পবিত্র কোরআনের আলো: পাপের পথ নেতিবাচক পথ। মানুষ পাপ করেও পাপের পথ থেকে ফিরে আসতে পারে।

পবিত্র কোরআনের আলো

পথ মূলত দুটিই, যারা যেভাবেই বেছে নিক

৮১. বালা-মান কাছাবা ছায়্যিয়াতাওঁ ওয়াআহাত্বাত বিহি খাতি-আতুহু ফাউলা-ইকা আছহাবুন্না-রি; হুম ফি-হা খা-লিদুন।

৮২. ওয়াল্লাজি-না আমানু ওয়া’মিলুচ্ছা-লিহাতি উলা-ইকা আছহাবুল জান্নাতি; হুম ফি-হা খা-লিদুন।

৮৩. ওয়াইজ আখাজনা-মি-ছা-ক্বা বানি ইছরা-ইলা লা তা’বুদু-না ইল্লাল্লাহা; ওয়াবিলওয়া-লিদাইনি ইহছা-নাওঁ ওয়াজিল ক্বুরবা ওয়ালইয়াতা-মা ওয়ালমাছাকি-নি ওয়াকু-লু-লিন্নাছি হুছনাওঁ ওয়াআকি্ব-মুছ্ছালা-তা ওয়াআ-তুজ জাকা-তা; ছুম্মা তাওয়াল্লাইতুম ইল্লা ক্বালি-লাম্ মিনকুম ওয়ানতুম মু’রিদুন।

৮৪. ওয়াইজ আখাজনা-মি-ছা-ক্বাকুম লা-তাছফিকু-না দিমা-আকুম ওয়ালা-তুখরিজু-না আনফুছাকুম মিন দিয়ারিকুম ছুম্মা আক্বরারতুম ওয়াআনতুম তাশহাদুন। (সুরা বাকারা, আয়াত ৮১-৮৪)।

অনুবাদ

৮১. হ্যাঁ, যারা পাপ কামিয়েছে এবং পাপ তাদের ঘিরে রেখেছে, এমন লোকেরাই হচ্ছে জাহান্নামের বাসিন্দা, আর সেখানে তারা চিরদিন থাকবে।

৮২. আর যারা ইমান আনবে এবং ভালো কাজ করবে, তারা বেহেশতবাসী হবে, তারা সেখানে চিরদিন থাকবে।

৮৩. যখন আমি বনি ইসরাইলদের কাছ থেকে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম যে তোমরা এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না, আর মাতাপিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে, আত্মীয়স্বজন ও এতিম-মিসকিনদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে; মানুষের সঙ্গে সুন্দর কথা বলবে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে এবং জাকাত দান করবে; অতঃপর তোমাদের মধ্য থেকে সামান্য কিছু লোক ছাড়া অধিকাংশই ফিরে গেছ; এভাবেই তোমরা অঙ্গীকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে।

৮৪. তোমাদের কাছ থেকে আমি এ অঙ্গীকারও নিয়েছিলাম যে তোমরা পরস্পরে রক্তপাত ঘটাবে না এবং নিজদের লোকদের তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করবে না, অতঃপর তোমরা তা স্বীকার করে নিয়েছিলে, তোমরা তো নিজেরাই এর সাক্ষী।

ব্যাখ্যা
এখানে জগদ্বাসীর প্রতি পথনির্দেশনায় দুটো মোটা দাগের পথের কথাই বলা হয়েছে। একটা হলো পাপের পথ। যারা পাপ করেছে এবং পাপের মধ্যে লিপ্ত রয়েছে তাদের পরিণতি জাহান্নাম। তারা সেই জাহান্নামে চিরকাল থাকবে। আর একটা হলো সৎপথ বা সঠিক পথ। যারা ইমান আনবে এবং ভালো কাজ করবে, তারা বেহেশতবাসী হবে, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। প্রসঙ্গক্রমে এখানেও বনি ইসরাইলদের কথাই টেনে আনা হয়েছে।

বনি ইসরাইল সম্প্রদায় তাদের কিতাব ও নবীগণের মাধ্যমে যেসব নীতি ও মূল্যবোধ মেনে চলার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল তার প্রধান প্রধান অংশের বিবরণ এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ৮৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত কাজগুলো চিরায়ত ইসলামের কালোত্তীর্ণ শিক্ষা। হজরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আমল পর্যন্ত এ কাজগুলো আল্লাহর প্রতি মানুষের পবিত্র অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচিত। ঐতিহাসিক বিবেচনায় বনি ইসরাইলরা এ শিক্ষায় বিশেষভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল। কিন্তু সে জাতির অল্প কিছু লোক ছাড়া অনেকেই এর বরখেলাপ করেছে। ৮৪ নম্বর আয়াতে আরেক ধরনের অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে, তা হলো শান্তির অঙ্গীকার। পরস্পরে যুদ্ধ নয়, বরং শান্তির পথ মেনে চলা। অথচ অন্যান্য কলহপ্রিয় জাতির মতো বনি ইসরাইলরাও এই অঙ্গীকার বারবার ভঙ্গই করেছে।

৮১ নম্বর আয়াতে পাপাচারীদের কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যারা পাপ কামিয়েছে এবং পাপ তাদের ঘিরে রেখেছে’_এর মর্মগত অর্থ হচ্ছে যারা পাপে লিপ্ত। পাপের পথ নেতিবাচক পথ। মানুষ পাপ করেও পাপের পথ থেকে ফিরে আসতে পারে। যারা পাপ করেছে এবং ফিরে আসেনি তাদেরকেই চিহ্নিত করা হয়েছে জাহান্নামি হিসেবে। অপরদিকে ইমান, সৎকর্ম ও জান্নাতের পথ হচ্ছে ইতিবাচক পথ। মানুষ এ পথে চলবে এটাই স্বাভাবিক। মানুষ এ পথ থেকে বিচ্যুত হতে পারে, তবে আবার ফিরেও আসতে পারে। সুরা ফাতিহায় আল্লাহ তায়ালা এ পথকে ‘সিরাতাল মুস্তাকিম’ বা সরল পথ বলে অভিহিত করেছেন।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s