একেক দেশে একেক নামে…’ঈদুল আজহা’

একেক দেশে একেক নামে…

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি ‘ঈদুল আজহা’। প্রতীকী এ উৎসবটি উৎসর্গের। মুসলিম জাহান বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা আর পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে এ ঈদ পালন করে। এ উৎসবে মক্কায় কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে মুসলিম দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সম্মেলন হজ শুরু হয়। হজ শেষে হাজিরা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবেই পশু কোরবানি করেন। হাজিদের সঙ্গে অনেক দেশে একই দিন অথবা তার পরদিন সারাবিশ্বের মুসলমানরাও এ উৎসব পালন করেন। ঈদুল আজহাকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুসলিম সম্প্রদায় বিভিন্ন নামে পালন করে। যেমন_ আমরা এ ঈদকে বলি ঈদুল আজহা। কিন্তু মরক্কো, আলজেরিয়া, সিরিয়া, তিউনিশিয়া, মিসর, ইয়েমেন এবং লিবিয়ায় এ ঈদ ‘ঈদ এল্ কিবির’ নামে পরিচিত। যার অর্থ বড় ঈদ। পশ্চিম আফ্রিকায় বলা হয় ‘তাবাসকি’, নাইজেরিয়ায় বলা হয় ‘বাব্বার সাল্কাহ’, সোমালিয়া, কেনিয়া এবং ইথিওপিয়ায় বলা হয় ‘সিদওয়েনি’। বসনিয়া হারজেগোভিনা, আলবেনিয়া, কসোভো, বুলগেরিয়ান মুসলমানরা বলেন ‘কুরবান বাজরাম’। ইরান এবং আফগানিস্তানে বলা হয় ‘ঈদ এ কোরবান’। ভারত এবং পাকিস্তানে ঈদুল আজহাকে বলা হয় ‘বরা ঈদ’। অর্থ বড় ঈদ। দক্ষিণ আফ্রিকায় বলা হয় ‘বকরা ঈদ’। ভারতেও সংক্ষেপে বলা হয় ‘বকরিদ’। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারতে ছাগল বা বকরি কোরবানি দেওয়ার রীতি প্রচলিত বলেই সেখানে এ ঈদের নাম হয়েছে ‘বকরা ঈদ’ বা ‘বকরিদ’।
ভারতের তামিলনাড়ূ প্রদেশে এ ঈদের নাম ‘পেরু নাল’ বা ‘বকরা ঈদ পেরু নাল’। অর্থ বড় দিন বা উৎসর্গের বড়দিন। শ্রীলংকায় বলা হয় ‘হাজ্জি পেরু নাল’ বা হজের উৎসব। তুরস্কের মুসলমানরা বলেন ‘কোরবান বাইরামি’।

এছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষী মুসলমানরা তাদের নিজ নিজ ভাষায় উচ্চারণ করেন এ ঈদের নাম। এই ঈদে সব দেশের মানুষ কি গরু কোরবানি করে? না। যে দেশে যে প্রাণীর সহজলভ্য, সে দেশের মানুষ সে প্রাণীটিই কোরবানি করে। যেমন, আমাদের দেশে গরু আর ছাগল সহজলভ্য বলে এ দুটি প্রাণীই বেশি কোরবানি করা হয়। যেসব দেশে গরুর সংখ্যা কম অথবা নেই বললেই চলে, সেখানে কোরবানি করা হয় ছাগল অথবা ভেড়া। মরু এলাকার দেশগুলোতে কোরবানি করা হয় উট অথবা ভেড়া। গড় হিসেবে দেখা যায়, মুসলিম দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি কোরবানি দেওয়া হয় ছাগল এবং ভেড়া। এ উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের দেশসহ বিভিন্ন দেশের জাতীয় অর্থনীতিও। কারণ কোরবানির পশুর চামড়া এবং চামড়াজাত শিল্প রফতানির মাধ্যমে আয় হয় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে তৈরি পোশাকসহ জমে ওঠে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য।
লুৎফর রহমান

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

2 Responses to একেক দেশে একেক নামে…’ঈদুল আজহা’

  1. Anis Rahman says:

    We celebrate by sluttier millions of animal in the same day making this as one of most bloodiest day of the year, to make our Greater happy, We should rethink about Eid-Day, Arab Pagan Culture which we grew up.

  2. Jahan Hassan says:

    পবিত্র ঈদুল আজহাত্যাগের মহৎ দৃষ্টান্তের অনুশীলন
    মোহাম্মদ মাকছুদ উল্লাহ
    ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় এসে দেখতে পান, তখনকার সমাজে বছরে দুটি নির্দিষ্ট দিনে আনন্দোৎসব উদ্যাপিত হয়। তিনি মদিনাবাসী মুসলমানদের জিজ্ঞেস করলেন, এ দুটি দিনের বিশেষত্ব কী? তাঁরা উত্তর দিলেন, জাহেলি যুগে আমরা এ দুই দিনে খেলাধুলা ও আনন্দোৎসব পালন করতাম (সে ধারা এখনো আমাদের মধ্যে রয়ে গেছে)। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আল্লাহ তোমাদের এ দুই দিনের পরিবর্তে তদপেক্ষা উত্তম দুটি দিন দান করেছেন। তার একটি হলো ঈদুল ফিতর এবং অন্যটি ঈদুল আজহার দিন। সেই থেকে মুসলমান সমাজে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পর্যায়ে দুটি ঈদ উৎসব পালিত হয়ে আসছে। আর মাত্র এক দিন পরই মুসলিম উম্মাহ তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতীয় উৎসব ‘ঈদুল আজহা’ উদ্যাপন করতে যাচ্ছে। জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ তিন দিন এ উৎসবের জন্য নির্ধারিত। যদিও হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় হিজরতের পর থেকে জাতীয় পর্যায়ে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা চালু করেন। কিন্তু ঈদুল আজহার আদর্শিক উপাদানটা রেখে গেছেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)। আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রত্যাশায় নিজ পুত্রকে কোরবানি করে হজরত ইব্রাহিম (আ.) আত্মত্যাগের যে মহান পরাকাষ্ঠা স্থাপন করেছিলেন, রাসুলে করিম (সা.) সে স্মৃতিকেই মুসলিম সমাজে স্থায়ী রূপ দিয়েছেন ঈদুল আজহা প্রচলনের মাধ্যমে। বস্তুত ঈদুল আজহা হলো আত্মত্যাগের এক মহোৎসব।
    আজহা শব্দটি উজহিয়্যাতুন থেকে নির্গত। এর অর্থ পশু জবাই করা বা উৎসর্গ করা। আর ঈদ শব্দটির অর্থ আনন্দ বা উৎসব। ঈদুল আজহার অর্থ পশু উৎসর্গের উৎসব। ঈদুল আজহা বাংলাভাষী মুসলমান সমাজে কোরবানির ঈদ নামেই বেশি খ্যাত।
    কোরবানি শব্দটির অর্থ নৈকট্য অর্জন করা বা উৎসর্গ করা। বস্তুত আল্লাহর দ্বীনের জন্য তথা জগৎ-জীবন ও মানবতার জন্য আ@ে@@@াৎসর্গের মাধ্যমে মহান স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করা সম্ভব। আর ত্যাগের মাধ্যমেই মানব মন সত্যিকার তৃপ্তি ও সুখানুভূতি লাভ করতে পারে। কারণ ত্যাগী মানুষের মন কখনো কোনো কিছু হারানোর বেদনায় নীল হয় না। বরং তাঁরা নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার মধ্যেই সত্যিকার সুখ খুঁজে পান। আর ত্যাগের এ মহান শিক্ষাই হলো ‘ঈদুল আজহা’র আসল কথা। হজরত ইব্রাহিম (আ.) আত্মত্যাগের যে মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, কোরবানি তারই অনুশীলন।
    আজ থেকে চার হাজার বছর আগে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ইরাকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তৎকালীন ইরাক জ্ঞান-বিজ্ঞানে বেশ অগ্রসর ছিল। বিশেষ করে তাদের ভাস্কর্য-শিল্প এত উন্নত ছিল যে আজকের উন্নত বিশ্বের ভাস্কর্যবিদ্যায় তাদের সৃষ্টি পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত। জ্ঞানচর্চায় তারা যেমন ছিল তৎকালীন পৃথিবীর অন্যদের থেকে অগ্রগামী, তেমনি নীতিহীনতায়ও তারা ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর। বিশেষ করে তাদের ধর্মীয় চিন্তাচেতনা ও আকিদা-বিশ্বাসে জড়বাদিতার প্রভাব এত বেশি ছিল যে চন্দ্র-সূর্য, দেব-দেবীর পূর্জা-অর্চনা ছাড়াও তারা তাদের রাজা-বাদশাহদেরও ‘রব’ বলে জানত। ধর্মের নামে একশ্রেণীর কপট, স্বার্থপর লোক সাধারণ মানুষের দুর্বলতার সুযোগে তাদের শোষণ করত। ক্ষমতাসীন রাজরাজড়ারা এ ধরনের যাজক ও পুরোহিতদের লালন করত তাদের মাধ্যমে জনসাধারণকে আনুগত্যের শৃঙ্খলে আজীবন বেঁধে রাখার জন্য। আর পুরোহিতদের সাধারণ মানুষ মহান প্রতিপালকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে তাদের সন্তুষ্টিই স্রষ্টার সন্তুষ্টি বলে মনে করে। তাদের সামনে নজর-নেওয়াজ, উপহার-উপঢৌকন পেশ করত। পুরোহিতদের কাজ ছিল মানুষের পূজা করে দেওয়া, তাদের আবেদন-নিবেদন দেবতার সমীপে পেশ করা। হজরত ইব্রাহিম (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন এমনি একটি যাজক পরিবারে। বংশগত ঐতিহ্যের ধারায় তাঁর সামনে প্রাচুর্যপূর্ণ সম্মানজনক একটি বিলাসী জীবনের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছিলেন এক দুঃসাহসিক কণ্টকাকীর্ণ জীবনধারা।
    হজরত ইব্রাহিম (আ.) প্রতিমা পূজা ও তাঁর স্বজাতির সব অনৈতিকতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট উচ্চারণ করলেন_’হে আমার জাতি, তোমরা যে শিরক কর আমি তা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।’ (সুরা আনআম, ৭৮ আয়াত)। তিনি ঘোষণা করলেন, ‘আমি একনিষ্ঠভাবে সেই মহান সত্তার প্রতি নিজেকে নিবেদন করছি, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই।’ (সুরা আনআম, ৮৯ আয়াত)। দেব-দেবী ও পূজারিদের বিরুদ্ধে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর স্পষ্ট উচ্চারণ তাঁকে সবার শত্রুতে পরিণত করল। তিনি নিজ পরিবারেরও বিরাগভাজন হলেন। তাঁর পিতা চরমভাবে ঘোষণা করলেন, ‘ইব্রাহিম তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছ? তুমি যদি বিরত না হও তাহলে প্রস্তরাঘাতে তোমাকে আমি হত্যা করব। অথবা তুমি চিরতরে আমার থেকে দূরে সরে যাও।’ (সুরা মারইয়াম, ৪৬ আয়াত)। হজরত ইব্রাহিম (আ.) মহাসত্যের সন্ধান পাওয়ার পর আবার বর্বরতার অন্ধকারে হারিয়ে যাবেন! তিনি শ্রদ্ধাভরে পিতাকে নিবেদন করলেন, ‘হে আমার পিতা, আমার কাছে মহাসত্যের জ্ঞান উদ্ভাসিত, যা আপনার কাছে অজ্ঞাত। অতএব আপনি আমাকে অনুসরণ করুন, আমি আপনাকে সত্য পথের সন্ধান দেব।’ (সুরা মারইয়াম, ৪৩ আয়াত)। ওদিকে গোত্রের লোকজন হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল। তারা বলল, তার জন্য একটি অগি্নকুণ্ড প্রস্তুত করো, অতঃপর জ্বলন্ত আগুনে তাকে নিক্ষেপ করো। (সুরা সাফ্ফাত, ৯৭ আয়াত)। বিদগ্ধ অগি্নকাণ্ডে মহান আল্লাহ আপন কুদরতে তাঁর খলিফাকে রক্ষা করলেন। অত্যাচার আর নির্যাতনের মাত্রা যখন সব সীমা অতিক্রম করল, হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন ঠিকানার সন্ধানে বেরিয়ে পড়লেন।’ তিনি বললেন, ‘এবার আমি আমার রবের দিকে চললাম, নিশ্চয়ই তিনি আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন।’ (সুরা সাফ্ফাত, ৯৯ আয়াত)। পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনের বন্ধন ছিন্ন করে, অতীত জীবনের সব স্মৃতি আর জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে প্রস্থানোদ্যত হজরত ইব্রাহিম (আ.) গভীর মমতায় পিতাকে বললেন, ‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক! আমি আপনার (হেদায়েতের) জন্য আমার রবের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করব। তিনি আমার প্রতি অতিশয় অনুগ্রহশীল।’ (সুরা মারইয়াম, ৪৭ আয়াত)।
