৭০ কোটি টাকার শেয়ার বাজারে ছেড়ে তুলে নিতে যাচ্ছে সাড়ে নয়শ’ কোটি টাকা : রাতারাতি এই অর্থের মালিক হবেন তিনটি পরিবার।

৭০ কোটি টাকার শেয়ার ছেড়ে তুলে নিচ্ছে হাজার কোটি

ঢাকা ষ্টক একচেঞ্জ

ঢাকা ষ্টক একচেঞ্জ


এম আবদুল্লাহ
দেশের পুঁজিবাজারে শেয়ার সঙ্কট ও বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহকে পুঁজি করে নবাগত কোম্পানিগুলো লুটে নিচ্ছে শত শত কোটি টাকা। প্রিমিয়াম বাণিজ্য ও বুক বিল্ডিং পদ্ধতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ফতুর করা হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। এর মধ্যেই ঝুঁকির মুখে পড়া বাজারকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে আরও নাজুক পরিস্থিতির দিকে। সর্বশেষ বাজারে শেয়ার ছাড়ার অনুমতিপ্রাপ্ত দুই কোম্পানি মবিল-যমুনা লুব্রিকেন্ট ও এম আই সিমেন্ট ৭০ কোটি টাকার শেয়ার বাজারে ছেড়ে তুলে নিতে যাচ্ছে সাড়ে নয়শ’ কোটি টাকা। ১০ টাকা ফেসভেল্যুর শেয়ারের সঙ্গে প্রিমিয়ামের নামে যোগ করা হচ্ছে এক হাজার থেকে চৌদ্দশ’ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি অর্থ। দুই কোম্পানি সাড়ে নয়শ’ কোটি টাকায় ৭ কোটি শেয়ার বিক্রি করলেও বিনিয়োগকারীরা মুনাফা পাবে ৭০ কোটি টাকার ভিত্তিতে। বাকি ৮৮০ কোটি টাকাই যাবে কোম্পানি দু’টির পরিচালকদের পকেটে। রাতারাতি তারা এই অর্থের মালিক হবেন। দুই কোম্পানির এই অর্থের প্রায় পুরোটাই পাবে তিনটি পরিবার। মবিল-যমুনার ২৫ শতাংশ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত যমুনা ওয়েল কোম্পানি। আর এ সুবাদে সরকারের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে সহজেই সবকিছু অনুমোদন করে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কোম্পানি দু’টিতে পরিচালকদের নিজস্ব বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা। পুনর্মূল্যায়নের নামে সম্পদের অতিমূল্যায়ন, মনগড়া লাভ দেখিয়ে নিজেদের নামে বোনাস শেয়ার ইস্যু করে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর মতো নানান কৌশলে পুঁজিবাজারে থেকে মোটা দাগে অর্থ তুলে নেয়া হচ্ছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বর্তমান বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারকে অতিমূল্যায়িত এবং ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করলেও সেই অতিমূল্যায়িত কোম্পানিগুলোর উদাহরণ টেনেই নতুন কোম্পানি উচ্চহারে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতি অনুযায়ী নির্দেশক মূল্য নির্ধারণে একই খাতের অন্য কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য ভিত্তি হিসেবে ধরার নিয়ম থাকায় পরিকল্পিতভাবে ওইসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ানোর ঘটনাও ঘটছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কম সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার স্বপ্নে সারাদেশের লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী নিজেদের সব সঞ্চয় নিয়ে এখন শেয়ারবাজারের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এরই সুযোগ নিচ্ছে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াধীন কোম্পানিগুলো।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ আবু আহমদ এ প্রসঙ্গে আমার দেশকে বলেছেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছিল বিনিয়োগকারীদের লাভবান করার কথা বলে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে উল্টোপাল্টা হচ্ছে। বাজারে শেয়ার স্বল্পতার সুযোগ নিচ্ছে কোম্পানিগুলো। পর্যাপ্ত শেয়ার থাকলে এত উচ্চ প্রিমিয়ামের মাধ্যমে এত টাকা বাজার থেকে তুলে নিতে পারতো না। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি শাকিল রিজভী এ ব্যাপারে আমার দেশকে বলেন, প্রিমিয়ামের নামে শত শত কোটি টাকা তুলে নেয়ার বিষয়টি আমাদেরকেও ভাবিয়ে তুলেছে। এ ব্যাপারে আমি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্যও বলেছি। তিনি বলেন, বুক বিল্ডিংয়ের বিদ্যমান পদ্ধতি পুনর্মূূল্যায়ন করা এবং প্রিমিয়াম বাণিজ্যের লাগাম টেনে ধরা উচিত। এদিকে প্রিমিয়ামসহ যে মূল্যে শেয়ার ছাড়া হবে সেই দরকে ভিত্তিমূল্য ধরে পরবর্তীতে মুনাফা বণ্টনের বিধান করা যায় কিনা তাও ভেবে দেখার কথা বলেছেন ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা। নতুন অনুমোদনপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলো এ পর্যন্ত অর্জিত মুনাফাকে পরিশোধিত মূলধন আকারে শেয়ারে পরিণত করেই যেখানে বাজারে আসছে, সেখানে কোন যুক্তিতে তারা এক হাজার থেকে চৌদ্দশ’ এমনকি আঠারোশ’ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করবে—এ প্রশ্ন উঠেছে জোরেশোরে। এর আগে ডাইরেক্ট লিস্টিং-এর আওতায় তালিকাভুক্ত হওয়া খুলনা পাওয়ার কোম্পানি (কেপিসিএল) ১০ টাকার শেয়ার প্রিমিয়ামসহ ১৯৪ টাকা ২০ পয়সায় বিক্রি করেছে। এ শেয়ার এখন লেনদেন হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। বিনিয়োগকারীরা এ নিয়ে হা-হুঁতাশ করেও কোনো কিনারা পাচ্ছেন না।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতি : বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি একটি নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করে প্রাইস ডিসকোভারির জন্য বিডিং আহ্বান করবে। বিডিং-এ অংশ নেবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। এ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকার, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, সরকার অনুমোদিত পেনশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ড, ইন্সুরেন্স কোম্পানি, স্টক ডিলার প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এ খাতের জন্য বরাদ্দকৃত শেয়ারের ১০ শতাংশের বেশি চাইতে পারবে না। কোম্পানি নির্ধারিত নির্দেশক মূল্যের ভিত্তি হিসেবে ৪টি মেথড ব্যবহার করার কথা। চারটি মেথড হচ্ছে—শেয়ারপ্রতি নেট এসেট ভেল্যু নিরূপণ, শেয়ারপ্রতি কোম্পানির অতীত মুনাফা, ভবিষ্যতে শেয়ারপ্রতি সম্ভাব্য আয় এবং একই খাতের কোম্পানিগুলোর বর্তমান বাজার দর। এ চারটিকে গড় করে যে অংক পাওয়া যায় তাকে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু এ চারটি মেথড অনুসরণের ক্ষেত্রে নানা কারসাজি ও ম্যানিপুলেশনের অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে এসেট ভেল্যু নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অতিমূল্যায়ন, অতীত মুনাফা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে গরমিল, ভবিষ্যত্ আয় প্রাক্কলনের বেলায় উচ্চাভিলাষী মুনাফা প্রদর্শন এবং একই খাতের কোম্পানির বর্তমান বাজার দর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে দর বাড়ানো ইত্যাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে মবিল-যমুনা লুব্রিকেন্ট ও এমআই সিমেন্টের ক্ষেত্রে।

