আমি বরাবরই তরুণদের সঙ্গে থাকতে আগ্রহী : রুশনারা আলী

সাক্ষাৎকার

আমি বরাবরই তরুণদের সঙ্গে থাকতে আগ্রহী

রুশনারা আলী

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : একরামুল হক শামীম
ছবি :আরিফুর সানী

Rushanara Ali

Rushanara Ali

রুশনারা আলীর জন্ম ১৯৭৫ সালের ১৪ মার্চ বাংলাদেশের
সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার ভুরকি গ্রামে। সাত বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাজ্যে। যুক্তরাজ্যের মালবেরি স্কুলস অব গার্লস ও টাওয়ার হ্যামলেট কলেজ থেকে শিক্ষা লাভ করেন তিনি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জন্স কলেজে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। রাজনীতি বিষয়ে আগ্রহ থেকেই রাজনীতির জগতে পদার্পণ। মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই ২০১০ সালে হাউস অব কমন্সের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। হাউস অব কমন্সে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি। দ্য গার্ডিয়ানের মতে, রুশনারা আলী ব্রিটেনের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী নারীদের একজন। রুশনারা আলী সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছিলেন ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রতীকী জলবায়ু আদালতের পর্যবেক্ষক হিসেবে। সমকালের সঙ্গে আলাপে তিনি কথা বলেছেন তারা বেড়ে ওঠা, ব্রিটেন ও বাংলাদেশ নিয়ে:

সমকাল : আপনার জন্ম সিলেটে। সাত বছর বয়সে আপনি যুক্তরাজ্যে গেছেন। সেখানে টাওয়ার হ্যামলেট এলাকায় বেড়ে উঠেছেন। এক পর্যায়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। রাজনীতিতে নিজেকে জড়ালেন। আপনার এই দীর্ঘ যাত্রা কি পরিকল্পিত ছিল?
রুশনারা আলী : আমার গল্প আর সব টিপিক্যাল পূর্বাঞ্চলবাসীর মতোই। আমি বেড়ে উঠেছি টাওয়ার হ্যামলেটে। আমার জন্ম বাংলাদেশে। সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যাই। আমার পরিবারের এই মাইগ্রেশন দীর্ঘ সংস্কৃতির অংশ, যেসব পরিবার অধিকতর ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য বিদেশে পাড়ি জমায়। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করে উচ্চ শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ আমার ঘটে। তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ হয়। টাওয়ার হ্যামলেটস সামার ইউনিভার্সিটিতে একটি প্রকল্প করার সুযোগ আমার হয়েছিল, যা হাজার হাজার তরুণকে সহায়তা করে এবং যুব অপরাধ কমাতে সহযোগিতা করে। এক পর্যায়ে আগ্রহ থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়েছি। আমি মনে করি এগুলো আমি করতে পেরেছি আমার পরিবারের সহযোগিতায়, আমার মালবেরি স্কুল ও টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজের বন্ধুদের পাশে পেয়ে। আমার বর্তমান অর্জন আমার পরিবারের অর্জন, আমার অর্জন আমার শিক্ষক ও বন্ধুদের অর্জন। কেউ কেউ জিজ্ঞেস করেন, আমার সফলতার রহস্য কী? আমি তাদের বলি কোনো রহস্য নেই। আমি মনে করি আমার পরিবারের অবদান এখানে অনেক বেশি। মানুষের সাফল্যের ক্ষেত্রে কমিটমেন্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দ্বিতীয়ত, চেষ্টা করা জরুরি। পরিশ্রম করা জরুরি, ডিটারমিনেশন ঠিক করা জরুরি। সর্বোপরি মানুষের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা জরুরি।

