ক্ষমতাসীনদের ক্যাডাররা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করছে। এই যুদ্ধে তাদের শতাধিক কর্মী নিজেরাই নিজেদের হাতে মৃতু্যবরণ করেছে। ক্ষমতাধরদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণ জনগণ দু’বছরেও জানতে পারেনি। একজন মাত্র মন্ত্রী ব্যতীত অন্য কেউ সম্পদ বিবরণ জমাই দেননি বলে খবরে প্রকাশ। ফ্রি স্টাইলে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি চলছে। কালো টাকা সাদা করার জন্য আবার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এর ফলে যা ঘটার তাই ঘটেছে। দেশে দুর্নীতি কমার বদলে বেড়েছে।

Former prime minister Begum Khaleda Zia

Former prime minister Begum Khaleda Zia

এখন হাওয়া ভবন নেই। তাই দুর্নীতির কেন্দ ীভবনকৃত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনাও নেই। দুর্নীতির ক্ষেত্রে এখন কার্যত এক ধরনের নিরঙ্কুশ বিকেন্দ ীকরণ ঘটেছে। দুর্নীতিবাজরা এখন প্রত্যেকেই আলাদা-আলাদা পেস্নয়ার, সারাদেশে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে লক্ষ লক্ষ ‘মিনি-হাওয়া ভবন’। প্রত্যেকেই আপন-আপন এসব ‘হাওয়া ভবনের’ একেকজন পরিচালক। ‘হাই ব্রিডরা’সহ লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী-ক্যাডারদের ‘স্বাধীন দুর্নীতির ব্যবসার’ ফলে তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বত্রই অবধারিতভাবে সৃষ্টি হয়েছে ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ঠোকাঠুকি। এর স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে উদ্ভব ঘটেছে পরস্পরের মধ্যে হানাহানি, সংঘর্ষ, নৈরাজ্য। জনগণ সবকিছুই দেখছে। তাদের হতাশা, উদ্বেগ ও আশঙ্কা ক্রমাগত বাড়ছে। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এসব দুষ্কর্মের অবাধ বিস্তার তাদের ক্ষোভকেও জাগিয়ে তুলছে। দুর্নীতি যে বাড়ছে তার উপলব্ধির পেছনে রয়েছে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা। এটা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের জন্য ষড়যন্ত্রকারীদের দ্বারা সৃষ্ট উপলব্ধি নয়। তবে হঁ্যা! যুদ্ধপরাধীদের রক্ষায় সচেষ্ট সেসব ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের হাতে তুলে দেয়া এতো সুন্দর এই সুযোগটি ষোল আনা কাজে লাগাতে তৎপর রয়েছে। তবে সে সুযোগ করে দিচ্ছে শাসক দলের দুর্নীতিবাজরা_ যারা সেই দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ করে অন্যভাবে তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে তারা নয়।

দেশে দুর্নীতি যে বেড়েছে সে সম্পর্কে মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির প্রতিফলন ঘটেছে এবছরের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচকে’। ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১ নম্বরে। ২০০৬, ২০০৭, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে তা কিছুটা উন্নত হয়ে যথাক্রমে ছিল ৩, ৭, ১০ ও ১৩ নম্বরে। এবছর প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩ থেকে ১২ নম্বরে নেমে গেছে। দুর্নীতিমুক্ত অবস্থানের সূচক অনুযায়ী গত বছর বাংলাদেশের পয়েন্ট ছিল ২.৪। এবারও তা ২.৪ই রয়ে গেছে।

