স্তন ক্যান্সার সচেতনতা

স্তন ক্যান্সার সচেতনতা

অধ্যাপক ডা. মোঃ মিজানুর রহমান
Breast Cancer

সারা বিশ্বে সংখ্যার দিক থেকে স্তন ক্যান্সার মহিলাদের দেহে সংগঠিত দ্বিতীয় ক্যান্সার। শুধু পাশ্চাত্য নয়, প্রাচ্যেও এই রোগের প্রকোপ দিনদিন বাড়ছে। কিন্তু তাতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। বাস্তবে স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ার পরও রোগীরা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকছেন। এ রোগে মৃতুø হারও ক্রমেই কমছে। অক্টোবর মাস বিশ্বব্যাপী জাতীয় স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস গেল। এ উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মাসটি পালন করেছে।

এখন কথা হচ্ছে­ এ রোগ থেকে নিষ্কৃতি বা এর প্রকোপ কমাতে আমাদের কী করণীয়।
ভয় না পেয়ে আমাদেরকে এই ক্যান্সার সম্পর্কে জানতে হবে এবং এ রোগের চিকিৎসার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়
মুটিয়ে যাওয়া পরিহার করতে হবে। কারণ, স্থূলতা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, বিশেষত ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর। আর ঋতুস্রাব বন্ধের পর স্তন ক্যান্সারের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
সুষম খাবার গ্রহণ করুন, যাতে খাবারে কোনো উপাদান অত্যধিক না হয়ে পড়ে। খাবারে শাকসবজি, ফলমূল বেশি করে খান এবং মিষ্টিযুক্ত পানীয়, পরিশোধিত শর্করা ও চর্বিযুক্ত খাবার কম করে খান। অচূর্ণিত শস্যদানা খান, প্রাণিজ তেল থেকে উদ্ভিজ্য তেল বেশি খান।
শারীরিকভাবে কর্মক্ষম থাকুন। এ কথা পরীক্ষায় প্রমাণিত যে, বাড়তি শারীরিক পরিশ্রম এমনকি পরিণত বয়সেও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ১০ থেকে ৩০ ভাগ কমায়। মাঝারি মানের শরীরচর্চা যেমন­ সপ্তাহে পাঁচ দিন ৩০ মিনিট ধরে হাঁটা এ ক্ষেত্রে দারুণ উপকারী।
মদ্যপান কমিয়ে অথবা একেবারে ছেড়ে দিন। মদ্যপান স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
হরমোন প্রতিস্থাপন চিকিৎসা পদ্ধতি পরিহার করুন। কেননা ঋতুস্রাব শেষের হরমোন চিকিৎসা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
ধূমপান বর্জনীয়।
শিশুকে যতদূর সম্ভব স্তন্য পান করান। যেসব মহিলা তাদের সন্তানদের অন্তত এক বছর দুধ খাইয়েছেন তাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কম।
সুস্থ থাকুন এবং স্তন ক্যান্সার গবেষণায় সহায়তা দিন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। সূচনায় রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে রোগমুক্ত বেঁচে থাকার চাবিকাঠি। সূচনায় রোগ নির্ণয়ের উপায়গুলো হচ্ছে­

স্ক্রিনিং
এটা একটা পদ্ধতি বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা; যার মাধ্যমে রোগের উপসর্গ শুরুর আগেই রোগটা শনাক্ত করা যায়। স্ক্রিনিং পরীক্ষা যেমন­ মেমোগ্রাফি। যে স্তন ক্যান্সার রোগী কর্তৃক নির্ণিত হয়, তা ইতোমধ্যে বড় হয়ে গেছে এবং স্তন ছাড়াও শরীরের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়েছে। অপর দিকে যে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে নির্ণিত হয়, তা সম্ভবত ছোট এবং এখনো স্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে। স্তনে স্তন ক্যান্সারের সাইজ এবং এটা কতটা ছড়িয়ে পড়েছে, এই দুটো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর করে আক্রান্ত মহিলার আরোগ্যের সম্ভাবনা।
এখন এটা একটা স্বীকৃত তথ্য যে, সূচনায় রোগ ধরা পড়লে এবং চিকিৎসা নিলে হাজারো প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। এই অক্টোবর মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম গ্রহণ করা হয়েছে। এর ভেতর উল্লেখযোগ্য, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা।

স্বপ্রণোদিত স্তন পরীক্ষা
স্বপ্রণোদিত স্তন পরীক্ষা হচ্ছে এমন একটি স্ক্রিনিং ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার গোড়াতেই ধরা যায়। এ পদ্ধতিতে মহিলারা তাদের স্তন নিজেই দেখবে এবং স্পর্শ করে অনুভব করবে যে স্তনে কোনো চাকা, বিকৃতি বা ফোলা আছে কি না।
স্বপ্রণোদিত স্তন পরীক্ষা এক সময় খুবই অগ্রসর হয়েছিল। কারণ, এর দ্বারা স্তন ক্যান্সার অনেক নিরাময়যোগ্য পর্যায়ে ধরা যায়। এ পদ্ধতির বিভিন্ন রকম ধরন ও প্রক্রিয়া আছে। বেশির ভাগ পদ্ধতিতে মহিলাদের আয়নার সামনে দাঁড়াতে হয়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তারা স্তনে বা স্তনের কাছে দৃশ্যমান লক্ষণগুলো যেমন­ টোল খাওয়া, ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখবে।

স্তন ক্যান্সারের সতর্কীকরণ লক্ষণগুলো মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ
স্তনে বা বগলের নিচে নতুন কোনো চাকা বা ফুলে যাওয়া।
স্তনের কোনো অংশ মোটা হয়ে যাওয়া বা ফুলে যাওয়া।
স্তনের চামড়ায় টোল খাওয়া।
স্তনের বোঁটায় বা স্তনে লালচে বা লাল হয়ে যাওয়া।
স্তনের বোঁটা ভেতরের দিকে ঢুকে পড়া বা ক্ষত হওয়া।
দুধের পরিবর্তে অন্য রঙের রস নিঃসরণ হওয়া
স্তনের আকার যেকোনো রকম পরিবর্তন হওয়া।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্তনে ব্যথা অনুভব করা।
লেখকঃ বিভাগীয় প্রধান, সার্জিক্যাল অনকোলজি বিভাগ (ক্যান্সার সার্জারি), জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা। মোবাইলঃ ০১৭১১১৬১১৯৯

————————————————-

Breast Cancer

Breast Cancer

স্তন ক্যান্সার:প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে প্রতিকার সম্ভব

স্তন ক্যান্সার কি?:

শরীরের অন্যান্য স্থানের মত স্তনে অস্বাভাবি কোষ বৃদ্ধির ফলে কোন চাকা বা পিন্ডের সৃষ্টি হলে তাকে টিউমার বলে। শরীরের বিনা প্রয়োজনে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন থেকে এর সৃষ্টি। প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী স্তনের টিউমার দুই ধরনের। যেমন:

-বিনাইন (ইবহরমহ) টিউমার অক্ষতিকারক টিউমার। উৎপত্তি স্থলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। দূরের বা কাছের অন্য কোন অঙ্গপ্রত্যক্ষকে আক্রান্ত করে না।
-ম্যালিগন্যান্ট (গধষরমহধহঃ) টিউমার আগ্রাসী, ক্ষতিকারক টিউমার। উৎপত্তি স্থরের সীমানা ছাড়িয়ে আশেপাশের অঙ্গপ্রত্যক্ষ কিংবা গ্রন্থিকে আক্রান্ত করে। এমনকি রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে দূরের কোন অঙ্গেও আঘাত হানতে পারে।

স্তনের ম্যালিগন্যান্ট টিউমারই স্তন ক্যান্সার:

স্তন ক্যান্সার সাধারণত: স্তনের দুধবাহী নালীতে হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে অন্যান্য টিসু্য থেকেও শুরু হতে পারে। একটি পিন্ড বা চাকা হিসেবেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি প্রথম ধরা পড়ে। ধীরে ধীরে বড় হয় এবং শরীরের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। স্তনের সঙ্গে নিকটস্থ বগলতলার লসিকাগ্রন্থি বা গস্নান্ডগুলোর খুবই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকায় এগুলোতে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি।

স্তন ক্যান্সারের ব্যাপ্তি:

ক্যান্সারজনিত মৃতু্যর কারণ হিসেবে সারা বিশ্বে স্তন ক্যান্সারের স্থান দ্বিতীয়, শীর্ষে রয়েছে ফুসফুসের ক্যান্সার। আর মহিলাদের মধ্যে শিল্পোন্নত দেশগুলোতে মৃতু্যর কারণ হিসেবে স্তনের ক্যান্সারই রয়েছে শীর্ষস্থানে। বিশ্বে মহিলারা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন স্তনের ক্যান্সারে। আক্রান্তের হার বছরে প্রতি এক লাখ মহিলার মধ্যে আশি জনের বেশি। অনুমিত হিসেব অনুযায়ী বিশ্বে ১০,৫০,০০০ এর বেশি মহিলা প্রতি বছর নতুন করে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫,৮০,০০০ মহিলা উন্নত দেশগুলোর, বাকীরা আক্রান্ত হন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। বাংলাদেশে মহিলাদের ক্যান্সার হিসেবে জরায়ুমুখের ক্যান্সারের স্থান শীর্ষে, দ্বিতীয় স্থানে স্তন ক্যান্সার-এটাই বরাবরের ধারণা। তবে হাসপাতাল ভিত্তিক ক্যান্সার রেজিষ্ট্রি থেকে সাম্প্রতিক পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের স্থান শীর্ষে।

স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বা রিস্ক ফ্যাক্টর:

অপরিবর্তনযোগ্য রিস্ক ফ্যাক্টর

– জেন্ডার বা লিঙ্গ: পুরুষেরও স্তন ক্যান্সার হতে পারে। তবে মহিলাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একশ’গুণ বেশি।
– বয়স: বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণত: পঞ্চাশের পর ঝুঁকি বেশি বাড়ে।
– জেনেটিক ইজঈঅ-১, ইজঈঅ-২ নামের জিনের মিউটেশন ৫% থেকে ১০% স্তন ক্যান্সারের জন্য দায়ী।
– বংশগত কারণ: কারো পরিবারের কোন মহিলা যেমন-মা, খালা, বড় বোন বা মেয়ে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে।
– মাসিক: যে সব মহিলার ১২ বছর বয়সের পূর্বে মাসিক শুরু হয় এবং ৫০ বছর বয়সের পর মাসিক বন্ধ হয় তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
– হরমোন: যারা দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন হরমোনের সংস্পর্শে থাকেন, মাসিক বন্ধ হওয়ার পর যারা হরমোন রিপেস্নসমেন্ট থেরাপী গ্রহণ করেন তাদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া, এক স্তনে ক্যান্সার হয়ে থাকলে অন্যটিতেও ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

পরিবর্তনযোগ্য রিস্ক ফ্যাক্টর:

– সন্তান সংখ্যা: নিঃসন্তান মহিলাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে।
– অধিক বয়সে সন্তান গ্রহণ: ৩০ বছর বয়সের পর বিয়ে ও প্রথম সন্তানের মা হওয়া স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
– ব্রেস্টফিডিং: সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানোর অভ্যাস স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
– খাদ্যাভ্যাস: শাক-সবজি ও ফলমূল কম খেয়ে, চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খেলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।
– ওজন: অতিরিক্ত ওজন ও শারীরিক পরিশ্রমের অনভ্যাস স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
– অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে- তেজষ্ক্রিয়া, বিকিরণ, স্তনে কোন সাধারণ চাকা বা পিন্ড থাকা ইত্যাদি।

প্রাথমিক অবস্থায় স্তন ক্যান্সার নির্ণয়:

দু’টি উপায়ে প্রাথমিক অবস্থায় স্তন ক্যান্সার নির্ণয় করা সম্ভব:-
– স্তন ক্যান্সারের কোন লক্ষণ দেখা দিলে জরুরীভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা
– যাদের লক্ষণ নেই, কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন, ক্যান্সার স্ক্রিনিং এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে থেকে স্তন ক্যান্সারের রোগী সনাক্ত করা।

স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ:

– স্তনে চাকা বা পিন্ড
– স্তনের বোঁটা বা নিপল ভিতরে ঢুকে যাওয়া, অসমান বা বাঁকা হয়ে যাওয়া
– স্তনের বোঁটা দিয়ে অস্বাভাবিক রস বা রক্তক্ষরণ হওয়া
– চামড়ার রঙ বা চেহারায় পরিবর্তন
– বগলতলায় পিন্ড বা চাকা

স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং:

যাদের লক্ষণ দেখা দেয় নাই, কিন্তু ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি, সহজ কোন পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের মধ্য থেকে স্তন ক্যান্সারের রোগী খুঁজে বের করার নাম ক্যান্সার স্ক্রিনিং। স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং এর জন্য রয়েছ প্রধান তিনটি পদ্ধতি:

– ম্যামোগ্রাম
– ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সামিনেশন
– ব্রেস্ট সেলফ এক্সামিনেশন

ম্যামোগ্রাম:

ধনী দেশগুলোতে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং-এর জন্য প্রধানত ম্যামোগ্রাম বেছে নেয়া হয়। নির্ধারিত বয়স সীমার (সাধারণত ৫০ বছরের বেশি) মহিলাদের নির্ধারিত বিরতিতে (এক, দুই বা তিন বছর পর পর) নিয়মিতভাবে ম্যামোগ্রাম করা হয়। এটি একটি বিশেষ ধরণের এক্স-রে, যার মাধ্যমে স্তনে খুব ছোট চাকা বা অন্যান্য পরিবর্তন ধরা পড়ে। এই পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল এবং খুব সহজলভ্য নয় বলে উন্নয়নশীল দেশে অন্য পদ্ধতিগুলো গ্রহণ করা হয়।

ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সামিনেশন:

চিকিৎসক অথবা প্রতিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকমর্ী দিয়ে স্তন পরীক্ষা। চিকিৎসক স্তন এবং বগলতলায় কোন চাকা বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন আছে কিনা তা সযত্নে পরীক্ষা করে দেখবেন।

ব্রেস্ট সেলফ এক্সামিনেশন:

মহিলারা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করবেন। মাসের একটি নির্দিষ্ট দিনে প্রত্যেক মহিলা যদি নিয়মিতভাবে নিজের স্তন ভালো ভাবে পরীক্ষা করেন তাহলে যে কোন ধরণের অসামাঞ্জস্য ও পরিবর্তন নিজেই প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করতে পারবেন।

স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং এর সুপারিশ:

উন্নয়নশীল দেমে হিসেবে আমাদের সম্পদ, উন্নত যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো ও দক্ষ জনবলের অভাবের কথা বিবেচনায় রেখে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং এর জন্য নীচের ধাপগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে-

– ২০ বছর বয়স থেকে সারা জীবন প্রতি মাসে একবার নিজের স্তন পরীক্ষা করা
– অস্বাভাবিক কোন পরিবর্তন আপনার কাছে ধরা পড়লে চিকিৎসক অথবা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে স্তন পরীক্ষা করান
– চিকিৎসক যদি কোন চাকা বা পিন্ড অথবা অন্য কোন অস্বাভাবিক পরিবর্তন সনাক্ত করেন তবে পরামর্শ মত ম্যামোগ্রাম, স্তনের আল্ট্রাসনোগ্রাম অথবা অন্যান্য পরীক্ষা করুন।

*** মনে রাখবেন প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে স্তন ক্যান্সার নিরাময়ের সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

সব ক্যান্সারই টিউমার, সব টিউমার ক্যান্সার নয়। স্তনে পিন্ড বা চাকা হলে যেমন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তেমনি সব চাকাই যে ক্যান্সার তাও নয়। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দেখা গেছে যে, স্তনের চাকার ক্ষেত্রে শতকরা ১০ ভাগ শেষ পর্যন্ত ক্যান্সার হিসেবে নিহ্নিত হয়, বাকী ৯০ ভাগই বিনাইন টিউমার বা অন্য কোন সাধারণ রোগ যা সহজেই নিরাময় করা সম্ভব। সুতরাং সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগের ধরণ জানা অত্যন্ত জরুরী।

Breast Cancer

ডা: মো: হাবিবুলস্নাহ তালুকদার
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগ
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s