আমেরিকায় আয়-বৈষম্য কর্মসংস্থানের সংকট : বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও দারিদ্যসীমার নিচে বাস করছে এখন ৪৪ মিলিয়ন অর্থাৎ প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ, যা কিনা মোট জনসংখ্যার ১৪ দশমিক ৩ ভাগ।

আমেরিকায় আয়-বৈষম্য কর্মসংস্থানের সংকট
[দিন বদলায় : মিতবাক]

US unemployment

US unemployment

বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও দারিদ্যসীমার নিচে বাস করছে এখন ৪৪ মিলিয়ন অর্থাৎ প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ, যা কিনা মোট জনসংখ্যার ১৪ দশমিক ৩ ভাগ। পুঁজিবাদি অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ধনবৈষম্য থাকবে এবং আমেরিকাতেও গরিব মানুষ আছে জানতাম। শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ অর্থনীতি আমেরিকার। সেখানে ধনবৈষম্যের মাত্রাও সবচেয়ে বেশি। দেশের শতকরা ১০ ভাগ দরিদ্রতম লোক যেখানে মোট জাতীয় আয়ের শতকরা ১ দশমিক ৮ ভাগ পেয়ে থাকে, সেখানে সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ পেয়ে থাকে মোট আয়ের তিনভাগ। শীর্ষ ২০ শতাংশ মানুষ জাতীয় সম্পদের শতকরা ৮৩ ভাগই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ২০০৬ সালে আমেরিকায় দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল ৩৭ মিলিয়ন। দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানের সংকট তীব্র হয়ে উঠছে দেশটিতে। ২০০৮-এ অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ওবামার ৮১৪ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ছাড়াও দেউলিয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেলআউট হিসাবে ৭০০ বিলিয়ন ডলার পাম্প করেছেন। এসব কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। এটা এখন স্পষ্ট যে, টাইটানিকের ডুবো বরফ-পাহাড়ে ধাক্কা খাওয়ার মতো আমেরিকান অর্থনীতি যে মহামন্দা নামক বরফ-পাহাড়ে হোঁচট খেয়েছে, সেই বিপর্যয় থেকে এখনো সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারেনি আমেরিকান অর্থনীতি। তবে কি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ওবামার গৃহীত পদক্ষেপ সাধারণ আমেরিকানদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে ব্যর্থ হবে? আর নিজ দেশে আয়বৈষম্য ও কর্মসংস্থানের সমস্যা বাড়তে থাকলে, বিশ্ববাজারে আমেরিকার নেতৃত্ব বা কতৃর্ৃত্ব বহাল থাকবে কতটা এবং কীভাবে? ২০০৭ সালে শুরু হওয়ার পর আমেরিকান মন্দা ইউরোপের অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশে দেখা দেয়ায় তা বিশ্বমন্দা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। সেই তখন থেকেই বিশ্বমন্দার কারণ, প্রভাব, পরিণতি এবং সমাধান নিয়ে বিশ্বে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে চলছে নানারকম বিচার-বিশেস্নষণ।

নিজে অর্থনীতির ছাত্র নই বলে অর্থনীতির তত্ত্বকথায় আগ্রহ জাগে কম, এর ব্যাখ্যা-বিশেস্নষণের অংক খুব একটা সহজবোধ্য ঠেকে না। কিন্তু অর্থনীতি এমন এক বিষয়, দৈনন্দিন বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতা থেকেই যার ভালমন্দ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করেন প্রত্যেকে। আর বিশ্বায়ন ও বাজার অর্থনীতির এ যুগে বিশ্ব অর্থনীতি কিংবা ভোগবাদি সংস্কৃতির ভালমন্দ প্রভাব সম্পর্কে ধারণা লাভও কঠিন নয় সচেতন ভোক্তাদের। তবে ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতা যার যেমনই হোক, যেকোন দেশ বা সমাজের উন্নতি-অবনতি কিংবা গতি-প্রকৃতি বুঝতে অর্থনীতির তথ্য-পরিসংখ্যান ও অর্থনীতিবিদদের গবেষণা এবং ব্যাখ্যা-বিশেস্নষণের ওপর নির্ভরশীল হওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই। বিশ্ব অর্থনীতি এবং বিশ্বায়নের গতি-প্রকৃতি বুঝতে এসব বিষয়ে হালফিল প্রকাশিত কিছু বইপত্র পড়ছিলাম। রিচার্ড এইচ. রবিনস রচিত ‘গেস্নাবাল প্রোবেস্নমস এ্যান্ড দি কালচার অব ক্যাপিটালিজম’, রিচার্ড জে. প্যানের গবেষণাগ্রন্থ ‘গেস্নাবাল ইসু্য’ ও স্কট সারনাউ-এর লেখা ‘গেস্নাবাল প্রোবেস্নমস’ বই তিনটিতে বিশ্ব অর্থনীতি বিশ্বায়নের সামপ্রতিক চেহারা নানাভাবে দেখানো হয়েছে। বই তিনটি প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকা থেকে, লেখকরাও সবাই অর্থনীতিবিদ ও গবেষক। বইগুলোতে বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার অবস্থান ও ভূমিকা দেখানো হয়েছে নানা দিক থেকে। মার্কসবাদী দর্শন অনুযায়ী পুঁজিবাদি সমাজের সংকটের পর সমাজতন্ত্র বা সাম্যবাদী সমাজের অনিবার্য পরিণতি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় অর্থনীতিবিদরা অনেকে এখন মার্কসীয় ব্যাখ্যা-বিশেস্নষণের ধারেকাছে থাকেন না। কিন্তু পশ্চিমা জগতের গবেষকদের কাছে মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও সমাজ ব্যাখ্যা যে এখনো তুচ্ছ হয়ে যায়নি, এ বই তিনটিতে তা নানাভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বইগুলোতে আলোচিত বিভিন্ন আগ্রহোদ্দীপক বিষয়ে এই কলামে আগামীতে আলোচনার ইচ্ছে আছে। আজকে আমেরিকান দারিদ্র্য প্রসঙ্গে ফিরে আসি।

Lending to the poor

Lending to the poor

বাজার অর্থনীতি বিষয়ে স্কট সারনাউ তার গ্রন্থে আমেরিকানদের সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন: ‘আমেরিকানরা জোরগলায় দাবি করেন যে, তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিবার, বন্ধু ও বিশ্বাস। কিন্তু বাস্তবে তাদের জীবনের অধিকাংশ সময়ই ব্যয় হয় বস্তুগত নানা সংগ্রহ ও ভোগ্যপণ্যের চাহিদা পূরণের জন্য। কোন না কোনভাবে আমেরিকানরা বাজারের দাস হয়ে পড়ছেন। শুধু আমেরিকান নয়, বিশ্ব জুড়েই ক্রমশ বেশি বেশি মানুষ এই ভাগ্য বরণের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।’ নিজে বছর চারেক আগে তিন মাসের জন্য আমেরিকায় বেড়ানোর সুযোগ পেয়ে বিভিন্ন নগরীতে আমেরিকান জীবনধারাকে কাছে থেকে দেখার যেটুকু সুযোগ হয়েছে, তাতে লেখকের উপরের মন্তব্যকে যথাযথ মনে হয়েছে। কিন্তু দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবসকারী মানবেতর জীবনধারা যেমন দেখি, সেরকম দারিদ্র্য আমেরিকায় চোখে পড়েনি কোথাও। এর কারণ, বিকশিত বাজার অর্থনীতির দেশ আমেরিকায় দারিদ্র্যসীমারেখা আর আমাদের দেশের জাতীয় বা বিশ্বব্যাংক কতর্ৃক নির্ধারিত দারিদ্র্যসীমারেখা এক নয়। আমেরিকায় দারিদ্র্য সীমারেখা ধরা হয়েছে প্রতি বয়স্ক মানুষের জন্য বার্ষিক ১০,৮৩০ ডলার এবং চার জনের একটি পরিবারের বার্ষিক ২২,০৫০ ডলার আয়ের নিরিখে। অনেকের ধারণা, দারিদ্র্যসীমারেখা ঠিকঠাকভাবে নির্ণয় করলে, প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আমেরিকান দরিদ্র হিসাবে পরিগণিত হবেন। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীদের মধ্যে রয়েছে এক-চতুর্থাংশ আফ্রিকান-আমেরিকান এবং ল্যাটিনোদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর চিলড্রেন ইন পোভারটি’-এর হিসাব মতে আমেরিকার মোট শিশুদের শতকরা ১৯ ভাগ তথা ১ কোটি ৪ লাখ শিশু আমেরিকার জাতীয়ভাবে নির্ণীত দারিদ্র্যসীমারেখার নিচের পরিবারগুলোতে অবস্থান করছে। দরিদ্র মানুষের খাদ্যসংস্থান ও কর্মসংস্থান যে একটি বড় সমস্যা, তা আমেরিকার সরকারি সূত্রে নানা তথ্য পরিসংখ্যানেও পরিষ্কার বোঝা যায়। ২০০৯ সালে আমেরিকার কৃষি বিভাগ জানিয়েছিল যে, ৪৯ মিলিয়ন আমেরিকানের অব্যাহত খাদ্য নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। গত অক্টোবর মাসে আমেরিকার শ্রম পরিসংখ্যান বু্যরোর রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে বেকারত্বের হার ছিল শতকরা ৯ দশমিক ৬ অবস্থানে। সেপ্টেম্বর মাসে ৯৫ হাজার কর্মসংস্থান (যার বেশিরভাগই সরকারি পেরোল ভিত্তিক) বন্ধ হয়ে যায়, অন্যদিক নিম্ন আয়ের ৬৪ হাজার চাকরি বা কর্মসংস্থান যুক্ত হয়েছে এ মাসে।

