প্রকট হচ্ছে আয়বৈষম্য


প্রকট হচ্ছে আয়বৈষম্য

এম এম মুসা ● সরকারি পরিসংখ্যান বলছে মাথাপিছু আয় বেড়েছে। বর্তমানে মাথাপিছু আয় ৭০০ ডলার অর্থাৎ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা। দৈনিক এক দশমিক ৯২ ডলার অর্থাৎ প্রায় ১৩৭ টাকা। তবে মাথাপিছু এই আয় বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দারিদ্র্য, অতিদরিদ্রের সংখ্যা, বাড়ছে কোটিপতি। একদিকে এই আয় বৃদ্ধি অন্যদিকে দরিদ্রবৃদ্ধির এই প্রবণতা কেন? বিশ্বব্যাংক বলছে বাংলাদেশ শিগগিরই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের সাড়ে ছয় কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, এভাবে চলতে থাকলে ২০১০ সালে দেশের দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দশমিক তিন শতাংশ বাড়বে। ২০১১ সালে আরো প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নামবে। জাতিসংঘ ঘোষিত দারিদ্র্যসীমা এক দশমিক ২৫ ডলার অনুযায়ী ২০১১ সালে দারিদ্র্যসীমার নিচে মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে আট কোটি। এর কারণ চরম আয়বৈষম্য। আয়বৈষম্য ও খাদ্যমূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং অর্থনীতি থমকে গেছে। গুটিকয় মানুষের আয় ব্যাপক হারে বাড়ায় দেশের জাতীয় আয় বেড়েছে, সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে বৈষম্য, দরিদ্র, ভাসমান মানুষের সংখ্যা ও বেকারত্ব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাথাপিছু আয়বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাবৃদ্ধি অবশ্যই চিন্তার কারণ। এর অর্থ দাঁড়ায় দেশের সম্পদ মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর তালুবন্দি হচ্ছে। সম্পদের সমবণ্টন নিশ্চিত করার যে দায়িত্ব ছিল চার দশকের শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকা সরকারগুলোর, তা পালন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে তারা।

আয়বৈষম্য : সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের আয়বৈষম্য চরম আকার ধারণ করেছে। সরকার ঘোষিত সাতটি জাতীয় বেতনকাঠামো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিটি বেতনকাঠামোতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়ের পার্থক্য বেড়েছে। ২০০৯ সালে ঘোষিত সপ্তম জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-পার্থক্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৯০০ টাকা, যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ। সাধারণ নিয়মে নিম্নতম ও উচ্চতম মজুরির পার্থক্য হওয়া উচিত এক অনুপাত ১০। যদিও এটি নিয়ে বির্তক রয়েছে তথাপিও সেটি ভঙ্গ করা হয়েছে সপ্তম মজুরিকাঠামোয়। ২০০৯ সালের জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বোচ্চ বেতন ৪০ হাজার টাকা আর সর্বনিম্ন মাত্র চার হাজার ১০০ টাকা। ২০০৫ সালে জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বোচ্চ বেতন ছিল ২৩ হাজার এবং সর্বনিম্ন দুই হাজার ৪০০ টাকা। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের পার্থক্য ছিল ২০ হাজার ৬০০ টাকা। দ্বিতীয় জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের পার্থক্য ছিল দুই হাজার ৭৭৫ টাকা। তৃতীয় জাতীয় বেতনকাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের পার্থক্য ছিল পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা। চতুর্থ ও পঞ্চম বেতন কাঠামোয় এই ব্যবধান ছিল যথাক্রমে নয় হাজার ১০০ ও ১৩ হাজার ৫০০ টাকা।

জাতীয় বেতনকাঠামো ২০০৯ অনুযায়ী নিম্নশ্রেণীর কর্মচারীদের বেতন কম হারে বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ চারটি গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন অধিক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রথম থেকে চতুর্থ গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে ৭২-৭৪ শতাংশ। এখানে প্রথম গ্রেড থেকে নিচের গ্রেডের বেতনবৃদ্ধি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে। পক্ষান্তরে ১০ হতে ১৮ নম্বর গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের জন্য বেতন ২০০৫ সাল থেকে বৃদ্ধি করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৫৬ থেকে সর্বোচ্চ ৬৯ শতাংশ পর্যন্ত। এভাবেই প্রতি বেতনকাঠামোয় নিম্নতম ও উচ্চতম সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়বৈষম্য বাড়ছে।

আয়বৈষম্য বেড়েছে সরকারি খাতের চেয়ে বেসরকারি খাতে আরো অনেক বেশি। গার্মেন্টস খাতে একজন শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি এক হাজার ৬৬০ টাকা। অথচ একজন ব্যবস্থাপকের বেতন সর্বনিম্ন এক লাখ থেকে সর্বোচ্চ সাত লাখ টাকা। এখানে আয়বৈষম্য হাজার নয়, লাখে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারিত থাকলেও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত নয়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানভেদে বেতন ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে বেতন বেশি, সেখানে আয়বৈষম্যও অপেক্ষাকৃত বেশি। প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী পাঁচ বছর পর পর ন্যূনতম মজুরি পুনর্বিন্যাসের ব্যবস্থা থাকলেও দুই-একটি শিল্প খাত ছাড়া অন্য কোনো খাতে তা মানা হয়নি। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় সেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো দারিদ্র্য নিরসনে শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরির হার দিনপ্রতি দুই ডলারে উন্নীত করা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চার বছর বাকি থাকলেও বাংলাদেশের অবস্থান এখনো অনেক পেছনে।

আঞ্চলিক বৈষম্য প্রকট : অঞ্চলভেদেও আয়বৈষম্য বাড়ছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা যায়, কয়েক বছর ধরে অঞ্চলভেদে আয়ের পার্থক্য বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে শ্রম মজুরির ব্যাপক পার্থক্যের প্রভাব পড়ছে পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায়। কৃষি ও অন্যান্য খাতে দেশের মধ্যাঞ্চলের আয় সবচেয়ে বেশি। আর উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আয় এ দুটি খাতে সবচেয়ে কম। এসব অঞ্চলের মজুরিকাঠামো নির্ভর করে কৃষি মৌসুমের ওপর। মৌসুম শেষ হলে মজুরির পরিমাণও কমে যায়। গত বছর পরিচালিত মাঠপর্যায়ের সমীক্ষায় দেখা যায়, দেশের পূর্ব জনপদের জেলাগুলোয় মাথাপিছু দৈনিক আয় কৃষি খাতে ২২৩ এবং অন্যান্য খাতে ২১৩ টাকা। মধ্যাঞ্চলে এ আয় যথাক্রমে ২১৯ ও ৩১৩ টাকা; উত্তরাঞ্চলে ১৬৪ ও ১৯৭ এবং দক্ষিণাঞ্চলের ১৫৩ ও ১৬৪ টাকা। কয়েক বছরের মজুরি হার বিশ্লেষণ করে বিআইডিএস দেখিয়েছে, অঞ্চলভেদে মজুরিবৈষম্য প্রতিবছর বেড়েই চলেছে। অন্য এক গবেষণায় দেখা যায়, দেশের সীমান্তবর্তী ৩০ জেলার মধ্যে কেবল তিনটি ছাড়া সবকটির অর্থনৈতিক অবস্থাই করুণ। পিছিয়েপড়া এসব জেলার মাথাপিছু আয় বছরে ৩৫০ ডলারের নিচে। বাংলাদেশে দারিদ্র্যবিমোচন এখনো অনেক বড় ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০১০ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমা শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশে ধনী ও গরিব মানুষের অর্থনৈতিক বৈষম্য চরম আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি শহর ও গ্রামের মানুষের আয়ের মধ্যেও রয়েছে বিস্তর ব্যবধান।

বাড়ছে কোটিপতির সংখ্যা : আয়বৈষম্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৩১০ জন এবং এদের মোট আমানতের পরিমাণ হচ্ছে এক লাখ ৫৪৪ কোটি টাকা। ১৯৭৫ সালে দেশে বৈধ কোটিপতির সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৭ জন এবং ২০০৮ সালে ১৯ হাজারের বেশি। ২০০৮ থেকে ২০০৯-এ এক বছরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে চার হাজার ৩১০ জন। ৩৮ বছরে বেড়েছে ২৩ হাজার ২৬৩ জন। প্রায় চার দশকে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৫০০ গুণ। শতকরা হিসাবে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা হচ্ছে ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতকারীর দশমিক ছয় শতাংশ এবং আমানতের পরিমাণ হচ্ছে মোট আমানতের এক-তৃতীয়াংশ। অর্থাৎ মাত্র দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ কোটিপতি আমানতকারী ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের ৩১ শতাংশের মালিক। ১৯৭৫ ও ১৯৯০ সালে ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি আমানতকারীদের মোট আমানতের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১০ ও প্রায় ১২ শতাংশ। ১৯৯৬ সালের জুনে এই আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ২০ শতাংশ, ২০০১ সালের শেষে প্রায় সাড়ে ২২ শতাংশ এবং ২০০৬ সালে তা প্রায় ২৭ শতাংশে উন্নীত হয়। অন্যদিকে ২০০৭ ও ২০০৬ সালে মোট কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৬ হাজার ৬৩৩ জন ও ১৪ হাজার ৪৯ জন। আলোচ্য দুই বছরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে বছরওয়ারি গড়ে প্রায় আড়াই হাজার। এ ছাড়া ১৯৯০, জুন ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের শেষে দেশে মোট কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৯৪৩, দুই হাজার ৫৯৪ ও পাঁচ হাজার ৭৯৯ জন।

বাড়ছে দারিদ্র্য : ২০০৫ সালে পরিচালিত খানা আয়-ব্যয় জরিপ অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। বিশ্বব্যাংকও দারিদ্র্য পরিমাপের নতুন হিসাবে দৈনিক মাথাপিছু আয় এক ডলার ২৫ সেন্ট নির্ধারণ করেছে, তাতে বাংলাদেশে দারিদ্রে্যর সংখ্যা আরো বেড়েছে বলে সংস্থাটি মনে করে। বর্তমানে এই হার ৫০ শতাংশের বেশি বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০০৯ অনুযায়ী ১০ বছরে মোট জাতীয় আয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানের পাঁচ শতাংশ দরিদ্র মানুষের অংশীদারিত্ব কমে মাত্র দশমিক ৭৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পাঁচ শতাংশ ধনীর অধিকারে রয়েছে মোট আয়ের ২৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। দেশের সর্বনিম্ন পাঁচ শতাংশ চরম দারিদ্র্যপীড়িত আয় ২০০০ সালে মোট জাতীয় আয়ের দশমিক ৯৩ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০০৫ সালে দশমিক ৭৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে ২০০৫ সালে সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ ধনী পরিবারের আয় বেড়ে মোট জাতীয় আয়ের ২৬ দশমিক ৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ মানুষ দেশের মোট আয়ের মাত্র নয় শতাংশ ভোগের সুযোগ পাচ্ছে। অথচ সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ মানুষ ভোগ করছে ৪৬ শতাংশ আয়। পরিবারভিত্তিক আয় বণ্টনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক জাতীয় আয়ের মাত্র ২০ দশমিক ৩২ শতাংশের অংশীদার। ১৯৯৫ সালে দেশে শীর্ষ পাঁচ শতাংশ ধনী ও সর্বনিম্ন পাঁচ শতাংশ দরিদ্রের আয়ের ব্যবধান ছিল ২৭ অনুপাত এক। মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে ২০০০ সালে এই ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে হয়েছে ৪৭ অনুপাত এক। ১৯৯৯ সালের তুলনায় ২০০৪ সালে দেশে গরিব মানুষের মাসিক ব্যয় বেড়েছে গড়ে ৫৬ টাকা। আর এ সময়ের মধ্যে আয় বেড়েছে মাত্র ১৯ টাকা। দারিদ্র্য না কমলেও প্রতিবছরই দারিদ্র্যবিমোচন খাতে ব্যয় বাড়ছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে দারিদ্র্যবিমোচন খাতে সরকারি বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। সাড়ে ছয় কোটি দরিদ্র মানুষের মাথাপিছু বরাদ্দ দাঁড়ায় ১১ হাজার ৬৯৩ টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এই খাতে খরচ হয়েছে ৬১ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ৫৬ শতাংশ।