Corruption in Bangladesh

Corruption in Bangladesh

প্রসঙ্গত উলেস্নখ্য যে, সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে সূচকে ১.১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এবার শীর্ষে রয়েছে সোমালিয়া। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে আছে আফগানিস্তান ও ইরাক। সকলেরই জানা আছে যে, এই দু’টি দেশই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিয়ন্ত্রিত ও অধিকৃত দেশ। সাম্রাজ্যবাদের ওপর নির্ভরশীলতার মাত্রার সাথে দুর্নীতির সূচকের সম্পর্ক অনুসন্ধান করাটা একটি আগ্রহোদ্দীপক বিশেস্নষণের বিষয় হতে পারে। বাহ্যিকভাবে এটাই দৃশ্যমান যে ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো মার্কিন সেনাবাহিনী দখলকৃত দেশগুলো দুর্নীতির লীলাভূমি হিসাবে শীর্ষে জায়গা করে নিচ্ছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কিসের ভিত্তিতে ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক’ নির্ধারণ করে থাকে? এটি একটি খুবই প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের কাছে এবং এমনকি সমাজ সচেতন শিক্ষিত মহলের কাছেও টিআই-এর সূচক নির্ধারণের অনুসৃত পদ্ধতির বিষয়টি যথেষ্ট পরিমাণে স্বচ্ছ নয়। টিআই-এর একটি জরুরি কর্তব্য হওয়া উচিত, তার সূচক নির্ধারণের পদ্ধতির বিস্তারিত বিবরণ ব্যাখ্যা করে সব মহলকে অবগত করা। এটা করা হলে তার রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। ব্যাপারটাকে ‘ধারণা সূচক’ বলে আখ্যায়িত করলেও সকলকেই জানতে দিতে হবে যে, এই ধারণা সূচকের হিসাব কোন্ কোন্ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়ে থাকে। কি ধরনের কাজকে দুর্নীতিমূলক কাজ বলে আখ্যায়িত করা উচিত? এটা একটি প্রাথমিক ও মৌলিক প্রশ্ন। ‘বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত অভিধানে’ দুর্নীতি শব্দের অর্থ হিসেবে লেখা হয়েছে ‘যা নীতি বিরুদ্ধ, কুনীতি, অসদাচরণ’। সকলেই স্বীকার করবেন যে, এই সংজ্ঞা অনুযায়ী দুর্নীতি পরিব্যাপ্ত থাকতে পারে যেমন অর্থনীতিকে কেন্দ করে তেমনি তা সংগঠিত হতে পারে সামাজিক, রাজনৈতিক, পারিবারিক, নীতি-নৈতিকতা প্রভৃতি পরিমণ্ডলেও। দুর্নীতি সম্পর্কে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, তা মূলত অর্থনীতি সম্পৃক্ত কোনো অনৈতিক কাজ আর্থিক দুর্নীতি একটি প্রধান বিষয় হিসেবে বিদ্যমান থাকলেও এর বাইরে সংগঠিত অন্য নানা ধরনের দুর্নীতির প্রকোপ মোটেও কম নয়।

দুর্নীতি সম্পর্কে আরো একটি সরল ভ্রান্তি রয়েছে। এমন একটি ধারণা কিছু মহল থেকে প্রচার করা হয় যে, দুর্নীতির বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক রাষ্ট্রক্ষমতা সম্পৃক্ত ব্যাপার। যে বিখ্যাত ইংরেজি উক্তিটি এক্ষেত্রে হরহামেশাই উদ্ধৃত করা হয় তা হলোঃ ক্ষমতা দুর্নীতির জন্ম দেয়, আর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশ দুর্নীতির পথ করে দেয়। অর্থাৎ ক্ষমতাই হলো দুর্নীতির উৎস। সম্প্রতি চেম্বারের ব্যবসায়ী নেতারা পরপর কয়েকটি সেমিনারে তত্ত্ব দিয়েছেন যে, বেসরকারি খাতে দুর্নীতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ব্যবসায়ীদেরকে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করা ঠিক নয়। কারণ তারা তো রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত নন। তারা ব্যবসা করে আইনসম্মতভাবে। কোনো ব্যবসায়ী আইন ভঙ্গ করে কিছু করলে সেটাকে একটি বেআইনি কাজ বলে গণ্য করা গেলেও তাকে কোনোভাবে ঘুষ-দুর্নীতির কোনো ব্যাপার বলে গণ্য করা যেতে পারে না।

The Fine Art of Policing in Bangladesh

The Fine Art of Policing in Bangladesh

এক্ষেত্রে দু’টি কথা বলা আবশ্যক। প্রথমত, শুধু রাষ্ট্রীয়, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ক্ষমতাই যে ‘ক্ষমতার’ একমাত্র রূপ সে কথা মোটেও সত্য নয়। অর্থনৈতিক ক্ষমতাও ‘ক্ষমতার’ আরেকটি রূপ। চূড়ান্ত বিচারে অর্থনৈতিক ক্ষমতাই অন্য সব ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক। তাই কথাটি অর্থনৈতিক ক্ষমতার-র ক্ষেত্রে আরো বড়ভাবে প্রযোজ্য। সুতরাং ‘দুর্নীতি’ ব্যাপারটি কেবল রাষ্ট্র প্রশাসন রাজনীতি সম্পৃক্ত ব্যাপার, এর সাথে বেসরকারি খাতের কোনো সম্পর্ক নেই,_ এ ধরনের বক্তব্য কেবল যুক্তিহীনই নয়, তা শোষক শ্রেণীর স্বার্থে উত্থাপিত একটি প্রতিক্রিয়াশীল কুতত্ত্ব। দ্বিতীয়ত, এ কথাটিও বুঝতে হবে যে, যা আইনসঙ্গত সেটা যে ন্যায়-নীতি সম্মত হবে তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আইনসম্মত হওয়া ও ন্যায়-নীতি সম্মত হওয়া_ এ দুটো ভিন্ন মাত্রার আলাদা দু’টি বিষয়। আইন যদি শোষকের পক্ষে ও শোষিতের বিপক্ষে হয় এবং ইনসাফ ও ন্যায়-নীতি বর্জিত হয় তাহলে সেক্ষেত্রে একটি আইনসম্মত কাজও ন্যায়-নীতি বিরুদ্ধ কাজ হয়ে উঠতে পারে। আমাদের বর্তমান পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় অনেক কাজই আইনসম্মত হলেও সেগুলো ন্যায়-নীতি বিরুদ্ধ, তথা দুর্নীতিমূলক কাজ। দেশ আজ সে আইনসম্মত অথচ ন্যায়-নীতি বর্জিত অনৈতিক কাজসহ এক সর্বব্যাপী ‘দুর্নীতির’ লীলাভূমি হয়ে উঠেছে। এর ফলে ধ্বংস হচ্ছে মানবতা, মানুষ, দেশ ও জাতি। এই ‘দুর্নীতি’ প্রতিনিয়ত গ্রাস করছে লক্ষ-কোটি মানুষের জীবন।