পরের ধাপে শেয়ার ছাড়ার প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রাইস ডিসকভারির লক্ষ্যে বিডিং আহ্বান করে। এসইসি ও দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে অনলাইন সিস্টেমে বিডিং-এর সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে কোম্পানির নির্দেশক মূল্য থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বেশি কিংবা ২০ শতাংশ কম দর প্রস্তাব করা যায়। প্রাপ্ত দরে নির্দিষ্টসংখ্যক শেয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়। এই বিডিং-এ প্রাপ্ত দরই ওই কোম্পানির শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য হিসেবে নির্ধারিত হয়। ওই মূল্যে আইপিও’র মাধ্যমে সাধারণের কাছে নির্ধারিতসংখ্যক শেয়ার বিক্রি করা হয়। আইপিওতে বরাদ্দকৃত শেয়ার যে দিন থেকে ট্রেডিং শুরু হবে তার ১৫ ট্রেডিং দিবস পর প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার বাজারে বিক্রি করা যাবে। আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো যে দর প্রস্তাব করছে তা তাদের পরিচয় ছাড়াই অনলাইনে প্রচারিত হবে। প্রস্তাবিত দরের ২০ শতাংশ অগ্রিম জমা দিয়ে দরপ্রস্তাব পেশ করতে হবে। বিডিং-এ সর্বোচ্চ দর : বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে এ পর্যন্ত যে কয়টি কোম্পানি বাজারে এসেছে তার সব কয়টিই কোম্পানির নির্ধারিত নির্দেশক মূল্যের সঙ্গে বিডিং-এর সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ যুক্ত হয়ে মূল্য নির্ধারিত হয়েছে। এর কারণ অনুসন্ধান করে জানা গেছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিডিং-এর মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণের যে উদ্দেশ্য ছিল তার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের জন্য শেয়ার কিনছে না বলে সর্বোচ্চ দর দিয়েই নিচ্ছে। জানা গেছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা জমা নিয়ে বিডিং-এ অংশ নেয় প্রতিষ্ঠানগুলো। নিজেদের কোনো টাকা বিনিয়োগ করে না তারা। ফলে নির্দেশক মূল্যের ২০ শতাংশ বেশি বা সর্বোচ্চ মূল্যে কিনতে তারা দ্বিধা করছে না। আর সে মূল্যই বিবেচিত হচ্ছে যুক্তিযুক্ত মূল্য হিসেবে।