সব মিলিয়ে আমেরিকান অর্থনীতির যে হালফিল অবস্থা, তাতে মন্দা কেটে গিয়ে আমেরিকার অর্থনীতিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে, অনেক অর্থনীতিবিদই তা মানতে নারাজ। তাদের অনেকেরই অভিন্ন মূল্যায়ন বিশ্ব অর্থনীতি ও বিশ্বমন্দা সম্পর্কেও। ২০০৮ সালে যে মন্দা বিশ্ব অর্থনীতিকে নাজুক করে তোলে, তার অধিকাংশ দীর্ঘমেয়াদি কারণ এখনো বিদ্যমান। ব্যতিক্রম শুধু ব্যাংকিং খাত, যা আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে সরকারিভাবে বিপুল পরিমাণ বেইলআউট কর্মসূচি দ্বারা। এর ফলে জার্মানির মতো কয়েকটি দেশের অর্থনীতি কর্মসংস্থান পতনের হারকে ঠেকাতে পেরেছে অনেকখানি। কিন্তু ইতিমধ্যে মন্দার সামাজিক মাশুল বেড়েই চলেছে বিভিন্ন দেশে। ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের দেয়া তথ্য মতে, বিশ্বজুড়ে ২২০ মিলিয়ন মানুষ এখন বেকার। এর মধ্যে ৩৪ মিলিয়ন কর্মসংস্থান নেই ২০০৮ সাল থেকে। শিল্পোন্নত দেশগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত ক্ষীণ। আইএলও-এর সামপ্রতিক ঘোষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বমন্দার পূর্বে বেকারত্ব বা কর্মসংস্থানের হার যে পর্যায়ে ছিল, সে পর্যায়ে পেঁৗছতে আমাদের ২০১৫ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই বিলম্ব অবশ্যই সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করবে। কারণ ৩৫টি দেশের প্রাপ্ত তথ্য মতে, প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ কাজের সুযোগ-খোঁজা মানুষ প্রায় কর্মহীন রয়েছে। এক বছরেরও বেশিকাল থেকে তারা আত্মসম্মান, নৈতিক ক্ষমতা ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

Homeless in America

মন্দাক্রান্ত অর্থনীতির দেশগুলোতে জনগণের চাহিদা পূরণের বদলে ও দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার বদলে, ব্যাংকিং সিস্টেমে বিলিয়ন ডলার ঢালা হয়েছে। অন্যদিকে অপরিহার্য জনকল্যাণ ও সমাজসেবামূলক খাতগুলোতে টাকা দেয়া হয়নি বলে ঝুঁকি বাড়ছে। বৃটেন ছাড়াও ফ্রান্স, স্পেন ও পতর্ুগালের মতো দেশগুলো সরকারি খাতে ২৫ ভাগ ব্যয় হ্রাসের নীতি নিয়েছে। মন্দা মোকাবিলায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সার্কোজি একগুচ্ছ জনকল্যাণবিরোধী পদক্ষেপ নিয়েছে, এর মধ্যে চাকরিতে অবসরের বয়স সীমা ৬০ থেকে ৬২ করা এবং পূর্ণ অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা ৬৭ বছর পর্যন্ত বিলম্বিত করা। এছাড়া রোমা (জিপসি) সংখ্যালঘুদের বহিষ্কারের সরকারি অভিযানও ফ্রান্সের ৩০০-এর বেশি শহরে প্রতিবাদ বিক্ষোভের জন্ম দেয়। প্যারিসে তিন মিলিয়ন মানুষের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মঘট করেছে ফ্রান্সের সরকারি খাত ও পরিবহন ইউনিয়নও।