সমকাল : আপনার দল লেবার পার্টির পলিসিতে বাংলাদেশের নানা বিষয় অন্তর্ভুক্তিতে আপনার অবদান কী হবে? আপনি এখন লেবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক ছায়ামন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। এ অবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের গৃহীত পদক্ষেপে আপনার ভূমিকা কী হবে?
রুশনারা আলী : আমার পক্ষে যতটুকু অবদান রাখা সম্ভব তার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই আমি করব। জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও দারিদ্র্য নিরসনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আমি কাজ করতে চাই। তাছাড়া দরিদ্রতার কবল থেকে নারী ও শিশুদের রক্ষায় কাজ করার ইচ্ছা আমার রয়েছে। ব্রিটেনে লেবার পার্টি বর্তমানে বিরোধী দলে রয়েছে। সুতরাং সরকারি দলের মতো কাজ করার সুযোগ আমাদের নেই। তবে আমরা যা করতে পারি তা হলো, সরকারের জন্য দায়বদ্ধতার জায়গা তৈরি করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা। বর্তমান সরকার যাতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি কমিটমেন্ট বজায় রাখে তার জন্য চাপ প্রয়োগ বজায় রাখবে লেবার পার্টি। লেবার পার্টির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক ছায়ামন্ত্রী হিসেবে আমি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করতে চাই।

Rushanara Ali and Muhammad Yunus

Rushanara Ali and Muhammad Yunus

সমকাল : বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে কী কী বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা যায়?
রুশনারা আলী : আমি মনে করি, দুটি দেশ নানা ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে পারে। বিশেষ করে টেকনিক্যাল এক্সপার্টিজ বিনিময় করতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের উচিত যুক্তরাজ্যের সরকারের সঙ্গে পারস্পরিক সংলাপ পরিচালনা করা। কারণ এ সংলাপের মাধ্যমেই পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো বেরিয়ে আসবে। আমরা বিরোধী দল হিসেবে যুক্তরাজ্য সরকার যাতে পদক্ষেপ নেয় তা নিশ্চিতকরণে ব্যবস্থা নিতে পারি।

সমকাল : লন্ডনে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা প্রায়ই খবরে আসে। এক্ষেত্রে কী করণীয় বলে আপনি মনে করেন?
রুশনারা আলী : বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের নানা বিষয়ে আমি অবহিত। সমস্যাটি প্রকট হয়ে উঠেছে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চাকরি খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছে। আসলেই সময়টা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কঠিন সময়। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখে এ বিষয়ে অবহিত করেছি। একটি সমস্যা হচ্ছে, অনেকেই যুক্তরাজ্যে পড়তে যায় এবং মনে করে খণ্ডকালীন চাকরি করে টিউশিন ফি ও অন্যান্য খরচ বহন করবে। কিন্তু এটি করা খুবই কঠিন। আমি মনে করি, কনজারভেটিভ সরকারকে আরও সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নীতি আরও কার্যকর করতে হবে। আমরা বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে এ ব্যাপারে চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছি।

British Prime Minister Gordon Brown is greeted by Labour parliamentary candidate for Bethnal Green and Bow Rushanara Ali

British Prime Minister Gordon Brown is greeted by Labour parliamentary candidate for Bethnal Green and Bow Rushanara Ali

সমকাল : বাঙালি কমিউনিটির নানা সমস্যার খবরও প্রকাশিত হয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি হিসেবে আপনি এসব সমস্যা সমাধানে কী ভূমিকা রাখতে চান?
রুশনারা আলী : আমরা এখন ক্ষমতায় নেই। বিরোধী দল হিসেবে আমরা যা করতে পারি তা হলো সরকারকে দায়িত্বশীল রাখতে চাপ বজায় রাখা। কনজারভেটিভ পার্টির কোয়ালিশন সরকারকে ইমিগ্রেশন পলিসির ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে চাপের মধ্যে রাখব। ইমিগ্রেশন পলিসি ঠিকমতো কাজ করলে তা দেশের অর্থনীতির জন্যই সমস্যা তৈরি করে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাঙালি কমিউনিটির সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবছি। এগুলোর সমাধানে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। আমি এমপি নির্বাচিত হয়েছি খুব বেশিদিন হয়নি। তবে আমার কমিটমেন্টের বিষয়ে আমি সচেতন। লেবার পার্টি বর্তমানে বিরোধী দলে থাকলেও পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে যতটা সম্ভব তার সর্বোচ্চ চেষ্টাই আমি করব।

