প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশ সফরের লাভ-ক্ষতির খতিয়ান:এসব সফরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কূটনৈতিক সাফল্য চোখে পড়েনি।

প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশ সফরের লাভ-ক্ষতির খতিয়ান

publish On 04/11/2010

বুধবার প্রতিবেদন ● প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মেয়াদে এখন পর্যন্ত দুই বছরেরও কম সময়ে ১৫ বার বিদেশ সফর করে ৬৯ দিন দেশের বাইরে ছিলেন। অন্যদিকে, বিদেশ সফরে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি এখন পর্যন্ত ৬৮ বার সরকারি অর্থে সফর করে বিদেশে ছিলেন প্রায় ১৮০ দিন। এসব সফরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কূটনৈতিক সাফল্য চোখে পড়েনি। তবে সরকারি অর্থের ব্যাপক ব্যয় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতবার সফর করলেও বিদেশী সম্মানিত অতিথি বাংলাদেশে এসেছেন খুব কম। বহির্বিশ্ব থেকে রাষ্ট্র কিংবা সরকারপ্রধান অথবা বিশিষ্ট কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশ সফর করলে সেটাকে মর্যাদাপূর্ণ বলে মনে করা হয়। দেখা গেছে, বর্তমান সরকারের আমলে শীর্ষনেতা তথা রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে শুধু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল বাংলাদেশ সফর করেছেন। চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শি জিনপিন ফিরতি সফর করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়েও বাংলাদেশে সফর হয়েছে গুটিকয় মাত্র। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও তার স্ত্রী শেরি ব্লেয়ার এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির কয়েক ঘণ্টার সফর ছাড়া বিদেশী কোনো গণ্যমান্য মেহমান বাংলাদেশ সফর করেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশ সফরের আগে তার প্রস্ত্ততি হিসেবে ব্যাপকভাবে কোনো গ্রাউন্ডওয়ার্ক লক্ষ্য করা যায়নি। এ ক্ষেত্রে ভারত সফরের সময় যদিও গ্রাউন্ডওয়ার্ক চলেছে দীর্ঘদিন ধরে তবু এই সফর থেকে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। অপরাপর সফরগুলোর আগে প্রস্ত্ততি যথেষ্ট ছিল না। তড়িঘড়ি করে বিদেশ সফরের আয়োজন করাই যেন লক্ষ্য ছিল। এসব সফরের ফলাফল পেতে হলে কর্মকর্তা ও মন্ত্রী পর্যায় থেকে আগেই সবকিছু চূড়ান্ত করে রাখা হয়ে থাকে। এ ধরনের পর্যাপ্ত প্রস্ত্ততি প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফলাফল দেখে প্রমাণ হয় না।

প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এতসব বিদেশ সফরের পরও বিদেশে বাংলাদেশের জনশক্তির বাজার আশঙ্কাজনক পর্যায়েই রয়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্য কিংবা বিনিয়োগও বাড়েনি। সর্বোপরি বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির নাজুক পরিস্থিতিও কাটেনি। প্রধানমন্ত্রীর এসব সফরের মাধ্যমে রুটিন বৈঠক ও কুশল বিনিময়ের বাইরে তেমন কোনো অর্জন লক্ষ্য করা যায় না। কোনো কোনো বিদেশ সফরে যেমন ভারত, অসম চুক্তি সম্পাদন করে অর্জনের বদলে জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার নজিরও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হাইপ্রোফাইল সফরের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, ছেলেবউ ক্রিস্টিন, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহানার ছেলেমেয়েসহ প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়স্বজনরা সঙ্গী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন দেশ সফরে মন্ত্রী, কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাষ্ট্রাচারের দায়িত্বরত ব্যক্তিবর্গ, নিরাপত্তা দল, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা, মহাজোটভুক্ত দলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক সফরসঙ্গী রাষ্ট্রীয় অর্থে বিদেশ সফরের সুযোগ পেয়েছেন। কোনো কোনো সফরে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও ছিল। প্রধানমন্ত্রীর সফরে ‘নিজেদের লোকদের বিদেশ ঘুরিয়ে’ আনার প্রবণতা লক্ষণীয়।