সমাজের এই বৈষম্য কবে যে দূর হবে!

সমাজের এই বৈষম্য কবে যে দূর হবে!

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জহির রায়হান ‘ঃ স্টপ। জেনোসাইড ঃ ‘ নামে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি অসাধারণ ডকুমেন্টারি ফিল্ম রচনা করেছিলেন। এই প্রামাণ্য সিনেমাটি বিশ্ব বিবেককে জাগিয়ে তুলতে অমূল্য অবদান রেখেছিল। সাম্প্রতিক সময়কালে, বিশেষত গত এক দশক ধরে, দেশে ‘দুর্নীতির’ যেরূপ ভয়াবহ বিস্তৃতি ঘটেছে তাতে ‘স্টপ! দুর্নীতি’ নামে নতুন একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম রচনা করাটা আজ জরুরি প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাটা মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে কম কঠিন কোনো কাজ নয়।

অনেকেই এ কথায় আপত্তি করে হয়তো বলবেন, ‘জেনোসাইড’ (গণহত্যা) আর ‘দুর্নীতি’-কে সমতুল্য অপরাধ বলে গণ্য করাটা কি সমীচীন? আমি বলবো, হঁ্যা! কখনো কখনো তা সমীচীন বটে। সমাজের মুষ্টিমেয় একশ্রেণীর ‘অমানুষের’ সীমাহীন অবাধ দুর্নীতি আজ ‘কেড়ে খাচ্ছে ষোল কোটি মানুষের মুখের গ্রাস’। তার পরিণতিতে অপুষ্টি, অর্ধাহার, অনাহার, চিকিৎসার অভাবে লক্ষ-কোটি মানুষের জীবনীশক্তি, জ্বালানির অভাবে ক্ষীণ হয়ে আসা প্রদীপ-শিখার মতো, অকালে নির্বাপিত হচ্ছে। এই অবস্থাকে এক ধরনের পরোক্ষ নীরব গণহত্যা বলে বিবেচনা করাটা কি ভুল হবে? দুর্নীতির ফলে জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি যে সম্ভাব্য পরিমাণের চেয়ে দুই-তিন শতাংশ কম হয় তা অর্থনীতির পণ্ডিতরা হরহামেশাই বলে থাকেন। তবে, দুর্নীতির কুপ্রভাবের ব্যাপারটি পরিসংখ্যানের একটি বিমূর্ত ব্যাপার শুধু নয়। দুর্নীতি ধ্বংস করে দিচ্ছে দেশবাসীর জীবনের শত শত কোটি বছরের জীবনের আয়ু, নীরব মৃতু্যর পথে ঠেলে দিচ্ছে শত-সহস্র মানুষকে।

হে মহান আল্লাহ - আমাদেরকে নেক হেদায়েত দান করুন, আমরা যেন "আশরাফুল মাখলুকাত" হতে পারি - আমিন।

হে মহান আল্লাহ - আমাদেরকে নেক হেদায়েত দান করুন, আমরা যেন "আশরাফুল মাখলুকাত" হতে পারি - আমিন।

‘দুর্নীতি’ একটি ভয়াবহ সামাজিক মরণব্যাধি। আমাদের চেনা-জানা ‘গণহত্যার’ মতো দুর্নীতিও একটি নিষ্ঠুর নরঘাতক। তাই গণহত্যার জন্য দায়ী যুদ্ধাপরাধীদের যেমন বিচার চাই, একই সাথে চাই আরেকটি নরঘাতক ‘দুর্নীতির’ হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার। চাই দুর্নীতিমুক্ত সমাজের প্রতিষ্ঠা। সে জন্য পরিচালনা করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের মতোই আরেকটি লড়াই।

ষোল কোটি দেশবাসীর সামনে আজ তাই নজরুলের সেই দীপ্ত ঘোষণা প্রতিধ্বনিত করে বজ নিনাদে রণধ্বনি তোলার সময় এসেছে_ “যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস,/ যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ!”

[লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।]

jahan hassan ekush tube bangla desh জাহান হাসান, লস এঞ্জেলেস. বাংলাদেশ. বাংলা, আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, একুশ, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s