    জন্মভূমি থেকে বের হয়ে হজরত ইব্রাহিম (আ.) সিরিয়া, ফিলিস্তিন, মিসর এবং আরবের বহু অঞ্চল ও জনপদ ঘুরলেন। কিন্তু তাঁর আকিদা-বিশ্বাসের ধারক দ্বিতীয় কাউকে খুঁজে পেলেন না। কেউ তাঁর ধর্মীয় মূল্যবোধের অংশীদার হতেও রাজি হলো না। এভাবেই তাঁর যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্য নেমে এল। তিনি ছিলেন একাকী, নিঃসঙ্গ। খোদার তাওহিদের উত্তরাধিকার বহন করতে এক যোগ্য ওয়ারিস কামনায় তিনি দীর্ঘকাল ধরে স্বীয় রবের দরবারে ফরিয়াদ করে আসছিলেন। ‘হে আমার রব, আমাকে একটি উত্তম সন্তান দান করুন।’ (সুরা সাফ্ফাত, ১০০ আয়াত)। জীবন-সন্ধ্যায় (৮৬ বছর বয়সে) হজরত ইব্রাহিম (আ.) লাভ করলেন একটি পুত্রসন্তান। পিতৃত্বের গৌরবময় অনুভূতিতে দারুণ পুলকিত আজ হজরত ইব্রাহিম সন্তানের নাম রাখলেন ইসমাইল।
    আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের আত্মত্যাগের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই পেঁৗছতে হয় কোরবতের মাকামে। চিরন্তন এ ধারায় হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে অত্যন্ত দুরূহ-কঠিন, অগি্নপরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে খলিলুল্লাহ উপাধি অর্জনের পথে। জীবনের পড়ন্ত বিকেলে দীপ্ত আলোকরশ্মির মতো উদিত চন্দ্রতুল্য শিশুপুত্রের মায়াভরা মুখপানে তাকিয়ে তৃপ্ত অবসর যাপনের অবকাশ ছিল না তাঁর। আল্লাহর নির্দেশে তাই তাঁকে সদ্যপ্রসূত ইসমাইল আর তাঁর জননী হাজেরাকে বিজন মরূদ্যানের মধ্যে ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। পবিত্র কোরআনের ভাষায়, ‘হে আমার রব, আমি আমার পরিবারকে এমন এক উপত্যকায় বসবাসের জন্য রেখে গেলাম যা সম্পূর্ণ অনুর্বর (জনমানবের বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত) তোমার ঘরের কাছে।’ (সুরা ইব্রাহিম, ৩৭ আয়াত)।
    ওদিকে সার্বিক প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করে বেড়ে উঠতে লাগলেন হজরত ইসমাইল (আ.)। শিশুকাল পেরিয়ে তিনি কৈশোরে উপনীত হলেন। সন্তানকে ঘিরে পিতার যখন প্রৌঢ় জীবনের স্বপ্ন রচনার কথা, ঠিক সে সময়েই হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর জীবনে এল এক কঠিন পরীক্ষার পালা। নয়নের মণি, আদরের দুলাল ইসমাইলকে নিজ হাতেই কোরবানি করে দিতে হবে আল্লাহর নামে! এ এক অগি্নপরীক্ষা। একদিকে আল্লাহর নির্দেশ, অন্যদিকে পুত্রের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশ পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পবিত্র কোরআনের বিবরণীতে ‘যখন সে (ইসমাইল) তাঁর সঙ্গে দৌড়াদৌড়ি করার মতো বয়সে উপনীত হলো, তখন একদিন তিনি (ইব্রাহিম) বললেন, প্রিয় বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি, আমি তোমাকে জবাই করছি। এ বিষয়ে তোমার অভিমত কী? তিনি (ইসমাইল) বললেন, ‘আব্বাজান! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যেই পাবেন।’ (সুরা সাফফাত, ১০২ আয়াত)।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s