মহাজোট ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত বছরের ২০ এপ্রিল পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশে প্রথম সফরে যান সৌদি আরব। আগের আমলে অর্থাৎ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথম সফর করেছিলেন চীন। বেগম খালেদা জিয়াও প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে প্রথম সফর করেন চীন। ফলে প্রথমে সৌদি আরব সফর করে শেখ হাসিনা এবার সেই প্রথায় ছন্দপতন ঘটান। প্রধানমন্ত্রী জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন সংক্ষেপে ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় সফরটি করেন মিসর। ১৪-১৭ জুলাই মিসরের পর্যটননগরী শারম আল শেখে ন্যাম সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।

একই বছরের সেপ্টেম্বরে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা সফর করেন শেখ হাসিনা। এই সফরে ১-৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সফরের সময় তিনি বিভিন্ন বৈঠকে যোগ দেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব বাংলাদেশের ওপর অনেক বেশি, যা কেউই অস্বীকার করে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুতে গোটা বিশ্বের মাতামাতির সময়ে সবচেয়ে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এ বিষয়ে দরকষাকষির জন্য গ্রাউন্ড ওয়ার্ক বা দক্ষ কোনো কূটনীতিক গড়ে তোলেনি। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো ডেস্ক নেই, এমনকি বিশেষ কোনো দূতও নেই। ফলে এ-সংক্রান্ত সম্মেলনগুলোতে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণ করে প্রথাগত কিছু কথাবার্তা বলেই ক্ষান্ত থাকতে হয়েছে। পরিবেশ দূষণকারী শিল্পোন্নত ধনী দেশগুলো এই সংকট মোকাবিলায় অর্থ ও কারিগরি সহায়তা নিয়ে সামান্যই এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণের বদলে বিভিন্ন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে রুটিন বক্তব্যই শুধু দিয়ে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ২২-২৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৪তম অধিবেশনে যোগদান করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফর করেন। সাধারণ পরিষদের অধিবেশন একটা নিয়মিত বহুপক্ষীয় সম্মেলন। এ সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অংশগ্রহণ করে থাকে। যদিও চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বদলে তদানীন্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা অবশ্য আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসায় অনেকটাই ব্যর্থ এই বহুপক্ষীয় সংস্থার প্রতি তার সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানের বিষয় নিশ্চিত করতে এবারও একইভাবে ৬৫তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণের জন্য শেখ হাসিনাকে এমডিজি পুরস্কার প্রদান করা হয়। এটি জাতিসংঘের কোনো পুরস্কার নয়। কিন্তু তবুও এই পুরস্কার নিয়ে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে শেখ হাসিনাকে তার দলের নেতা-কর্মীরা অভিনন্দন জানান। এই ফুলেল শুভেচ্ছার ডালি হাতে নিয়ে গিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা ঢাকা শহরে ওইদিন এক অসহনীয় যানজটের অবতারণা করান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউরোপীয় উন্নয়ন দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদান করতে গত বছরের ২১-২৪ অক্টোবর কেন সুইডেন সফর করেছিলেন তা স্পষ্ট নয়। ইউরোপ দিবসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানো জনগণের অর্থের অপচয় বলেই বিশ্লেষকদের অভিমত। একই বছরের ২৫-২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী সরকারি সফরে কাতার গিয়েছেন। জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে ওই সফরে কোনো দিগন্ত উন্মোচন হয়নি।

শেখ হাসিনা প্রথম রাষ্ট্রীয় দ্বিপক্ষীয় সফর করেন ভুটান। গত বছরের ৬-৯ নভেম্বর তিনি ভুটান সফর করেন। কৌশলগত কারণেই তিনি প্রথম সফরটি ভুটানে করেছেন। প্রথম সফরে ভারত গেলে রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার ইস্যু সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কাতেই সম্ভবত প্রথমে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার পর্বতবেষ্টিত ছোট দেশ ভুটান সফর করেন। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ১৫-১৯ নভেম্বর ইতালি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন। ইতালিতে তিনি বিশ্ব খাদ্যনিরাপত্তা সম্মেলনে যোগদান করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১১তম আন্তর্জাতিক এরোস্পেস প্রদর্শনী ‘দুবাই ২০০৯’ এ যোগদান করতে তিনি সে দেশ সফর করেন। সাবেক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত দেশগুলোর ক্লাব হিসেবে পরিচিত কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগদান করতে শেখ হাসিনা গত বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সফর করেন। কোপ-১৫ নামে পরিচিত জলবায়ুবিষয়ক ‘কনফারেন্স অব পার্টিস’ বৈঠকে যোগ দিতে শেখ হাসিনা গত বছরের ১৫-২০ ডিসেম্বর ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন সফর করেন।

শেখ হাসিনা এবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় সফর করেন চলতি বছরের ১০-১৩ জানুয়ারি ভারতে। এ সফরটিই তার এই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত সফর। এ সফরে তিনি ভারতের সঙ্গে ৫০ দফার যে যৌথ ইশতেহার সই করেছেন তার বেশির ভাগই প্রতিবেশী এই বড় দেশটির স্বার্থের অনুকূলে হয়েছে। ভারতকে নিঃশর্তভাবে ট্রানজিট, বন্দর ব্যবহারের সুবিধা দিয়ে এ ক্ষেত্রে অবদান রাখলেও অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন চুক্তি করে বাংলাদেশের পানির হিস্যা আদায় করা সম্ভব হয়নি। এসব কারণে ৫০ দফার যৌথ ইশতেহারকে একটি অসম, একতরফা ও জাতীয় স্বার্থপরিপন্থী দলিল হিসেবে গণ্য করেন বিশ্লেষকরা। এটি বাস্তবায়নে এখন সরকার তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা ভারত সফরের পর এ অঞ্চলে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৭-২১ মার্চ চীন সফর করেন। এ অঞ্চলে চীন অন্যতম ক্ষমতাকেন্দ্র হওয়ায় দেশটির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামরিক সহায়তা বাংলাদেশের রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের ৭-৯ ফেব্রুয়ারি কুয়েতে দ্বিপক্ষীয় সফর করেন। ভুটানে ২৮-২৯ এপ্রিল সফর করেছেন ১৬তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান গুরুত্বপূর্ণ। আট জাতির এই আঞ্চলিক সংস্থার সম্মেলনে অপরাপর সদস্য দেশগুলোর শীর্ষনেতারাও যোগ দিয়েছেন। তবে ১৬-১৮ মে ইউএনএসকাপের ৬৬তম অধিবেশনে যোগদানের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সফর এবং ১৯-২০ মে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ষষ্ঠ বৈঠকে যোগদানের লক্ষ্যে মালয়েশিয়া সফর প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে হওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা ছিল না বলে কূটনৈতিক মহল মনে করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭-৯ জুলাই উন্নয়নশীল মুসলিম দেশগুলোর খুব দুর্বল জোট ডি-৮ সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে নাইজেরিয়া সফর করেন। ইসলামি সম্মেলন সংস্থা সংক্ষেপে ওআইসি জোট থাকার পরও বিগত শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ডি-৮ গড়ে তোলা হয়েছিল বিধায় এই সম্মেলনে তিনি যোগ দিলেন। যদিও কার্যত এই জোটের কোনো কর্মকান্ড নেই। তবে কিছুদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জাপান, রাশিয়া, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ সফরে যেতে পারেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির বিদেশ সফরের তালিকা অনেক দীর্ঘ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি গত বছর ১-৫ ফেব্রুয়ারি ইউনিভার্সেল পিরিওডিক রিভিউর জন্য সুইজারল্যান্ড, ইউনাইটেড মালয়েস ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২৬-৩০ মার্চ মালয়েশিয়া, আফগানিস্তানসংক্রান্ত সম্মেলনে যোগ দিতে ৩১ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত নেদারল্যান্ডস, সভ্যতা সম্মেলনে যোগ দিতে ৬-৭ এপ্রিল তুরস্ক, মানব পাচার প্রতিরোধ বৈঠকে যোগ দিতে ১৫ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়া, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ২০-২৪ এপ্রিল সৌদি আরব, জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে ২৮ এপ্রিল নরওয়ে, ২৯-৩০ এপ্রিল ন্যাম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে কিউবা, ৮-১০ মে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দক্ষিণ আফ্রিকা, ১৫-১৭ মে মিয়ানমার, ২৩-২৫ মে ওআইসি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে সিরিয়া, ২৯-৩০ মে সাগ্রি লা ডায়ালগে যোগ দিতে সিঙ্গাপুর, ২৪-২৬ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দাসংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র, ৯ জুলাই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে ভারত, ১০ জুলাই সার্কের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কা, ১২ জুলাই কমিউনিটি অব ডেমোক্রেসিতে যোগ দিতে পর্তুগাল, ১৩-১৮ জুলাই ন্যাম সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে মিসর, ২৩ জুলাই ১৬তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ড, ২-৩ সেপ্টেম্বর গ্লোবাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর ক্লাইমেট সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ড, ৮ সেপ্টেম্বর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে ভারত, ১৬ সেপ্টেম্বর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ২৩-২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৬৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র, ১৫-১৬ অক্টোবর এশীয় সহযোগিতা সংলাপ (এসিডি) ৮ম বৈঠকে যোগদানের লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কা, ২২-২৪ অক্টোবর ইউরোপ উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সুইডেন, ২৬-২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে কাতার, ১-২ নভেম্বর ডি-৮ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে মালয়েশিয়া, ৬-৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ভুটান, ৯-১০ নভেম্বর ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে মালদ্বীপ, ১৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ১৬-১৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ইতালি, ২৫-২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, ১০-১২ ডিসেম্বর বিমসটেক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে মিয়ানমার, ১৪-১৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ডেনমার্ক ও ২১ ডিসেম্বর মরিশাস সফর করেন। এটা হলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির ২০০৯ সালের বিদেশ সফরের ফর্দ। তিনি চলতি বছর অর্থাৎ ২০১০ সালেও বিদেশ সফরে পিছিয়ে নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি চলতি বছরের ১০-১৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ভারত, জ্যোতি বসুর শেষকৃত্যে যোগদান করতে ১৯ জানুয়ারি ভারত, ২৫-২৭ জানুয়ারি নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ড, ৭-৯ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে কুয়েত, ১-২ মার্চ মানবাধিকার বৈঠকে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ড, ১৬-১৭ মার্চ ন্যাম বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিতে ফিলিপাইন, ১৭-২০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে চীন, ১৪-২২ এপ্রিল ব্রিটেন ও নরওয়ে, ২৭-২৯ এপ্রিল সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে ভুটান, ২-৪ মে এনপিটি রিভিউ সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র, ১৮-২০ মে ওআইসি মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে তাজাকিস্তান, ২১-২২ মে রাশিয়া, ২৭-২৯ মে সভ্যতা সম্মেলনে যোগ দিতে ব্রাজিল, ৩১ মে থেকে ২ জুন আইসিসি রিভিউ কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে উগান্ডা, ৭-৯ জুন চিকা সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্ক, ২০-২২ জুন ফ্রান্স, ২৩-২৫ জুন দ্বিপক্ষীয় সফরে স্পেন, ৪-১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে নাইজেরিয়া, ২৩ জুলাই ১৭তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামে যোগ দিতে ভিয়েতনাম, ৩-৪ আগস্ট এমডিজি সম্মেলনে যোগ দিতে ইন্দোনেশিয়া, ২৩ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটেন ও জার্মানি, ১৮-২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ৩-৫ অক্টোবর ব্রিটেন সফর করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ মুহূর্তে অসুস্থ। তাই তার চীন সফর বাতিল করেছেন।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: