ব্রিটেনে অস্থায়ী ইমিগ্র্যান্টদের স্থায়ী হওয়ার বিধান বাতিল হচ্ছে

ব্রিটেনে অস্থায়ী ইমিগ্র্যান্টদের স্থায়ী হওয়ার বিধান বাতিল হচ্ছে

মহিউদ্দিন আফজাল লন্ডন

ইমিগ্র্যান্টদের জন্য স্বপ্নপুরী খ্যাত ব্রিটেনে যতই দিন যাচ্ছে ততই ইমিগ্র্যান্ট নীতিমালা কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান টোরি-লিবডেম সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন পূর্ণপদ্ধতি, আইন ও নিয়ম-নীতি সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকগুলো বিষয় তারা কার্যকর করেছে। যার ফলে ইমিগ্রেশন কমিউনিটি বিশেষ করে বাংলাদেশী, পাকিস্তানি, টারকিশ ও সোমালীয়দের মধ্যে তীব্র আশঙ্কা বিরাজ করছে।

নব্য ইমিগ্রেশন নীতিমালার যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হয়ে অনেকে দুর্বিষহ প্রবাসজীবন অতিবাহিত করছেন। তার ওপর ব্রিটেনে শুরু হতে যাচ্ছে নব্য সোস্যাল সিকিউরিটি পদ্ধতি। যা সমগ্র মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে প্রভাব ফেলবে। কেননা ব্রিটেনে মুসলিম কমিউনিটি অন্যদের তুলনায় এখনো ততটা সচ্ছল অথবা প্রতিষ্ঠিত নয়। এ ছাড়া ১/১১, ৭/৭ ও বিশ্বমন্দার প্রভাবে মুসলিম কমিউনিটি ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরিতে যথেষ্ট বৈষম্য ও ক্ষতির শিকার হয়েছে। এসবের প্রভাব ব্রিটেনে এখনো চলমান। এরই মধ্যে আরেকটি দুঃসংবাদ মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা-এর মতো দেখা দিয়েছে। সেটা হচ্ছে­ বর্তমান টোরি-লিবডেম সরকার নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে, যে আইনে এখন থেকে ব্রিটেনে অস্থায়ী ইমিগ্র্যান্টদের স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেয়ার বিধান বাতিল করা হবে।

সম্প্রতি ব্রিটিশ হোম সেক্রেটারি টেরেসা মে বলেছেন, ব্রিটেনে যারা অস্থায়ী ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে আসবেন তারা অস্থায়ীভাবে ব্রিটেনে থাকবেন। ব্রিটেনে আসার পর মেয়াদ শেষ হলে তাকে ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে থাকতে দেয়া হবে না। তাদের কার্য সমাধা করে স্বদেশে চলে যেতে হবে। গত সপ্তাহে ইমিগ্রেশন স্থায়ী হওয়া আইন সংস্কারের ঘোষণায় তিনি এ নীতিমালা পেশ করেন। অর্থাৎ ব্রিটেনে পড়তে এলে লেখাপড়া শেষে নিজ নিজ দেশে চলে যেতে হবে। এখানে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেয়া হবে না।

টোরি-লিবডেম সরকারের মুখপাত্র বলেন, আমরা ছাত্র বলতে বুঝি ব্রিটেনে পড়তে এসে পড়া শেষ করে স্বদেশে চলে যাওয়া। এ ছাড়া সরকার ছাত্রদের ও তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের চাকরির অধিকার পর্যালোচনা করতে যাচ্ছে।

এ দিকে ব্রিটিশ সরকার নন-ইউরোপিয়ান ছাত্রদের পোস্টস্টাডি ওয়ার্ক বন্ধ করতে যাচ্ছে বলে একটি মিডিয়া সূত্রে জানা যায়। শিগগিরই ওই সব নীতিমালা চূড়ান্তভাবে পেশ করতে যাচ্ছে টোরি-লিবডেম সরকার। এ ছাড়া সরকার বর্তমানে ব্রিটেনে অবস্থানরত নন-ইউরোপিয়ান এক লাখ ৬০ হাজার ছাত্র টার্গেট করে নয়া নীতিমালা কার্যকর করতে চাচ্ছে।

লেবার সরকারের ব্রিটিশ নাগরিক নীতিমালা বাতিল হলে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এক লাখ ২০ হাজার ইমিগ্র্যান্ট ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ার অধিকার হারাবেন। যাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশী, পাকিস্তানি ও সোমলিয়ান। এ দিকে ব্রিটিশ সরকার গত চার বছরে এক লাখ ৩৯ হাজার লোককে ইংল্যান্ডে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে। যাদের সাথে স্ত্রী-শিশু পরিবারের সদস্যরাও রয়েছে।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s