মবিল-যমুনা লব্রিকেন্ট : বাজারে তীব্র শেয়ার সঙ্কটের মুখে সম্প্রতি জ্বালানি খাতের মবিল-যমুনা লুব্রিকেন্ট বাংলাদেশ লি. শেয়ার ছাড়ার অনুমতি লাভ করে এসইসি থেকে। এ কোম্পানির চেয়ারম্যান জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইস্টকোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে. চৌধুরী। কোম্পানির ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক রাষ্ট্রায়ত্ত যমুনা ওয়েল কোম্পানি। বাকি ৭৫ শতাংশ আজম জে. চৌধুরী ও তার পরিবারের। প্রসপেক্টাসে প্রদর্শিত মালিকানার হিসেবে ইস্টকোস্ট সিকিউরিটিজ-এর নামে ৭৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার দেখিয়ে আজম জে. চৌধুরী ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে দশমিক ২ শতাংশ শেয়ার দেখানো হয়েছে। কিন্তু ইস্টকোস্ট (ইসি) সিকিউরিটিজ-এর শতভাগ মালিকানা আজম জে. চৌধুরী পরিবারের এবং তিনি নিজে ইসি সিকিউরিটিজ-এর চেয়ারম্যান।

এ কোম্পানির ইনডেকটিভ প্রাইস নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৭ টাকা। এর মধ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্য ও ১১৭ টাকা প্রিমিয়াম। আগামী ৭ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিডিং অনুষ্ঠিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী ২০ শতাংশ কম-বেশি দর প্রস্তাব করা যাবে। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতায় এ কোম্পানির বিডিং-এ ২০ শতাংশ বেশি দরে অর্থাত্ ১৫২ টাকায় মূল্য স্থির হওয়া প্রায় নিশ্চিত। ফলে কোম্পানি ৪ কোটি শেয়ারের বিপরীতে বাজার থেকে পাবে ৬০৮ কোটি টাকা। অথচ অভিহিত মূল্য অনুয়ায়ী ৪০ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়ছে কোম্পানিটি। মোট ১৪০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন দেখিয়ে ১৪ কোটি শেয়ারের ২৯ শতাংশ বাজারে ছাড়া হচ্ছে।

পুঁজিবাজারে ছাড়া ৪ কোটি শেয়ারের মধ্যে বুক বিল্ডিং-এ অংশগ্রহণকারী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকাররাি ৮০ লাখ, প্রবাসী বাংলাদেশীরা ১০ শতাংশ বা ৪০ লাখ, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের জন্য ১০ শতাংশ বা ৪০ লাখ এবং আইপিও লটারির মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ২ কোটি ৪০ লাখ বা ৬০ শতাংশ শেয়ার পাবে।

কোম্পানির স্থায়ী সম্পদের তালিকায় জমির দাম দেখানো হয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ভবন ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যন্ত্রপাতি ৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, মেশিনারি ২৬ কোটি ৫৪ লাখ, ফার্নিচার ও যানবাহন ১ কোটি ২০ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। ব্যাংক লোনসহ কোম্পানির মোট দায়-দেনার পরিমাণ ১০৭ কোটি টাকা।

উচ্চহারে প্রিমিয়াম নেয়ার ক্ষেত্রে যুক্তি হিসেবে জ্বালানি খাতে একই ধরনের ৪টি কোম্পানির শেয়ারের বর্তমান বাজার মূল্য দেখানো হয়েছে। এতে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টের ৭০২ দশমিক ৩২, যমুনা ওয়েলের ৪০৬ দশমিক ৮৭, পদ্মা ওয়েলের ৭৪২ দশমিক ৩২ এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ২৮২ দশমিক ৩২ টাকা গড় দর উল্লেখ করা হয়েছে। ৪টি কোম্পানির গড় বাজার দর দেখানো হয়েছে ৫৩৩ দশমিক ৪৫ টাকা। পুঁজি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই ও সিএসই’র বিবেচনায় ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের উল্লিখিত কোম্পানিগুলোর দরকে অতিমূল্যায়িত বলে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে। অথচ সে দরকেই মবিল-যমুনা তাদের প্রিমিয়াম নির্ধারণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। নির্দেশক মূল্যের সার-সংক্ষেপে শেয়ার প্রতি নীট এসেট ভেল্যু ১১ দশমিক ৭৩ টাকা, কোম্পানির ভবিষ্যত্ সম্ভাব্য আয়ভিত্তিক পিই ১৬৪ দশমিক ২১ এবং একই খাতের চার কোম্পানির গড় বাজার মূল্য ৫৩৩ দশমিক ৪৫ কে যোগ করে গড় নির্দেশক মূল্য দেখানো হয়েছে ২৩৬ দশমিক ৪৬ টাকা।

শেয়ারবাজার থেকে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ৭৫ কোটি টাকায় এলপিজি টার্মিনাল প্লান্ট, ১৩৭ কোটি ৫২ লাখ টাকায় ক্রুড ওয়েল ট্যাংকার ক্রয়, ১১৭ কোটি ২৫ লাখ টাকায় প্রধান কার্যালয়ের জন্য জমি ক্রয় ও ভবন নির্মাণ, ২১ কোটি টাকায় এন্টি-ফ্রিজ ম্যানুফেকচারিং প্লান্ট এবং ২৫০ কোটি টাকায় হোয়াইট ওয়েল প্রসেসিং প্লান্ট স্থাপন করা হবে। এসব খাতে মোট ৬০২ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাতভিত্তিক যে ব্যয় পরিকল্পনা দেখানো হয়েছে তা মনগড়া। তাছাড়া প্রধান কার্যালয়ের জমি ও ভবন নির্মাণের ১১৭ কোটি টাকাই অনুত্পাদনশীল খাতে ব্যয় হবে। ২৫০ কোটি টাকায় যে হোয়াইট ওয়েল প্রসেসিং প্লান্ট করা হবে, তা আলাদা কোম্পানির নামে করা হবে বিধায় ভবিষ্যতে ওই কোম্পানিরও যে শেয়ার ছাড়া হবে না, তা কে নিশ্চিত করবে।

মবিল-যমুনা লুব্রিকেন্ট কোম্পানির ২০০৯ সালে মুনাফা দেখানো হয়েছে ৩৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ২০০৮ সালে মুনাফা হয়েছে ৪০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। চলতি সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৩ মাসে মুনাফা করেছে ১২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। যে কোম্পানির বার্ষিক মুনাফা ৩৪ কোটি টাকা, সে কোম্পানি অতিরিক্ত ৬০৮ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন হিসেবে যোগ করে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ৪০ কোটি টাকার ওপর কত শতাংশ মুনাফা দিতে পারবে—সে প্রশ্ন তুলেছেন বিনিয়োগকারীরা।

অভিযোগ ও উত্থাপিত প্রশ্নের ব্যাপারে মবিল-যমুনা কোম্পানির চেয়ারম্যান জ্বালানি সচিব মেজবাহ উদ্দিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজম জে চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তারা সেলফোন ধরেননি। কোম্পানির গুলশানের কার্যালয়ে ফোন করলে কথা বলার মতো দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা নেই বলে জানানো হয়।

এমআই সিমেন্ট : সর্বশেষ ২৪ থেকে ২৬ অক্টোবর বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে বিডিং সম্পন্ন হয়েছে ক্রাউন সিমেন্ট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমআই সিমেন্ট লিমিটেডের। তারা ১০ টাকা ফেসভেল্যুর ৩ কোটি শেয়ার বাজারে ছাড়তে যাচ্ছে। ১০ টাকার শেয়ারে তারা ৮৩ টাকা প্রিমিয়াম যোগ করে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করেছে ৯৩ টাকা। বিডিংয়ে নির্দেশক মূল্যের ২০ শতাংশ বেশি দর লাভ করে এই কোম্পানির শেয়ারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১১১ দশমিক ৬০ টাকা। এ মূল্যে কোম্পানি ৩ কোটি শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে তুলে নেবে ৩৩৬ কোটি টাকা। প্রসপেক্টাসে যে তথ্য-উপাত্ত দেয়া হয়েছে, তাতে দেখা যায় এমআই সিমেন্টের উদ্যোক্তাদের নিজস্ব পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি টাকা। ২০০৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ টাকা মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা। এছাড়া জমি বাবদ ৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং বোনাস শেয়ার ইস্যু করে ৪২ কোটি ৬৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধন দেখানো হয়েছে। বোনাস শেয়ার ইস্যু করা হয়েছে গত ২১ ডিসেম্বর। এ হিসেবে কোম্পানিটির সর্বমোট পরিশোধিত মূলধন ৭০ কোটি টাকা। ফেসভেল্যু অনুযায়ী ১০ টাকার ৩ কোটি শেয়ার থেকে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহের পর পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে বলে জানানো হয়েছে। কোম্পানি বলেছে, উল্লিখিত মেথড অনুসরণে তাদের নির্দেশক মূল্য হওয়ার কথা ১১৬ টাকা ৮২ পয়সা; কিন্তু তারা তা কমিয়ে ৯৩ টাকা নির্ধারণ করেছে। এ নির্দেশক মূল্য যথার্থ বলে দাবি করেছে কোম্পানিটি।

কোম্পানির ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানো হয় যে, ১৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা জমি ক্রয় ও এর উন্নয়ন করা হবে। ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে ভবন। ১৮৮ কোটি টাকা দিয়ে বিদেশ থেকে মেশিনারি আমদানি করা হবে। ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে দেশি মেশিন ক্রয় বাবদ। ৭২ কোটি ৬০ লাখ টাকা খরচ হবে গাড়ি ক্রয়ে। এছাড়া জরিপ ও পরিকল্পনা প্রণয়নে ৪৪ লাখ, বৈদ্যুতিক কাজসহ কারখানা চালুতে ৮ কোটি ১৫ লাখ, ফার্নিচার ও অন্যান্য খরচ ৫০ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। মোট ৩৩৫ কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগের এ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেখানে কোম্পানির এ পর্যন্ত স্থাপিত ৩টি ইউনিটে ব্যয় হয়েছে অনধিক ৭০ কোটি টাকা, সেখানে ৪র্থ ইউনিট স্থাপনসহ কিছু ইকুইপমেন্ট কিনতে কেন ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে? বর্তমানে ৩টি ইউনিটের দৈনিক উত্পাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৮শ’ টন। উত্পাদন ক্ষমতা আরও ৫ হাজার ৮শ’ টন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। তাতেও ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব ধোপে টেকে না। অনুরূপ ক্ষমতার অন্যান্য সিমেন্ট কোম্পানির বিনিয়োগ বিশ্লেষণে এর যথার্থতা মেলেনি।

মোল্লা গ্রুপ ও জাহাঙ্গীর অ্যান্ড আদারস গ্রুপ যৌথ উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে। মুন্সীগঞ্জের মোক্তারপুরে ধলেশ্বরী নদীর তীরে ৮ একর ৪১ শতাংশ জমির ওপর তাদের কারখানা। অ্যাসেটের হিসাবে জমির মূল্য প্রকৃত দামের তিনগুণ দেখানো হয়েছে বলে মুন্সীগঞ্জের স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

কোম্পানির আর্থিক হিসাবে দেখা গেছে, ২০০৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে মুনাফা হয়েছে ১৮ কোটি ৭৭ লাখ ৩১ হাজার টাকা। তার আগের বছরে কোম্পানি লাভ করেছে ৯ কোটি ৫৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ২০০৯ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে মুনাফা দেখানো হয়েছে ১১ কোটি ১৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

কোম্পানির পরিচালকদের ২৮ কোটি টাকার বিনিয়োগকে বার্ষিক মুনাফা ও বোনাস শেয়ার যোগ করে ৭০ কোটি টাকা দেখিয়ে তার সঙ্গে পুনর্মূল্যায়ন খাতে ২৬ কোটি ৩৫ লাখ, রিটেইনেড আর্নিং বাবদ ১৪ কোটি ৮ লাখ টাকার হিসাব দেখিয়ে মোট নিট সম্পদ দেখানো হয়েছে ১১০ কোটি ৪৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। এই সম্পদমূল্যকে ৭ কোটি শেয়ারে ভাগ করে প্রতি ১০ টাকার শেয়ারের অনুকূলে নিট সম্পদমূল্য নিরূপণ করা হয়েছে ১৫ টাকা ৭৮ পয়সা।

জমি, কারখানা ও তিনটি ইউনিট বিল্ডিং খাতে খরচ ২৮ কোটি ৮৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা পুনর্মূল্যায়নের নামে নিমিষেই দ্বিগুণ হয়ে ৫৫ কোটি ২১ লাখ ৪৮ হাজার হয়ে গেছে। এখানে মূল্যবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে ২৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
কোম্পানির চেয়ারম্যান মুন্সীগঞ্জের উত্তর ইসলামপুরের জাহাঙ্গীর আলম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নারায়ণগঞ্জের আলহাজ খবির উদ্দিন মোল্লা।

কোম্পানি যে ৩ কোটি শেয়ার বাজারে ছাড়ছে, তার ২০ শতাংশ অর্থাত্ ৬০ লাখ বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের, ১০ শতাংশ বা ৩০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য, ১০ শতাংশ মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য এবং অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ বা ১ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার পাবেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আইপিওর মাধ্যমে।

এমআই সিমেন্ট কোম্পানির ব্যাংক ঋণ রয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার। তন্মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ২০ কোটি ১৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এছাড়া ১৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার ট্যাক্স দেনা রয়েছে কোম্পানিটির।

সম্ভাব্য ভবিষ্যত্ মুনাফা : কোম্পানির ভবিষ্যত্ প্রাক্কলিত মুনাফা দেখানো হয়েছে প্রসপেক্টাসে। তাতে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৩১ কোটি ৮৯ লাখ, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৫৫ কোটি ৮৮ লাখ, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৯০ কোটি ১৮ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১০৩ কোটি ২২ লাখ টাকা নিট মুনাফা প্রাক্কলন করা হয়েছে। শেয়ারবাজার থেকে নেয়া ৩৩৬ কোটি টাকাসহ মোট পরিশোধিত মূলধনের ওপর উল্লিখিত প্রাক্কলিত মুনাফা বণ্টন করা হলে তা হবে খুবই অনুল্লেখযোগ্য।

এমআই সিমেন্ট তাদের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে যেসব কোম্পানির পরিসংখ্যান দিয়েছে, তাতেও কারসাজি ও অসত্য তথ্য দেয়া হয়েছে। সমমূলধনের কোম্পানির তথ্য দিতে গিয়ে সামিট এলায়েন্স পোর্টের ব্যাপারে বলা হয়েছে, বিগত ৬ মাসে ওই কোম্পানির গড় মূল্য ছিল ২ হাজার ১০৬ টাকা ৪২ পয়সা এবং ইপিএস ছিল ১৯ দশমিক ৯৩ টাকা। প্রকৃতপক্ষে বিগত ৬ মাসে কোম্পানিটির গড় মূল্য ছিল ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা এবং ইপিএস ছিল ৩ দশমিক ৬৭ টাকা। কোম্পানিটি গত জুলাই মাসে তাদের ফেসভেল্যু ১০০ টাকা থেকে পরিবর্তন করে ১০ টাকা করে। এমআই সিমেন্ট তাদের ১০ টাকা ফেসভেল্যুর শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণে সামিট এলায়েন্সের ১০০ টাকা ফেসভেল্যুর ইপিএস যোগ করেছে। ২০০৯ সালে সামিট এলায়েন্সের পিই রেশিও ৫১ দশমিক ৮৩ হলেও দেখানো হয়েছে ১০৫ দশমিক ৬৯। একইভাবে ইস্টার্ন হাউজিং, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স ও এস আলম কোল্ড রোলেড স্টিলের ৬ মাসের গড় মূল্য, ইপিএস ও পিই রেশিওর হিসাবে তথ্য বিকৃতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। উল্লিখিত ৩টি কোম্পানির শেয়ারই ১০০ টাকা ফেসভেল্যুর। ১০ টাকা ফেসভেল্যুর শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সূচকগুলো সে হারে কমিয়ে দেখানো হয়নি। ফলে সমমূলধনের ওইসব কোম্পানির গড় পিই রেশিও দেখানো হয়েছে ৫০ দশমিক ১৪।

এ অভিযোগের ব্যাপারে গতকাল এমআই সিমেন্টের সেনা কল্যাণ ভবনের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে চেয়ারম্যান ও এমডি এ অফিসে বসেন না বলে জানানো হয়। শেয়ার সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোম্পানির চিফ ফাইন্যান্স অফিসার মুক্তার হোসেন তালুকদারের সঙ্গে কথা বললে তিনি উল্লিখিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার মতে, যথার্থভাবে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩০ কোটি টাকার শেয়ার ছেড়ে ৩৩৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে এতদিন চালিয়েছি, এ টাকাতো নিতেই পারি। এ পর্যন্ত অর্জিত মুনাফা পরিচালকরা বোনাস শেয়ার আকারে নিয়ে নেয়ার পর কেন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রিমিয়াম দিতে হবে জানতে চাইলে তিনি অন্যান্য কোম্পানির প্রিমিয়ামের উদাহরণ টানেন।

ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এসইসির উচিত প্রিমিয়ামের একটি নির্দিষ্ট হার বেঁধে দেয়া। কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় খেয়ালখুশিমত প্রিমিয়াম নির্ধারণ করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। কোম্পানির প্রকৃত সম্পত্তি ও আয়ের চেয়ে প্রিমিয়াম নেয়া হচ্ছে অনেক বেশি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। আগামী ৪-৫ বছরের সম্ভাব্য আয়ের হিসাব কষে প্রিমিয়ামের হার বাড়িয়ে যেভাবে আগাম নিয়ে নেয়া হচ্ছে, তা একধরনের লুটের পর্যায়ে পড়ে। এতে করে কোম্পানি ভবিষ্যতে লোকসানি হয়ে গেলেও পরিচালকদের কোনো ক্ষতি নেই।

প্রিমিয়ামবাণিজ্য : সাম্প্রতিক অতীতে প্রিমিয়ামবাণিজ্য শুরু হয় মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার থেকে। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার থেকে ১৫ টাকা প্রিমিয়াম নেয়। অর্থাত্ ১৫০ শতাংশ লাভ অগ্রিম তুলে নিয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে।

গ্রামীণফোন ১০ টাকার শেয়ারে প্রিমিয়াম নিয়েছে ৬০ টাকা। মোট ৭০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে ১০ টাকার শেয়ার। অর্থাত্ শুরুতেই ৬০০ শতাংশ লাভ যোগ করা হয়েছে। আবার ম্যারিকো শেয়ারপ্রতি প্রিমিয়াম নিয়েছে ৮০ টাকা। অর্থাত্ ৮০০ শতাংশ। এ দুটি শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা সাময়িকভাবে কিছুটা লাভে থাকলেও বাজার সংশোধন হলে দীর্ঘমেয়াদি লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s