আমেরিকার কম বয়সী ১০ কোটিপতি অধিকাংশই ইন্টারনেট কোটিপতি

আমেরিকার কম বয়সী ১০ কোটিপতি

Money

Money

বিখ্যাত সাময়িকী ফোর্বসের হিসাবে সবচেয়ে কম বয়সী মার্কিন কোটিপতি হলেন ডাস্টিন মসকোভিজ। বয়স ২৬ বছর। সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। হার্ভার্ডের ছাত্রাবস্থায় তাঁর সাবেক রুমমেট ও ফেসবুকের আরেক প্রতিষ্ঠাতা বিলিয়নিয়ার মার্ক জুকারবার্গের চেয়ে তিনি ৮ দিনের ছোট। মসকোভিজ ফেসবুকের প্রথম চীফ টেকনোলজি অফিসার ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি ফেসবুক ছেড়ে দিয়ে আসানা নামে একটি সফট্ওয়্যার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এই কোম্পানির কাজ হলো ব্যক্তি ও ছোট কোম্পানিগুলোর আরও ভালভাবে পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা। ফেসবুকের প্রথমদিকে যারা এটিকে সাহায্য-সহায়তা যুগিয়েছিল নতুন কোম্পানিটি তাদের অনেককেই আকৃষ্ট করতে পেরেছে। বর্তমানে মসকোভিজের সম্পদের পরিমাণ ১৪০ কোটি ডলার। এই সম্পদের প্রায় পুরোটাই এসেছে ফেসবুকে তাঁর ৬ ভাগ শেয়ার থেকে।

জুকারবার্গ
ফোর্বস আমেরিকার যে চার শ’ কোটিপতির তালিকা করেছিল জুকারবার্গ এখন তার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য না হতে পারেন তবে এ বছর শতকরা হারের দিক দিয়ে সর্বাধিক লাভ হয়েছে তাঁর। তাঁর নিট সম্পদ ২শ’ কোটি ডলার থেকে লাফ মেরে ৬৯০ কোটি ডলারে পেঁৗছেছে। মসকোভিজের তুলনায় তাঁর সম্পদ প্রায় পাঁচ গুণ এবং ক্র্যাপলের স্টিভ জোন্সের চেয়েও বেশি। জুকারবার্গের বয়স ২৬ বছর। হার্ভার্ডের ছাত্র থাকাবস্থায় পড়া ছেড়ে দেন জুকারবার্গ। বর্তমানে তিনি ফেসবুকের সিইও।

এডুয়ার্ডো সাভেরিন
চার শ’ বিলিয়নিয়ারের তালিকায় ফেসবুকের আরও একজন প্রতিষ্ঠাতা আছেন। ইনি ২৮ বছর বয়স্ক এডুয়ার্ডো সাভেরিন। এক সময় তিনি ফেসবুকের এক-তৃতীয়াংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন। জুকারবার্গ ও মসকোভিজ পড়াশোনা ছেড়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে গেলে ব্রাজিলে জন্ম নেয়া এই যুবকটি গ্র্যাজুয়েট হবার জন্য থেকে যান। এক বছর পর ফেসবুক তাঁর বিরম্নদ্ধে মামলা করলে তিনিও পাল্টা মামলা করেন। পরে বিবদমান পৰগুলোর সমঝোতা হয়। সাভেরিন ৫ শতাংশ শেয়ার পান এবং ফেসবুকের সাইটে যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তার নাম পরিচয় উলেস্নখ থাকে। তাঁর সম্পদের পরিমাণ এখন ১১৫ কোটি ডলার।

জন আর্নল্ড
ইন্টারনেট বিশ্বের বাইরে তরম্নণ ধনীর তালিকাভুক্ত সদস্যরা অর্থলগি্ন ও খেলাধুলার মতো আরও কতিপয় শিল্প থেকেও লাভবান হয়েছেন। ৩৬ বছর বয়স্ক জন আর্নল্ডের কথাই ধরা যাক। হেজ ফান্ড ম্যানেজার আর্নল্ড ১৯৯৫ সালে এনরনের পৰের একজন তেল ব্যবসায়ী হিসাবে তাঁর কর্মজীবন শুরম্ন করেন। কোম্পানির জন্য তিনি ২০০১ সালে ৭৫ কোটি ডলার আয় করেছিলেন বলে শোনা যায়। এক বছর পর কোম্পানি ধসে পড়লে তিনি নিজে নিজেই ব্যবসা শুরম্ন করেন এবং সেন্টাউরাস নামে একটি হেজ ফান্ড প্রতিষ্ঠা করেন যা মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস ও এনার্জি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। আর্নল্ডের সম্পদের নিট পরিমাণ ৩৩০ কোটি ডলার।