সমকাল : ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটি কী অবস্থায় আছে বলে আপনি মনে করছেন? কমিউনিটির সম্ভাবনা কেমন?
রুশনারা আলী : আমি মনে করি, ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটি খুবই ভালো অবস্থায় আছে। এই কমিউনিটির সম্ভাবনাও অনেক। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্ম নিজেদের উজ্জ্বল অবস্থান প্রকাশ করতে পেরেছে। এখন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট, সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষ হিসেবে ভালো করছে বাংলাদেশি কমিউনিটি। কিছু কিছু এলাকায় বাংলাদেশিদের পারস্পরিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার মনে হয়, এ বিষয়টি সামনে আরও উজ্জ্বল হবে। তবে হ্যাঁ, প্রথম জেনারেশনের অনেকেই সমস্যায় ছিল। চাকরি খুঁজে পাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল, প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন সে চ্যালেঞ্জ কিছুটা হলেও কমেছে। আমরা এখন অনেক কিছুই করছি। সামনে আরও অনেক কিছুই করতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।

Labour MP Rushanara Ali has added her support to a campaign to stop a right-wing march in East London.

Labour MP Rushanara Ali has added her support to a campaign to stop a right-wing march in East London.

সমকাল : ব্রিটিশ এমপি হওয়ার পর এটিই বাংলাদেশে আপনার প্রথম সফর। আপনি সিলেটের পৈতৃক বাড়িতে গেছেন। এবারের সফর কেমন হয়েছে?
রুশনারা আলী : খুবই ভালো সফর হয়েছে। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেকের সঙ্গেই আমার আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়া, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে কথা হয়েছে। এয়ারপোর্ট নিরাপত্তা নিয়ে কথা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে আলাপ করেছি। আমি জানি বাংলাদেশের সবাই খুব আন্তরিক।
সিলেটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা দারুণ। সিলেট আমার জন্মস্থান। আলাদা একটা টান স্বাভাবিকভাবেই রয়েছে। সেখানে অনেকেই দূর থেকে আমাকে দেখতে এসেছে। সবার কাছ থেকে ইতিবাচক রেসপন্স পেয়েছি। আমার জন্য সবচেয়ে ভালো লাগার ব্যাপারটি হলো, বাংলাদেশের মানুষ আমার জন্য গর্ববোধ করে। এ বিষয়টি আমার জন্য অনেক আনন্দের। এজন্যই আমার দায়বদ্ধতা সম্পর্কে আমি সচেতন। আমি মনে করি, আমার দায়বদ্ধতা সবার ওপরে। আমার দায়বদ্ধতা কেবল সিলেটের জন্য নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য। আমার আজকের অবস্থানের জন্য বাংলাদেশের অবদান অনেক, বাংলাদেশের মানুষের অবদান অনেক।

সমকাল : বাংলাদেশ কেমন দেখছেন? সংকট বা সম্ভাবনাগুলো কী?
রুশনারা আলী : গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন অনেকের নজর কেড়েছে। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ শিশুমৃত্যুর হার কমানোর জন্য এমডিজি পুরস্কারও পেয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। যদিও বাংলাদেশের নানা ক্ষেত্রে এখনও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপারে বাংলাদেশের সরকারের আরও সচেতন হওয়া উচিত। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সমকাল : বাংলাদেশের তরুণরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে। নতুন ধারার কিছু করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের তরুণদের নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
রুশনারা আলী : এই তরুণরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশে এবারের ভ্রমণে অনেক তরুণের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে আমার খুবই নলেজেবল মনে হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের আগ্রহ রয়েছে। তাদের মধ্যে সক্রিয়তা রয়েছে, এক্সাইটমেন্ট রয়েছে। এছাড়া তারা সৃজনশীল। যদিও আমার এবারের বাংলাদেশের ভ্রমণ খুবই কম সময়ের। তবে বাংলাদেশের তরুণদের ইতিবাচক বিষয়গুলো বেশ দৃশ্যমান। আমি তা উপলব্ধি করেছি। আমি একটি ব্যাপারে খুবই আগ্রহী, তা হলো এই তরুণদের সঙ্গে কীভাবে থাকা যায়, কীভাবে সহযোগিতা করা যায়। আমি মনে করি, এই তরুণ প্রজন্ম সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে অনেক কিছুই করতে পারবে।

Rushanara Ali, a Labour MP and junior shadow minister

Rushanara Ali, a Labour MP and junior shadow minister

সমকাল : আপনি তরুণদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। এর কারণ কী হতে পারে?
রুশনারা আলী : তাই নাকি? আসলে তরুণদের মধ্যে আমি কতটা জনপ্রিয় বলতে পারব না। তবে চেষ্টা করি তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে, তাদের আগ্রহের বিষয়গুলো জানতে, পরস্পর মতামতগুলো শেয়ার করতে। এতে করে যদি তরুণদের মধ্যে আমার জনপ্রিয়তা থেকে থাকে তা আমার জন্য খুবই আনন্দের।

সমকাল : বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এড়াতে আপনি বাংলাদেশের জন্য কাজ করছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি।
রুশনারা আলী : জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। সুতরাং এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে উদ্যোগ নিতে হবে, কাজ করতে হবে। আশার কথা হলো, বাংলাদেশ এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। নিজেদের ক্ষতির বিষয়ে সচেতন হয়েছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। ব্রিটেনের পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে আমি চেষ্টা করব বর্তমান সরকারকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতে। যাতে করে জলবায়ু পরিবর্তনের তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারে, সে চেষ্টাও আমরা বিরোধী দল হিসেবে করব।

সমকাল : আপনি একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রতীকী জলবায়ু আদালতে অংশ নিয়েছেন। এ সম্পর্কে কিছু বলুন।
রুশনারা আলী : বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় একটি উদ্যোগের সঙ্গে থাকতে পেরেছি আমি। পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার পর বাংলাদেশে প্রথম ভ্রমণেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে সংযুক্ত থাকতে পারা আমার জন্য আনন্দের। প্রতীকী জলবায়ু আদালতে উপকূলবাসীর সংকটের কথা আমি শুনেছি, তাদের সব হারানোর কথা শুনেছি। আমি মনে করি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো অবশ্যই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবি রাখে। জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুটিতে আমি কাজ করতে আগ্রহী।

সমকাল : আপনি নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নির্বাচনের সময় প্রচারণা চালিয়েছেন। প্রযুক্তির আধুনিক সুবিধাগুলো আপনি নিয়েছেন, যেমন আমরা দেখতে পেয়েছি ফেসবুকে আপনার প্রচারণা হয়েছে। আপনার ওয়েবসাইটে নিজের পলিসিগুলো আপনি তুলে ধরেছেন। এমনকি ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করে মানুষজন যেন আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে সে পথও খোলা রেখেছেন। এটি নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। কিন্তু নির্বাচনের পর ওয়েবসাইটটিতে তেমন কোনো আপডেট নেই। এমনটি কেন?
রুশনারা আলী : নির্বাচনের সময় এ উদ্যোগ কাজে লেগেছিল বলে আমি মনে করি। তবে গত কয়েক মাস ব্যস্ত সময় যাওয়ায় আপডেট করার সময় পাচ্ছি না। তবে একটু ফ্রি হলেই আপডেট দেওয়ার ব্যবস্থা করব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য এটি খুবই ভালো উপায় বলে আমি মনে করি।
সমকাল : আপনাকে ধন্যবাদ।
রুশনারা আলী : সমকালের পাঠকদের শুভেচ্ছা।

jahan hassan ekush tube bangla desh জাহান হাসান, লস এঞ্জেলেস. বাংলাদেশ. বাংলা, আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, একুশ, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s