আমেরিকায় দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানের সমস্যা যে রাজনীতিকেও প্রভাবিত করেছে, তা দেশটির সামপ্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনেও প্রতিফলিত হয়েছে। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রাটরা নিম্নকক্ষ পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো ছাড়াও সিনেটে ৬টি আসন হারিয়েছে। বিশেস্নষকরা মনে করছেন, ওবামার অর্থনৈতিক পলিসির ব্যর্থতাও এ জন্য দায়ী। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর যে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ ওবামার কাঁধে বর্তেছে, সে সংকটের উর্বর প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল প্রেসিডেন্ট বুশের ৮ বছরের শাসনামলে। ইরাক-আফগানিস্তান যুদ্ধের কারণে জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ সামরিক খাতে ব্যয়বরাদ্দ বাড়াতে হয়েছে। এছাড়া বুশ-এর সম্পদশালীদের ট্যাক্স মওকুফ নীতি আমেরিকায় ধনী ও গরিবের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য বাড়াতে শুরু করে। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সালে আমেরিকানদের আয়বৈষম্য এতটা প্রকট হয়ে ওঠে যে, শীর্ষ শতকরা ১ ভাগের আয় নিচের শতকরা ২০ ভাগের চেয়ে ৮০ গুণ বেশি ছিল।

Chronicle/Cory MorseKaren Plouha of Muskegon sits with her daughter, Sabrina, 10, as they wait to get food from Second Harvest Gleaners Food Bank of West Michigan at Vineyard Christian Fellowship in Muskegon Valentine's Day night. They were waiting inside the church to stay warm while the food truck set up to distribute food donations.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মহা মন্দা হিসাবে পরিচিত ১৯৩০-এর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর থেকে প্রেসিডেন্ট ওবামার শাসনামলের এই মন্দা আমেরিকান অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে খারাপ সময়। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে কর্পোরেশন ও আমেরিকার ধনিক শ্রেণীর ওপর অধিক করারোপ, বৈদেশিক যুদ্ধের ব্যয় সংকোচন, বিভিন্ন খাতে সাময়িক বৃহত্তর ঘাটতি পূরণ এবং সারগর্ভ সামাজিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিলেন অনেকে। ডেমোক্রাট ও রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকেও অর্থনীতির পতন রোধে নানারকম প্রস্তাব ও চিন্তাভাবনা হচ্ছে। কিন্তু কর্পোরেট পাওয়ার-এর প্রভাব এড়িয়ে আমেরিকায় চার বছরের জন্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও আমেরিকার দ্বিদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক নীতিমালায় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কি পরিবর্তন আসবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

স্বল্পমেয়াদে আমেরিকান ও বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি অর্জনের অনিশ্চয়তা যা হোক, ইতিমধ্যে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, প্রেসিডেন্ট ওবামা ও বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির নেতারা এই মহা মন্দা মোকাবিলায় বাণিজ্য ও মুক্তবাজার অর্থনীতির নব্য-উদারতাবাদের ডগমা থেকে বেরিয়ে অর্থনীতিতে যে নতুন নির্দেশনা এবং বড় ধরনের ধাক্কা দেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, সে সুযোগ তারা হারিয়েছেন। যেমন অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছেন, যদি জাতীয়করণের মাধ্যমে সরকারি ব্যাংকিং সিস্টেম গড়ে তোলার জন্য ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হতো, তাহলে তা সামগ্রিকভাবে সম্পদের বণ্টনও দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগ হিসাবে বিবেচিত হতে পারত। ১৯৩০-এর মহামন্দার পর প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট যেমন ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছিলেন, সেরকম স্টাইলে পরিবর্তিত বিশ্ববাস্তবতার আলোকে জলবায়ু ও জনবান্ধব সামাজিক কিংবা ভৌত অবকাঠামো পুনর্গঠন বা নবায়নের মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি নিতে পারত ওবামা প্রশাসন। কিন্তু সেরকমটি ঘটেনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান হিসাবে যেসব গুচ্ছের উদ্যোগ-পদক্ষেপ নেয়া হয়, তা জনসাধারণের মধ্যে আরো বেশি দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অভাব বৃদ্ধিসহ সরকারি সেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ব্যয় বরাদ্দকে সংকোচন করেছে। কাজেই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট ওবামার অবশিষ্ট শাসনামলে আমেরিকায় দারিদ্র্য, আয়বৈষম্য ও কর্মসংস্থান সমস্যা কতোটা বাড়ে কিংবা কমে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

jahan hassan ekush tube bangla desh জাহান হাসান, লস এঞ্জেলেস. বাংলাদেশ. বাংলা, আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, একুশ, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s