আত্মজীবনীতে জর্জ ডব্লিউ বুশ : ইরাকে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র না পাওয়া আমাকে এখনও পীড়া দেয়

আত্মজীবনীতে জর্জ ডব্লিউ বুশ : ইরাকে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র না পাওয়া আমাকে এখনও পীড়া দেয়

জর্জ ডব্লিউ বুশ George W Bush

জর্জ ডব্লিউ বুশ


ডেস্ক রিপোর্ট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আক্ষেপ করে বলেছেন, ইরাকে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র খুঁজে না পাওয়া আমার জন্য এখনও পীড়াদায়ক এক অনুুভূতি। তবে সাদ্দাম হোসেন না থাকাতে ইরাকের জনগণ এখন ভালোই আছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি একজন হৃদয়হীন ব্যক্তি। তিনি ছিলেন আমার প্রশাসনের ডার্থ ভাদের। একপর্যায়ে তাকে আমি বরখাস্ত করতে চেয়েছিলাম। সম্প্রতি জর্জ ডব্লিউ বুশ তার প্রকাশিতব্য আত্মজীবনী ‘ডিসিসন পয়েন্টস’-এ এসব কথা বলেন। নিউইয়র্ক টাইমস, বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স।
আগামী সপ্তাহে বই আকারে বেরুবার আগেই বুশের আত্মজীবনী প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরাকে এবং আফগানিস্তানে সামরিক আগ্রাসন পরিচালনার জন্য বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি দুর্নাম কুড়িয়েছেন। বিশেষ করে যে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের অজুহাতে সাদ্দাম হোসেনকে উত্খাত করে ইরাকে আগ্রাসন চালিয়ে নির্বিচারে নিরীহ জনগণকে হত্যা করেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক বাহিনী, তার দায়ভার ছিল বুশের কাঁধে। উল্লেখিত অস্ত্র না পেয়েও মার্কিন বাহিনী যেভাবে ইরাকে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তার জন্য বিশ্বব্যাপী নিন্দা আর ঘৃণার পাত্র হয়েছিলেন তিনি। তারপরও তিনি সাফাই গেয়েছেন নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে। আত্মজীবনীতে বুশ ইরাক আগ্রাসনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ইরাকের জনগণ স্বৈরাচার একনায়ক সাদ্দামের শাসনামলের চেয়ে অনেক ভালো আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্রের অভিলাষী সাদ্দাম হোসেন ছাড়া ভালোই আছে।
তবে ইরাকে কথিত ব্যাপক বিধ্বংসী কোনো অস্ত্র পাওয়া না যাওয়ায় বুশ হতাশ হন এবং বলেন, অস্ত্র পাওয়া না যাওয়ায় আমার মতো হতাশ আর রাগান্বিত আর কেউ হয়নি। এ বিষয়টি মনে হলেই একটি পীড়াদায়ক অনুভূতি জাগ্রত হয়। এ অনুভূতি এখনও আমার আছে।
বুশ তার স্মৃতিচারণে আরও বলেন, ২০০৪ সালে তার পুনর্নির্বাচনী প্রচারের সময় তার রানিংমেট হিসেবে ডিক চেনিকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন। কারণ, ডিক চেনি একবার তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। ডিক চেনিকে হৃদয়হীন আখ্যায়িত করে বুশ বলেন, তিনি ছিলেন আমার প্রশাসনের ডার্থ ভাদের (বিখ্যাত স্টার ওয়ারস চলচ্চিত্রের ভিলেন)।
বুশ তার আত্মজীবনীতে তার জীবনের ১৪টি উল্লেখযোগ্য ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি ২০০৫ সালে হারিকেন ক্যাটরিনা বিপর্যয়ের প্রতি যথাযথ সাড়া দিতে পারেননি বলে স্বীকার করেন। ২০০৮ সালে তার শাসনামলের শেষদিকে অর্থনৈতিক মন্দার সময় তিনি নিজেকে ডুবন্ত জাহাজের নাবিক বলে মনে করেছিলেন। অর্থনৈতিক বিপর্যয় হলেই ট্যাক্স বাড়াতে হবে—এ ধারণাটাও ভুল বলে তিনি স্বীকার করেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনকালকে সবচেয়ে কম জনপ্রিয় হিসেবে ধরা হয়। ক্ষমতা ছাড়ার সময় তার জনপ্রিয়তা সবচেয়ে নিম্নপর্যায়ে চলে গিয়েছিল। বুশের এ আত্মজীবনী তার ইমেজ উজ্জ্বল করতে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা আশা করছেন। তবে বুশ নিজে এ ব্যাপারে বলেন, আমার প্রেসিডেন্সির ব্যাপারে জনগণ যাই রায় দিক, তা শোনার জন্য তো আর আমি আশপাশে থাকছি না।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: