যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ : আমেরিকায় দারিদ্র্যের হার ১৫ বছরে সর্বোচ্চ

আমেরিকায় দারিদ্র্যের হার ১৫ বছরে সর্বোচ্চ
রয়টার্স
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হার ১৫ বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতাধর দেশটিতে এখন দারিদ্র্যের হার ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের এখন প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে, যা একটি রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ১৯৬০ সালের পর দরিদ্র মানুষের সংখ্যা এটাই সর্বোচ্চ। প্রকাশিত এক সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দারিদ্র্যের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য ও চিকিত্সা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। বারাক ওবামা প্রশাসনের প্রথম বছর অর্থাত্ ২০০৯-এ মার্কিন পরিবারগুলো কী সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে তার ভিত্তিতে রিপোর্টটি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ সময়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা করে এবং হাজার হাজার কর্মী কাজ হারায়। রিপোর্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে।
২০০৮-এর গড় দারিদ্র্যের হার ১৩ দশমিক ২ থেকে বেড়ে ২০০৯-এ ১৪ দশমকি ৩-এ উন্নীত হয়েছে। আর এ সময়ে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৯৮ লাখ থেকে বেড়ে ৪ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছেছে। এ বিশাল সংখ্যা নির্দেশ করে ২০০৯ সালের দারিদ্র্যের হার ১৯৯৪ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০০৯ সালকে কর্মজীবী পরিবারের জন্য কঠিন বছর বলে অভিহিত করেছিলেন। ওবামা এক বিবৃতিতে বলেন, মন্দা মোকাবিলায় কর অব্যাহতিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে অনেক কর্মজীবী পরিবার দারিদ্র্যের সীমা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিমাপে চার সদস্যবিশিষ্ট পরিবারপিছু বার্ষিক আয় যদি ২২ হাজার মার্কিন ডলারের কম হয় তবে তাদের দরিদ্র বলে ধরা হয়। এদিকে দারিদ্র্যের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। গত বছরে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে চিকিত্সাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাত্ যুক্তরাষ্ট্রে ৫ কোটি ৭ লাখ মানুষ চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত। মূলত চাকরিচ্যুতের কারণে বীমা সুবিধা না পাওয়ায় চিকিত্সাসেবা পায়নি এসব মানুষ। যদিও মার্কিন কংগ্রেস স্বাস্থ্য সুবিধাবঞ্চিত জনসংখ্যা হ্রাসের লক্ষ্যে সম্প্রতি বিল পাস করেছে। তবে তা ২০১৪ সালের আগে তেমন কাজে লাগবে না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে খুবই তাত্পর্যপূর্ণ একটি সময়ে এ পরিসংখ্যানটি প্রকাশিত হলো। কেননা আগামী ২ নভেম্বর মার্কিন কংগ্রেসের নির্বাচন।

আর এ প্রেক্ষাপটে ব্যাপক হারে বেকারত্বের শিকার ও মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মুখে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবেন সংসদে ক্ষমতায় তারা কাকে রাখবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ
সংগ্রাম ডেস্ক :
২ নবেম্বরের নির্বাচনে অর্ধ লক্ষাধিক বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোট দেবেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে অন্তত: দুই বাংলাদেশি লড়ছেন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে। এর একজন হলেন হেনসেন ক্লার্ক। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হওয়ায় তার বিজয় নিশ্চিত বলে জানা গেছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে মার্কিন রাজনীতিতে বাংলাদেশিরা ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হেনসেন ক্লার্ক কংগ্রেসম্যান হবার মাধ্যমে এ ইতিহাসের যাত্রা শুরু হবে।

তিনি মিশিগান স্টেটের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রতিদ্বনিদ্বতা করছেন। আরেকজন রয়েছেন মিশিগান স্টেট সিনেটে। তার নাম ড. দেবাশীষ মৃধা। তিনি লড়ছেন ৩২ নম্বর সিনেট আসন থেকে। এছাড়া পেনসিলভেনিয়া, ওয়াশিংটন মেট্রো, আটলান্টা, নিউজার্সী, নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া থেকেও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি বিভিন্ন সিটি কাউন্সিলে লড়ছেন।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও এক ধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি-আমেরিকানদের সিটিজেনশিপ গ্রহণের হার দ্রুত বাড়লেও ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্তির হার ততটা সন্তোষজনক নয়। যারা তালিকাভুক্ত হয়েছেন তার বিরাট একটি অংশ আগেকার নির্বাচনগুলোতে কেন্দ্রে যাননি। এবার তার ব্যতিক্রম ঘটতে যাচ্ছে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসনাল প্রাইমারিতে এস্টোরিয়া, জ্যাকসন হাইটস এবং উডসাইড, সানিসাইড এলাকার বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভোট কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। অর্থাৎ নির্বাচনের ব্যাপারে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে জাগরণ এসেছে। উল্লেখ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম রাষ্ট্রদূত হিসেবেও নয়া ইতিহাসের অধিনায়ক হয়ে রয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকান ওসমান সিদ্দিক। তাকে নিয়োগ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s