সঙ্গীন সাধারণ মানুষ : দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ৭৫ শতাংশ এখনো কাঁচাঘর ও ঝুপড়িতে বাস করে। রাতের বেলা প্রায় অর্ধেক পরিবারের আলোর ব্যবস্থা হয় এখনো কেরোসিনের বাতির মাধ্যমে। বিনোদনের জন্য ৬০ শতাংশ পরিবারের কোনো রেডিও বা টেলিভিশন নেই। প্রাথমিক শিক্ষার স্তর পার করতে পারে এক-তৃতীয়াংশেরও কম শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর উদ্যোগে পরিচালিত ‘মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পরিবীক্ষণ জরিপ : ২০০৯’-এর প্রতিবেদনে এসব চিত্রই পাওয়া যায়। মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পরিবীক্ষণ জরিপের তথ্যানুসারে দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি কমছে না। জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারের মধ্যে ৪১ দশমিক দুই শতাংশ দরিদ্র। এর মধ্যে দুটি ভাগ ৩১ দশমিক নয় শতাংশ দরিদ্র ও নয় দশমিক তিন শতাংশ হতদরিদ্র। জরিপ অনুযায়ী ৩৭ শতাংশ পরিবার মনে করে দারিদ্রে্যর হার ক্রমশ বাড়ছে। ২৩ শতাংশ মনে করে কমছে। আর ৪০ শতাংশ মনে করে অবস্থা অপরিবর্তিত।

দারিদ্রে্যর উৎস হিসেবে জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবারের দারিদ্রে্যর কারণ কোনো জমি না থাকা বা উত্তরাধিকারসূত্রে কোনো কিছু না পাওয়া। পুঁজির অভাব বা ব্যবসায় লোকসানের ফলে এ রকম পরিবারের সংখ্যা ১৮ দশমিক চার শতাংশ। কোনো শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ নেই, এ কারণে দরিদ্র পরিবারের সংখ্যা ১৭ দশমিক দুই শতাংশ। জরিপের তথ্যানুসারে দেশে মাত্র চার দশমিক সাত শতাংশ ধনী। মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যা ২০ দশমিক পাঁচ শতাংশ। চলনসই বা নিম্নবিত্ত পরিবারের হার ৩৪ দশমিক এক শতাংশ।

দুই দশকে দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের প্রকৃত আয় হ্রাস পেয়েছে। ১৯৭০ সাল-পরবর্তী সময়ে শ্রমিকের উৎপাদনদক্ষতা বেড়েছে, কিন্তু সেই হারে মজুরি বাড়েনি। চার দশকে ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে শ্রমিকের উৎপাদনদক্ষতা। কিন্তুপ্রকৃত আয় বেড়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। ১৯৯০-পরবর্তী সময়ে মধ্যবিত্ত জনগণের ঋণ গ্রহণের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। বর্তমানে সেটি অধিকতর হয়েছে। বেসরকারি এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০০৯ সালে মধ্যবিত্তদের আয়ে ঋণের অবদান প্রায় ৬০ শতাংশ।

১৯৭৩ সালে মাথাপিছু গড় আয় ছিল ১১০ ডলার। ২০০৯ সময়কালে তা বেড়ে হয়েছে ৭০০ ডলার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, পাঁচ বছর ধরেই বাংলাদেশের মানুষের গড় মাথাপিছু আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। পাঁচ বছরে গড়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে মাথাপিছু আয় বেড়েছে। এ বছর এ আয়ে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও গড় মাথাপিছু আয় ৭৭০ ডলারের বেশি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অথচ বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে দেশের গড় মাথাপিছু মজুরি শূন্য দশমিক ৫৩ ডলার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত উচ্চবিত্ত মানুষের আয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গড় আয় বাড়ছে। সামগ্রিকভাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয়ে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। এর মূল কারণ জনগোষ্ঠীর বিশাল অংশই জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আয়ের মতো কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছে না। কর্মস্বল্পতা এবং সীমিত আবাদি জমির কারণেই বাংলাদেশে দারিদ্র্যবিমোচন কর্মসূচিতে সাফল্য নেই। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে বেকার মানুষের সংখ্যা। বর্তমানে দেশে কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা সাড়ে তিন কোটি ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি হিসাবে এ সংখ্যা দুই কোটি ৪৪ লাখ। মৌলিক চাহিদা পূরণের মতো আয়ের পথ না থাকায় বাড়ছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে একের পর এক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও বেকারত্বের অভিশাপে দারিদ্রে্যর দুষ্টচক্র থেকে মুক্তি পাচ্ছে না দেশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ অর্থনীতিতে যেসব অর্জন করেছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে মাথাপিছু আয়। তবে এর পাশাপাশি ধনী-গরিবের বৈষম্য বেড়ে যাওয়ায় মাথাপিছু আয়ের সুফল দরিদ্র জনগোষ্ঠী পাচ্ছে না। দেশের খুবই কমসংখ্যক মানুষের কাছে রয়েছে সিংহভাগ সম্পদ। শহর-গ্রাম বৈষম্য বাড়ছে। এখনো দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ছয় কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। তাদের প্রতিদিন আয় এক ডলারের কম। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে কারো দৈনিক আয় এক ডলারের কম হলে তাকে দরিদ্র হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এ বছর মাথাপিছু আয় ৭৫০ ডলার হলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় এখনো অনেক কম। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এখনো ৫৫ শতাংশ কম।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাবের হিসাব অনুযায়ী ২৭ বছরে (১৯৮২-২০০৯) দ্রব্যমূল্য বেড়েছে প্রায় ২৭৫ শতাংশ। পাঁচ বছরে বেড়েছে ৬১ শতাংশ। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চালের দাম, ৯০ শতাংশ। চালের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দরিদ্র মানুষ। কারণ তাদের আয়ের ৭০ শতাংশই ব্যয় হয় খাদ্য কেনায়।

পাঁচ বছর আগে যে চাল বিক্রি হতো প্রতি কেজি ২৪ টাকায় আজ তার দাম হয়েছে ৪৫ টাকা। সয়াবিন তেলের লিটার ছিল ৪৮ টাকা যা এখন ১২০ টাকা। রসুন ছিল প্রতি কেজি ৪৪ টাকা, পেয়াজ ২০, শুকনা মরিচ ৫৫, মসুর ডাল ৪৫, গরুর মাংস ১০০ ও খাসির মাংস ১৫০ টাকা। এখন গরুর মাংস ২৬০, খাসির ৩৫০, রসুন ১১৫ ও শুকনা মরিচ ১৬০ টাকা কেজি। খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অন্যান্য সব ধরনের ব্যয়। ২০০৫ সালে যে বাড়ি ভাড়া ছিল দুই হাজার ৮৮০ টাকা। আজ তা হয়েছে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা। পাঁচ বছর আগে ডিজেলের দাম ছিল ৩২ টাকা আজ ৪৪ টাকা। আগে যে বিদ্যুতের মূল্য ছিল প্রতি ইউনিট তিন টাকা আজ তার দাম সাড়ে চার টাকা। পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে যাতায়াত খরচ, বেড়েছে স্কুল-কলেজের বেতন, নিত্যপ্রয়োজনীয় সব দ্রব্যের দাম। শুধু কমেছে মানুষের প্রকৃত আয় অর্থাৎ আয় কিছুটা বাড়লেও তা জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির তুলনায় কমেছে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, দেশের সিংহভাগ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ মুষ্টিমেয় শ্রেণীর হাতে রয়ে গেছে। সম্পদের বৈষম্য, স্বাধীনতা-পরবর্তী আমলাদের রহস্যজনক ভূমিকা, শর্তযুক্ত ঋণের অতিরিক্ত ভার বহন (প্রতিবছর জাতীয় রাজস্বের বড় একটি অংশ ঋণের সুদ হিসেবে ব্যয় করতে হয়। ২০০৯-১০ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্বের ১৩ দশমিক নয় শতাংশ এ খাতে ব্যয় করা হয়েছে) এবং চাপিয়ে দেওয়া প্রেসক্রিপশন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও দূরদর্শিতার অভাব, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলতে না পারা, সরকারগুলোর লুটেরা মনোভাব এবং নীতিনির্ধারক পর্যায়ে সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবও অতিদরিদ্র ও দারিদ্র্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী। [ এম এম মুসা ● সাপ্তাহিক বুধবার musamiah@gmail.com ]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

Advertisements

দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি


দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি
Bangladesh
Politics of hate
An ancient vendetta continues to eat away at public life << Original Link

আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের ২০ নভেম্বর সংখ্যায় বাংলাদেশের বৈরিতার রাজনীতি নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধটির অনুবাদ

Hartal

Hartal

সেনাবাহিনীর দুর্যোগময় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যর্থ শাসন ও দেশের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শাসকপরিবারের নেতারা জেল থেকে মুক্ত হওয়ার দুই বছর পর বাংলাদেশ পুনরায় ঘৃণা ও সংঘাতের রাজনীতির আবর্তে ঘূর্ণায়মান। এর জন্য মূলত দুই নেতার একজন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্যজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাই দায়ী।

বেগম জিয়া ১৩ নভেম্বর ঢাকায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় যে বাড়িতে প্রায় ৩২ বছর ধরে বাস করে আসছিলেন তা থেকে উচ্ছেদ হন। এ পদক্ষেপ একটি হরতালের জন্ম দেয়। এটা ছিল বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ডাকা প্রতিবাদের রূপ। এতে তার বিএনপি ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দেশটির তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি সেনাবাহিনী হাইকোর্টের উচ্ছেদ আদেশ কার্যকরে সহায়তা করে। বেগম জিয়ার বাড়ির চারপাশের বিশাল এলাকা নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর পর গত বছরের প্রথম দিকে (বিডিআর) বিদ্রোহে নিহত ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তার পরিবারের আবাসনের জন্য বরাদ্দের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা এবং এটি তার একটি কূটচাল।

উচ্ছেদ কার্যক্রম হচ্ছে বিএনপির মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য (আওয়ামী) লীগের মিশনের অংশ। এটা হচ্ছে বেগম জিয়ার মরহুম স্বামী ও ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের নায়ক জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার আবিষ্টতাজাত।

ফেব্রুয়ারিতে সরকার ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদলে একজন শ্রদ্ধেয় সুফিসাধকের নামে রাখে। (সরকার) ১৯৭২ সালের সংবিধান ‘পুনর্মুদ্রণের’ সিদ্ধান্তও নিয়েছে জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি যুগসন্ধিক্ষণমূলক রুলিংয়ের আলোকে, যাতে অন্যান্য নানা বিষয়ের সঙ্গে ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর জেনারেল জিয়াসহ সব সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে অক্টোবরে একটি আদালত বেগম জিয়ার ছোট ছেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের সময় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি দুর্নীতি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৩টি দুর্নীতি মামলা বর্তমান সরকারের আমলে তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক এ আক্রমণের আগ থেকেই বিএনপি ধুকে ধুকে চলছিল। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দলটির মাত্র ৩০টি আসন রয়েছে। তারা এই জাতীয় সংসদও বয়কট করে চলছে। এটা এখন বিভক্ত। বেগম জিয়ার পক্ষে এখন সংখ্যালঘু সংখ্যার সমর্থন রয়েছে। এদিকে বিএনপির প্রধান সহযোগী বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জেলে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়কালের অপরাধের অভিযোগ এবং তারা এখন সম্ভাব্য শাস্তির সামনে। সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী এবং বেগম জিয়ার কৌঁসুলি মওদুদ আহমদ বলেন, এ জোট বিএনপির সুনাম, বিশেষ করে আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। কিন্তু তার পরও বিএনপির প্রয়োজন রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমর্থনের।

economist.com

economist.com

বেগম জিয়ার সামনে একমাত্র আশা যে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ সংকট এবং শেখ হাসিনার সরকারের সর্বগ্রাসী পুঁজিবাদী শাসন যা বেগম জিয়ার শাসনামলও (২০০১-০৬) ছাড়িয়ে গেছে তাতে জনগণ বীতশ্রদ্ধ ও হতাশ। সরকারের প্রতি জনগণের যে নির্ভরতা ছিল তাতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বেগম জিয়া মনে করছেন, একসময় গণজোয়ার তার বড় ছেলে ও সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী তারেক রহমান (যিনি এখন ব্রিটেনে নির্বাসনে রয়েছেন) এর পক্ষে ধাবিত হবে। যদিও তারেক রহমান সেনা হেফাজতে থাকাকালে ভাঙা মেরুদন্ড নিয়ে ২০০৮ সালে দেশত্যাগ করেন এবং তিনি বেগম জিয়ার শাসনামলের দুর্নীতির প্রতীক। এমনকি তিনি বিএনপি নেতাদেরও অনেকেরই অপছন্দের মানুষ।

ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা ভারতীয় সরকারের সমর্থন লাভ করেছে। (এই সরকারের আমলে) বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের শাসনের সমাপ্তি, ভারতের চোখে তার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারত মনে করে, তার পরিবার ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে চলেছে। এই মাসে তারেক রহমানের ডান হাত বলে কথিত এক ব্যক্তি তদন্তকারীদের বলেছেন, ঢাকায় পাকিস্তানি দূতাবাস ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অসমিয়া জাতিসত্তার জন্য স্বাধীনতার লক্ষ্যে যুদ্ধরত সশস্ত্র গ্রুপ ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম (উলফা) বিএনপি (এ ক্ষেত্রে তারেক রহমান) ও তাদের সহযোগী বাংলাদেশী অদৃশ্য এক গোষ্ঠীকে এক কোটি ডলার প্রদান করেছে ভারতীয় সশস্ত্র গ্রুপের জন্য ১০ ট্রাক অস্ত্র গোপনে পাচার করতে।

100 injured in hartal clashes

100 injured in hartal clashes

পশ্চিমা সরকারগুলোও তারেক রহমানের ফিরে আসার বিরোধিতা করে। তারা সূক্ষ্ম ঘোমটায় টানা ২০০৭ সালের জানুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানকে (যা বিএনপির নির্বাচনী ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়া প্রতিহত করে বলে তারা মনে করে) সমর্থন করে। এই অভ্যুত্থান সাবেক বিএনপি সরকারকে ঘিরে যে ইসলামিক চরমপন্থী ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে উঠেছিল তাদের ওপরও আক্রমণ করে। আওয়ামী লীগের নীতির কেন্দ্রীয় কৌশল হচ্ছে এই আক্রমণ চলমান রাখা।

সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনেরা খালেদা জিয়ার ব্যাপারে নমনীয় নন যা বেগম জিয়াকে হ্রস্ব করে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রায় চার দশকের পুরনো ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে সৃষ্ট বিভেদের রাজনীতিতে (আওয়ামী) লীগ কী করে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রাখতে পারে সেটাই দেখার বিষয়। এখন তাদের সময় এসেছে শাসনকাজে মন দেওয়ার। [সাপ্তাহিক বুধবারে প্রকাশিত]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

প্রগাঢ় বেদনা চোখে নিয়ে/বন্ধু এসে বলে আজ তার/সাহায্য যে কতো দরকার/যখন মৃত্যুপুরী তারই দেশ। গিটারের সাহায্যে হৃদয় নিংড়ে দেওয়া আকুতি যিনি প্রকাশ করে গেছেন তার কি মৃত্যু আছে!


বাংলাদেশের বন্ধু
একরামুল হক শামীম

George Harrison

George Harrison

“When you’ve seen beyond yourself, then you may find, peace of mind is waiting there.” ~ George Harrison

বাংলাদেশ বাংলাদেশ_ পাশাপাশি বসিয়ে সুর দিলেই যে মানুষটির কথা মনে পড়ে তিনি জর্জ হ্যারিসন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ড থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও বুঝেছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের হাহাকার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ও উদ্বাস্তু মানুষদের সহায়তার জন্য একটি কনসার্ট আয়োজনের কথা ভেবেছিলেন রবিশঙ্কর। সেই ভাবনা জর্জ হ্যারিসনের উদ্যোগেই বাস্তবে পরিণত হয়েছিল। জর্জ হ্যারিসন উদ্যোগী হয়ে জোগাড় করেছিলেন শিল্পীদের, নিউইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেন ভাড়া নিয়েছিলেন। নিজের ম্যানেজার এলন ক্লাইনকে পুরো অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। হ্যারিসন পরে লিখেছেন, বাংলাদেশের যুদ্ধাবস্থা ও উদ্বাস্তুদের দুর্ভোগ সবাইকে উপলব্ধি করানোর জন্যই বাংলাদেশ গানটি লিখেছিলেন তিনি। এ রকম একটি গান লেখার প্রস্তাব করেছিলেন লিয়ন রাসেন। তিনবার খসড়া শেষে তৈরি হয় সেই গান : প্রগাঢ় বেদনা চোখে নিয়ে/বন্ধু এসে বলে আজ তার/সাহায্য যে কতো দরকার/যখন মৃত্যুপুরী তারই দেশ।

১৯৬৬ সাল থেকেই রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের বন্ধুত্ব। রবিশঙ্করের কাছ থেকে সেতার শেখেন হ্যারিসন। বন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আয়োজন করেন ইতিহাস সৃষ্টিকারী এক কনসার্টের_ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ। ওই একবারই জর্জ হ্যারিসন তার তারকাখ্যাতি ও জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করেছিলেন এবং তা করেছিলেন বাংলাদেশের জন্যই। এর জন্যই মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে পৃথিবীখ্যাত শিল্পীদের এক মঞ্চে হাজির করা সম্ভব হয়েছিল। কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এ হাজির হয়েছিলেন বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রিস্টন, লিয়ন রাসেল ও রিঙ্গো স্টারের মতো শিল্পীরা। সুরের ঝঙ্কারে মাতিয়ে দিয়েছিলেন উপস্থিত শ্রোতাদের। বিটলস ভেঙে যাওয়ার পর এই কনসার্টই ছিল হ্যারিসনের সরাসরি অংশগ্রহণ করা প্রথম অনুষ্ঠান। কনসার্টের গানের একটি সংকলন কিছুদিন পরেই ১৯৭১ সালে বের হয় এবং ১৯৭২ সালে এই অনুষ্ঠানের একটি চলচ্চিত্র প্রকাশিত হয়। কনসার্ট ও অন্যান্য বিষয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ সাহায্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২,৪৩,৪১৮.৫১ মার্কিন ডলার, যা ইউনিসেফের মাধ্যমে শরণার্থীদের সাহায্যার্থে প্রদান করা হয়। পরে ২০০৫ সালে নতুন আকারে ডিভিডি প্রকাশ পায়। তাছাড়াও ১৯৮২ সালে একটি মার্কিন টিভি অনুষ্ঠানে জর্জ হ্যারিসন কয়েক লাখ ডলারের একটি চেক তুলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের শিশুদের জন্য।

১৯৪৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন জর্জ হ্যারিসন। তাকে বিশ্ববাসী চিনেছে বিটলসের একজন হিসেবে। চার বিটলস সদস্যের অন্যতম হ্যারিসন। মূলত তিনি বিটলস ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬০-এ শুরু হয়েছিল বিটলস নামের ব্যান্ডের যাত্রা। কয়েক বছরের মধ্যেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে বিটলস। সঙ্গীত যে মানুষের চিন্তা-চেতনা ও জীবনযাত্রাকে, সমাজ ও রাজনীতিকে নতুন স্রোতে প্রবাহিত করে দিতে পারে, তার উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল বিটলস। ১৯৭০ সালে ভেঙে যায় পৃথিবীখ্যাত এই ব্যান্ড দল। তারপরও একক শিল্পী হিসেবে জর্জ হ্যারিসনের খ্যাতি থেমে থাকেনি। ব্যক্তিগত জীবনে জর্জ হ্যারিসন কিছুটা অন্তর্মুখী স্বভাবের ছিলেন। কিছুটা রহস্যাবৃত থাকতেই ভালোবাসতেন তিনি। জন লেনন বলেছিলেন, জর্জ নিজে কোনো রহস্য নয়, কিন্তু ওর ভেতরে তো অনন্ত রহস্য।

The Concert for Bangladesh

The Concert for Bangladesh

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের জন্য জর্জ হ্যারিসন কতটা করেছিলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে সেই ভাবনা কখনও হয়নি। কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের কথা, বাংলাদেশের মানুষের কথা। বিশ্ববাসীর সাড়া মিলেছিল দ্রুত। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে জর্জ হ্যারিসন কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মান পাননি। কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে হ্যারিসনকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। হাজার মাইল দূরে থেকে যে দেশটির জন্য প্রগাঢ় মমতায় সুরের আশ্চর্য ঝঙ্কার তুলেছিলেন নিউইয়র্কের মেডিসন স্কয়ারে, সেই দেশ দেখার সুযোগ মেলেনি তার! অবশ্য বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি একটি উদ্যোগ নিয়েছে_ মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধুদের সম্মাননা প্রদান। দেরিতে হলেও এটি একটি শুভ উদ্যোগ।

২০০১ সালের ২৯ নভেম্বর ৫৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু জর্জ হ্যারিসন। ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। বিটলস ব্যান্ডের একটি গানের শিরোনাম_ ‘হোয়েন আই অ্যাম সিক্সটি ফোর।’ কিন্তু সেই ৬৪-এর আগেই পৃথিবী ছেড়েছেন হ্যারিসন। কিন্তু গিটারের সাহায্যে হৃদয় নিংড়ে দেওয়া আকুতি যিনি প্রকাশ করে গেছেন তার কি মৃত্যু আছে! আজও তিনি স্মরণীয়। বাংলাদেশের মানুষ আজও তাকে স্মরণ করে পরম কৃতজ্ঞতায়।
The Concert For Bangladesh was the event title for two benefit concerts organized by George Harrison and Ravi Shankar, held at noon and at 7:00 p.m. on August 1, 1971, playing to a total of 40,000 people at Madison Square Garden in New York City. Organized for the relief of refugees from East Pakistan (now independent Bangladesh) after the 1970 Bhola cyclone and during the 1971 Bangladesh atrocities and Bangladesh Liberation War, the event was the first benefit concert of this magnitude in world history. It featured an all-star supergroup of performers that included Ravi Shankar, Bob Dylan, Eric Clapton, George Harrison, Billy Preston, Leon Russell, Badfinger, and Ringo Starr.

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

সুখী জীবনের সন্ধানে


সুখী জীবনের সন্ধানে
তন্ময় হক

সুখী জীবনের সন্ধানে

সুখী জীবনের সন্ধানে

বৃষ্টিস্নাত বিকেল, বর্ণময় বসন্ত, স্মৃতির ডালি খুলে দেওয়া গান কিংবা প্রিয় মানুষটির উপস্থিতি। এসব একেকটি অনুষঙ্গ। বিকেলের বৃষ্টি কিংবা বর্ণময় বসন্ত কাউকে কাউকে করতে পারে সুখী। আবার স্মৃতিজাগানিয়া গান শুনেও কেউ হতে পারেন সুখী। অন্তত গবেষকরা এমনটাই মনে করেন। কিন্তু আপাত সুখী ও প্রকৃত সুখীর মধ্যে পার্থক্য তো থেকেই যায়। প্রশ্নটা যখন ওঠে প্রকৃত সুখী নিয়ে, তখন মনে হয় সবাইকেই নতুন করে ভাবতে হয়। মানুষ প্রকৃত সুখী হয় কিসে! মনোবিজ্ঞানীরা এ নিয়ে গবেষণা করছেন দীর্ঘকাল ধরে। বেরিয়েও এসেছে নানা অনুষঙ্গ। গবেষকদের মধ্যেই সুখ নিয়ে নানা মত আছে। কেউ কেউ মনে করেন, সুখ বংশগত বা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কিংবা মানুষের নিয়ন্ত্রণের একেবারেই বাইরের কোনো এক বিষয়। গবেষকদের একটি দল অক্সফোর্ড সুখ প্রশ্নাবলি নামের একটি কৌশল উদ্ভাবন করেছেন, যা দিয়ে সুখের পরিমাপ কিছুটা হলেও করা সম্ভব। এক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা তাত্তি্বক মডেলের ভিত্তিতে সুখ পরিমাপ করে থাকেন। এই মডেলে সুখকে ইতিবাচক কর্ম ও আবেগগুলোর সমষ্টি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এক্ষেত্রে তিনটি বিশেষ অবস্থাকেও বিবেচনা করা হয়_ আনন্দ, অঙ্গীকার ও অর্থ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও মনোবিজ্ঞানী সানজা লুবোমারস্কি গবেষণার ভিত্তিতে বাতলে দিয়েছেন সুখী হওয়ার পাঁচ উপায়। এগুলো হলো_ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, আশাবাদী থাকা, ভালো কাজ মনে রাখা, নিজের শক্তিকে কাজে লাগানো ও অপরের প্রতি দয়াশীল থাকা। তার এই গবেষণার ফল কিনিক্যাল বায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছিল ।

সুখী জীবনের সন্ধানে

সুখী জীবনের সন্ধানে

আবার সুখী দেশ নির্বাচনে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক জরিপও রয়েছে। যুক্তরাজ্যের থিঙ্কট্যাঙ্ক নিউ ইকোনমিক্স ফাউন্ডেশন (এনইএফ) হ্যাপি পল্গ্যানেট ইনডেক্সের (এইচপিআই) প্রবর্তন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনও সুখী দেশ নির্বাচনে জরিপ পরিচালনা করেছে। তাছাড়া লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস পৃথিবীর দেশে দেশে মানুষ কতটা সুখী তার সূচক নির্ধারণের জন্য বার্ষিক জরিপ চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার আবিষ্কার করেছেন সুখের সূচক। সেই সূচক ধরে বের করা যাবে একজন মানুষ কতটা সুখী। ১৯৭২ সালের পর ১৭ বছর বয়সী জিগমে সিঙ্গে ওয়াংচুক ভুটানের ক্ষমতা গ্রহণের পর ঘোষণা দিয়েছিলেন, ভুটান এমন এক ধরনের বস্তুগত সমৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাবে, যা মোট জাতীয় সুখ বা এৎড়ংং ঘধঃরড়হধষ ঐধঢ়ঢ়রহবংং নিশ্চিত করবে। তখন থেকেই জিএনএইচ নামে আলাদা একটি সূচকের যাত্রা শুরু হয়। অন্যদিকে ২০০৬ সালের দিকে চীন সরকার ‘সুখের সূচক’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের ঘোষণা করেছিল। এতে জীবনযাপনের ক্ষেত্রে চীনের জনসাধারণের সন্তোষের মাত্রা তুলে ধরার কথা বলা হয়েছিল। যদিও এই পরিকল্পনার আপডেট পরে জানা যায়নি।

সুখী জীবনের সন্ধানে

সুখী জীবনের সন্ধানে

সুখ নির্ধারণ ও সংজ্ঞায়নে যখন চারদিকে এত আলোচনা, এত গবেষণা চলছে, তখন প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানরাই-বা থেমে থাকবে কেন! তারাও নেমেছে মানুষকে সুখী জীবনযাপন বাতলে দিতে। আইফোনের জন্য একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হয়েছে, যার নাম ‘লিভ হ্যাপি’। গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি এই অ্যাপ্লিকেশনটি বাতলে দিচ্ছে সুখী জীবনযাপনের উপায়। তবে গবেষক, জরিপ প্রতিষ্ঠান ও মনোবিজ্ঞানীরা যাই বলুক না কেন, যে সূচকের উপস্থিতিই থাকুক না কেন, এ বিষয়ে সবাই একমত : সুখ একটি মানবিক অনুভূতি। সঠিকভাবে সুখ পরিমাপ করা অত্যন্ত কঠিন। ২০০২ সালে চীনের কেন্দ্রীয় টেলিভিশনের বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠানে শিল্পী থাং ছেন ‘সুখী জীবন দশ হাজার বছর দীর্ঘ হবে’ শিরোনামে একটি গান গেয়েছিলেন। চীনে গানটি খুবই জনপ্রিয়তা পায়। সুখী জীবন যত বছরই দীর্ঘ হোক না রহস্য থাকবেই। আর এ জন্যই বুঝি মানুষ সুখী হতে এতটা উদগ্রীব!

Peace & Love

Peace & Love

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

সম্রাট জাহাঙ্গীর ও সাদা হাতি


সম্রাট জাহাঙ্গীর ও সাদা হাতি

মাহবুব আলম

White Elephant

White Elephant


A white elephant is an idiom for a valuable possession of which its owner cannot dispose and whose cost (particularly cost of upkeep) is out of proportion to its usefulness or worth.

বৈদিক আর্যরা এদেশে আসার আগে হাতি দেখেনি। ঋগে¦দে ‘হস্তী’ শব্দটি মাত্র পাঁচবার পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুজায়গায় হাতিকে মৃগের অর্থাৎ হরিণের মতো বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ থেকে মনে করা হয় হাতি নামক প্রাণীটি আর্যরা নতুন দেখেছে। এই বিচিত্র দর্শন প্রাণীটিকে মৃগ বলেই ধারণা হয়েছিল তাদের। কারণ শিকারে পারদর্শী আর্যরা মৃগকে ভালোভাবেই চিনত। হাতিকে হাতওয়ালা মৃগও নাম করা হয়েছিল, শুঁড়ওয়ালা মৃগ কোথাও বলা হয়নি। সংস্কৃতে হাতির অনেক প্রতিশব্দ আছে যেমনÑ করী, গজ, দ্বি-মাতঙ্গÑএর একটি শব্দও ঋগে¦দে এমনকি ঐরাবত শব্দটিও নেই। এসব প্রমাণ থেকে মনে করা হয় হাতি আর্যদের জন্য ছিল একটি নতুন প্রাণী। পরে হাতি তাদের সমাজে এবং মহাভারতের যুগে বিশাল ভূমিকা গ্রহণ করেছিল।

উপমহাদেশে আগত প্রথম মুসলিম অভিজাতরা নিজের দেশে হাতি চোখেও দেখেননি। মুঘলদের আদি বাসস্থানে হাতির নাম নিশানা ছিল না। ঘোড়াই ছিল তাদের প্রধান যুদ্ধাস্ত্র ও চলাচলের বাহন। হাতির সঙ্গে তাদের প্রথম পরিচয় এদেশের মাটিতে পা দিয়ে। প্রাণীটির রাজকীয় মহিমার বিস্ময় উদ্রেককারী শক্তি এবং বিশাল আকার মুঘলদের নজর কেড়েছিল। সারা হিন্দুস্তান থেকে বাছাই করা হাতি মুঘল বাহিনীতে ভর্তি করার রেওয়াজ চালু হলো। আইন-ই-আকবরী থেকে জানা যায় সম্রাট আকবরের নিজের ব্যবহারের জন্য সর্বদা একশ সুশিক্ষিত হাতি প্রস্তুত থাকত। তিনি যে হাতিতে আরোহণ করতেন সে হাতি তিনি নিজেই চালাতেন, মাহুতকে ডাকা হতো না। হাতির দাঁতের ওপর পা রেখে পিঠে উঠে নিজের বিচিত্র বিদ্যা দেখিয়ে অনেক হস্তীবিশারদকে চমৎকৃত করতেন বাদশা আকবর। ইসলাম খান বাংলায় বারো ভূঁইয়াদের সঙ্গে জয়লাভ করার পর পরাজিত ভূঁইয়াদের শর্ত মোতাবেক সব পুরুষ দাঁতাল হাতি মুঘল সুবেদারের প্রতিনিধির হাতে তুলে দিতে হয়। মুসা খান থেকে খাজা ওসমান ও অন্য ভূঁইয়াদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া সব হাতি শাহী দরবারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জাহাঙ্গীরের সময় মুঘলদের বঙ্গ বিজয় সম্পন্ন হলে বাংলার সেরা হাতিগুলো মুঘল রাজধানীর হাতিশালায় পাঠানো শুরু হয়। মুঘল সম্রাটদের হাতির প্রতি প্রবল আকর্ষণ তাদের স্মৃতিকথা এবং মুঘল ঐতিহাসিকদের লেখায় স্থান করে আছে। জঙ্গলে খেদা দিয়ে বন্য হাতি ধরে রাজধানীতে পাঠানোর জন্য সুবেদারদের নিয়মিত নির্দেশ পাঠাতেন তারা। রাজ্যের যেখানেই হাতি পাওয়া সম্ভব, সেখান থেকেই হাতি সংগ্রহ করে আর শত্রুপক্ষের কাছ থেকে হাতি ছিনিয়ে নিয়ে মুঘল দরবারে পাঠানো ছিল সুবেদারদের অন্যতম দায়িত্ব। কামরূপ পাহাড়ে, আসামে বা ত্রিপুরায় বাংলায় মুঘলদের হাতির ক্ষুধা মেটাতে কম যুদ্ধবিগ্রহ হয়নি। বাহারীস্তান-ই-গায়বী ও সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্মৃতিকথা তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরীতে এ নিয়ে অনেক তথ্য রয়েছে।

Nur-ud-din Salim Jahangir (Persian: نورالدین سلیم جهانگیر)সম্রাট জাহাঙ্গীর

Nur-ud-din Salim Jahangir সম্রাট জাহাঙ্গীর

সম্রাট জাহাঙ্গীরের হাতিশালে উৎকৃষ্ট হাতির কোনো অভাব ছিল না। কিন্তু সফেদ হাতি বা সাদা হাতি তার একটিও ছিল না। সাদা হাতি যে শুধু উপমহাদেশেই বিরল তা নয়, মিয়ানমার বা থাইল্যান্ডেও এর সংখ্যা খুবই নগণ্য। প্রকৃতিপ্রেমিক ও পশুপাখি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু সম্রাট জাহাঙ্গীর সাদা হাতি নিয়ে কৌতূহল ও আগ্রহ হবেন তা খুবই স্বাভাবিক।
তিনি সম্ভবত তার গোয়েন্দা বিভাগ থেকে জানতে পেরেছিলেন, আরাকান রাজ বা মগরাজা মেঙ্গ খামৌঙ্গ (১৬১২-১৬২২) একটি দু®প্রাপ্য সাদা হাতির অধিকারী। বিদেশি বণিকদের কাছ থেকেও সম্রাট মগরাজার এই বিরল সম্পদের সন্ধান পেয়ে থাকতে পারেন। এই হাতিটিই হয়তো পর্তুগিজ পাদরি সিবাস্টিয়ান মানবিক ১৬৩০-এ তার আরাকান ভ্রমণের সময় দেখেছিলেন বলে মনে করা হয়।

