কোটিপতিদের নিয়ন্ত্রণে বাজার!

কোটিপতিদের নিয়ন্ত্রণে বাজার!

আমিরম্নল ইসলাম নয়নঃ কোটি টাকার আড়াইশ বিনিয়োগকারীর নিয়ন্ত্রণে পুঁজিবাজার। আর এদের সঙ্গে আছেন শত কোটি টাকার ৫০ জন বিনিয়োগকারী। এসইসির তথ্যানুযায়ী ডিএসইতে ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগকারী আছেন ১০-এর অধিক। যারা সবাই কোটি টাকার বিনিয়োগকারীর তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। কারণ এসইসির সিদ্ধান্তô অনুযায়ী একদিনে কোনো বিনিয়োগকারী ১ কোটি টাকার বেশি শেয়ার ক্রয় করলে কমিশনে তার প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। এসইসির সার্ভিলেন্স বিভাগে জমাকৃত গত ১৫ কার্যদিবসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আড়াইশ বিনিয়োগকারী প্রতিদিন কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করছেন।

পঁুজিবাজার সংশিস্নষ্টদের মতে, যারা এক প্রকার অলিখিতভাবে স্টক মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে ভারতের একটি ব্যাবসায়িক গ্রম্নপ শেয়ারবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করেছে গুজব রয়েছে। যে কারণে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে এ গুজবকে আমলে নিতে নারাজ ডিএসই ও এসইসির কর্মকর্তারা। তাদের মতে, দেশের বিনিয়োগকারীরাই অন্য ব্যবসা বন্ধ করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করছেন। তারা বলেন, বাজার অস্থিতিশীল করতে এ ধরনের যে কোনো অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমন করা হবে। আর সেল প্রেসার বাড়াকে গতকাল সর্বকালের সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়ার কারণ বলে মনে করছেন বাজার সংশিস্নষ্টরা।

স্টক মার্কেট গুটিকয়েক বিনিয়োগকারীর কাছে জিম্মি বলে মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসইসির কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা বলেন, এসব বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আছেন কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের অসৎ কর্মকর্তা। যারা অর্থের লোভে এ চক্রকে গুজব ছড়িয়ে এসইসির বিপড়্গে মামলা করতে বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করে থাকে। এনএভি ফর্মুলা নিয়ে এসইসির সিদ্ধান্তেôর বিপড়্গে একটি প্রথম শ্রেণীর মার্চেন্ট ব্যাংক ২ জন বিনিয়োগকারীকে দিয়ে মামলা করান বলে শেয়ারবাজারে গুজব রয়েছে। এ মার্চেন্ট ব্যাংকটি মামলা চালাতে যাবতীয় অর্থ খরচ করে। বিনিময়ে ওই সময়ে বাজারে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রেখে মামলার খরচের চেয়ে ৫০ গুণ বেশি আয় করে বলে জানা গেছে। এসইসি এ চক্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হলেও নিজেদের দুর্বলতার কারণে এদের ব্যাপারে তেমন কোনো পদড়্গেপ নিতে পারছে না বলে জানা গেছে। ফলে গুটিকয়েক বিনিয়োগকারী ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এসব বিনিয়োগকারী ফান্ডামেন্টাল শেয়ার বাদ দিয়ে এ চক্রের ফাঁদে পড়ে অতিমূল্যায়িত কোম্পানি ও দুর্বল শেয়ারে অর্থ বিনিয়োগ করছে। এসবের মধ্যেও এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারী গুজব নির্ভর না হয়ে ফান্ডামেন্টাল দেখে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করছেন।

বিনিয়োগকারী ও বাজারের স্বার্থে গুটিকয়েক বিগ ইনভেস্টর যাতে বাজারের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সে দিকে এসইসির নজর রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন বিনিয়োগকারীরা। বাজার সংশিস্নষ্টদের মতে, বিগ ইনভেস্টরদের গেম্বলিং বন্ধ করে ফান্ডামেন্টাল শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করার জন্য এসইসকে পথ বাতলে দিতে হবে। নতুবা এসব বিনিয়োগকারী বাজারের পরিবেশ আরো ঘোলাটে করে তুলবে। আর এজন্য প্রাথমিকভাবে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো টার্গেট করে এ ব্যাপারে পদড়্গেপ নিতে আলোচনায় বসতে হবে। এ ব্যাপারে বাাজার বিশেস্নষক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক তরফদার জামান শেয়ার বিজ্‌ কড়চাকে বলেন, বড় বিনিয়োগকারীরা বাজারের একটা বৃহৎ অংশজুড়ে রয়েছে। এ শ্রেণী ইচ্ছেমতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তবে এ শ্রেণী যাতে ফান্ডামেন্টাল গুজব না ছড়ায় সে দিকে এসইসিকে নজর রাখতে হবে।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s