স্কট ডানকান
বয়সে সর্বকনিষ্ঠ কোটিপতিদের মধ্যে পাঁচজন তাদের সম্পদ উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছেন। এদের মধ্যে আছেন স্কট ডানকান। ২০-এর কোঠায় বয়সের তিনিই একমাত্র কোটিপতি যিনি ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সম্পদ গড়েননি। গত মার্চ মাসে বাবা ড্যান ডানকানের মৃতু্যর পর স্কট ডানকান ও তাঁর ভাইয়েরা পরিবারের ১২৪০ কোটি ডলারের পাইপলাইন সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। তাদের এনার্জি কোম্পানি এন্টারপ্রাইজ প্রোডাক্টস ৪৯ হাজারেরও বেশি পাইপলাইনের মালিক। ২৭ বছর বয়স্ক স্কট ডানকানের ব্যক্তিগত নিট সম্পদের পরিমাণ ৩১০ কোটি ডলার।

সার্গেই ব্রিন
২০ কোঠার পর পরবর্তী ধাপের যেসব তরম্নণ কোটিপতির নাম আসে তাদের মধ্যে আছেন ৩৭ বছর বয়স্ক সার্গেই ব্রিন। তাঁর নিট সম্পদ ১৫০০ কোটি ডলার। ইনি ৬ বছর বয়সে রাশিয়া থেকে এসেছেন। মা নাসার গবেষণা বিজ্ঞানী। স্ট্যানফোর্ডে কম্পিউটার সায়েন্স পিএইচডি প্রোগ্রাম ল্যারি পেজের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। ১৯৯৮ সালে ওই প্রোগ্রাম থেকে বেরিয়ে এসে তিনি গুগল চালু করেন। গুগলাই তার সম্পদের উৎস।

ল্যারি পেজ
৩৭ বছর বয়স্ক ল্যারি পেজের নিট সম্পদ ১৫০০ কোটি ডলার। এই সম্পদের উৎস গুগল। তিনি গুগলের যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯৮ সালে তিনি স্ট্যানফোর্ডে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হয়ে পরে ছেড়ে দেন এবং সার্চ ইঞ্জিনটি চালু করেন।

ড্যানিয়েল জিফ
আটত্রিশ বছর বয়স্ক ড্যানিয়েল জিফ আমেরিকার আরেক কোটিপতি , যার নিট সম্পদ ৪শ’ কোটি ডলার। এই সম্পদের উৎস উত্তরাধিকার ও হেজ ফান্ড। প্রয়াত উইলিয়াম জিফ জুনিয়রের কনিষ্ঠ পুত্র তিনি। পিতা জিফ ডেভিস প্রকাশনা সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। পরে তা বিক্রি করে দেন। তারই সম্পদ তার তিন পুত্র ড্যানিয়েল, ডার্ক ও রবার্ট লাভ করেন।

লরেঞ্জো ফারতিত্তা
আরেক ধনকুবেরের নাম লরেঞ্জো ফারতিত্তা। বয়স ৪১ বছর। নিট সম্পদ ১০০ কোটি ডলার। বড় ভাই ফ্রাঙ্কের সঙ্গে যৌথভাবে বিকাশমান মার্শাল আর্ট লীগ “আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ”-এর মালিক। এই মার্শাল আর্ট লীগ ও ক্যাসিনো তাঁর সম্পদের উৎস।

জেরি ইয়াং
৪১ বছর বয়সী জেরি ইয়াংয়ের জন্ম তাইওয়ানে। ১০ বছর বয়সে আমেরিকায় আসেন। স্টানফোর্ডে গ্র্যাজুয়েট ছাত্র থাকাকালে তিনি সহপাঠী ডেভিড ফিলোর সঙ্গে একত্রে ওয়েব ডাইরেক্টরি ইয়াহু গঠন করেন। ইয়াহুর এই যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা ২৯ বছর বয়সে আমেরিকার চার শ’ সর্বাধিক ধনীর তালিকায় স্থান পান। এই ইয়াহুই তার সম্পদের উৎস যার পরিমাণ ১১৫ কোটি ডলার।

তরুণ বয়সে ধনী হবার নেপথ্যে
তরুণ বয়সে ধনী হবার সর্বোত্তম উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রযুক্তি। বিশেষ করে ইন্টারনেট। বিল গেটস ১৯৮৬ সালে ৩০ বছর বয়সে ফোর্বসের সর্বাধিক ধনীর তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। তখন তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি ডলারেরও বেশি। মাইকেল ডেল মাত্র ২৬ বছর বয়সে কোটিপতি হিসাবে যাত্রা শুরম্ন করেন। ১৯ বছর পর এখনও তিনি ফোর্বসের তালিকায় কনিষ্ঠতম ২০ জন কোটিপতিদের মধ্যে আছেন। ইয়াহুর নোসদাক-ওযাইহু নিউজ) এর ডেভিড ফাইলো ও জেরি ইয়াংয়ের ৰেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তারা ১২ বছর আগে প্রথম এই কাতারে এসেছিলেন। বস্তুত বয়সের দিক দিয়ে সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকার ২০ জন কোটিপতিদের অর্ধেকই প্রযুক্তি শিল্পে তাদের ঐশ্বর্য গড়ে তুলেছেন এবং অধিকাংশই সেটা করেছেন ইন্টারনেটের মাধ্যমে।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

One Response to আমেরিকার কম বয়সী ১০ কোটিপতি অধিকাংশই ইন্টারনেট কোটিপতি

  1. Manoara says:

    Bhaijan, Amake kicu tips den kivabe kotipoti hoite pari.
    Thank you.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s