ড. আবদুল করিম তার হিস্ট্রা অব বেঙ্গল/মুঘল পিরিয়ড ভলু-২-এ মগরাজার সাদা হাতি সম্পর্কে কিছু চিত্তাকর্ষক তথ্য দিয়েছেন, যা এখানে উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না।
সাদা হাতি একটি অতি বিরল প্রাণী। বৌদ্ধ ধর্ম শাস্ত্রে এর সুমহান মর্যাদা। বৌদ্ধদের বিশ্বাস, গৌতম বুদ্ধ তার পূর্বজন্মে সাদা হাতি রূপে জন্মেছিলেন। সাদা হাতির অধিশ্বর বিশ্বের সার্বভৌমত্বের দাবিদার হওয়ার যোগ্য। সাদা হাতি নির্ণয় করার জন্য বহু প্রাচীনকাল থেকেই রয়েছে একটি বিশেষ বিদ্যা বা পদ্ধতি। এই পদ্ধতি অনুসারে দুটি পরীক্ষার মাধ্যমে সাদা হাতি চেনা হয়ে থাকে। প্রথমত সাদা হাতির পেছনের পায়ের পাঁচটি নখ থাকতে হবে, যেখানে সাধারণ হাতির রয়েছে চারটি নখ।

দ্বিতীয়ত, সাদা হাতির গায়ে পানি ঢাললে তার চামড়া লালচে হয়ে ওঠে। পানির সংস্পর্শে কালো হাতি আরো কালো রং ধরে। সাদা হাতির প্রসঙ্গটি নেহাত গালগল্প নয়। সে সময়ের কয়েক বিদেশি পর্যটক তাদের লেখায় নিজেদের সাদা হাতি দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে গেছেন। র‌্যাল্ফ্ ফিচ ১৫৮৬-এ ব্রহ্ম দেশের পেগুতে একটি সাদা হাতি দেখেছেন বলে লিখেছেন। হাতিটিকে শ্যামদেশ (থাইল্যান্ড) থেকে লুট করে আনা হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়। তবে পয়সা খরচ করে এই প্রাণীটিকে দেখতে বাধ্য হয়ে ফিচ কিছুটা আশ্চর্য হয়েছিলেন। মানরিক এবং ফিচ উভয়ই এই হাতিটির আদর যতœ ও বিলাসের বহর দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছিলেন। তারা দেখতে পেলেন সোনার মঞ্চে রেশম এবং নরম কুশনের মধ্যে হাতিটাকে রাখা হয়েছে। তার খাবার তৈরির কাজে বহু ভৃত্য নিয়োজিত। এর সব খাবার ও পানীয় সোনা এবং রূপার পাত্রে পরিবেশন করা হয়। এর জন্য আগে দাস-দাসী মোতায়েন আর হাতিটির প্রাত্যহিক স্নান পর্বের জন্য রয়েছে চোখে পড়ার মতো ভৃত্য বাহিনী। এমন একটি বিরল প্রাণী সংগ্রহে সম্রাট জাহাঙ্গীরের মতো বিজ্ঞান-মনস্ক মানুষ যে আগ্রহী হবেন তাতে আর আশ্চর্য কী।

Nur-ud-din Salim Jahangir (Persian: نورالدین سلیم جهانگیر)

Nur-ud-din Salim Jahangir Mahal

১৬২২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘলরা আরাকান রাজের ভূখ- আক্রমণ করেনি। (ইসলাম খানের বারো ভূঁইয়াদের দমনের পর বাংলায় মুঘল শাসন পুরোপুরি কায়েম হয়।) ১৬১১ ইসলাম খান ভুলুয়া দখল করলে ভুলুয়ার রাজা অনন্ত মাণিক্য আরাকানে গিয়ে আশ্রয় নেন। তখন থেকেই ফেনী নদী মুঘল আর মগরাজ্যের সীমানা হিসাবে চিহ্নিত হয়। চট্টগ্রাম তখন মগদের দখলে। এখান থেকে তারা দক্ষিণ বঙ্গে হামলা ও লুটপাট করে থাকে। বারো ভূঁইয়াদের পতনের পর জাহাঙ্গীর বাংলার সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পেলেন। প্রথমেই তার দৃষ্টি পড়ে আরাকান রাজ্যের দিকে। বাংলার দু-দুজন সুবেদারের প্রতি তার আদেশ ছিল আরাকান রাজ্য জয় করে মগরাজার সাদা হাতিটিকে মুঘল রাজধানীতে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। একটি বিরল প্রজাতির প্রাণীর জন্য যুদ্ধের আশ্রয় নেয়া অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনাটি কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে সত্য। বাহারীস্তান-ই-গায়বীর লেখক মির্জা নাথন, যিনি সেই সময়ে মুঘল সেনাপতি হিসাবে বাংলায় কর্মরত ছিলেন। তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় সম্রাটের আদর্শ দুটি তুলে ধরেছেন তার লেখায়। সুবেদার কাশিম খানের প্রতি সম্রাটের আদেশ ছিল নিম্নরূপ :

‘সুবেদার কাশিম খানকে আরো চেষ্টাশীল এবং অধিক কর্মতৎপর হতে হবে যাতে সর্ব ইচ্ছা পূরণকারী মহান আল্লাহর অনুগ্রহে তিনি আরাকান অভিযানকে একটি আনন্দময় পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। মগরাজার সাদা হাতিটিকে বন্দি করে মহান শাহীদরবারে পাঠানোর জন্য আদেশ করা হলো তাকে। এহেন গৌরবময় কৃতিত্বে ইতিহাস এই বিজয়ী সন্তানের (সুবেদার কাশিম খান) নামে জাহাঙ্গীর নামায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’ (বাহারীস্তান-ই-গায়বী)। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন সম্রাট জাহাঙ্গীর কাশিম খানকে নিজের সন্তান বলে অভিহিত করতেন।

King Jahangir's Tomb

King Jahangir's Tomb

সুবেদার কাশিম খানের শাসনামলের গোড়া থেকেই মুঘল সেনা এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্তর্কলহ সবার শাসনকার্যে বিঘœ সৃষ্টি করে। সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোও একে একে মুঘলদের আক্রমণ করতে শুরু করে। তার আসাম অভিযান সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। মগরাজা মুঘল ভূখ- বিশেষ করে ভুলুয়া আক্রমণ করলে বারবার পরাজিত হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে। মগরাজা মেঙ্গ খামৌঙ্গ এই পরাজয়ে নিজেকে অপমানিত বোধ করে আবার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন। ইতিমধ্যে তার শত্রু ও প্রতিদ্বন্দ্বী বার্মার সঙ্গে বিরোধ মিটে গেছেÑ অতএব সব দিক দিয়ে মুক্ত হয়ে মগরাজার এক বিরাট সৈন্যবাহিনী নিয়ে ভুলুয়ার নোয়াখালী শাসনকর্তা সরহাদ খানকে আক্রমণ করে। এর আগেই মগরাজার গুপ্তচররা তাকে জানিয়েছে, সরহাদ খানকে সাহায্য করার জন্য ঢাকা থেকে সে মুঘল সৈন্যরা এসেছিল তারা চলে গেছে। সরহাদ খানও পূর্ববর্তী বিজয়ের অন্ধকার আয়াসে দিন কাটাচ্ছিলেন। শত্রুরা যখন ভুলুয়ার কাছে পৌঁছেছে তখন তার টনক লড়ল। বরাবরের মতো এবারও মগরাজার বিরুদ্ধে ভুলুয়ায় যুদ্ধ করা তার সুবিধাজনক মনে না হওয়ায় তিনি তার পরিবার-পরিজন সরিয়ে ডাকাতিয়া খালে চলে আসেন। কাশিম খান খবর পেয়েই সৈন্য ও রণতরীসহ এক বিশাল মুঘল বাহিনী পাঠিয়ে দিলেন। যুদ্ধে মগরাজা টিকতে না পেরে পানিতে গিয়ে হাতিসহ এক বৃহৎ পঙ্কিল ডোবায় পড়ে যান। রাজা সেই বিপজ্জনক অবস্থা থেকে নিজেকে মুক্ত করার আগেই সরহাদ খান ও তার সৈন্যরা তাকে ঘিরে ফেলেন। একটি লোকও যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেদিকে তারা সতর্ক দৃষ্টি রাখে। এবার মগরাজা শান্তি প্রস্তাব পাঠান। মির্জা নাথন লিখেছেন, ‘ভোর থেকে মধ্যরাত্রি পর্যন্ত মগরাজা এমন অবস্থায় হাতির ওপর ছিলেন যে এমন একটু স্থান ছিল না যেখানে নেমে তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে পারেন। রাতে রাজা একটি মাদী হাতিতে চড়ে পালিয়ে যান। রাজাকে পালিয়ে যেতে দেওয়ার জন্য মুঘল সৈন্যরা সারারাত সতর্কতার ভান করে। সরহাদ খান সকালে রাজার ফেলে যাওয়া সম্পদ, হাতি সংগ্রহ ও রাজার মগ সৈন্যদের বন্দি করে সুবেদারের কাছে বিজয় বার্তা পাঠিয়ে দিলেন। কিন্তু পলায়নপর মগরাজা এবং তার সৈন্যদের পিছু না নিয়ে তিনি ভুলুয়া ফিরে এলেন। ড. আবদুল করিম লিখেছেন, মগরাজাকে কেন সরহাদ খান বন্দি করেননি তা এক রহস্য। রাজাকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সরহাদ খানকে দায়ী করে মির্জা নাথন লিখেছেন :

‘রাখাঙ্গের (আরাকানের) মতো একটি রাজ্য আল্লাহ এমন সহজভাবে জয় করিয়েছেন, ঘোড়া চালিয়েই শুধু তার দখল করা সম্ভব ছিল এবং রাজাকে বন্দি করে জীবিত অবস্থায় শ্বেত হাতিসহ শাহী দরবারে পাঠানো যেত।’ নাথন দুঃখ করে আরো লিখেছেন, জনগণ জানতে পারত যে একজন রাজা যিনি পুরুষানুক্রমে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করেছেন তাকে একজন শাহী কর্মচারী পরাজিত করেছে। ‘কিন্তু সরহাদ খান বরাবরই ব্যবসায়ী মনোবৃত্তি নিয়ে এবং ভীরুর মতো ব্যবহার করেছেন। তিনি নগদ লাভের জন্যই সন্তুষ্ট থাকতেন।’ অশ্বারোহণ বিদ্যার কৌশল দিয়ে রাখাঙ্গের মতো একটি দেশ শাহী কর্মচারীদের অধীনে আনার ঘটনাটি চমৎকারভাবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হতো। সরহাদ খানের নামও যুগ-যুগান্তর রোমাঞ্চকর কাহিনীতে পরিণত হতো। তিনি এভাবে কাজ করতে পারেননি। তাই অখ্যাত হয়ে রইলেন তিনি।’

'Hiran Minar' or Deer Tower was built during the reign of Jahangir & Shah Jahan, 1606, to honor the memory of a pet hunting antelope of the king.

'Hiran Minar' or Deer Tower was built during the reign of Jahangir & Shah Jahan, 1606, to honor the memory of a pet hunting antelope of the king.

আরাকান রাজার সাদা হাতির প্রতি সম্রাটের লোলুপ দৃষ্টি সুবেদারের অজানা ছিল না। হাতিটি দখল করার জন্য তার পরিকল্পনা নাথন উল্লেখ করেছেন এমনিভাবে।
এখন আমাদের সামনে কোনো অভিযান নেই। মগরাজা বারবার ধৃষ্টতা দেখানোর জন্য মোটেই অনুতপ্ত নন। এ ক্ষেত্রে তাকে উপযুক্ত শান্তি প্রদান করা যুক্তিসঙ্গত। রাখাঙ্গ অধিকার করে শ্বেত হস্তীটি হস্তান্তর করে তা শাহী দরবারে পাঠানোর জন্য সম্রাট বারবার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই এবার মগরাজ্য অধিকার করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। কাশিম খান নিজেই যুদ্ধ পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর ছেড়ে ভুলুয়ায় রওনা হন। কিন্তু গোড়াতেই তিনি একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিলেন। তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবদুন্নবীকে অগ্রগামী বাহিনীর সেনাপতি করে অভিযানে পাঠালেন তিনি। নবীর সঙ্গে বেশ কয়েকজন নামজাদা এবং অভিজ্ঞ মনসবদারদের পাঠানো হলো যাদের মধ্যে সরহাদ খান, শেখ জামানও ছিলেন। এরা সুবেদারের ব্যক্তিগত কর্মকর্তার অধীনে যুদ্ধ করাটাকে সম্মানহানিকর মনে করতেন। ফলে তাদের সহায়তা থেকে আবদুন্নবী শুরু থেকে বঞ্চিত হলেন। সুবেদার নিজে ফেনী নদীতীরে তাঁবু গেড়ে যুদ্ধের গতিবিধি পর্যালোচনা করছিলেন।

আরাকান রাজ চট্টগ্রাম দুর্গ সুরক্ষিত জেনেও নিজে বিশাল বাহিনীসহ রাখাঙ্গ থেকে চট্টগ্রাম চলে এলেন। মুঘল চররা খবর দিলেন মগরা চট্টগ্রাম থেকে অগ্রসর হয়ে কাটঘরে এসে ঘাঁটি গেড়েছে। এবং তাদের প্রস্তুতি তখনো অসম্পূর্ণ। এ সময় আক্রমণ করলে কাটঘর দুর্গ ও মগ অগ্রগামী বাহিনীকে পরাজিত করা সম্ভব হবে। অগ্রগামী মুঘল বাহিনী মগদের অবিলম্বে আক্রমণ করল। মির্জা নাথন লিখেছেন, প্রথম থেকেই সরহাদ খান এবং শেখ জামাল শঠতার আশ্রয় নেন।’

Emperor Jahangir, Ca.1603, Imperial Mughal paintings-LOS Angles CCU Museum of Art, Calfornia

Emperor Jahangir, Ca.1603, Imperial Mughal paintings-LOS Angles CCU Museum of Art, Calfornia

যুদ্ধে যখন মুঘল বাহিনীর জয় সুনিশ্চিত তখন কয়েকজন মনসবদার সরহাদ খানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে সন্ধ্যা হয়ে এসেছে এই অজুহাতে যুদ্ধ বন্ধ করে রাতের বিশ্রাম নিতে পরামর্শ দেন আবদুন্নবীকে। আবদুন্নবী অনভিজ্ঞ সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন বলে তাদের অজুহাতের কারণ বুঝে উঠতে পারেননি। তিনি তাদের কথায় প্রতারিত হয়ে সেখানে তাঁবু গেড়ে রাতে বিশ্রাম করেন। ভোরে আর আপ্রাণ চেষ্টা করেও কাটঘর দুর্গ দখল করা সম্ভব হয়নি। বরং মগরা মুঘলদের অগ্রবর্তী বাহিনীর পেছনে এর খাদ্যদ্রব্য আনার জন্য পশ্চাৎগমনকারী সরহাদ খানের সামনের দিকে এক শক্ত দেয়াল গড়ে তোলেন। এতে মুঘল অগ্রগামী বাহিনী এবং পেছনের রসদ সরবরাহকারীদের যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে পড়ে। মুঘল বাহিনী দুর্গের প্রবেশদ্বারের খাদের তীর পর্যন্ত পৌঁছলেও ততক্ষণে তাদের রসদ ও খাদ্য সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে বর্ষা দ্রুত এগিয়ে আসছে। অতএব বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই যুদ্ধ বন্ধ করে নিরাপদে কাশিম খানের কাছে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। কাশিম খানের এই ব্যর্থ অভিযানের সময়কাল ১৬১৬ ও ১৬১৭-এর শীতকাল। কাশিম খান ফেনীতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে সরহাদ ও জামাল খানের ষড়যন্ত্র বুঝতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিলেন। ঐতিহাসিকদের অভিমত, তার পক্ষে শুষ্ক মওসুমে মাত্র ২০-২৫ মাইল দূর থেকে মুঘল অগ্রগামী বাহিনীকে মঘ প্রতিরোধ ভেঙে রসদ এবং খাদ্য পাঠানো মোটেই অসাধ্য ছিল না। সুবেদার ইসলাম খানের সময় হলে এ রকম নৈবাক্যপূর্ণ ঘটনা কখনো ঘটত না। ফলে আরাকান জয় এবং সেই সাদা হাতি দখল অসম্পূর্ণ রয়ে গেল।

কাশিম খান যতদিন বাংলার সুবেদার ছিলেন, ততদিন তার ঐকান্তিক চেষ্টা সত্ত্বেও মগরাজাকে হারিয়ে সেই সাদা হাতি ধরে আনা সম্ভব হয়নি। চট্টগ্রামসহ আরাকান রাজ্যও মুঘল বাহিনীর নাগালের বাইরে রয়ে গেল। ১৬১৭-এ পদচ্যুত হয়ে কাশিম খান বাংলা ছেড়ে গেলে সুবেদার নিযুক্ত হন ইব্রাহীম খান। ফতেহজঙ্গ তার নিয়োগের সময় মগরাজ্য জয় করে শ্বেত হাতিটি দখল করার শাহী নির্দেশ দেওয়া হয় তাকে।

One of the hundreds of arches in the Mosque - so typical of Mughal architecture.

One of the hundreds of arches in the Mosque - so typical of Mughal architecture.

দীর্ঘদিন ধরে মগদের লুটতরাজে বাংলার দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ অতিষ্ঠ। সঙ্গে জুটেছিল পর্তুগিজ জলদস্যুরা। ১৬১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা এসে এদের শাস্তি দেওয়ার জন্য ইব্রাহীম খান তোড়জোড় শুরু করলেন। এমন সময় খবর এলো মগরাজা বিশাল রণতরী নিয়ে মুঘল এলাকা আক্রমণে উদ্যত। ইব্রাহীম খাঁ আক্রমণ পরিচালনা করবেন না ভেবে মগরাজা প্রবল পরাক্রমে এগোতে থাকেন। রাজা নিশ্চিন্ত ছিলেন, মুঘল বাহিনীকে পরাজিত করে ফিরে যেতে সমর্থ হবেন। কিন্তু ইব্রাহীম খানকে বিশাল বাহিনীসহ দ্রুত উপস্থিত হতে দেখে রাজা যুদ্ধ না করে নিজরাজ্যে ফিরে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ মনে করলেন। মগরাজার পিছু ধাওয়া করা উচিত হবে কিনা এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হলো।

মির্জা নাথন সুবেদারকে পরামর্শ দিলেন, এদেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই মগরাজার বিরুদ্ধে তার যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত, যাতে যুদ্ধের মওসুমফল মুঘল পক্ষের অনুকূল হয়। পরামর্শটি সুবেদারের যুক্তিসঙ্গত মনে হলো। ভীষণ ঝড়-বৃষ্টির মওসুম শুরু হওয়ায় অভিযান না চালিয়ে জাহাঙ্গীরনগরের ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

ইব্রাহিম খান বুঝতে পেরেছিলেন আরাকানে অভিযান চালাতে হলে প্রথমেই মগদের অধিকৃত চট্টগ্রাম দুর্গ দখল করা সামরিক কারণে অপরিহার্য। চট্টগ্রাম দখল করার সবচেয়ে উত্তম পন্থা হলো ত্রিপুরা রাজ্যের ভেতর দিয়ে বা এর সীমান্ত ঘেঁষে অভিযান চালানো। অতএব মগরাজ্য দখল করায় আগেই ত্রিপুরা অধিকার করতে হবে। সুবেদার আগেই এসব ভেবেই ত্রিপুরা রাজ্য দখল করেছিলেন এবং সেখানে মির্জা নুরুল্লাকে দায়িত্ব দিয়ে এসেছিলেন। ইব্রাহীম খানকে ত্রিপুরা থেকে নুরুল্লা চিঠি নিয়ে জানালেন’, ‘ত্রিপুরার রাজা যে পথ দিয়ে মগরাজ্যে অভিযান চালিয়েছিলেন সে পথ দেখিয়ে শাহী বাহিনীকে আরাকান নিয়ে যাওয়ার জন্য ত্রিপুরার অধিকারীরা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত প্রস্তুত হয়ে আছে।’ এহেন প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে ইব্রাহীম খান এক বিশাল রণতরী, অশ্বারোহী সৈন্য, হাতি পদাতিক বাহিনী নিয়ে আরাকান রওনা হন। মির্জা নুরুল্লা এবং কয়েকজন ত্রিপুরাবাসী তার পথ প্রদর্শক হিসাবে যোগ দিলেন। এই বিশাল প্রস্তুতি থেকে প্রমাণিত হয়, ইব্রাহীম খান সম্রাটের আরাকান বিজয়ের আদেশকে বাস্তবায়িত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। কিন্তু এত ব্যাপক প্রস্তুতি সত্ত্বেও তার এই অভিযান সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।

Emperor Jahangir visiting the holy man Jadrup, Late 18th Century, Provincial Mughal paintings-LOS Angles CCU Museum of Art, Calfornia

Emperor Jahangir visiting the holy man Jadrup, Late 18th Century, Provincial Mughal paintings-LOS Angles CCU Museum of Art, Calfornia

ভুল পথ অনুসরণ করে আরাকান যাওয়ার সিদ্ধান্তই এই বিপর্যয়ের কারণ। নুরুল্লা সুবেদারকে যে পার্বত্য রাস্তা দিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তা ছিল মির্জা নাথনের ভাষায়Ñ ‘পিপড়ে পক্ষে ও দুর্ভেদ্য এক গহিন জঙ্গলের পথ। সমস্ত পথটি ইব্রাহীম খান তার সৈন্যদের সঙ্গে নিজে জঙ্গল পরিষ্কার করে এগিয়ে ছিলেন। অনেক দূর এগিয়ে তিনি বুঝতে পারলেন যে নতুন রাস্তা তাকে বাতলে দেওয়া হয়েছে তা বিশাল বাহিনীর চলাচলের পক্ষে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত। এমন সংকীর্ণ পাহাড়ি জলপথে ছোট রণতরীও চালানো দুষ্কর। ঘোড়াগুলোও আর এগোতে পারছিল না। খাদ্যদ্রব্য ও রসদ সরবরাহ অক্ষুণœ রাখা অসম্ভব হয়ে ওঠে। তার বিশাল বাহিনী রোগ এবং অনাহারের কবলে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়ল। এহেন বৈরী পরিস্থিতিতে অভিযান অসম্পূর্ণ রেখে ফিরে আসা ছাড়া ইব্রাহীম খানের আর কোনো উপায় ছিল না। ডা. আবদুল করিম মনে করেন ফেনী নদী পার হয়ে ইব্রাহীম খানের উচিত ছিল আধুনিক মিরসরাই, নিজামপুর সীতাকু হয়ে বাড়বকু- পৌঁছে অতর্কিতে চট্টগ্রাম আক্রমণ করা। মগরাজ্য অভিযানে তার পূর্ববর্তী সুবেদার কাশিম খান এই রাস্তা অনুসরণ করেছিলেন। সে সময় শেখ কামাল আর শেখ আবদুল ওয়াহিদ যদি শঠতা না করতেন তাহলে কাশিম খানের আরাকান অভিযান সম্ভবত ব্যর্থ হতো না। এ রাস্তাটি অনুসরণ না করার কারণেই ইব্রাহীম খানকে অজস্র সৈন্য, হাতি, ঘোড়া, বহু রণতরী হারিয়ে ফেনী নদীর তীরে অর্থাৎ মুঘল সীমান্তে ফিরে আসতে হয়েছিল। ব্যাপক ও বিশাল প্রস্তুতি সত্ত্বেও তার আরাকান অভিযান সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় এবং মুঘল বাহিনী মনোবলেও হয়ে পড়ে দুর্বল। জাহাঙ্গীরের শাসনামলে বাংলা থেকে আরাকান বিজয়ের এবং সাদা হাতি দখলের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ১৬২৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট মারা যান। এরপরও মগদের দস্যুবৃত্তি এবং হামলায় কোনো ভাটা পড়েনি। বরং মগরাজা থিরি থুধমমার সময়ে মগরা নদীপথ ধরে ১৬২৫ সালে ঢাকা পর্যন্ত হামলা করেছিল। ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান শেষ পর্যন্ত মগদের শায়েস্তা করে চট্টগ্রাম অধিকার করেন। চট্টগ্রাম দখল করে তিনি অনেক বাঙালি বন্দিকে মুক্তি দেন। এরপর মগরা আর কখনো চট্টগ্রামে পা রাখতে সাহস করেনি।

কিন্তু যে সাদা হাতি নিয়ে এত যুদ্ধবিগ্রহ, সেই সাদা হাতির কি হলোÑ এ প্রশ্ন মনে জাগতেই পারে। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর মুঘল ইতিহাস আরাকানের সাদা হাতি নিয়ে একেবারে নিশ্চুপ। সেই সাদা হাতি হয়তো চিরদিনের জন্যই মুঘলদের অধরা থেকে গেল।
অলঙ্করণ : জাহান হাসান

jahan hassan ekush tube bangla desh জাহান হাসান, লস এঞ্জেলেস. বাংলাদেশ. বাংলা, আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, একুশ, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,

শেয়ার ব্যবসায় পরনির্ভরশীলতা! একটি ব্যক্তিগত খতিয়ানঃ


শেয়ার ব্যবসায় পরনির্ভরশীলতা!

শেয়ার ব্যবসায় পরনির্ভরশীলতা!

শেয়ার ব্যবসায় পরনির্ভরশীলতা!

আরিফুল ইসলামঃ পুঁজিবাজারে আসা নতুন বিনিয়োগকারীরা সম্পূর্ণরূপে অথরাইজড নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। কারণ নতুন বিনিয়োগকারীদের অধিকাংশেরই বাজার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা অথরাইজডদের পরামর্শ অনুযায়ী বিনিয়োগ করছেন বলে বাজার সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাউজগুলোতে নতুন মুখের আনাগোনা এবং অথরাইজডদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ার প্রবণতা বাড়ছে।

এ ব্যাপারে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী বলেন, পুঁজিবাজার একটি বিশাল ড়্গেত্র। এ সম্পর্কে জানার কোনো শেষ নেই। আমরা বেশকিছু দিন ধরে বাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার পরও নিজেদের অভিজ্ঞ দাবি করতে পারি না। আর নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য তো এটা গভীর সমুদ্র, যেখানে সাঁতার শিখতে হলে হাবুডুবু খেতেই হবে। যে কারণে নতুন বিনিয়োগকারীরা অথরাইজডদের দেয়া তথ্যের উপর নির্ভর করে বিনিয়োগ করে থাকেন। বিনিময়ে অথরাইজডদের কমিশন নেয়ার সংস্ড়্গৃতিও গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। তবে অনেক ড়্গেত্রে অনভিজ্ঞ অথরাইজডদের কবলে পড়ে নতুন বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ড়্গতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ব্যাপারে নতুন বিনিয়োগকারী আনোয়ার বলেন, মার্কেট সম্পর্কে অভিজ্ঞতা না থাকায় আমি কখনো আইপিও আবেদন করিনি। কিন্তু আমি শেয়ার ব্যবসায় আগ্রহী। এ জন্য আমাকে অথরাইজডদের সাহায্য নিতে হয়। হাসান নামে অপর এক বিনিয়োগকারী বলেন, বেকারত্ব দূর করার জন্য আমি শেয়ার ব্যবসাকে পেশা হিসেবে নিয়েছি। কিন্তু মার্কেট সম্পর্কে ধারণা না থাকায় আমি পুরোপুরি অথরাইজড নির্ভরশীল। কারণ আমার শেষ সম্বল নিয়ে শেয়ার ব্যবসায় নেমেছি। আর এর মাধ্যমেই আমাকে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। তাই লোকসান এড়াতে আমি অথরাইজডদের সাহায্য নিচ্ছি। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিকিউরিটিজ হাউজের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অথরাইজডরা শুধু শেয়ার বাই-সেলের ড়্গেত্রে বিনিয়োগকারীদের অর্ডার অনুসরণ করবে। এছাড়া অন্য দায়িত্ব তাদের হাতে ন্যস্তô করা হয়নি। তবে অনুরোধ এড়াতে না পেরে তাদের অনেক সময় নতুন বিনিয়োগকারীদের কোনো বিশেষ শেয়ার কেনার পরামর্শ দিতেও দেখা যায়। এড়্গেত্রে বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই বিচার বিশেস্নষণ করে ওই শেয়ারে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্তô নিতে হবে।

যেহেতু পুঁজিবাজার খুব সেনসেটিভ জায়গা। তাই এ সম্পর্কে কোনো ধারণা না নিয়ে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। এ কারণেই অসাধু চক্রগুলো ফায়দা লুটতে পারছে। ফলে প্রায়ই বিপদে পড়তে হয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। বাজার সংশিস্নষ্টরা তার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, বিনিয়োগের পূর্বে নতুন বিনিয়োগকারীদের উচিত অন্তôত কিছুদিন হাউজগুলোতে গিয়ে লেনদেন পর্যবেড়্গণ করা এবং শেয়ার বিষয়ক বিভিন্ন কর্মলালায় অংশ নেয়া।
——————————-

শেয়ার মার্কেটে আমার ব্যক্তিগত কয়েকটি অ্যাকাউন্টের হালঃ
৫ মাসে কোটি টাকার ও বেশী আর্থিক ক্ষতির খতিয়ানঃ
বিনিয়োগে দয়া করে সতর্ক হোন। অভিজ্ঞতার কোন বিকল্প নাই।
– জাহান হাসান, লস এঞ্জেলেস

শেয়ার বাজার

শেয়ার মার্কেটে আমার ব্যক্তিগত একটি অ্যাকাউন্টের হালঃ


শেয়ার মার্কেটে আমার ব্যক্তিগত আরেকটি অ্যাকাউন্টের হালঃ


আমার শেয়ার মার্কেট এ হাতেখড়ি এভাবেই শুরু

আমার শেয়ার মার্কেট এ হাতখড়ি এভাবেই শুরু

jahan hassan ekush tube bangla desh জাহান হাসান, লস এঞ্জেলেস. বাংলাদেশ. বাংলা, আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, একুশ, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, শেয়ার মার্কেট

গাছের গুঁড়ির কান্না কষ্ট দেখে বিরহী বাতাস হুহু করছে, বেদনার্থ বৃষ্টি ঝরছে ঝির ঝির, শোকার্ত পাখি আতঙ্কে চলে যাচ্ছে নিরাপদ নগরে। বাতাস অভিশাপ দিচ্ছে, বৃক্ষ ঘৃণিত-ঘাতককে দেবে না অক্সিজেন।


মানুষ এতো নির্মম নিকৃষ্ট কেনো?

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

Beyond The Mango Juice

Beyond The Mango Juice

প্রবাসী জীবনে নানা কারণে মন খারাপ হয়। সত্যি কয়েকদিন যাবৎ মন খারাপ। ক’বছর পর এবার ঢাকায় ফিরে ধাক্কা খেয়েছি! একী হাল আমার প্রিয় শহরের! গোলাম মোর্তুজা উপস্থাপিত চ্যানেল আই-এর সংবাদপত্র প্রতিদিন অনুষ্ঠানে সেই কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কণ্ঠ ভিজে যাচ্ছিল।

দেশের একটি ভালো সংবাদ শুনলে মনটা যেমন আনন্দে ভরে উঠে! আর তেমনি মন্দ সংবাদে বিষণ্ণতা কাজ করে। গত বছর প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা বললেন, ‘একটি বাড়ি একটি খামার।’ হ্যাঁ, আমাদের গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িই তাই। যদি আমরা আরো সচেতন এবং যত্নবান হই, তাহলে এই শ্লোগান বাস্তবায়ন করা মোটেও কঠিন নয়। কারণ, পরিবেশ নিয়ে মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি আন্তরিক হয়েছে। সেই আন্তরিকতার দৃষ্টান্ত এবং ছোঁয়া পাওয়া নানাভাবে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিষয়ে। স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু প্রমাণ করেছিলেন, গাছেরও প্রাণ আছে। তাই তাদেরকেও খুন করা হয়। আর সেই খুনের কথা ভেবেই মনটা বিষণ্ণ। যদি সবুজ হত্যার তান্ডবের শাস্তি ৩ বছর এবং ৫০ হাজার অর্থ জরিমানার বিধান পাস হয়েছে। তা-ও মন তৃপ্তি পায় না।
এটিএন বাংলা অথবা এনটিভিতে গত ১৬ নভেম্বর খবরে দেখলাম, উত্তরাঞ্চলে রাতের আঁধারে উঠতি আমের বাগান কেটে সর্বনাশ করে দেয়া হয়েছে। শত শত গাছ ‘লাশ’ হয়ে উপুড় হয়ে মাথা থুবড়ে আছে। বেঁচে থাকলে দু’বছর পর ফলন দিতো।

কোনো মর্মান্তিক এই নিষ্ঠুরতা? মানুষ কেনো এতো নির্মম আর নিকৃষ্ট প্রাণী! এটা কীসের প্রতিহিংসা? এ প্রতিহিংসা ব্যক্তিগত না রাজনৈতিক?

The mango is considered the king of fruits and the fruit of kings

The mango is considered the king of fruits and the fruit of kings

রাজনৈতিক প্রশ্নটি এ জন্যই জাগলো যে, ওই বৃক্ষ হত্যার মাত্র একদিন আগেই আম গাছকে জাতীয় বৃক্ষের মর্যাদা দেয়া হয়। ১৫ নভেম্বর ২০১০-এ মন্ত্রিসভার বৈঠকে কদম, তমাল, পলাশ, শিমুল, তাল, হিজলকে ছাড়িয়ে ‘আম গাছ’ জাতীয় মর্যাদায় স্বীকৃতি পেলো। যেমন জাতীয় ফুল শাপলা, জাতীয় ফল কাঠাল, জাতীয় মাছ ইলিশ, জাতীয় পশু বাঘ, জাতীয় পাখি দোয়েল, তেমনি আম এখন জাতীয় বৃক্ষ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর দৃষ্টান্ত আছে। উদাহরণ স্বরূপ- কানাডার মেপল, জাপানে শাকুরা, ভারতে বট, ভূটানে সাইপ্রেস, পাকিস্তানে সেড্রাস ডিওড়ব, লেবাননে সেডর, শ্রীলঙ্কার নাগেশ্বর, সৌদীতে খেঁজুর, কিউবায় রয়েল পাম, আয়ারল্যান্ডে ভূঁইচাপা সারিতে স্থান করে নিলো আমাদের ঐতিহ্যবাহী আম গাছ। ( দ্র: দৈনিক আমার দেশ, ২০ নভেম্বর ২০১০, ঢাকা)

নানাভাবে আম গাছকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ- মূল্যায়ণ করা হয়। যেমন ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে স্বাধীনতার সূর্য অস্তগামী হয়েছিল, আবার মেহেরপুর আম বাগানে ১৯৭১ সালে প্রবাসী সরকার গঠিত হয়ে উদিত হয়েছে আরেক সূর্য, আমাদের জাতীয় সঙ্গীতেও আম গাছের উল্লেখ আছে, উল্লেখ আছে বাল্মিকীর রামায়ন, কালিদাসের মেঘ দূতসহ প্রচলিত ছড়ায়- ঝড়ের দিনে মামার বাড়ি আম কুড়াতে সুখ। এসব ঐতিহাসিক, সামাজিক বিবেচনায় স্বাধীনাতার ৩৯ বছর পর আজ আম গাছ স্বীকৃতি অর্জন করলো। দুঃখজনক হলেও, সত্য তার পরের দিনই আম গাছ নিহত হলো শত্রুর হাতে। মানুষ হয়ে আমরা মিলেমিশে থাকতে পারিনা, অথচ ‘আমগাছ জামগাছ বাঁশ ঝাঁড় যেন। মিলেমিশে আছে ওরা আত্মীয় হেন’ কবি বন্দে আলী মিয়ার এই পঙক্তি থেকে আমরা কী কোনো শিক্ষাই গ্রহণ করবো না?

শুধু আম গাছের বেদনাই নয়, ঈদের পর পত্র-পত্রিকা নাড়াচাড়া করতে করতে দেখলাম প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের দুঃসংবাদ!
যেমন: ক॥ ফের গাছ কাটছে জাবি প্রশাসন,
খ॥ ভালুকায় এক হাজার আকাশ মনি কর্তন,
গ॥ বিষ প্রয়োগে ২০০ কবুতর মৃত,
ঘ॥ সরকারি গাছ কেটে সাবাড় করেছে দুবৃর্ত্তরা,
ঙ॥ সুন্দরবনের বাঘ শিকার করছে দুবৃর্ত্তরা।

মন খারাপের মাত্রা কানাডার শীতের মতো বৃদ্ধি পেয়ে মাইনাসে চলে গেল।
প্রথম খবরটি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত সড়ক দ্বীপের ঝাঁউ-দেবদারুসহ ৩০ প্রজাতির গাছ ঈদের ছুটি ফাঁকে রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হয়েছে, কেটে ফেলা হয়েছে শহীদ মিনারে পাশের বট ও কড়ই গাছটিও! (দ্র: বাংলা নিউজ ২৪ ডটকম, ২১ নভেম্বর ২০১০)
‘বৃক্ষহত্যাকারী’ মাননীয় ভিসি শরীফ এনামুল কবির বলেছেন, গাছ নয়, আগাছা কেটেছি! বাহ কী চমৎকার বাজে কথা। তাঁর এক কথার নিন্দা জানানোর ভাষা জানা নেই।

...maybe global warming needed a simple solution!

...maybe global warming needed a simple solution!

দ্বিতীয় সংবাদটি উৎসস্থল ময়মনসিংহের ভালুকার নারাঙ্গী গ্রামে বিরোধপূর্ণ প্রতিহিংসায় প্রায় হাজার খানেক আকাশ মনি কেটে সাবার করে দিয়েছে প্রতিপক্ষের। (দ্র: গাছের দোষ কী?… দৈনিক কালের কণ্ঠ, ২০ নভেম্বর ২০১০, ঢাকা) অর্থাৎ বাড়া ভাতে ছাই। অপরদিকে যশোরের মনিরামপুরে বিভিন্ন সড়কের পাশের ৭ লক্ষ টাকার গাছ কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তেরা (দ্র: দৈনিক সমকাল, ২২ নভেম্বর, ২০১০, ঢাকা)।

অপর সংবাদটি বৃক্ষ নিয়ে নয়, গৃহপালিত পাখি, কবুতর নিয়ে। নওগাঁর রানী নগর গ্রামে এক ইমাম সাহেব সরিষার সাথে বিষ মিশিয়ে তা খেতে বপন করেছেন এবং তা খেয়ে ২০০ কবুতর গণহারে মারা গেছে। কিন্তু তিনি তা গ্রামবাসীকে পূর্বে অবহতি করেন নি। (দ্র: শীর্ষ নিউজ, ২১ নভেম্বর ২০১০, ঢাকা)। এখন বিশ্ব বাঘ সম্মেলন হচ্ছে। বাঘের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অপরদিকে প্রতিনিয়ত শিকার করে শেষ করা হচ্ছে বাঘ। এ সম্পর্কে নাইবা বললাম। মনে পড়লো,ছোটবেলার কথা। আমাদের গ্রামের আশে পাশে ফলন্ত তরতাজা বেগুন গাছ, সজিব মরিচ ক্ষেত রাতে দুবৃত্তরা কেটে সাবার করে দিতো। ভোর বেলা সেই মৃত বেগুন ক্ষেত দেখে মনটা হু হু করে উঠতো। সে তো পাকিস্তান আমলের কথা। এখন তো আমার সোনার বাংলা। সোনার দেশের মানুষেরা পশুর চেয়ে অধম হচ্ছে কেনো? সেই জন্যই কী রবি ঠাকুর আক্ষেপ করে বলেছেন; রেখেছ বাঙালি করে/ মানুষ করো নি! আমরা কবে প্রকৃত মানুষ হবো?

আরো একটি বিষয় মনে পড়লো,একবার স্থানীয় দুর্বৃত্ত কসাই চামড়ার লোভে আমাদের দু’টো গরুকে রাতের আঁধারে গোয়ালঘরে বিষ মিশানো কাঠালপাতা খাইয়ে মেরে ফেলে। আমরা তা বুঝতে পেরে গরু দু’টো কসাইকে না দিয়ে, চামড়া কেটে কেটে মাটিতে পুতে রাখি। ২ বছর আগে সিলেটের শাহজালাল মাজারে পুকুরের পুরনো কচ্ছপ, শোল, গজার মাছগুলোও কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করে মেরেছিল। এসব ঘটনার তো শেষ নেই। আরো পিছিয়ে গেলে দেখবো,স্বৈরশাসক এরশাদ ক্ষমতায় এসে মিন্টু রোডের এবং শের-এ বাংলা নগরের বিশাল বিশাল অপূর্ব সবুজতায় পূর্ণ পুরনো বৃক্ষগুলো কেটে সাবার করে দিয়ে ছিলেন। কথিত আছে এরশাদকে গাছ থেকে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। তাই বৃক্ষ কর্তন উৎসব!

Lesser Kiskadee on Bird Vine growing on a mango tree

Lesser Kiskadee on Bird Vine growing on a mango tree

বৃক্ষের প্রতি দুর্বলতা আমার আজন্মের। তাই ‘একি কান্ড! পাতা নেই’ শীর্ষক পরিবেশ বিষয়ক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করি ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫-এ। এছাড়াও গাছ নিয়ে আমার অনেক কবিতা আছে। আমার মিরপুরস্থ বাসার ‘নীমগাছ এবং কাকবন্ধু’ (দ্র: নীড়ে, নীরুদ্দেশে, প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৮, স্বরব্যঞ্জন, ঢাকা) এবং ‘নিমগাছ’ (দ্র: ঘৃণিত গৌরব, প্রকাশকাল এপ্রিল, ২০০৫ জাগৃতি প্রকাশনী,ঢাকা)-কবিতা দু’টো নানা কারণে আমার প্রিয় কবিতা।
আমি ২০০৪-এ ফ্রাস্কফোর্ট বইমেলা থেকে বার্লিন গেছি কবি দাউদ হায়দারের সাথে দেখা করার জন্য। তখন ঢাকায় আমার বাড়ি নির্মাণের কাছ চলছে। হঠাৎ মনে পড়লো, ডেভলপার গাছটি কেটে ফেলবে। আমি দ্রুত বার্লিন থেকে ফোন করে অনুরোধ করি, যেন নিমগাছটি না কাটা হয়। এখনো নীম গাছটি বেঁচে আছে।

হাসিনা সরকার যখন প্রথমবার ক্ষমতায়, তখন বন ও পরিবেশ বিষয়কমন্ত্রী ছিলেন বেগম সাজেদা চৌধুরী। তাঁর প্রটোকল অফিসার হিসেবে কয়েক মাস কাজ করেছি। সে সময় সচিব ছিলেন আহবাব আহমদ। তিনি প্রায়ই আমার পরিবেশ বিষয়ক কবিতা আবৃত্তি করতেন, বলতেন-‘একদিন আমরা সবুজ ছেড়ে বাতাসের ওপারে চলে যাবো।’

হ্যাঁ, বৃক্ষ যে নির্মল বাতাস দিচ্ছে অর্থাৎ অক্সিজেন দিচ্ছে, তার জন্য কী আমাদের কিছুই করার নেই। জিয়া উদ্যান নামান্তরে চন্দ্রিমা উদ্যানের অনেকগুলো গাছ কেটে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। তখনও রাতের আঁধারে সবুজগাছের প্রাণ হরণ করা হয়েছিল। পরদিন প্রাত: ভ্রমণে গিয়ে মতি ভাই অর্থাৎ প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বৃষ্টি ভেজা সকালে করুন দৃশ্য দেখেন এবং পরদিন তাঁর দৈনিকে প্রথম পাতায় একটি মর্মস্পশী প্রতিবেদন লিখেছেন। যা আমাকেও স্পর্শ করে হৃদয়ে নাড়া দেয়। সেই সময় লিখেছিলাম ‘বৃক্ষ কর্তনের পঙক্তি’ শীর্ষক একটি কবিতা। কবিতাটি নিন্মরূপ-
বৃক্ষ কর্তনের শোকে বাতাসগুলো এলোমেলো, পাখিগুলোর মন খারাপ, ছায়াগুলো আর সূর্যের সাথে পাল্লা দিয়ে হবে না লিলিপুট কিংবা গালিভার। চন্দ্রিমার স্বর্গীয় জোছনায় পরিরা এসে খুঁজে পাবে না মায়াবী রাত্রির ছায়ার স্নিগ্ধতা। বৃষ্টিগুলো বোনের মনের মতো, রোদগুলো ভাইয়ের মতো ‘ভাই-বোন’ খেলবে না পাতাগুলোর সাথে, সবুজ ছাতা হাতে। বাতাস, বৃষ্টি, পাখি, রোদ, ছায়াসমূহ, আর কখনো কানামাছি, হা-ডু-ডু, গোল্লাছুটের আনন্দে মাতবে না চন্দ্রিমা উদ্যান।

গাছের গুঁড়ির কান্না কষ্ট দেখে বিরহী বাতাস হুহু করছে, বেদনার্থ বৃষ্টি ঝরছে ঝির ঝির, শোকার্ত পাখি আতঙ্কে চলে যাচ্ছে নিরাপদ নগরে। বাতাস অভিশাপ দিচ্ছে, বৃক্ষ ঘৃণিত-ঘাতককে দেবে না অক্সিজেন। আজ আর কবিতায় নয়। আজকের কন্ঠের প্রতিফলন ঘটালাম এই সামান্য গদ্যটির মাধ্যমে। লেখাটির সমাপ্তি টানার পূর্বে শুধু একটি প্রশ্ন করতে চাই- রাজশাহীর আম গাছ হত্যাকারীকে নয় বা ভালুকার আকাশমনির খুনীকে নয়, অথবা নওগাঁর কবুতর নিধনকারীকে নয়, প্রশ্নটি শুধু মাননীয় জাবির উপাচার্যকে- স্যার, আপনি কী ভাবে রাতের আঁধারে নিষ্ঠুরভাবে খুন করলেন গাছগুলোকে ?
সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল (কানাডা থেকে)

Saifullah Mahmud Dulal

Saifullah Mahmud Dulal

God has cared for these trees, saved them from drought, disease, avalanches, and a thousand tempests and floods. But he cannot save them from fools ~ John Muir আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info,